নির্বাহী সারসংক্ষেপ ও সংবিধিবদ্ধ এখতিয়ার
ফিচার্ড স্নিপেট: বাংলাদেশে একটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির বিলোপসাধন (Winding up) কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ (ধারা ২৩৪–৩১৫) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, যা তিনটি প্রস্থান পথ (exit routes) প্রদান করে: সদস্যগণ/পাওনাদারগণ কর্তৃক স্বেচ্ছাকৃত বিলোপসাধন (সচ্ছল/অসচ্ছল স্ব-অবসায়ন), হাইকোর্ট বিভাগের কোম্পানি বেঞ্চ কর্তৃক বাধ্যতামূলক বিলোপসাধন, অথবা অকার্যকর সত্তার ক্ষেত্রে ধারা ২২৮-এর অধীনে আরজেএসসি (RJSC)-র প্রশাসনিক নাম কর্তন (strike-off)।
বাংলাদেশের করপোরেট আইনে কোনো প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিকে কেবল "কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার" অনুমতি দেওয়া হয় না। একটি নিবন্ধিত কোম্পানি একটি আইনগত কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তা (juristic person), যা কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন)-এর অধীনে সংবিধিবদ্ধভাবে নির্ধারিত কোনো একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে অবলুপ্ত (dissolved) না হওয়া পর্যন্ত বহাল থাকে। ধারা ২৩৪-এ বিলোপসাধনের তিনটি পদ্ধতির একটি ত্রিপক্ষীয় শ্রেণিবিভাগ সংবিধিবদ্ধ করা হয়েছে: (ক) আদালত কর্তৃক বিলোপসাধন; (খ) স্বেচ্ছাকৃত বিলোপসাধন; এবং (গ) আদালতের তত্ত্বাবধান সাপেক্ষে স্বেচ্ছাকৃত বিলোপসাধন। চতুর্থ একটি প্রশাসনিক পথ — ধারা ২২৮-এর অধীনে রেজিস্টার থেকে একটি অকার্যকর কোম্পানির নাম কর্তন (striking off) — প্রায়শই (এবং ভুলবশত) আনুষ্ঠানিক বিলোপসাধনের সাথে একীভূত করে ফেলা হয়, যদিও এর আইনগত পরিণতি বস্তুগতভাবে ভিন্ন, বিশেষ করে পরিচালকদের চলমান দায়ের (continuing director liability) ক্ষেত্রে।
এই সন্দর্ভে সংবিধিবদ্ধ সুনির্দিষ্টতার সাথে প্রতিটি প্রক্রিয়া বিশ্লেষণ করা হয়েছে, যেখানে আয়কর আইন, ২০২৩, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২, বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন নির্দেশিকা (Foreign Exchange Guidelines), এবং হাইকোর্ট বিভাগের কোম্পানি বেঞ্চের সম্মুখে প্রযোজ্য কোম্পানিজ (কোর্ট) রুলস-এর পারস্পরিক প্রাসঙ্গিকতা উল্লেখ করা হয়েছে। পরিচালক, কোম্পানি সচিব এবং অবসায়কদের অবশ্যই অনুধাবন করতে হবে যে, প্রস্থান প্রক্রিয়ার নির্বাচন কোনো বিবেচনামূলক আনুষ্ঠানিকতা মাত্র নয় — এটি কোম্পানির সচ্ছলতার অবস্থা, বৈদেশিক বিনিয়োগের উপস্থিতি এবং পাওনাদার বা অংশপ্রদানকারীগণ (contributories) কোনো প্রতিকারের দাবি উত্থাপন করছেন কি না, তার দ্বারা নির্ধারিত হয়।
সংবিধিবদ্ধ শ্রেণিবিভাগ: বিলোপসাধনের তিনটি পথ এবং নাম কর্তন (Strike-Off)
ফিচার্ড স্নিপেট: বাংলাদেশ কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর ধারা ২৩৪-এর অধীন তিনটি বিলোপসাধন পদ্ধতি স্বীকৃতি দেয় — আদালত কর্তৃক নির্দেশিত, স্বেচ্ছাকৃত (সদস্যগণ/পাওনাদারগণ কর্তৃক), এবং আদালত-তত্ত্বাবধানাধীন স্বেচ্ছাকৃত — এছাড়াও কোনো চলমান ব্যবসা বা পরিসম্পদ নেই এমন অকার্যকর কোম্পানির ক্ষেত্রে ধারা ২২৮-এর অধীন একটি পৃথক প্রশাসনিক নাম কর্তন (strike-off)।
| পদ্ধতি | সংবিধিবদ্ধ ভিত্তি | কার্যকারিতা শুরুর শর্ত (Trigger Condition) | তদারককারী কর্তৃপক্ষ |
|---|---|---|---|
| সদস্যগণ কর্তৃক স্বেচ্ছাকৃত বিলোপসাধন | ধারা ২৮৬–২৯৫ | কোম্পানি সচ্ছল; সচ্ছলতার ঘোষণাপত্র (Declaration of Solvency) দাখিলকৃত | কোম্পানি (অবসায়কের মাধ্যমে), আরজেএসসি-তে নিবন্ধিত |
| পাওনাদারগণ কর্তৃক স্বেচ্ছাকৃত বিলোপসাধন | ধারা ২৯৬–৩০৭ | কোম্পানি অসচ্ছল অথবা সচ্ছলতার ঘোষণাপত্র প্রদানে ব্যর্থ | পাওনাদারদের নিরীক্ষা কমিটি (Committee of Inspection), আরজেএসসি |
| আদালত কর্তৃক বাধ্যতামূলক বিলোপসাধন | ধারা ২৪১–২৮৫ | ঋণ পরিশোধে অক্ষমতা (ধারা ২৪১(v)) অথবা "ন্যায্য ও যুক্তিযুক্ত" (just and equitable) কারণসমূহ (ধারা ২৪১(vi)) | হাইকোর্ট বিভাগ, কোম্পানি বেঞ্চ |
| প্রশাসনিক নাম কর্তন (Strike-Off) | ধারা ২২৮ | কোম্পানি অকার্যকর/কোনো ব্যবসা পরিচালনা করছে না | আরজেএসসি (রেজিস্ট্রারের স্বতঃপ্রণোদিত ক্ষমতাবলে বা আবেদনের প্রেক্ষিতে) |
প্রস্থান বিবেচনাধীন যেকোনো পর্ষদের জন্য চূড়ান্ত প্রাথমিক প্রশ্নটি হলো: কোম্পানিটি কি সচ্ছল, এবং এর কি কোনো চলমান কার্যক্রম, পরিসম্পদ বা দায় রয়েছে? পরিচ্ছন্ন হিসাব সম্বলিত একটি সচ্ছল কোম্পানির উচিত সদস্যগণ কর্তৃক স্বেচ্ছাকৃত বিলোপসাধনের পথ অনুসরণ করা। কোনো বস্তুগত পরিসম্পদ বা দায়হীন নিষ্ক্রিয় শেল (shell) কোম্পানি প্রশাসনিকভাবে তুলনামূলক সহজতর ধারা ২২৮-এর নাম কর্তনের যোগ্য বিবেচিত হতে পারে। পাওনাদারদের চাপের মুখোমুখি একটি অসচ্ছল কোম্পানি হয় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে পাওনাদারগণ কর্তৃক স্বেচ্ছাকৃত বিলোপসাধন শুরু করবে, অথবা হাইকোর্টের সম্মুখে পাওনাদারের আবেদনের প্রেক্ষিতে বাধ্যতামূলক অবসায়নে বাধ্য হবে।
সদস্যগণ কর্তৃক স্বেচ্ছাকৃত বিলোপসাধন: সচ্ছল কোম্পানির ক্ষেত্রে পদ্ধতি
ফিচার্ড স্নিপেট: ধারা ২৮৬–২৯৫-এর অধীন সদস্যগণ কর্তৃক স্বেচ্ছাকৃত বিলোপসাধনের জন্য প্রয়োজন পর্ষদ-অনুমোদিত সচ্ছলতার ঘোষণাপত্র (ফরম ১০৭), ইজিএম-এ শেয়ারহোল্ডারদের বিশেষ সিদ্ধান্ত (Special Resolution), অবসায়ক নিয়োগ, গেজেট প্রকাশনা, এবং আরজেএসসি-তে ফরম ১১১/১১২-এর চূড়ান্ত দাখিল — যার ফলশ্রুতিতে তিন মাস পর স্বয়ংক্রিয় অবলুপ্তি (dissolution) ঘটে।
ধাপ ১ — সচ্ছলতার ঘোষণাপত্র (ধারা ২৮৮)
সদস্যদের সভা আহ্বানের পূর্বে, সংখ্যাগরিষ্ঠ পরিচালকদের অবশ্যই হলফনামা দ্বারা যাচাইকৃত একটি সচ্ছলতার ঘোষণাপত্র (ফরম ১০৭) সম্পাদন করতে হবে, যেখানে উল্লেখ থাকবে যে কোম্পানিটি বিলোপসাধন শুরুর তারিখ থেকে অনূর্ধ্ব তিন (৩) বছরের মধ্যে সম্পূর্ণরূপে তার সমস্ত ঋণ পরিশোধে সক্ষম হবে। এই ঘোষণাপত্রটির ক্ষেত্রে অবশ্যই:
- সর্বশেষ বাস্তবসম্মত তারিখ অনুযায়ী কোম্পানির পরিসম্পদ ও দায়ের একটি বিবরণী সংযুক্ত থাকতে হবে (নিরীক্ষক-প্রত্যয়িত উদ্বৃত্তপত্র এবং লাভ-ক্ষতির হিসাব দাখিল করা অপরিহার্য রীতি);
- বিলোপসাধনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের তারিখের অবিলম্বে পূর্ববর্তী পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন হতে হবে; এবং
- উক্ত তারিখের পূর্বে নিবন্ধনের জন্য আরজেএসসি-তে দাখিল করতে হবে।
যৌক্তিক কারণ ব্যতিরেকে প্রদত্ত সচ্ছলতার ঘোষণাপত্র ধারা ২৮৮(৫)-এর অধীন পরিচালকদের কারাদণ্ড এবং/বা অর্থদণ্ডের মুখোমুখি করে, যদি ঘোষিত মেয়াদের মধ্যে কোম্পানির ঋণ পরিশোধ বা তার বন্দোবস্ত না করা হয়।
ধাপ ২ — জরুরি সাধারণ সভা (ইজিএম) এবং বিশেষ সিদ্ধান্ত (ধারা ২৮৭)
কোম্পানিকে অবশ্যই পূর্ণ ২১ দিনের নোটিশে একটি ইজিএম (EGM) আহ্বান করতে হবে (যা কেবল ভোটদানের ক্ষমতার অন্যূন ৯৫% ধারণকারী সদস্যদের সম্মতিতেই মওকুফযোগ্য)। এই সভায়, শেয়ারহোল্ডারগণ একটি বিশেষ সিদ্ধান্ত (Special Resolution) (ধারা ৮৭-এর অধীনে ৭৫% সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন) পাস করবেন, যাতে কোম্পানি স্বেচ্ছায় বিলোপসাধন এবং পারিশ্রমিক নির্ধারণপূর্বক এক বা একাধিক অবসায়ক নিয়োগের সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে।
আইনগত পরিণতি: ধারা ২৮৪-এর অধীন, সিদ্ধান্তটি পাস হওয়ার মুহূর্ত থেকেই বিলোপসাধন শুরু হয়েছে বলে গণ্য হয়। তদ্ব্যতীত, ধারা ২৯১(২) সাধারণ সভায় কোম্পানি বা অবসায়ক অনুমোদন না করা পর্যন্ত পরিচালনা পর্ষদের সকল ক্ষমতা তাৎক্ষণিকভাবে অবলুপ্ত করে।
ধাপ ৩ — সিদ্ধান্তের সংবিধিবদ্ধ বিজ্ঞাপন (ধারা ২৮৯)
বিশেষ সিদ্ধান্তের নোটিশ অবশ্যই প্রকাশিত হতে হবে:
- বাংলাদেশ গেজেটে, এবং
- নিবন্ধিত কার্যালয় অবস্থিত জেলায় প্রচারিত অন্যূন একটি দৈনিক সংবাদপত্রে —
উভয় প্রকাশনাই সিদ্ধান্ত পাসের চৌদ্দ (১৪) দিনের মধ্যে সম্পন্ন হতে হবে। এতে ব্যর্থ হলে কোম্পানি এবং প্রত্যেক খেলাপি কর্মকর্তা জরিমানার সম্মুখীন হবেন।
ধাপ ৪ — অবসায়ক নিয়োগের নোটিশ (ধারা ৩১৫)
নিযুক্ত অবসায়ককে অবশ্যই:
- অফিশিয়াল গেজেটে নিয়োগের নোটিশ প্রকাশ করতে হবে; এবং
- আরজেএসসি-তে ফরম ১১০ দাখিল করতে হবে —
নিয়োগের একুশ (২১) দিনের মধ্যে। এটি দ্বিতীয় মূল শব্দগুচ্ছ "অবসায়ক নিয়োগের নোটিশ"-এর সংবিধিবদ্ধ ভিত্তি — এই সময়সীমার মধ্যে দাখিলে ব্যর্থ হলে ধারা ৩১৫(২)-এর অধীনে অবসায়ক চলমান দৈনিক খেলাপি অর্থদণ্ডে দায়ী হবেন।
ধাপ ৫ — অবসায়ন চলাকালে কর, ভ্যাট এবং বৈদেশিক মুদ্রা ছাড়পত্র
অবসায়ন মেয়াদে (সাধারণত পরিচ্ছন্ন শেল কোম্পানির ক্ষেত্রে ২–৮ মাস, এবং সক্রিয় সত্তার ক্ষেত্রে দীর্ঘতর) অবসায়কের মূল দায়িত্বগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:
- উপকর কমিশনার (ডিসিটি)-কে নোটিশ: আয়কর আইন, ২০২৩-এর অধীনে অবসায়ককে নিয়োগের ৩০ দিনের মধ্যে অধিক্ষেত্রাধীন ডিসিটিকে অবহিত করতে হবে। বকেয়া করপোরেট করের জন্য পরিচালকরা যৌথ ও পৃথকভাবে দায়ী থাকবেন, যদি না তারা প্রমাণ করেন যে এই খেলাপি চরম অবহেলা, অপকর্ম (misfeasance), বা দায়িত্ব লঙ্ঘনের কারণে ঘটেনি।
- কর পরিশোধের প্রত্যয়নপত্র (TCC): জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ছাড়পত্র/অনাপত্তিপত্র (NOC)-এর প্রমাণ ব্যতীত কোনো আরজেএসসি অবলুপ্তি সংক্রান্ত আবেদন গ্রহণ করা হবে না।
- বিআইএন সমর্পণ: চূড়ান্ত
পাওনাদারদের দ্বারা স্বেচ্ছা অবসায়ন: যখন স্বচ্ছলতার ঘোষণা প্রদান সম্ভব নয়
ফিচার্ড স্নিপেট: পাওনাদারদের দ্বারা স্বেচ্ছা অবসায়ন (ধারা ২৯৬–৩০৭) সেই ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় যেখানে পরিচালকগণ স্বচ্ছলতার ঘোষণাপত্র (Declaration of Solvency) দাখিল করতে অক্ষম হন; সদস্যদের সভার সাথে যুগপৎভাবে একটি পাওনাদারদের সভা আহ্বান করা হয়, যা পাওনাদারদের অবসায়ক (লিকুইডেটর) মনোনীত করার এবং একটি নিরীক্ষণ কমিটি (Committee of Inspection) গঠন করার ক্ষমতা প্রদান করে।
যেখানে পরিচালকগণ ন্যায়সঙ্গতভাবে বা সরল বিশ্বাসে ধারা ২৮৮-এর অধীন স্বচ্ছলতার ঘোষণাপত্র প্রদানে অক্ষম হন — কারণ কোম্পানিটি তিন বছরের মধ্যে তার দেনা পরিশোধ করতে পারবে না — সেখানে এই অবসায়ন ধারা ২৯৬-এর অধীনে পাওনাদারদের দ্বারা স্বেচ্ছা অবসায়ন হিসেবে অগ্রসর হয়। কোম্পানিকে অবশ্যই সদস্যদের যে সভায় অবসায়নের প্রস্তাব গৃহীত হয়, সেই একই দিনে অথবা তার পরবর্তী দিনে পাওনাদারদের একটি সভা আহ্বান করতে হবে, এবং সদস্যদের নোটিশ প্রেরণের পাশাপাশি যুগপৎভাবে ডাকযোগে প্রতিটি জ্ঞাত পাওনাদারের নিকট নোটিশ প্রেরণ করতে হবে (ধারা ২৯৭)।
পাওনাদারদের সভায়:
- পাওনাদারদের কোম্পানির কার্যাবলীর একটি বিবরণী (statement of affairs) এবং আনুমানিক দাবির বিবরণসহ পাওনাদারদের একটি তালিকা সরবরাহ করা হয় (ধারা ২৯৭(২));
- পাওনাদারগণ একজন অবসায়ক মনোনীত করতে পারেন, এবং মতবিরোধের ক্ষেত্রে সদস্যদের দ্বারা মনোনীত অবসায়কের তুলনায় পাওনাদারদের দ্বারা মনোনীত অবসায়কের মনোনয়ন প্রাধান্য পাবে (ধারা ৩০০);
- অবসায়কের কার্যক্রম তদারকির উদ্দেশ্যে অনধিক পাঁচ সদস্যের একটি নিরীক্ষণ কমিটি (Committee of Inspection) নিয়োগ করা যেতে পারে (ধারা ৩০২)।
কার্যপ্রণালীর অবশিষ্ট মূল কাঠামো — যেমন সরকারি গেজেটে প্রস্তাবের বিজ্ঞাপন প্রকাশ, অবসায়কের নিয়োগ সংক্রান্ত নোটিশ, কর/ভ্যাট প্রত্যয়নপত্র (ক্লিয়ারেন্স), এবং ফরম ১১১/১১২-এর মাধ্যমে চূড়ান্ত অবলুপ্তি বা বিলোপসাধন — সদস্যদের স্বেচ্ছা অবসায়নের অনুরূপ রূপরেখা অনুসরণ করে; তবে পার্থক্য হলো প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে শেয়ারহোল্ডারদের নিয়ন্ত্রণের স্থলে পাওনাদারদের সম্মতি ও তদারকি প্রতিস্থাপিত হয়।
হাইকোর্ট কর্তৃক বাধ্যতামূলক অবসায়ন
ফিচার্ড স্নিপেট: কোম্পানি আইন ১৯৯৪-এর ধারা ২৪১–২৮৫ এর অধীন বাধ্যতামূলক অবসায়ন প্রক্রিয়া হাইকোর্ট বিভাগের কোম্পানি বেঞ্চে সংবিধিবদ্ধ কারণসমূহের ভিত্তিতে পিটিশন দায়েরের মাধ্যমে সূচিত হয়, যার মধ্যে দেনা পরিশোধে অক্ষমতা (ধারা ২৪১(v), যা ধারা ২৪২-এর অধীনে উত্তরহীন ২১ দিনের সংবিধিবদ্ধ দাবিনামা দ্বারা সক্রিয় হয়) বা "ন্যায়সঙ্গত ও সমীচীন" (just and equitable) কারণসমূহ (ধারা ২৪১(vi)) অন্তর্ভুক্ত।
অবসায়নের পিটিশন দায়েরের কারণসমূহ (ধারা ২৪১)
ধারা ২৪১-এ সেইসব কারণ বিশদভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যার ভিত্তিতে আদালত বাধ্যতামূলক অবসায়নের আদেশ প্রদান করতে পারেন, যার মধ্যে সর্বাধিক মামলা পরিচালিত হয় এমন দুটি কারণ হলো:
- ধারা ২৪১(v) — দেনা পরিশোধে অক্ষমতা: একটি কোম্পানি তার দেনা পরিশোধে অক্ষম বলে গণ্য হবে যদি সংবিধিবদ্ধ আর্থিক সীমার অতিরিক্ত পাওনা রয়েছে এমন কোনো পাওনাদার ধারা ২৪২-এর অধীনে একটি দাবিনামা জারি করেন এবং কোম্পানি এর পরবর্তী তিন (৩) সপ্তাহ পর্যন্ত উক্ত দেনা পরিশোধ করতে, জামানত প্রদান করতে অথবা পাওনাদারের সন্তুষ্টিমাফিক নিষ্পত্তি করতে ব্যর্থ বা অবহেলা করে।
- ধারা ২৪১(vi) — "ন্যায়সঙ্গত ও সমীচীন" ভিত্তি: এটি একটি অবশিষ্ট সমতাভিত্তিক এখতিয়ার (residual equitable jurisdiction), যা সাধারণত শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যকার অচলাবস্থা (deadlock), সংখ্যালঘু সদস্যদের ওপর নিপীড়ন (oppression of minority members), কোম্পানির মূল ভিত্তি বিনষ্ট হওয়া (loss of substratum), বা প্রতারণামূলক কার্যাবলী পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয় — যা
সংবিধিবদ্ধ দলিলের চেকলিস্ট
| দলিল | প্রযোজ্য বিধান | প্রযোজ্য প্রক্রিয়া (ট্র্যাক) |
|---|---|---|
| অবসায়ন অনুমোদনকারী পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত (বোর্ড রেজোলিউশন) | ধারা ২৮৮ | এমভিএল/সিভিএল (MVL/CVL) |
| ঋণ পরিশোধ সক্ষমতার ঘোষণা (ফরম ১০৭) + নিরীক্ষকের ব্যালেন্স শিট | ধারা ২৮৮ | কেবল সদস্যদের দ্বারা স্বেচ্ছাকৃত অবসায়ন |
| ইজিএম-এর নোটিশ (২১ দিন) | ধারা ২৮৭ | এমভিএল/সিভিএল |
| বিশেষ সিদ্ধান্ত (৭৫% সংখ্যাগরিষ্ঠতা, ধারা ৮৭) | ধারা ২৮৭ | এমভিএল/সিভিএল |
| সিদ্ধান্তের গেজেট + সংবাদপত্র বিজ্ঞপ্তি | ধারা ২৮৯ | এমভিএল/সিভিএল |
| পাওনাদারগণের নিকট কার্যাবলীর বিবরণী (স্টেটমেন্ট অব অ্যাফেয়ার্স) | ধারা ২৯৭ | সিভিএল (CVL) |
| লিকুইডেটরের সম্মতিপত্র ও নিয়োগের নোটিশ (ফরম ১১০) | ধারা ৩১৫ | এমভিএল/সিভিএল |
| ডিসিটি (আয়কর)-কে নোটিশ প্রদান | আয়কর আইন ২০২৩ | অবসায়নের সকল প্রক্রিয়া |
| কর পরিশোধের প্রত্যয়নপত্র (Tax Clearance Certificate - TCC) | আয়কর আইন ২০২৩ | অবসায়নের সকল প্রক্রিয়া |
| বিআইএন (BIN) বাতিলের আবেদন | মূসক বিধিমালা ২০১৬, বিধি ১৪ | অবসায়নের সকল প্রক্রিয়া |
| বাংলাদেশ ব্যাংকের মূলধন প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত অনাপত্তিপত্র (NOC) | FERA ১৯৪৭; এফএক্স নির্দেশিকা অধ্যায় ১০ | প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগযুক্ত (FDI) প্রতিষ্ঠানসমূহ |
| ট্রেড লাইসেন্স সমর্পণ প্রত্যয়নপত্র | সিটি কর্পোরেশন অধ্যাদেশ | সকল প্রক্রিয়া |
| লিকুইডেটরের চূড়ান্ত হিসাব বিবরণী (ফরম ১১১) | ধারা ২৯৫ | এমভিএল/সিভিএল |
| চূড়ান্ত সাধারণ সভার বিবরণী/রিটার্ন (ফরম ১১২) | ধারা ২৯৫ | এমভিএল/সিভিএল |
| আদালত কর্তৃক অবসায়নের পিটিশন + হলফনামা | কোম্পানিজ (কোর্ট) রুলস | বাধ্যতামূলক অবসায়ন |
| অফিশিয়াল রিসিভারের নিকট কার্যাবলীর বিবরণী (স্টেটমেন্ট অব অ্যাফেয়ার্স) | ধারা ২৬৪ | বাধ্যতামূলক অবসায়ন |
| কোম্পানির হলফনামা + শূন্য বা দায়মুক্ত ব্যালেন্স শিট (স্ব-উদ্যোগে নাম কর্তনের ক্ষেত্রে) | ধারা ২২৮ | নাম কর্তন (স্ট্রাইক-অফ) |
নিয়ন্ত্রক ফি, সংবিধিবদ্ধ সময়সীমা ও দণ্ড সংক্রান্ত ম্যাট্রিক্স
| পদক্ষেপ / প্রয়োজনীয়তা | আইনি ধারা | কর্তৃপক্ষ | সরকারি ফি / স্ট্যাম্প শুল্ক | সময়সীমা |
|---|---|---|---|---|
| পরিচালকদের স্বচ্ছলতার ঘোষণা (Declaration of Solvency) | কোম্পানি আইন ১৯৯৪, ধারা ২৯২ | রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস (RJSC) | নিয়মিত ফাইলিং ফি (প্রায় ১,০০০ - ২,০০০ টাকা) | সাধারণ সভার পূর্ববর্তী ৫ সপ্তাহের মধ্যে |
| বিশেষ প্রস্তাব গ্রহণ ও অবসায়ক (Liquidator) নিয়োগ | কোম্পানি আইন ১৯৯৪, ধারা ২৮৬ ও ২৯৩ | কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারগণ (EGM) | প্রস্তাব ফাইলিং ফি ও স্ট্যাম্প ডিউটি | প্রস্তাব গ্রহণের ১৪ দিনের মধ্যে আরজেএসসিতে দাখিল |
| অবলুপ্তি বিজ্ঞপ্তি গেজেট ও সংবাদপত্রে প্রকাশ | কোম্পানি আইন ১৯৯৪, ধারা ২৮৯ ও ২৯৩(২) | বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় (BG Press) ও দৈনিক সংবাদপত্র | বিজ্ঞাপনের নির্ধারিত বাণিজ্যিক ও সরকারি হার | লিকুইডেটর নিয়োগের ১০ দিনের মধ্যে |
| দায়দেনা ও পাওনা নিষ্পত্তি এবং চূড়ান্ত নিরীক্ষা | কোম্পানি আইন ১৯৯৪, ধারা ২৯৭ ও ৩০১ | নিয়োগকৃত অবসায়ক ও নিরীক্ষক (Auditor) | নিরীক্ষক ফি (কোম্পানির চুক্তি সাপেক্ষে) | সম্পদ হস্তান্তর ও নিরীক্ষা সাপেক্ষে নির্ধারিত |
| চূড়ান্ত সাধারণ সভা ও আরজেএসসিতে হিসাব দাখিল | কোম্পানি আইন ১৯৯৪, ধারা ৩০১(৩) | আরজেএসসি (RJSC) | চূড়ান্ত রিটার্ন ফাইলিং ফি | সভা অনুষ্ঠানের ১ সপ্তাহের মধ্যে আরজেএসসিতে প্রেরণ |
| পদক্ষেপ | সংবিধিবদ্ধ সময়সীমা | আরজেএসসি/আদালতের ফি (প্রতীকী) | ব্যর্থতাজনিত দণ্ড |
|---|---|---|---|
| ঋণ পরিশোধ সক্ষমতার ঘোষণা দাখিল | সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্ববর্তী ৫ সপ্তাহের মধ্যে | ফি তফসিল অনুযায়ী আরজেএসসি ফাইলিং ফি | পরিচালকের কারাদণ্ড/অর্থদণ্ড, ধারা ২৮৮(৫) |
| সিদ্ধান্তের গেজেট প্রকাশ | সিদ্ধান্ত গ্রহণের ১৪ দিনের মধ্যে | গেজেট প্রকাশনা খরচ | কোম্পানি ও কর্মকর্তাদের ওপর অর্থদণ্ড, ধারা ২৮৯ |
| লিকুইডেটরের নিয়োগের নোটিশ (ফরম ১১০) | নিয়োগের ২১ দিনের মধ্যে | আরজেএসসি ফরম ১১০-এর ফি | অব্যাহত দৈনিক খেলাপি জরিমানা, ধারা ৩১৫(২) |
| ডিসিটি (DCT)-কে অবহিতকরণ | নিয়োগের ৩০ দিনের মধ্যে | প্রযোজ্য নহে (সংবিধিবদ্ধ নোটিশ) | পরিচালকদের যৌথ ও পৃথক কর দায় |
| চূড়ান্ত সভার বিজ্ঞাপন | সভা অনুষ্ঠানের ১ মাস পূর্বে | গেজেট + সংবাদপত্র খরচ | বিলুপ্তি বিলম্বিত হওয়া |
| ফরম ১১১/১১২ দাখিলকরণ | চূড়ান্ত সভার ১ সপ্তাহের মধ্যে | আরজেএসসি ফাইলিং ফি | অনিবন্ধিত থাকা; বিলুপ্তি স্থগিত |
| স্বয়ংক্রিয় বিলুপ্তি | ফরম ১১১/১১২ নিবন্ধনের ৩ মাস পর | — | প্রযোজ্য নহে (স্বয়ংক্রিয়) |
| আরজেএসসি-এর প্রথম অনুসন্ধানের জবাব | ১ মাস | — | রেজিস্ট্রি ডাকযোগে নোটিশ প্রেরণে রূপান্তর |
| আরজেএসসি গেজেটে নাম কর্তনের নোটিশের মেয়াদ | ৩ মাস | আরজেএসসি কর্তৃক সূচিত হলে কোনো ফি নেই | পরিচালকদের দায় বহাল থাকে, ধারা ২২৮(৫) |
| অবসায়নের পিটিশনের বিজ্ঞাপন | শুনানির ১৪ দিন পূর্বে | হাইকোর্টের ফাইলিং/প্রসেস ফি | অননুপালনের কারণে পিটিশন খারিজ |
| অফিশিয়াল রিসিভারের নিকট কার্যাবলীর বিবরণী প্রদান | অবসায়নের আদেশ থেকে ২১ দিন | প্রযোজ্য নহে | খেলাপি কর্মকর্তাদের অর্থদণ্ড/কারাদণ্ড, ধারা ২৬৪ |
দ্রষ্টব্য: আরজেএসসি ফাইলিং ফি ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনের অধীন ফি-এর তফসিল অনুযায়ী নির্ধারিত হয় এবং সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তা পর্যায়ক্রমে সংশোধিত হয়; আইন প্রয়োগকারী ও পরামর্শকগণকে দাখিলের পূর্বে সরাসরি আরজেএসসি থেকে বর্তমান ফি তফসিল যাচাই করে নিতে হবে।
সাধারণ আইনি ফাঁদ ও পরিপালনগত ত্রুটিসমূহ
-
নাম কর্তনকে (স্ট্রাইক-অফ) পূর্ণ বিলুপ্তি হিসেবে গণ্য করা: পরিচালকরা ভুলবশত মনে করেন যে ধারা ২২৮-এর অধীনে নাম কর্তন করলেই সকল দায়মুক্তি ঘটে। প্রকৃতপক্ষে, ধারা ২২৮(৫) স্পষ্টভাবে পরিচালক ও সদস্যদের দায় অক্ষুণ্ণ রাখে — ফলে পাওনাদার এবং এনবিআর বহু বছর পরেও ব্যক্তিগত দাবি উত্থাপন করতে পারে।
-
৫ সপ্তাহের সময়সীমার বাইরে ঋণ পরিশোধ সক্ষমতার ঘোষণা দাখিল: সিদ্ধান্ত গ্রহণের অব্যবহিত পূর্ববর্তী সংবিধিবদ্ধ পাঁচ সপ্তাহের সময়সীমার বাইরে যদি ঋণ পরিশোধ সক্ষমতার ঘোষণা সম্পাদন করা হয়, তবে সমগ্র 'সদস্যদের দ্বারা স্বেচ্ছাকৃত অবসায়ন' কার্যধারা পদ্ধতিগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ হয়ে পড়ে এবং তা 'পাওনাদারদের দ্বারা স্বেচ্ছাকৃত অবসায়ন' হিসেবে পুনঃশ্রেণিভুক্ত হতে পারে।
-
গেজেট প্রকাশের ১৪ দিনের সময়সীমা লঙ্ঘন: ধারা ২৮৯-এর অধীনে ১৪ দিনের মধ্যে বিশেষ সিদ্ধান্তের নোটিশ প্রকাশে ব্যর্থ হলে কোম্পানি এবং প্রত্যেক খেলাপি কর্মকর্তা জরিমানার সম্মুখীন হন, এবং পাওনাদারগণ এটিকে পদ্ধতিগত অনিয়ম হিসেবে আদালতে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন।
-
কর সংক্রান্ত নোটিশের বাধ্যবাধকতা উপেক্ষা করা: যে সকল লিকুইডেটর ৩০ দিনের মধ্যে ডিসিটি-কে অবহিত করতে ব্যর্থ হন তারা ব্যক্তিগত ঝুঁকির সম্মুখীন হন, এবং আয়কর আইন ২০২৩ অনুযায়ী অনির্ধারিত বা কম নির্ধারিত করের জন্য পরিচালকরা যৌথ ও পৃথকভাবে দায়ী থাকেন — এই দায় আরজেএসসি কর্তৃক বিলুপ্তির পরেও বহাল থাকে।
-
বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তিপত্র (NOC) ব্যতিরেকে এফডিআই উদ্বৃত্ত বণ্টন: অনুমোদিত চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের মূল্যায়ন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমতি ছাড়া বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের নিকট অবসায়ন-পরবর্তী উদ্বৃত্ত অর্থ প্রত্যাবাসন করা FERA ১৯৪৭-এর লঙ্ঘন, যা কোম্পানি ও তার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ডেকে আনতে পারে।
-
স্বয়ংক্রিয় বিলুপ্তি অবিলম্বে কার্যকর হয় বলে ধরে নেওয়া: অনেক পরামর্শক মক্কেলদের ভুল পরামর্শ দেন যে ফরম ১১১/১১২ দাখিল করলেই বিলুপ্তি সম্পন্ন হয়। প্রকৃতপক্ষে, ধারা ২৯৫(৩) অনুযায়ী উক্ত রিটার্নসমূহ নিবন্ধনের তারিখ থেকে তিন মাস অতিবাহিত হওয়ার পর বিলুপ্তি কার্যকর হয় — যা কার্যকর সমাপ্তির তারিখ নিয়ে মক্কেলদের মধ্যে বিভ্রান্তির একটি সাধারণ উৎস।
-
ট্রেড লাইসেন্স এবং বিআইএন (BIN) সমর্পণে অবহেলা: আরজেএসসি-এর রেজিস্টার থেকে কোম্পানি আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত হলেও, ট্রেড লাইসেন্স সমর্পণ এবং বিআইএন বাতিল করতে ব্যর্থ হলে পৌর কর/উপকর এবং মূসক রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা অব্যাহতভাবে পুঞ্জীভূত হতে থাকে — যা "জম্বি" পরিপালন দায় সৃষ্টি করে।
-
বৈধ সংবিধিবদ্ধ দাবি নোটিশ ব্যতীত বাধ্যতামূলক অবসায়নের আবেদন করা: ধারা ২৪২ অনুযায়ী সংবিধিবদ্ধ দাবি সংক্রান্ত নোটিশ যথাযথভাবে জারি করা না হলে অথবা দাখিলের পূর্বে তিন সপ্তাহের জবাবের মেয়াদ পূর্ণরূপে সমাপ্ত না হলে, ধারা ২৪১(v)-এর অধীনে পাওনাদারের পিটিশন খারিজ হয়ে যাবে।
সচরাচর জিজ্ঞাস্য (FAQ)
প্রশ্ন ১: বাংলাদেশে একটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাকৃত অবসায়ন এবং আরজেএসসি নাম কর্তনের (স্ট্রাইক-অফ) মধ্যে পার্থক্য কী? স্বেচ্ছাকৃত অবসায়ন (ধারা ২৮৬–৩০৭) হলো একটি আনুষ্ঠানিক অবসায়ন প্রক্রিয়া যার মধ্যে রয়েছে ঋণ পরিশোধ সক্ষমতার ঘোষণা, বিশেষ সিদ্ধান্ত, লিকুইডেটর নিয়োগ, পাওনাদারদের পাওনা নিষ্পত্তি এবং আরজেএসসি-তে বিলুপ্তির নথি দাখিল (ফরম ১১১/১১২); যার চূড়ান্ত পরিণতি হলো কর্পোরেট দায়মুক্তিসহ প্রকৃত আইনি বিলুপ্তি। অন্যদিকে আরজেএসসি নাম কর্তন (ধারা ২২৮) হলো নিষ্ক্রিয় ও কার্যক্রমহীন কোম্পানির ক্ষেত্রে একটি প্রশাসনিক নিবন্ধন বাতিলকরণ প্রক্রিয়া; এটি অপেক্ষাকৃত দ্রুত ও কম ব্যয়বহুল হলেও ধারা ২২৮(৫)-এর অধীনে পরিচালক ও সদস্যদের ব্যক্তিগত দায় স্পষ্টভাবে অক্ষুণ্ণ রাখে।
◆ সম্পর্কিত প্র্যাকটিস গাইড ও বিশ্লেষণ
<li style="margin-bottom:12px; line-height:1.5;">
<a href="/bn/memorandum-and-articles-of-association-drafting-and-alteration-bn/" style="color:#C5A059; font-weight:600; text-decoration:none; font-size:14px; display:inline-block; transition:color 0.2s;">• Memorandum and Articles of Association: Drafting and Alteration</a>
</li>
<li style="margin-bottom:12px; line-height:1.5;">
<a href="/bn/share-capital-issuance-allotment-and-alteration-bn/" style="color:#C5A059; font-weight:600; text-decoration:none; font-size:14px; display:inline-block; transition:color 0.2s;">• Share Capital: Issuance, Allotment, and Alteration</a>
</li>
<li style="margin-bottom:12px; line-height:1.5;">
<a href="/en/transfer-and-transmission-of-shares-bn/" style="color:#C5A059; font-weight:600; text-decoration:none; font-size:14px; display:inline-block; transition:color 0.2s;">• Transfer and Transmission of Shares</a>
</li>
<li style="margin-bottom:12px; line-height:1.5;">
<a href="/en/corporate-governance-for-private-vs-public-companies-bn/" style="color:#C5A059; font-weight:600; text-decoration:none; font-size:14px; display:inline-block; transition:color 0.2s;">• Corporate Governance for Private vs Public Companies</a>
</li>
Frequently Asked Questions
শেয়ারহোল্ডারদের দ্বারা স্বেচ্ছায় কোম্পানি অবলুপ্তি (Members' Voluntary Winding Up) কখন করা যায়?
কোম্পানি যখন তার সমস্ত দায়দেনা পরিশোধে সম্পূর্ণরূপে সক্ষম থাকে, তখন পরিচালকদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ দ্বারা ধারা ২৯২ অনুযায়ী 'ডিক্লারেশন অব সলভেন্সি' (Declaration of Solvency) বা আর্থিক স্বচ্ছলতার হলফনামা দাখিলের মাধ্যমে শেয়ারহোল্ডাররা বিশেষ প্রস্তাব গ্রহণ করে স্বেচ্ছায় কোম্পানি অবলুপ্ত করতে পারেন।
ডিক্লারেশন অব সলভেন্সি (Declaration of Solvency) দাখিল না করলে কী পরিণতি হয়?
যদি পরিচালকরা বিধিবদ্ধ সময়ের মধ্যে এবং নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনসহ স্বচ্ছলতার ঘোষণা দাখিলে ব্যর্থ হন, তবে উক্ত প্রক্রিয়াটি শেয়ারহোল্ডারদের অবলুপ্তি হিসেবে গণ্য হবে না। এটি তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে 'পাওনাদারদের স্বেচ্ছায় অবলুপ্তি' (Creditors' Voluntary Winding Up) প্রক্রিয়ায় রূপান্তরিত হবে।
অবসায়ক বা লিকুইডেটর (Liquidator) নিয়োগের পর পরিচালকদের ক্ষমতা কি বহাল থাকে?
কোম্পানি আইন ১৯৯৪-এর ধারা ২৯৪(২) অনুযায়ী, অবসায়ক আনুষ্ঠানিকভাবে নিযুক্ত হওয়ার সাথে সাথেই পরিচালনা পর্ষদের সকল সাধারণ ক্ষমতা বিলুপ্ত হয়; কেবল সাধারণ সভায় বা অবসায়কের সুস্পষ্ট লিখিত সম্মতিক্রমে সীমিত কিছু কাজের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে।
আরজেএসসি (RJSC) কি কোনো নিষ্ক্রিয় কোম্পানিকে সরাসরি স্ট্রাইক অফ (Strike Off) করতে পারে?
হ্যাঁ, কোম্পানি আইনের ২২৮ ধারা অনুযায়ী, যদি নিবন্ধকের (RJSC) কাছে প্রতীয়মান হয় যে একটি কোম্পানি ব্যবসা পরিচালনা করছে না বা নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে, তবে বিধিবদ্ধ নোটিশ জারির মাধ্যমে কোম্পানির নাম রেজিস্টার থেকে মুছে ফেলে (Strike Off) কোম্পানি অবলুপ্ত করতে পারেন।
আদালতের মাধ্যমে বাধ্যতামূলক অবলুপ্তির (Compulsory Winding Up) প্রধান কারণগুলো কী?
কোম্পানি আইনের ধারা ২৪১ অনুযায়ী, কোম্পানি যদি তার নির্ধারিত ঋণ পরিশোধে সম্পূর্ণ অক্ষম হয় (Inability to pay debts), সংবিধিবদ্ধ সভা করতে ব্যর্থ হয়, সদস্য সংখ্যা ২ জনের নিচে নেমে যায়, অথবা আদালতের দৃষ্টিতে কোম্পানিটি বন্ধ করে দেওয়া ন্যায়সঙ্গত (Just and equitable) মনে হয়, তবে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে পিটিশন দায়েরের মাধ্যমে অবলুপ্তির নির্দেশ জারি করা যায়।
কোম্পানি অবলুপ্তির সময় কর কর্তৃপক্ষ (NBR) থেকে কর অব্যাহতি সনদ (Tax Clearance) নেওয়া কি বাধ্যতামূলক?
হ্যাঁ, লিকুইডেশনের চূড়ান্ত হিসাব প্রস্তুতের পূর্বে কোম্পানির যাবতীয় বকেয়া আয়কর, ভ্যাট ও প্রযোজ্য উৎসে কর পরিশোধ করে উপ-কর কমিশনারের কাছ থেকে কর প্রত্যয়নপত্র বা এনওসি (NOC) সংগ্রহ করা বাধ্যতামূলক, অন্যথায় নিরীক্ষক বা অবসায়ক চূড়ান্ত নিষ্পত্তি প্রতিবেদন অনুমোদনে আইনি বাধার সম্মুখীন হন।