নির্বাহী সারসংক্ষেপ ও সংবিধিবদ্ধ কর্তৃত্ব
| আইনি ভিত্তি (ধারা ও বিধি) | আইনি বাধ্যবাধকতা ও বিষয়বস্তু | সংশ্লিষ্ট মূসক ফরম | সময়সীমা ও শাস্তিমূলক বিধান |
|---|---|---|---|
| ধারা ৪ ও ৬, মূসক আইন ২০১২ | বাধ্যতামূলক ভ্যাট নিবন্ধন ও তালিকাভুক্তি (টার্নওভার ৩ কোটি টাকার ঊর্ধ্ব হলে নিবন্ধন এবং ৫০ লাখ থেকে ৩ কোটি পর্যন্ত তালিকাভুক্তি) | মূসক-২.১ (নিবন্ধন/তালিকাভুক্তি আবেদন) | বাধ্যবাধকতা সৃষ্টির ৩০ দিনের মধ্যে আবেদন আবশ্যক; ব্যত্যয়ে জরিমানা আরোপযোগ্য। |
| ধারা ৬ এবং বিধি ১১, মূসক বিধিমালা ২০১৬ | অনলাইন বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (BIN) ও মূসক সনদপত্র মঞ্জুরি | মূসক-২.৩ (ভ্যাট নিবন্ধন সনদপত্র) | আবেদন পর্যালোচনার পর ৩ কার্যদিবসের মধ্যে সিস্টেম থেকে ১৩-সংখ্যার বিআইএন সনদ জারি। |
| ধারা ৬৪, মূসক আইন ২০১২ | প্রতি কর মেয়াদের জন্য বাধ্যতামূলক মাসিক ভ্যাট রিটার্ন দাখিল | মূসক-৯.১ (মূল্য সংযোজন কর দাখিলপত্র) | সংশ্লিষ্ট কর মেয়াদ সমাপ্তির পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে দাখিল বাধ্যতামূলক। |
| ধারা ৮৫ ও ১২৭, মূসক আইন ২০১২ | রিটার্ন দাখিলে ব্যর্থতা, বিলম্ব ও অসত্য তথ্যের বিরুদ্ধে জরিমানা ও সুদ | মূসক-১১.১ (জরিমানা ও দাবিনামা নোটিশ) | সময়মতো দাখিল না করলে ১০,০০০ টাকা জরিমানা এবং অপরিশোধিত করের ওপর মাসিক ২% সরল সুদ। |
ফিচার্ড স্নিপেট: বাংলাদেশে মূসক নিবন্ধন হলো মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ধারা ৪, ৫ এবং ৬-এর অধীনস্থ একটি সংবিধিবদ্ধ প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে একজন করযোগ্য ব্যক্তি অনলাইন ফরম মূসক ২.১-এর মাধ্যমে একটি ৯-সংখ্যার ব্যবসায় সনাক্তকরণ সংখ্যা (বিআইএন) অর্জন করেন, যা ধারা ৬৪-এর অধীন মূসক ৯.১ ফরমের মাধ্যমে বাধ্যতামূলক মাসিক দাখিলপত্র জমাদানের বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি করে।
মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক বিধিমালা, ২০১৬ দ্বারা পরিপূরক মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ (২০১২ সনের ৪৭ নং আইন) বাংলাদেশে পরোক্ষ কর ব্যবস্থার প্রধান বিধিবদ্ধ আইন হিসেবে কার্যকর রয়েছে। এই নতুন কর ব্যবস্থাটি পূর্ববর্তী ১৯৯১ সনের মূসক আইনকে প্রতিস্থাপন করেছে এবং বাংলাদেশের পরোক্ষ কর কাঠামোকে আন্তর্জাতিক মূসক রীতিনীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার লক্ষ্যে প্রণীত হয়েছে, যা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ইন্টিগ্রেটেড ভ্যাট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সিস্টেম (আইভিএএস/IVAS) দ্বারা পরিচালিত একটি সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় অনলাইন নিবন্ধন এবং দাখিলপত্র পেশকরণ অবকাঠামো প্রবর্তন করেছে, যা vat.gov.bd ঠিকানায় ব্যবহারযোগ্য।
বাংলাদেশে পরিচালিত প্রতিটি বাণিজ্যিক সত্ত্বা—তা প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি, অংশীদারি কারবার, একমালিকানা প্রতিষ্ঠান, শাখা কার্যালয় (ব্রাঞ্চ অফিস), কিংবা করযোগ্য সরবরাহে নিয়োজিত লিয়াজোঁ অফিস যাই হোক না কেন—উক্ত আইনের ধারা ৪-এর অধীন নির্ধারিত তিনটি মৌলিক সীমার বিপরীতে তার সংবিধিবদ্ধ অবস্থান মূল্যায়ন করতে বাধ্য: অব্যাহতি (৫০ লাখ টাকার নিচে), টার্নওভার কর তালিকাভুক্তি (৫০ লাখ টাকা থেকে ৩ কোটি টাকা), এবং বাধ্যতামূলক প্রমিত মূসক নিবন্ধন (৩ কোটি টাকার ঊর্ধ্বে)। টার্নওভারের পরিমাণ নির্বিশেষে, অর্পিত সংবিধিবদ্ধ ক্ষমতার অধীনে এনবিআর কর্তৃক জারিকৃত সাধারণ আদেশের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির ব্যবসাকে নিবন্ধনের আওতাভুক্ত করা হয়েছে।
একবার নিবন্ধিত হলে, উক্ত সত্ত্বার দৈনন্দিন কার্যক্রম একটি কঠোর ও পৌনঃপুনিক ৩০ দিনের পরিপালন চক্র দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়: ফরম মূসক ৬.৩-এর অধীনে লেনদেন সংক্রান্ত কর চালানপত্র প্রদান, ফরম মূসক ৬.১/৬.২-এর অধীনে সংবিধিবদ্ধ হিসাব পুস্তক সংরক্ষণ, ধারা ৪৬-এর অধীন উপকরণ কর রেয়াত সমন্বয়পূর্বক নিট কর দায় নিরূপণ, অটোমেটেড চালান (এ-চালান) ব্যবস্থার মাধ্যমে ট্রেজারি জমা প্রদান এবং ধারা ৬৪-এর অধীনে প্রতিটি কর মেয়াদ সমাপ্তির ১৫ দিনের মধ্যে মূসক ৯.১ ফরমের মাধ্যমে মাসিক মূসক দাখিলপত্র বাধ্যতামূলকভাবে অনলাইনে পেশকরণ। এই পরিপালনে ব্যর্থতা ধারা ৮৫-এর অধীন স্বয়ংক্রিয় প্রশাসনিক জরিমানা এবং ধারা ১২৭-এর অধীন অপরিত্যাজ্য মাসিক সুদ আরোপের কারণ ঘটায়, যার পাশাপাশি কাস্টমস আইন, ২০২৩ (অ্যাসিকাডা ওয়ার্ল্ড লকআউট), আয়কর আইন, ২০২৩ (ই-টিআইএন ক্রস-ভেরিফিকেশন) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা ছাড়করণ প্রটোকলে সমান্তরাল আইনি জটিলতা তৈরি হয়।
ধারা ১: সংবিধিবদ্ধ সীমাসমূহ — অব্যাহতি, টার্নওভার কর এবং বাধ্যতামূলক মূসক নিবন্ধন
১.১ ৫০ লাখ টাকার অব্যাহতি সীমা
মূসক ও সম্পূরক শুল্ক আইন ২০১২-এর ধারা ৪ মোতাবেক, যে ব্যক্তির মোট বার্ষিক টার্নওভার ৫০,০০,০০০ (পঞ্চাশ লাখ) টাকা অতিক্রম করে না, তিনি মূসক নিবন্ধন এবং টার্নওভার কর তালিকাভুক্তি উভয় থেকেই সংবিধিবদ্ধভাবে অব্যাহতিপ্রাপ্ত, যদি না তিনি ধারা ৪(২)-এর অধীনে বাধ্যতামূলক নিবন্ধনের আওতাভুক্ত কোনো শ্রেণিতে পড়েন। এই সীমাটি সকল করযোগ্য সরবরাহের মূল্যের ভিত্তিতে চলমান ১২ মাসের হিসেবে পরিমাপ করা হয় এবং এনবিআরের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাগণ নিয়মিতভাবে ব্যাংক হিসাব বিবরণীর জমা, ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন সংক্রান্ত ঘোষণা এবং আয়কর আইন ২০২৩-এর অধীনে দাখিলকৃত আয়কর রিটার্নের সাথে ঘোষিত টার্নওভার আড়াআড়ি যাচাই (ক্রস-ভেরিফাই) করে থাকেন।
১.২ টার্নওভার করের ধাপ (৫০ লাখ টাকা – ৩ কোটি টাকা)
যে সকল সত্ত্বার বার্ষিক টার্নওভার ৫০ লাখ টাকা অতিক্রম করে কিন্তু ৩ কোটি টাকার নিচে থাকে, তাদেরকে টার্নওভার কর তালিকাভুক্তির আবেদন করতে হবে। উক্ত আইনের ধারা ৬৩ অনুযায়ী মোট টার্নওভারের ওপর সমহারের ৪% হারে টার্নওভার কর ধার্য করা হয়, এবং ত্রৈমাসিক দাখিলপত্র পেশকরণের বাধ্যবাধকতা ফরম মূসক ৯.২-এর মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হয়। প্রমিত মূসক ব্যবস্থার বিপরীতে, টার্নওভার করদাতাগণ উপকরণ কর রেয়াত দাবি করতে পারেন না এবং তাদের চালানপত্র পরবর্তী ক্রেতাদের জন্য কোনো মূসক রেয়াত সুবিধা প্রদান করে না—যা অনানুষ্ঠানিক থেকে আনুষ্ঠানিক বাণিজ্য কাঠামোতে রূপান্তরিত হওয়ার সময় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো (এসএমই) প্রায়শই উপেক্ষা করে থাকে, ফলে এটি একটি মারাত্মক বাণিজ্যিক অসুবিধার সৃষ্টি করে।
১.৩ ৩ কোটি টাকার ঊর্ধ্বে বাধ্যতামূলক প্রমিত মূসক নিবন্ধন
বার্ষিক টার্নওভার ৩ কোটি টাকা অতিক্রম করলেই ধারা ৪(১) অনুযায়ী প্রমিত মূসক-নিবন্ধিত ব্যক্তি হিসেবে নিবন্ধন গ্রহণ বাধ্যতামূলক হয়ে যায়। এটি কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়—এই সীমা অতিক্রমের পরও টার্নওভার করদাতা হিসেবে ব্যবসায়িক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা একটি সংবিধিবদ্ধ লঙ্ঘন, যা উক্ত সত্ত্বাকে ধারা ৮৫(১)(ক)-এর অধীনে জরিমানা এবং সম্পূর্ণ অঘোষিত টার্নওভারের ওপর ভূতাপেক্ষ মূসক নির্ধারণের ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়।
১.৪ টার্নওভার নির্বিশেষে খাতভিত্তিক বাধ্যতামূলক নিবন্ধন
ধারা ৪(২) এনবিআরকে সংবিধিবদ্ধ আদেশ (এসআরও) বা সাধারণ আদেশের মাধ্যমে এমন কিছু পণ্য ও সেবার শ্রেণি নির্দিষ্ট করার ক্ষমতা প্রদান করে, যার জন্য টার্নওভারের পরিমাণ নির্বিশেষে বিআইএন নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। সাধারণ আদেশ নং ১৭/মূসক/২০১৯ এই ক্ষমতা কার্যকর করেছে, যা অন্তর্ভুক্ত করে (অনুপুঙ্খভাবে): সকল বাণিজ্যিক আমদানিকারক ও রপ্তানিকারক, সরকারি ঠিকাদার ও দরপত্রদাতা, ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) এজেন্ট, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রেস্তোরাঁ, আবাসিক হোটেল, মোটর গ্যারেজ ও ওয়ার্কশপ, ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং মিষ্টি প্রস্তুতকারক/বিক্রেতা। এই শ্রেণিভুক্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসমূহ নিবন্ধন এড়াতে কম টার্নওভারের অজুহাত দেখাতে পারে না, এবং নজরদারির বাইরে কার্যক্রম পরিচালনা করার যে কোনো প্রচেষ্টা শুল্ক বা ট্রেড লাইসেন্স আড়াআড়ি যাচাইয়ের সময় ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
১.৫ ধারা ৬-এর অধীন স্বেচ্ছাপ্রণোদিত নিবন্ধন
৩ কোটি টাকার সীমার নিচে থাকা যেকোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধারা ৬(১)-এর অধীন স্বেচ্ছায় নিবন্ধন গ্রহণ করতে পারে, যা মূলত উপকরণ কর রেয়াত শৃঙ্খলে প্রবেশ, বিআইএন সম্বলিত চালান দাবি করা প্রাতিষ্ঠানিক ক্রয়কারী পক্ষগুলোর চাহিদা পূরণ, কিংবা দরপত্রে অংশগ্রহণের জন্য ব্যবসায়িক গ্রহণযোগ্যতা প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে করা হয়। তবে, ধারা ৬(২)-এ কমপক্ষে এক কর বর্ষের লক-ইন পিরিয়ড (বাধ্যতামূলক মেয়াদ) আরোপ করা হয়েছে, যার মধ্যে স্বেচ্ছায় নিবন্ধিত ব্যক্তি বাধ্যতামূলকভাবে নিবন্ধিত সত্ত্বার মতোই অভিন্ন পরিপালন বাধ্যবাধকতায় (মাসিক মূসক ৯.১ দাখিল, হিসাব পুস্তক সংরক্ষণ, চালানপত্র জারির নিয়মকানুন) আবদ্ধ থাকেন—যে দায়বদ্ধতাটিকে অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এই পথ বেছে নেওয়ার পূর্বে অনুধাবন করতে ব্যর্থ হন।
ধারা ২: ইউনিট নিবন্ধন বনাম কেন্দ্রীয় মূসক নিবন্ধন (সেন্ট্রাল বিআইএন)
২.১ ধারা ৫ এবং বিধি ৪ক-এর অধীন সংবিধিবদ্ধ ভিত্তি
ঐতিহাসিকভাবে, প্রতিটি পৃথক ব্যবসায়িক প্রাঙ্গণ—কারখানা, ডিপো, শোরুম বা শাখা কার্যালয়—এর জন্য স্বতন্ত্র মূসক নিবন্ধনের প্রয়োজন হতো। অর্থ আইন ২০১৯ দ্বারা আনীত সংশোধনী এবং মূসক বিধিমালা ২০১৬-এর বিধি ৪ক-এর মাধ্যমে বিধিবদ্ধকরণের পর, একাধিক ইউনিট পরিচালনাকারী একটি প্রতিষ্ঠান এখন একটি একক কেন্দ্রীয় বিআইএন (Central BIN) গ্রহণ করতে পারে, যদি প্রতিষ্ঠানটি একটি সম্পূর্ণ কম্পিউটারাইজড ও কেন্দ্রীভূত এন্টারপ্রাইজ হিসাবরক্ষণ ব্যবস্থা বজায় রাখে যা সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক কমিশনারেটের জন্য রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণযোগ্য হয়।
২.২ পূর্বশর্ত এবং অযোগ্যতার শর্তাবলি
কেন্দ্রীয় বিআইএন সুবিধার যোগ্য হতে হলে প্রতিষ্ঠানটিকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে হবে: - একটি সমন্বিত ইআরপি (ERP) বা হিসাবরক্ষণ সফটওয়্যার, যা সকল ইউনিটের জন্য একটি একক ও অবিচ্ছিন্ন নিরীক্ষা প্রমাণক (audit trail) তৈরি করতে সক্ষম; - উৎপাদন/গুদাম পয়েন্ট এবং খুচরা/বিতরণ পয়েন্টগুলোর মধ্যে রিয়েল-টাইম মজুদ বা ইনভেন্টরির সমন্বয়সাধন; - নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে চাহিদামাত্র শাখাভিত্তিক বিক্রয় ও ক্রয়ের তথ্য সরবরাহ করার সক্ষমতা।
যেসব উৎপাদন ইউনিট স্বতন্ত্র উৎপাদন পরামিতি (মূসক ৪.৩-এর অধীন ভিন্ন ভিন্ন উপকরণ-উৎপাদ সহগ) প্রয়োগ করে কিংবা অ-কেন্দ্রীভূত হিসাব পুস্তক সংরক্ষণ করে, তারা সংবিধিবদ্ধভাবে কেন্দ্রীয় বিআইএন একত্রীকরণের অযোগ্য এবং তাদেরকে অবশ্যই স্বাধীন ইউনিট-ভিত্তিক নিবন্ধন বজায় রাখতে হবে।
২.৩ আন্তঃশাখা পণ্য স্থানান্তর: ফরম মূসক ৬.৫
একটি একক কেন্দ্রীয় বিআইএন-এর অধীনে পরিচালিত শাখাগুলোর মধ্যে পণ্য স্থানান্তর অবশ্যই ফরম মূসক ৬.৫ (একটি স্থানান্তর চালানপত্র, কর চালানপত্র নয়)-এর মাধ্যমে নথিবদ্ধ করতে হবে, যা অভ্যন্তরীণ স্থানান্তরের সময় কোনো করযোগ্য ঘটনার উদ্ভব না ঘটিয়ে পণ্য মজুদের গতিবিধি শনাক্তযোগ্য রাখে—চূড়ান্ত ভোক্তার কাছে চূড়ান্ত বিক্রয়ের মুহূর্তেই কেবল করের দায় সুস্পষ্ট রূপ লাভ করে।
২.৪ বিচারিক ভিত্তি: এ.সি.আই. লিমিটেড নজির
কেন্দ্রীভূত নিবন্ধনের তাত্ত্বিক ভিত্তিটি এ.সি.আই. লিমিটেড বনাম কর কমিশনার এবং অন্যান্য, ১৯ এমএলআর (এইচসিডি) (২০১৪) ১১২ মামলার রায়ে শক্তিশালী বিচারিক সমর্থন লাভ করেছে, যেখানে হাইকোর্ট বিভাগ এই অভিমত ব্যক্ত করেন যে, যখন কোনো প্রতিষ্ঠান উপকরণ সংগ্রহ থেকে শুরু করে বণ্টন পর্যন্ত একটি নিরবচ্ছিন্ন নিরীক্ষা প্রমাণক অনুসরণপূর্বক সমন্বিত ও রিয়েল-টাইম কম্পিউটারাইজড হিসাব পুস্তক সংরক্ষণ করে, তখন রাজস্ব কর্মকর্তাগণ স্বায়ত্তশাসিত মুনাফা কেন্দ্র (autonomous profit centre) হিসেবে কাজ করে না এমন সহযোগী ডিপোগুলোর ওপর খামখেয়ালিভাবে পৃথক ও বিকেন্দ্রীভূত কর নির্ধারণ চাপিয়ে দিতে পারেন না। এই ঐতিহাসিক রায়টি পরবর্তীকালে বিধি ৪ক বিধিবদ্ধকরণে সরাসরি প্রভাব রেখেছিল।
সেকশন ৩: অনলাইনে বিআইএন নিবন্ধন পদ্ধতি — ফরম মূসক ২.১
৩.১ পোর্টালে প্রবেশ এবং সিস্টেমে অনবোর্ডিং
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ইন্টিগ্রেটেড ভ্যাট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সিস্টেম (আইভাস/IVAS)-এর মাধ্যমে একচেটিয়াভাবে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করা হয়, যা vat.gov.bd-এর মাধ্যমে ব্যবহারযোগ্য। আবেদনকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্বত্বাধিকারী বা যথারীতি ক্ষমতাপ্রাপ্ত স্বাক্ষরকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবহার করে সিস্টেমে একটি প্রোফাইল তৈরি করেন, যা সিস্টেমটি অ্যালগরিদমের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের ডাটাবেসের সাথে সরাসরি যাচাই করে নেয়।
৩.২ মূসক ২.১-এর ফিল্ডভিত্তিক কাঠামো
- ক-অংশ — সাধারণ তথ্যাবলি: প্রতিষ্ঠানের আইনগত নাম, সাংবিধানিক রূপ (কোম্পানি/অংশীদারি কারবার/একমালিকানা), আরজেএসসি (RJSC) ইনকর্পোরেশন নম্বর ও তারিখ, এবং এনবিআরের আয়কর ডাটাবেসের সাথে বাধ্যতামূলক ই-টিআইএন (e-TIN) যাচাইকরণ।
- খ-অংশ — ব্যবসায়িক ঠিকানা: নিবন্ধিত কার্যালয়, কারখানা প্রাঙ্গণ এবং প্রধান ব্যবসায়িক স্থান।
- গ-অংশ — ব্যাংক হিসাব যাচাইকরণ: এ-চালান (A-Challan) সমন্বয়ের লক্ষ্যে বিন্যস্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসাব ও রাউটিং সংক্রান্ত বিবরণ।
- ঘ-অংশ — ব্যবসায়িক কার্যক্রমের শ্রেণিবিভাগ: প্রযোজ্য বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ক্লাসিফিকেশন (বিএসআইসি/BSIC) কোড নির্বাচন এবং ঘোষিত কার্যক্রমের ধরন (প্রস্তুতকারক, সেবা প্রদানকারী, বাণিজ্যিক আমদানিকারক, ব্যবসায়ী)।
- ঙ-অংশ — শাখা/ইউনিট ঘোষণা: যেখানে কেন্দ্রীয় নিবন্ধন চাওয়া হয়, সেখানে ফরম মূসক ২.২-এর মাধ্যমে প্রতিটি শাখাকে পৃথকভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
৩.৩ যাচাইকরণ, সরেজমিন পরিদর্শন এবং সনদপত্র প্রদান
মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক বিধিমালা, ২০১৬-এর বিধি ৪(৩) অনুযায়ী, স্বয়ংক্রিয় ও কর্মকর্তা-পর্যায়ের যাচাই-বাছাইয়ে অনলাইন আবেদনটি ত্রুটিমুক্ত পাওয়া গেলে, কমিশনারেট ৩ (তিন) কার্যদিবসের মধ্যে অনন্য ৯-সংখ্যার ব্যবসায় সনাক্তকরণ সংখ্যা (বিআইএন/BIN) সম্বলিত মূসক নিবন্ধন সনদপত্র (ফরম মূসক ২.৩) প্রদান করতে বাধ্য। কোনো অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হলে (যেমন: অমিল এনআইডি, অযাচাইকৃত প্রাঙ্গণ, অপূর্ণাঙ্গ ব্যাংক বিবরণী), সিস্টেমটি অতিরিক্ত নথিপত্রের জন্য ইলেকট্রনিক তলবনামা জারি করে কিংবা বিধি ৫-এর অধীন সরেজমিনে মাঠপর্যায়ে পরিদর্শনের নির্দেশ দেয়, যা উল্লিখিত সময়সীমাকে উল্লেখযোগ্যভাবে বর্ধিত করতে পারে।
৩.৪ সনদপত্র পরবর্তী সিস্টেম একত্রীকরণ
মূসক ২.৩ ইস্যু করার পর, বিআইএন স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিম্নলিখিত মাধ্যমগুলোর সাথে সমন্বিত হয়: - অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড (ASYCUDA World) (কাস্টমসের স্বয়ংক্রিয় খালাস প্ল্যাটফর্ম), যা বিল অব এন্ট্রি/বিল অব এক্সপোর্ট প্রক্রিয়াকরণ সক্ষম করে; - বাণিজ্যিক ব্যাংকিং এপিআই (API), যা লেটার অব ক্রেডিট অথরাইজেশন ফরম (এলসিএএফ/LCAF) ইস্যুকরণ এবং অভ্যন্তরীণ/বহির্গামী রেমিট্যান্স ছাড়করণের সুবিধা প্রদান করে।
বিআইএন প্রোফাইলের নামের সাথে আমদানি নিবন্ধন সনদপত্র (আইআরসি/IRC)/রপ্তানি নিবন্ধন সনদপত্র (ইআরসি/ERC)-এর নামে যেকোনো অমিল দেখা দিলে কাস্টমস শুল্কায়ন পর্যায়ে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রত্যাখ্যাত হবে — যা আমদানিকারকদের জন্য একটি সচরাচর ঘটে যাওয়া এবং সম্পূর্ণরূপে পরিহারযোগ্য পরিচালনাগত ফাঁদ।
সেকশন ৪: নিয়ন্ত্রক সংস্থাসমূহের সমন্বিত একত্রীকরণ — কাস্টমস, আয়কর এবং ব্যাংকিং
৪.১ আয়কর আইন ২০২৩-এর সাথে সংযোগ
আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ২৬১ এবং ২৬৪ অনুযায়ী, ১২-সংখ্যার ইলেকট্রনিক কর সনাক্তকরণ নম্বর (ই-টিআইএন) অবশ্যই সক্রিয় থাকতে হবে এবং তা বিআইএন প্রোফাইলের সাথে সমন্বিত থাকতে হবে। ধারা ২৬৪-এর অধীন রিটার্ন দাখিলের প্রমাণক (পিএসআর) দাখিল করা কেবল আয়কর পরিপালনের জন্যই নয়, বরং মূসক নিবন্ধনের ধারাবাহিক বৈধতা ও নবায়নযোগ্যতা এবং সংশ্লিষ্ট ট্রেড লাইসেন্সের ক্ষেত্রেও একটি সংবিধিবদ্ধ পূর্বশর্ত। মেয়াদোত্তীর্ণ বা দাখিল না করা আয়কর রিটার্নের কারণে সংযুক্ত বিআইএন-এর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক সতর্কতা বা স্থগিতাদেশ আরোপিত হতে পারে।
৪.২ কাস্টমস আইন ২০২৩ এবং অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড
কাস্টমস আইন, ২০২৩ (কাস্টমস অ্যাক্ট, ১৯৬৯-এর প্রতিস্থাপনকারী) ধারা ৭৮, ৮৬ এবং ৯৫-এর অধীনে বিআইএন-কে সরাসরি অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড প্ল্যাটফর্মের সাথে সংযুক্ত করেছে। মূসক ৯.১ দাখিল না করা বা বকেয়া মূসক দাবির কারণে যদি কোনো বিআইএন নিষ্ক্রিয়, স্থগিত বা "লকড" হয়, তবে তার ফলে বিল অব এন্ট্রি বা বিল অব এক্সপোর্টের শুল্কায়ন অবিলম্বে স্থগিত হয়ে যায়, যা আইনগত পরিপালন পুনঃপ্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত সত্তার সকল আমদানি/রপ্তানি কার্যক্রমকে কার্যকরভাবে স্থবির করে দেয়।
৪.৩ বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ পরিপালন
ফরেন এক্সচেঞ্জ রেগুলেশন অ্যাক্ট, ১৯৪৭ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন নির্দেশিকা (ভলিউম ১) অনুযায়ী, কোনো অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংক এনবিআরের লাইভ ডাটাবেসে সুবিধাভোগী/আবেদনকারীর বিআইএন-এর বৈধতা প্রাথমিকভাবে যাচাই না করে কোনো আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খোলা, জাহাজীকরণ নথিপত্র পৃষ্ঠাঙ্কন, কিংবা রয়্যালটি, ব্যবস্থাপনা ফি বা প্রযুক্তিগত সেবা ফির বিপরীতে বহির্গামী রেমিট্যান্স প্রক্রিয়া করতে পারবে না।
সেকশন ৫: লেনদেন সংক্রান্ত মূসকের কার্যপ্রণালী — চালানপত্র, হিসাব পুস্তক এবং উপকরণ কর রেয়াত
৫.১ কর চালানপত্রের আবশ্যকতা: ফরম মূসক ৬.৩
পণ্য সরবরাহ বা সেবা প্রদানের সঠিক মুহূর্তে প্রতিটি করযোগ্য সরবরাহের সাথে দ্বি-প্রস্থে ইস্যুকৃত একটি মূসক ৬.৩ কর চালানপত্র সংযুক্ত থাকতে হবে। চালানপত্রে সরবরাহকারীর বিআইএন, প্রাপকের বিআইএন (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে), দফাওয়ারি পণ্যের বিবরণ, করযোগ্য মূল্য এবং প্রযোজ্য মূসক/সম্পূরক শুল্কের হার সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। ধারা ৮৫(১)(চ)-এর অধীনে ত্রুটিপূর্ণ বা অপ্রদত্ত চালানপত্র কেবল ইস্যুকারীকেই দণ্ডের মুখোমুখি করে না, বরং তা প্রাপকের উপকরণ কর রেয়াত দাবির অধিকারকেও বাতিল করে দেয়।
৫.২ সংবিধিবদ্ধ হিসাব পুস্তক: মূসক ৬.১, ৬.২ এবং ৬.২.১
- মূসক ৬.১ (ক্রয় হিসাব পুস্তক): স্থানীয় এবং আমদানিকৃত সকল উপকরণের অধিগ্রহণ প্রাপ্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিপিবদ্ধ করতে হবে।
- মূসক ৬.২ (বিক্রয় হিসাব পুস্তক): সকল বহির্গামী করযোগ্য সরবরাহ ক্রমানুসারে লিপিবদ্ধ করতে হবে।
- মূসক ৬.২.১ (সমন্বিত ক্রয়-বিক্রয় হিসাব পুস্তক): কোনো ধরনের উৎপাদন বা প্রক্রিয়াকরণে যুক্ত নন এমন নিছক বাণিজ্যিক ব্যবসায়ীদের জন্য প্রযোজ্য একটি সহজীকৃত সমন্বিত হিসাব পুস্তক।
৫.৩ উপকরণ-উৎপাদ সহগ: মূসক ৪.৩
কাঁচামালের ওপর উপকরণ কর রেয়াত দাবি করার পূর্বে প্রস্তুতকারক/উৎপাদককে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় মূসক কর্মকর্তার নিকট ফরম মূসক ৪.৩-এর মাধ্যমে একটি ঘোষিত উপকরণ-উৎপাদ সহগ দাখিল করতে হবে। এই দাখিল ব্যতিরেকে, দালিলিক প্রমাণাদি থাকা সত্ত্বেও রেয়াত দাবি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নামঞ্জুর করা হবে।
৫.৪ উপকরণ কর রেয়াতের বিধিবিধান ও সীমাবদ্ধতা (ধারা ৪৬)
উপকরণ কর রেয়াত কেবল তখনই গ্রহণযোগ্য হবে যখন: - ক্রয়টি ক্রেতার সঠিক বিআইএন সম্বলিত একটি বৈধ মূসক ৬.৩ দ্বারা প্রমাণিত হয়; - আমদানি সংক্রান্ত উপকরণ কর কাস্টমস বিল অব এন্ট্রি দ্বারা প্রমাণিত হয়; - ১,০০,০০০ টাকার অধিক লেনদেনের অর্থ যাচাইযোগ্য ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয় (এই সীমার অতিরিক্ত নগদ লেনদেন রেয়াত বাতিল বলে গণ্য করে); - চালানপত্র ইস্যুর তারিখ হতে ৪ (চার) কর মেয়াদের মধ্যে রেয়াত দাবি করা হয় — যা একটি অলঙ্ঘনীয় সংবিধিবদ্ধ সময়সীমা।
ধারা ৬: মাসিক পরিপালন চক্র — মূসক ৯.১ দাখিল
৬.১ সংবিধিবদ্ধ ১৫ দিনের সময়সীমা
আইনের ধারা ৬৪ এবং মূসক বিধিমালা ২০১৬-এর বিধি ৪৭ অনুযায়ী, প্রত্যেক নিবন্ধিত ব্যক্তিকে সংশ্লিষ্ট কর মেয়াদ (ক্যালেন্ডার মাস) সমাপ্তির ১৫ দিনের মধ্যে মাসিক মূসক দাখিলপত্র, ফরম মূসক ৯.১, দাখিল করতে হবে। যদি ১৫ তারিখ কোনো সরকারি বা সাধারণ ছুটির দিনে পড়ে, তবে দাখিলের সময়সীমা পরবর্তী কার্যদিবস পর্যন্ত বর্ধিত হবে।
৬.২ নীট কর গণনার সূত্র
$$\\ ext{প্রদেয় নীট কর} = \\ ext{উৎপাদ কর} + \\ ext{সম্পূরক শুল্ক} - \\ ext{অনুমোদনযোগ্য উপকরণ কর রেয়াত} + \\ ext{স্ব-কর্তিত মূসক (ভিডিএস)} - \\ ext{গ্রাহক কর্তৃক কর্তিত মূসক (ভিডিএস)}$$
৬.৩ উৎসে মূসক কর্তন (ভিডিএস)
নির্দিষ্ট উৎসে কর্তনকারী সত্তা — সরকারি সংস্থা, স্বায়ত্তশাসিত কর্তৃপক্ষ, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই), বীমা কোম্পানি এবং লিমিটেড কোম্পানি — প্রচলিত ভিডিএস এসআরও (বর্তমানে এসআরও নং ১৮০-আইন/২০২১/১৪৩-মূসক-এর অনুরূপ কাঠামোর অধীন) অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট ক্রয়ের বিপরীতে উৎসে মূসক কর্তন করতে বাধ্য। কর্তিত অর্থ অবশ্যই সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে এবং কর্তনের ১৫ দিনের মধ্যে সরবরাহকারী বরাবর ফরম মূসক ৬.৬ উৎসে মূসক কর্তন সনদপত্র জারি করতে হবে।
৬.৪ ট্রেজারি জমা: এ-চালান অর্থনৈতিক কোডসমূহ
মূসক ৯.১ দাখিলের পূর্বেই নীট প্রদেয় কর পরিশোধ করতে হবে, যা অটোমেটেড চালান (এ-চালান) বা ই-পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে নির্ধারিত অর্থনৈতিক কোডের অধীনে সম্পন্ন করা আবশ্যক:
- মূসক: ১/১১৩৩/[কমিশনারেট কোড]/০৩১১
- সম্পূরক শুল্ক: ১/১১৩৩/[কমিশনারেট কোড]/০৭১১
- টার্নওভার কর: ১/১১৩৩/[কমিশনারেট কোড]/০৩০১
৬.৫ সময়সীমা বৃদ্ধির প্রক্রিয়া: ধারা ৬৫ এবং ফরম মূসক ৯.২
প্রকৃত কোনো অপারগতা বা অসম্ভবতার ক্ষেত্রে (যেমন পোর্টাল বিভ্রাট, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, পরিচালন অক্ষমতা), নির্ধারিত সময়সীমার অন্তত ৭ দিন পূর্বে কমিশনার বরাবর ফরম মূসক ৯.২-এর মাধ্যমে সময় বৃদ্ধির আবেদন দাখিল করতে হবে। কমিশনার অনূর্ধ্ব এক মাস পর্যন্ত সময় বৃদ্ধি মঞ্জুর করতে পারেন; তবে লক্ষণীয় যে, ধারা ১২৭ অনুসারে বর্ধিত সমগ্র সময়কালে অপরিশোধিত দায়ের ওপর সুদ অর্জিত হতে থাকবে — সময় বৃদ্ধির মাধ্যমে কেবল প্রশাসনিক জরিমানা স্থগিত হয়, সুদের সারচার্জ নয়।
ধারা ৭: মূসক নিবন্ধন ও পরিপালন নির্ধারণকারী ঐতিহাসিক বিচারিক নজিরসমূহ
৭.১ সুপার পেট্রোকেমিক্যাল (প্রাঃ) লিঃ বনাম কমিশনার, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট আপিল ট্রাইব্যুনাল ও অন্যান্য, ২২ বিএলসি (এইচসিডি) (২০১৭) ৬৪৫
ঘটনা: কমিশনারেট কথিত অনিয়মের সুনির্দিষ্ট বিবরণ উল্লেখপূর্বক কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ (Show Cause Notice) জারি না করেই একতরফাভাবে উপকরণ কর রেয়াত অগ্রাহ্য করে এবং মূসক ছাড়পত্র স্থগিত করে।
আদালতের সিদ্ধান্ত: হাইকোর্ট বিভাগ অভিমত ব্যক্ত করেন যে, মূসক কর্তৃপক্ষ আধা-বিচারিক (quasi-judicial) দায়িত্ব পালন করে এবং তারা প্রাকৃতিক ন্যায়নীতি, বিশেষ করে অডি অলতেরাম পার্তেম (উভয় পক্ষের বক্তব্য শ্রবণ/শুনানির সুযোগ) নীতি মান্য করতে বাধ্য। সুনির্দিষ্ট ও বিস্তারিত কারণ দর্শানোর নোটিশ এবং শুনানির কার্যকর সুযোগ প্রদান ব্যতীত রেয়াত নামঞ্জুর বা মূসক হিসাব স্থগিতকরণ বেআইনি এবং তা বাতিলযোগ্য।
আইনজীবীদের জন্য মূলনীতি: যেকোনো দাবিনামা, রেয়াত নামঞ্জুরকরণ বা বিআইএন স্থগিতকরণের পূর্বে অবশ্যই একটি সুনির্দিষ্ট ও দফাওয়ারী কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করতে হবে; অন্যথায় তা বিচারিক পর্যালোচনার (judicial review) একটি স্বতন্ত্র কারণ হিসেবে গণ্য হবে।
৭.২ ব্যুরো ভেরিটাস (বাংলাদেশ) লিঃ বনাম কমিশনার অব কাস্টমস, এক্সাইজ অ্যান্ড ভ্যাট ও অন্যান্য, ৬৭ ডিএলআর (এইচসিডি) (২০১৫) ২৩৮
ঘটনা: একটি আন্তর্জাতিক পরিদর্শন ও সার্টিফিকেশন প্রতিষ্ঠান শারীরিকভাবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সেবা প্রদান করেছিল, তবে সেবাটির বিল প্রস্তুত করা হয়েছিল বিদেশি গ্রহীতার নামে এবং রূপান্তরযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রায় তার মূল্য গ্রহণ করা হয়েছিল।
আদালতের সিদ্ধান্ত: আদালত রায় দেন যে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সম্পাদিত হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা "সেবা রপ্তানি" শ্রেণিবিভাগ থেকে বাদ পড়বে না, যদি গ্রহীতা বিদেশে অবস্থিত হন এবং অর্থ সরকারি ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রায় প্রেরিত হয় — এ ধরনের সেবা রপ্তানি বিধানের (২০১২ সালের আইনের ধারা ২১) অধীনে শূন্য হারের (০%) সুবিধা পাবে।
আইনজীবীদের জন্য মূলনীতি: সেবা রপ্তানিকারকদের শূন্য-হার সুবিধা নিশ্চিত করতে ইনভয়েসিং এবং ব্যাংকিং নথিপত্র এমনভাবে প্রস্তুত করতে হবে যাতে গ্রহীতা/অর্থপ্রদানকারীর বিদেশি সত্তা হওয়া দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রমাণিত হয়, সেবা প্রদানের শারীরিক অবস্থান যাই হোক না কেন।
৭.৩ ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোং লিঃ বনাম জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও অন্যান্য, ৭০ ডিএলআর (এডি) (২০১৮) ২৮৭
ঘটনা: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) অধস্তন প্রশাসনিক ব্যাখ্যার মাধ্যমে অতীতের মূসক ভিত্তি-মূল্যের শ্রেণিবিভাগ ভূতাপেক্ষভাবে (retrospectively) সংশোধন করার উদ্যোগ নেয়, যার ফলে পূর্ববর্তী মেয়াদের কর দায় সৃষ্টি হয়।
আদালতের সিদ্ধান্ত: আপিল বিভাগ রায় প্রদান করেন যে, সংসদ কর্তৃক স্পষ্ট আইনগত কর্তৃত্ব ব্যতীত এনবিআর কোনো অধস্তন নির্দেশনার মাধ্যমে ভূতাপেক্ষভাবে মূসক সীমা, শ্রেণিবিভাগ বা ভিত্তি-মূল্য পরিবর্তন করতে পারে না। প্রচলিত আইনের সঙ্গে সংগতি রেখে দাখিলকৃত দাখিলপত্রের মাধ্যমে অর্জিত অধিকার প্রশাসনিক আদেশে হরণ করা যায় না।
আইনজীবীদের জন্য মূলনীতি: কেবল এনবিআরের সার্কুলার/ব্যাখ্যার ওপর ভিত্তি করে তৈরিকৃত ভূতাপেক্ষ দাবি (আইনসভার প্রাথমিক আইনগত সংশোধন ব্যতীত) সাংবিধানিক ও আইনগতভাবে চ্যালেঞ্জযোগ্য।
৭.৪ এ.সি.আই. লিমিটেড বনাম কমিশনার অব ট্যাক্সেস ও অন্যান্য, ১৯ এমএলআর (এইচসিডি) (২০১৪) ১১২
উপরে ধারা ২.৪-এ আলোচিত — এই রায়টি বর্তমানে বিধি ৪ক-তে বিধিবদ্ধ কেন্দ্রীয় বিআইএন (Central BIN) ব্যবস্থার বিচারিক ভিত্তি স্থাপন করেছে।
সংবিধিবদ্ধ নথিপত্রের চেকলিস্ট
মৌলিক পরিচয় সংক্রান্ত নথিপত্র
- ১২-সংখ্যার ই-টিআইএন সনদপত্র (এনবিআর কর বিভাগ)
- চলতি অর্থবছরের হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স (সিটি কর্পোরেশন/পৌরসভা/ইউনিয়ন পরিষদ)
- স্বত্বাধিকারী/পরিচালকবৃন্দ/ক্ষমতাপ্রাপ্ত স্বাক্ষরকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা পাসপোর্ট
করপোরেট কাঠামো সংক্রান্ত নথিপত্র
- নিগমবদ্ধকরণ সনদপত্র বা সার্টিফিকেট অব ইনকর্পোরেশন (আরজেএসসি)
- মেমোরেন্ডাম ও আর্টিকেলস অব অ্যাসোসিয়েশন (MoA/AoA)
- ফরম XII / পরিচালকদের তালিকা (আরজেএসসি)
- অংশীদারি চুক্তিপত্র / ফরম I (অংশীদারি কারবারের ক্ষেত্রে)
প্রাঙ্গণ ও পরিচালন সংক্রান্ত প্রমাণক
- ব্যবসায়িক প্রাঙ্গণের ভাড়াচুক্তিপত্র বা মালিকানা স্বত্ব দলিল
- পরিচালনাগত ঠিকানা নিশ্চিতকরণে ইউটিলিটি বিল (বিদ্যুৎ/গ্যাস/পানি)
- কারখানার লে-আউট প্ল্যান/যন্ত্রপাতির নকশা (শুধুমাত্র প্রস্তুতকারকদের জন্য)
নিয়ন্ত্রক ও বৈদেশিক বিনিয়োগ সংক্রান্ত নথিপত্র
- বিডা (BIDA)/বেপজা (BEPZA)/বেজা (BEZA) নিবন্ধন (বিদেশি মালিকানাধীন/যৌথ উদ্যোগের সত্তা)
- আইআরসি (IRC)/ইআরসি (ERC) সনদপত্র (আমদানি/রপ্তানি ব্যবসা)
- ফায়ার লাইসেন্স এবং পরিবেশ ছাড়পত্র (উৎপাদন শিল্প)
আর্থিক যাচাইকরণ
- ব্যবসায়িক নামের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যাংক হিসাব সনদপত্র এবং এমআইসিআর (MICR) চেক পাতা
নিয়মিত মাসিক পরিপালন নথিপত্র
- মূসক ৬.১ (ক্রয় হিসাব পুস্তক)
- মূসক ৬.২ / ৬.২.১ (বিক্রয় হিসাব পুস্তক)
- মূসক ৬.৩ (কর চালানপত্র, সংরক্ষিত অনুলিপিসহ)
- মূসক ৬.৫ (আন্তঃশাখা স্থানান্তর চালানপত্র, কেন্দ্রীয় বিআইএনধারীদের জন্য)
- মূসক ৬.৬ (উৎস কর কর্তন সনদপত্র)
- মূসক ৪.৩ (উপকরণ-উৎপাদ সহগ ঘোষণা, প্রস্তুতকারকদের জন্য)
- এ-চালান পরিশোধের রসিদ
- মূসক ৯.১ (মাসিক দাখিলপত্র, দাখিলকৃত ও প্রাপ্তিস্বীকারকৃত)
নিয়ন্ত্রক ফি, সময়সীমা ও জরিমানার বিবরণী (পেনাল্টি ম্যাট্রিক্স)
| পরিপালন কার্যক্রম | সংবিধিবদ্ধ সময়সীমা | সরকারি ফি | খেলাফের পরিণতি |
|---|---|---|---|
| বিআইএন সনদপত্র ইস্যু (মূসক ২.৩) | ত্রুটিমুক্ত মূসক ২.১ দাখিলের ৩ কার্যদিবসের মধ্যে | প্রযোজ্য নয় (অনলাইন বিআইএন ইস্যুর কোনো সরকারি ফি নেই) | বিধি ৫-এর অধীনে মাঠপর্যায়ে যাচাইকরণে বিলম্ব |
| টার্নওভার কর তালিকাভুক্তি | সংবিধিবদ্ধ টার্নওভার সীমা অতিক্রমের সময়সীমার মধ্যে | প্রযোজ্য নয় | ১০,০০০ টাকা জরিমানা (ধারা ৮৫(১)(ক)) |
| মাসিক মূসক দাখিলপত্র (মূসক ৯.১) | কর মেয়াদ সমাপ্তির পরবর্তী মাসের ১৫তম দিন | প্রযোজ্য নয় (দাখিল ফি নেই); কর দায় আলাদাভাবে পরিশোধযোগ্য | প্রতি খেলাপি মেয়াদের জন্য ১০,০০০ টাকা জরিমানা + বিআইএন লক/স্থগিত |
| ভিডিএস সনদপত্র ইস্যু (মূসক ৬.৬) | কর্তনের ১৫ দিনের মধ্যে | প্রযোজ্য নয় | সংশ্লিষ্ট আইনি ধারায় নির্ধারিত জরিমানা ও কার্যধারা |
সচরাচর জিজ্ঞাস্য (FAQ)
◆ সম্পর্কিত প্র্যাকটিস গাইড ও বিশ্লেষণ
<li style="margin-bottom:12px; line-height:1.5;">
<a href="/en/foreign-direct-investment-fdi-and-bida-registration-bn/" style="color:#C5A059; font-weight:600; text-decoration:none; font-size:14px; display:inline-block; transition:color 0.2s;">• Foreign Direct Investment (FDI) and BIDA Registration</a>
</li>
<li style="margin-bottom:12px; line-height:1.5;">
<a href="/bn/trade-license-in-bangladesh-complete-issuance-renewal-city-corporation-guide-bn--1017/" style="color:#C5A059; font-weight:600; text-decoration:none; font-size:14px; display:inline-block; transition:color 0.2s;">• ট্রেড লাইসেন্স বাংলাদেশ: নতুন আবেদন, নবায়ন এবং সিটি কর্পোরেশন নিয়মাবলী</a>
</li>
<li style="margin-bottom:12px; line-height:1.5;">
<a href="/bn/setting-up-branch-or-liaison-office-in-bangladesh-complete-bida-approval-compliance-roadmap-bn--1019/" style="color:#C5A059; font-weight:600; text-decoration:none; font-size:14px; display:inline-block; transition:color 0.2s;">• বাংলাদেশে ব্রাঞ্চ বা লিয়াজোঁ অফিস স্থাপন: বিডা অনুমোদন ও পূর্ণাঙ্গ আইনি প্রক্রিয়া</a>
</li>
<li style="margin-bottom:12px; line-height:1.5;">
<a href="/bn/corporate-income-tax-return-filing-in-bangladesh-rates-audit-requirements-tax-day-deadlines-bn/" style="color:#C5A059; font-weight:600; text-decoration:none; font-size:14px; display:inline-block; transition:color 0.2s;">• কর্পোরেট আয়কর রিটার্ন দাখিল বাংলাদেশ: কর হার, অডিট বাধ্যবাধকতা ও সময়সীমা</a>
</li>
কাদের জন্য বাংলাদেশে ভ্যাট নিবন্ধন (BIN) গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক?
মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ এর ধারা ৪ ও ৬ অনুযায়ী, যেসকল সত্তার বার্ষিক টার্নওভার ৩ কোটি টাকার অধিক অথবা যারা আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে যুক্ত, দরপত্রে অংশগ্রহণকারী, নির্দিষ্ট সেবা প্রদানকারী বা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, তাদের জন্য টার্নওভার নির্বিশেষে ১৩-সংখ্যার ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন নম্বর (BIN) গ্রহণ বাধ্যতামূলক।
অনলাইনে মূসক ২.১ ফরমের মাধ্যমে কীভাবে বিআইএন (BIN) সনদ পাওয়া যায়?
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) অনলাইন ভ্যাট পোর্টাল (vat.gov.bd)-এ গিয়ে মূসক ২.১ ইলেকট্রনিক ফরমে আবেদনকারীর তথ্য, ই-টিআইএন, জাতীয় পরিচয়পত্র, ট্রেড লাইসেন্স, ব্যাংক সনদ এবং অন্যান্য প্রযোজ্য নথি আপলোড করে আবেদন দাখিল করতে হয়। যাচাই-বাছাই শেষে সাধারণত ৩ কার্যদিবসের মধ্যে মূসক ২.৩ সনদটি সরাসরি ডাউনলোড করা যায়।
কর মেয়াদে কোনো ধরনের ক্রয়-বিক্রয় না থাকলেও কি রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক?
হ্যাঁ, ধারা ৬৪ অনুসারে কোনো কর মেয়াদে (ক্যালেন্ডার মাস) কোনো ধরনের ব্যবসায়িক লেনদেন বা ক্রয়-বিক্রয় না ঘটলেও শূন্য রিটার্ন (Nil Return) দাখিল করা বাধ্যতামূলক। অন্যথায় এটি বিধি লঙ্ঘন বলে গণ্য হবে এবং পেনাল্টি আরোপিত হবে।
নির্ধারিত মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে মূসক ৯.১ দাখিল না করলে কী আইনি পরিণতি হতে পারে?
ধারা ৮৫ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়সীমার (পরবর্তী মাসের ১৫ তারিখ) মধ্যে রিটার্ন দাখিল না করলে সরাসরি ১০,০০০ (দশ হাজার) টাকা জরিমানা আরোপিত হয়। এছাড়াও প্রদেয় ভ্যাট বকেয়া থাকলে ধারা ১২৭ মোতাবেক মাসিক ২ শতাংশ হারে সরল সুদ গণনা করা হয় এবং ব্যাংক হিসাব স্থগিতের মতো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
কোনো প্রতিষ্ঠানের একাধিক শাখা থাকলে কি আলাদা বিআইএন গ্রহণ করতে হবে?
মূল্য সংযোজন কর আইন, ২০১২ এর কেন্দ্রীয় নিবন্ধন বিধিমালার অধীনে একই মূল সত্তা এবং একই ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হলে একটি কেন্দ্রীয় বিআইএন গ্রহণ করাই যথেষ্ট। তবে শাখাগুলোর হিসাব আলাদা এবং স্বাধীনভাবে পরিচালিত হলে কমিশনারের পূর্বানুমোদনক্রমে পৃথক নিবন্ধন গ্রহণ করা যায়।
ভ্যাট চালানপত্র (মূসক ৬.৩) ইস্যু না করে পণ্য সরবরাহ বা লেনদেন করলে কী ব্যবস্থা গৃহীত হয়?
পণ্য সরবরাহ বা সেবা প্রদানের মুহূর্তে ধারা ৫১ ও বিধি ৪০ মোতাবেক গ্রাহককে মূসক ৬.৩ চালানপত্র প্রদান বাধ্যতামূলক। মূসক চালান প্রদান না করা বা ভুল চালান ইস্যু করা ধারা ৮৫ এর আওতায় গুরুতর অপরাধ, যার জন্য চালান বহির্ভূত পণ্যের দ্বিগুণ মূল্য পর্যন্ত জরিমানা এবং মালামাল বাজেয়াপ্তি হতে পারে।