নির্বাহী সারসংক্ষেপ ও সংবিধিবদ্ধ কর্তৃত্ব
ফিচার্ড স্নিপেট: একটি বাংলাদেশি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিতে বিদেশির নিকট শেয়ার হস্তান্তরের জন্য আবশ্যক: (১) সংঘবিধির (Articles of Association) অগ্রাধিকারমূলক ক্রয়াধিকারের (pre-emption rights) নিষ্পত্তি, (২) বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (সিএ) কর্তৃক প্রত্যয়িত মূল্যায়ন (valuation), (৩) অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ রেমিট্যান্স আনয়ন, (৪) কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর ৩৮ ধারা মোতাবেক ফরম ১১৭ সম্পাদন, (৫) স্ট্যাম্প আইন, ১৮৯৯-এর তফসিল ১, অনুচ্ছেদ ৬২(ক) অনুসারে মূল্যভিত্তিক ১.৫% স্ট্যাম্প শুল্ক (ad valorem stamp duty) পরিশোধ, এবং (৬) আরজেএসসিতে দাখিলকরণ ও সশরীরে যাচাইকরণ।
বাংলাদেশে শেয়ার হস্তান্তর কেবল ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যকার নিছক কোনো ব্যক্তিগত চুক্তিগত বিষয় নয় — এটি একটি সুনির্দিষ্ট ও সংবিধিবদ্ধ প্রক্রিয়া যা কোম্পানি আইন, রাজস্ব আইন এবং বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন দ্বারা যুগপৎভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়। কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন) এর প্রাতিষ্ঠানিক কার্যপদ্ধতি (ফরম ১১৭, সদস্য রেজিস্টার, শেয়ার সার্টিফিকেট) সরবরাহ করে; স্ট্যাম্প আইন, ১৮৯৯ মূল্যভিত্তিক শুল্কের রাজস্বগত পূর্বশর্ত আরোপ করে যা ব্যতীত যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর (আরজেএসসি)-এর নিকট কোনো দলিল গ্রহণযোগ্য হয় না; এবং যেখানে হস্তান্তরকারী বা গ্রহীতা একজন অনিবাসী, সেখানে বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৪৭ (FERA), বাংলাদেশ ব্যাংকের গাইডলাইন্স ফর ফরেন এক্সচেঞ্জ ট্রানজ্যাকশনস (GFET) এবং বিডা (BIDA)-এর বিনিয়োগ সুবিধা কাঠামো অতিরিক্ত মূল্যায়ন, রেমিট্যান্স ও বিবরণী দাখিলের বাধ্যবাধকতা আরোপ করে। যে কোনো একটি স্তর উপেক্ষা করে সম্পন্ন লেনদেন — বিশেষ করে সংঘবিধির অগ্রাধিকারমূলক ক্রয়াধিকারের শর্ত কিংবা ১.৫% স্ট্যাম্প শুল্কের বাধ্যবাধকতা — শুরু থেকেই বাতিল (void ab initio), সাক্ষ্যে অপ্রয়োগযোগ্য বা আরজেএসসি-এর ই-ফাইলিং যাচাইকরণ ব্যবস্থায় সরাসরি প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। এই গবেষণামূলক নির্দেশিকায় বাংলাদেশি প্রাইভেট কোম্পানিতে বিদেশি সত্তা কর্তৃক শেয়ার অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সম্পূর্ণ পরিপালন কাঠামো ধারাভিত্তিক বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
১. শেয়ার হস্তান্তর পরিচালনাকারী সংবিধিবদ্ধ কাঠামো
ফিচার্ড স্নিপেট: প্রধান নিয়ন্ত্রক তিনটি সংবিধি হলো কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ (ধারা ৩৮, ৩৯, ৪২, ৪৩ — হস্তান্তর প্রক্রিয়া ও সংশোধন), স্ট্যাম্প আইন, ১৮৯৯ (তফসিল ১, অনুচ্ছেদ ৬২(ক) — ১.৫% শুল্ক; ধারা ৩৫ — সাক্ষ্যে অগ্রহণযোগ্যতার বাধা), এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের জিএফইটি (GFET)-সহ ফেরা (FERA), ১৯৪৭ (বৈদেশিক রেমিট্যান্স ও মূল্যায়ন নিয়ন্ত্রণ)।
১.১ কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ — প্রাতিষ্ঠানিক কার্যপদ্ধতি
- ধারা ২(১)(প) অনুযায়ী "প্রাইভেট কোম্পানি" বলতে এমন একটি কোম্পানিকে বোঝায় যার সংঘবিধি শেয়ারের হস্তান্তরযোগ্যতা সীমিত করে, সদস্য সংখ্যা পঞ্চাশে সীমাবদ্ধ রাখে এবং জনসাধারণের নিকট শেয়ার বা ডিবেঞ্চার ক্রয়ের আহ্বান নিষিদ্ধ করে। এই সীমাবদ্ধতাই যেকোনো বিদেশি শেয়ার হস্তান্তর বিশ্লেষণের সাংবিধানিক বা মৌলিক প্রারম্ভিক বিন্দু
৩. বিদেশি শেয়ার হস্তান্তরের ক্ষেত্রে সংবিধিবদ্ধ মূল্যায়ন (Statutory Valuation)
ফিচার্ড স্নিপেট: কোনো নিবাসী ও অনিবাসীর মধ্যে শেয়ার হস্তান্তর অর্থ প্রেরণ (রেমিট) বা নিবন্ধিত করার পূর্বে, নিট সম্পদ মূল্য (Net Asset Value - NAV) এবং ডিসকাউন্টেড ক্যাশ ফ্লো (Discounted Cash Flow - DCF) পদ্ধতির ভিত্তিতে শেয়ারের মূল্য প্রত্যয়ন করার জন্য বিডা (BIDA) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের বিধানমতে একজন স্বতন্ত্র চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের প্রত্যয়ন আবশ্যক।
যেহেতু নিবাসী ও অনিবাসীর মধ্যকার শেয়ারের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে মুদ্রা পাচার (capital flight) এবং ট্রান্সফার-প্রাইসিং সংক্রান্ত ঝুঁকি বিদ্যমান থাকে, তাই বাংলাদেশ ব্যাংক পক্ষগণকে নিজেদের ইচ্ছামতো কোনো পণ বা প্রতিদান (consideration) নির্ধারণের অনুমতি প্রদান করে না। বাংলাদেশ ব্যাংক এফই সার্কুলার নং ০১/২০২১ (BB FE Circular No. 01/2021)-এর অধীন প্রযোজ্য বিধিমালার আবশ্যকীয়তা হলো:
- নিবাসী → অনিবাসীর নিকট বিক্রয়: বিক্রয়মূল্য অবশ্যই NAV (নিরীক্ষিত উদ্বৃত্তপত্রের ব্রেক-আপ ভ্যালু বা সম্পদ বিভাজিত মূল্য) অথবা DCF (যথাযথ হারে বাট্টাকৃত প্রাক্কলিত মুক্ত নগদ প্রবাহ)-এর মাধ্যমে নির্ধারিত ন্যায্যমূল্যের মধ্যে যেটি অধিক, তার চেয়ে কম হতে পারবে না—যাতে শেয়ারের অবমূল্যায়নের মাধ্যমে কম মূল্যের অজুহাতে অপ্রকাশিত অর্থ বা পুঁজি পাচারের সুযোগ প্রতিহত করা যায়।
- অনিবাসী → নিবাসির নিকট বিক্রয় (স্থানীয় উদ্যোক্তা কর্তৃক শেয়ার পুনঃক্রয় বা বিনিয়োগ প্রত্যাহার/ডাইভেস্টমেন্ট): ক্রয়ের মূল্য একই NAV/DCF কাঠামোর অধীন নির্ধারিত ন্যায্যমূল্যের চেয়ে অধিক হতে পারবে না—যাতে শেয়ার বিক্রয়লব্ধ অর্থ প্রত্যাবাসন (repatriation)-এর ছদ্মবেশে অতিমূল্যায়নের মাধ্যমে মাত্রাতিরিক্ত বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে পাচার রোধ করা সম্ভব হয়।
উক্ত মূল্যায়ন প্রতিবেদনটি (Valuation Report) অবশ্যই ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি/ICAB)-এর তালিকাভুক্ত কোনো বাংলাদেশি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্সি ফার্ম কর্তৃক প্রস্তুতকৃত হতে হবে, এবং এটি সাধারণত অথরাইজড ডিলার (এডি) ব্যাংকের রেমিট্যান্স অনুমোদন এবং ফরম ১১৭ (Form 117)-এ বর্ণিত পণের বা প্রতিদানের ক্ষেত্রে আরজেএসসি (RJSC)-র অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষার জন্য একটি বাধ্যতামূলক সংযুক্তি। উদ্দিষ্ট কোম্পানিটি যদি এমন কোনো খাতে পরিচালিত হয় যেখানে বিডা (BIDA)-র নিবন্ধন আবশ্যক (যেমন: বিদেশি ইক্যুইটিযুক্ত শিল্প বা সেবা খাত), সেক্ষেত্রে আরজেএসসি দাখিলের পাশাপাশি বিডার বৈদেশিক বিনিয়োগ নিবন্ধন সনদপত্র এবং ইক্যুইটি অন্তর্গমনের (inflow) প্রতিবেদন দাখিলের বাধ্যবাধকতাও সমান্তরালভাবে প্রযোজ্য হবে।
৪. বৈদেশিক মুদ্রা রেমিট্যান্স এবং এনক্যাশমেন্ট সার্টিফিকেট (নগদায়ন সনদপত্র)
| পদক্ষেপ / প্রয়োজনীয়তা | আইনি ভিত্তি / ধারা | নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ | সরকারি ফি / স্ট্যাম্প শুল্ক | সংবিধিবদ্ধ সময়সীমা |
|---|---|---|---|---|
| প্রাক-স্বত্বাধিকার নোটিশ ও পরিচালনা পর্ষদের সম্মতি | কোম্পানি আইন ১৯৯৪, ধারা ৩৮ ও সংঘবিধি (AoA) | কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ | প্রযোজ্য নয় | সংঘবিধি (AoA) অনুযায়ী সাধারণত ১৪-২১ দিন |
| ফরম ১১৭ সম্পাদন ও স্ট্যাম্প শুল্ক পরিশোধ | কোম্পানি আইন ১৯৯৪, ধারা ৩৮ ও ৩৯; স্ট্যাম্প আইন ১৮৯৯ (অনুচ্ছেদ ৬২) | অভ্যন্তরীণ রাজস্ব কর্তৃপক্ষ ও উভয় পক্ষ | শেয়ারের অভিহিত মূল্যের উপর ১.৫% নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প | সম্পাদনের পূর্বে বা সম্পাদনকালে |
| পরিচালনা পর্ষদের সভায় হস্তান্তর অনুমোদন ও রেজিস্টার হালনাগাদ | কোম্পানি আইন ১৯৯৪, ধারা ৩৮ ও ৪২ | পরিচালনা পর্ষদ / কোম্পানি সচিব | প্রযোজ্য নয় | ফরম ১১৭ পেশ করার ৬০ দিনের মধ্যে |
| আরজেএসসি (RJSC)-তে ফরম ১১৭ ও প্রয়োজনীয় নথি ফাইলিং | কোম্পানি আইন ১৯৯৪, ধারা ৩৯ ও আরজেএসসি বিধিমালা | রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস (RJSC) | সরকারি ফাইলিং ফি (মূলধনভেদে নির্ধারিত) + ১৫% ভ্যাট | বোর্ড অনুমোদনের ৩০ দিনের মধ্যে দাখিলযোগ্য |
| হস্তান্তর পরবর্তী শেয়ার সার্টিফিকেট প্রদান | কোম্পানি আইন ১৯৯৪, ধারা ৪১ ও ৪২ | কোম্পানি কর্তৃপক্ষ | প্রযোজ্য নয় | হস্তান্তর নিবন্ধনের সর্বোচ্চ ৩ মাসের মধ্যে |
ফিচার্ড স্নিপেট: বৈদেশিক পণ বা প্রতিদানের অর্থ অবশ্যই সুইফট (SWIFT)-এর মাধ্যমে কোনো অথরাইজড ডিলার (এডি) ব্যাংকের মাধ্যমে প্রেরণ করতে হবে, যার পরিপ্রেক্ষিতে এডি ব্যাংক একটি এনক্যাশমেন্ট সার্টিফিকেট (নগদায়ন সনদপত্র) প্রদান করে এই মর্মে নিশ্চিত করে যে, অন্তর্মুখী রেমিট্যান্সটি ইক্যুইটি/শেয়ার ক্রয়ের উদ্দেশ্যে প্রাপ্ত হয়েছে—যা বৈধ মূলধন অন্তর্গমনের প্রমাণ হিসেবে আরজেএসসি এবং বাংলাদেশ ব্যাংক উভয়ের নিকট দাখিল করা বাধ্যতামূলক।
আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থের অন্তর্গমন শনাক্তকরণযোগ্য না হলে, আরজেএসসি-র কোনো কর্মকর্তা বিদেশি পণ/প্রতিদান সংবলিত কোনো শেয়ার হস্তান্তর দলিল নিবন্ধন করবেন না। এর পরিপালন সংক্রান্ত ধারাবাহিক ক্রমটি নিম্নরূপ:
- বিদেশি গ্রহীতা (transferee) তার নিজস্ব এডি-করেসপন্ডেন্ট ব্যাংকিং সম্পর্কের মাধ্যমে সুইফট (SWIFT MT103)-যোগে বাংলাদেশি কোম্পানি (বা হস্তান্তরকারীর) নির্ধারিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সম্মত পণ/প্রতিদানের অর্থ প্রেরণ করবেন।
- বাংলাদেশের প্রাপক এডি ব্যাংক লেনদেনের উদ্দেশ্য সংক্রান্ত কোড (বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ — শেয়ার মূলধন/শেয়ার ক্রয়) যাচাই করবে এবং একটি আনুষ্ঠানিক এনক্যাশমেন্ট সার্টিফিকেট প্রদান করবে, যা বৈধ বৈদেশিক মূলধন অন্তর্গমনের প্রাথমিক প্রামাণ্য দলিল হিসেবে গণ্য হয়।
- এই সনদপত্রটি পরবর্তীতে ফরম ১১৭-তে উল্লিখিত পণ/প্রতিদান এবং স্ট্যাম্প শুল্কের গণনার সাথে মিলিয়ে দেখা হয়—প্রেরিত অর্থের পরিমাণ এবং ঘোষিত পণের মধ্যে যেকোনো অমিল থাকলে তা আরজেএসসি কর্তৃক আপত্তি উত্থাপন বা সরাসরি প্রত্যাখ্যানের একটি সাধারণ কারণ।
- যেখানে লেনদেনে অর্থ বিদেশে প্রেরণের (বহির্গামী রেমিট্যান্স—কোনো অনিবাসীর বিনিয়োগ প্রত্যাহার বা ডাইভেস্টমেন্ট) বিষয় জড়িত থাকে, সেখানে বিদেশে অর্থ ছাড় করার পূর্বে আয়কর আইন, ২০২৩-এর অধীনে কর প্রত্যয়নপত্র (Tax Clearance) গ্রহণ করা এডি ব্যাংকের জন্য বাধ্যতামূলক।
৫. ফরম ১১৭ সম্পাদন এবং স্ট্যাম্প শুল্ক গণনা
ফিচার্ড স্নিপেট: কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর অধীন সংবিধিবদ্ধ হস্তান্তরের দলিল বা 'ইনস্ট্রুমেন্ট অব ট্রান্সফার' হিসেবে ফরম ১১৭ হস্তান্তরকারী এবং গ্রহীতা উভয় কর্তৃক সম্পাদিত হতে হবে, স্ট্যাম্প আইন ১৮৯৯-এর ১ম তফসিলের অনুচ্ছেদ ৬২(ক) অনুযায়ী ১.৫% অ্যাড ভ্যালোরেম (মূল্যানুপাতিক) হারে স্ট্যাম্পযুক্ত হতে হবে এবং আরজেএসসি-তে দাখিলের পূর্বে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে উক্ত শুল্ক পরিশোধিত হতে হবে।
কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর ৩৮ ধারায় উল্লিখিত ফরম ১১৭ হলো নির্ধারিত "হস্তান্তরের দলিল" (Instrument of Transfer)। এতে অবশ্যই নিম্নোক্ত বিবরণ থাকতে হবে:
- কোম্পানির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ (নাম, নিবন্ধন নম্বর, নিবন্ধিত ঠিকানা);
- হস্তান্তরিত শেয়ারের স্বতন্ত্র নম্বর (distinctive numbers), শ্রেণি এবং পরিমাণ;
- হস্তান্তরকারী এবং গ্রহীতা উভয়ের পূর্ণ নাম, ঠিকানা, জাতীয়তা এবং পাসপোর্ট/বিআইএন (BIN)/এনআইডি সংক্রান্ত বিবরণ (বিদেশি গ্রহীতাদের ক্ষেত্রে জাতীয়তা প্রকাশ বাধ্যতামূলক);
- পণ বা প্রতিদানের পরিমাণ (যা সিএ ফার্মের মূল্যায়ন এবং এনক্যাশমেন্ট সার্টিফিকেটের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে);
- উভয় পক্ষের স্বাক্ষর, যা উপযুক্তভাবে প্রত্যয়িত বা সাক্ষ্যযুক্ত (witnessed) হতে হবে।
স্ট্যাম্প শুল্ক গণনা: - হার: স্ট্যাম্প আইন, ১৮৯৯-এর তফসিল ১-এর অনুচ্ছেদ ৬২(ক) অনুযায়ী ১.৫% অ্যাড ভ্যালোরেম (মূল্যানুপাতিক)। - ভিত্তি: (ক) প্রকৃত পণ/প্রতিদান, অথবা (খ) শেয়ারের নামমাত্র বা অভিহিত মূল্য (nominal/face value)—উভয়ের মধ্যে যেটি অধিক। - উদাহরণ: প্রতিটি ১০০ টাকা অভিহিত মূল্যের ১০,০০০টি শেয়ার (মোট অভিহিত মূল্য ১০,০০,০০০ টাকা) যদি কোনো বিদেশি বিনিয়োগকারীর নিকট মার্কিন ডলার সমমূল্যের ৫০,০০,০০০ টাকায় বিক্রয় করা হয়, তবে স্ট্যাম্প শুল্ক ৫০,০০,০০০ টাকার ওপর (অধিকতর অংক) ধার্য হবে = ৭৫,০০০ টাকা। - পরিশোধের মাধ্যম: আরজেএসসি/এনবিআরের প্রচলিত পদ্ধতি অনুযায়ী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রযোজ্য কোডের অধীনে বাংলাদেশ ব্যাংক/সোনালী ব্যাংকে জমাকৃত ট্রেজারি চালান, অথবা দলিলে সংযুক্ত জুডিশিয়াল/নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প বাতিলের (cancellation) মাধ্যমে। - খেলাপের ফলাফল: স্ট্যাম্প আইনের ৩৫ ধারা অনুযায়ী, স্ট্যাম্পবিহীন বা অপর্যাপ্ত স্ট্যাম্পযুক্ত ফরম ১১৭ কোনো সরকারি কর্মকর্তার নিকট সাক্ষ্য হিসেবে গ্রাহ্য নয়—আরজেএসসি এই হস্তান্তর নিবন্ধন বা প্রত্যয়ন করবে না। কালেক্টর অব স্ট্যাম্পস কর্তৃক নিষ্পত্তির (adjudication) মাধ্যমে ঘাটতি শুল্ক এবং তৎসহ জরিমানা (সাধারণত ঘাটতি শুল্কের সর্বোচ্চ দশ গুণ পর্যন্ত) পরিশোধ সাপেক্ষেই কেবল অপর্যাপ্ত স্ট্যাম্পিংয়ের ত্রুটি প্রতিকার করা যেতে পারে।
৬. আরজেএসসি দাখিল, সশরীরে যাচাইকরণ এবং রেজিস্টার হালনাগাদকরণ
ফিচার্ড স্নিপেট: আরজেএসসি দাখিলের ক্ষেত্রে সম্পাদিত ফরম ১১৭, ট্রেজারি চালান, পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত (বোর্ড রেজোলিউশন), এনক্যাশমেন্ট সার্টিফিকেট এবং শেয়ার সার্টিফিকেটসমূহ আরজেএসসি ই-ফাইলিং পোর্টালের মাধ্যমে আপলোড করা আবশ্যক; অতঃপর পরিচয় নিশ্চিতকরণের নিমিত্তে হস্তান্তরকারী ও হস্তান্তরগ্রহীতা উভয়ের (অথবা কনস্যুলার সত্যায়িত ক্ষমতাপ্রাপ্ত অ্যাটর্নিদের) রেজিস্ট্রার সমীপে সশরীরে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক।
- পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত (বোর্ড রেজোলিউশন): কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদকে শেয়ার হস্তান্তর অনুমোদনের জন্য (অগ্রক্রয়াধিকার ছাড়পত্র সাপেক্ষে) এবং প্রয়োজনীয় তথ্যাদি দাখিলের জন্য একজন কর্মকর্তাকে ক্ষমতা অর্পণ করে বিধিমোতাবেক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।
- পোর্টাল আপলোড: ফরম ১১৭-এর স্ক্যান কপি, স্ট্যাম্প শুল্ক পরিশোধের প্রমাণক ট্রেজারি চালান, পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত, মূল শেয়ার সার্টিফিকেটসমূহ, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট কর্তৃক প্রদত্ত মূল্যায়ন প্রতিবেদন এবং এডি ব্যাংকের এনক্যাশমেন্ট সার্টিফিকেট আরজেএসসি অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে আপলোড করতে হবে।
- সশরীরে উপস্থিতির আবশ্যকতা: জালিয়াতি প্রতিরোধের অংশ হিসেবে আরজেএসসি-এর প্রচলিত পদ্ধতি অনুযায়ী হস্তান্তরকারী ও হস্তান্তরগ্রহীতা উভয়কেই—অথবা যথাযথভাবে নিয়োজিত এবং নিবন্ধিত, নোটারি ও বাংলাদেশ মিশন কর্তৃক কনস্যুলার সত্যায়িত পাওয়ার অব অ্যাটর্নিধারী প্রতিনিধিকে (বিদেশি হস্তান্তরগ্রহীতা ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হতে অপারগ হলে যা অপরিহার্য)—স্বাক্ষর যাচাই এবং পরিচয় নিশ্চিতকরণের জন্য নির্ধারিত সহকারী/উপ-রেজিস্ট্রারের সম্মুখে সশরীরে উপস্থিত হতে হবে।
- সদস্য বহি (রেজিস্টার অব মেম্বারস) হালনাগাদকরণ: আরজেএসসি কর্তৃক গৃহীত হওয়ার পর কোম্পানিকে কোম্পানি আইনের ৩৪ ধারা অনুযায়ী তাদের সংবিধিবদ্ধ সদস্য বহি হালনাগাদ করতে হবে, হস্তান্তরকারীর মূল শেয়ার সার্টিফিকেট বাতিল করতে হবে এবং সাধারণ সিলের (কমন সিল) অধীনে বিদেশি হস্তান্তরগ্রহীতাকে নতুন শেয়ার সার্টিফিকেট ইস্যু করতে হবে (ধারা ৪১), যা সাধারণত ৯০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করতে হয়।
- বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রতিবেদন দাখিল: এডি ব্যাংক হস্তান্তর নিষ্পত্তির ৩০ দিনের মধ্যে শেয়ার হস্তান্তর/ইস্যু সংক্রান্ত তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ অপারেশন ডিপার্টমেন্ট (এফইওডি)-এ স্বতন্ত্রভাবে সাধারণত ফরম এফই-১ অথবা সমমানের নির্ধারিত সংবিধিবদ্ধ বিবরণীর মাধ্যমে প্রতিবেদন দাখিল করবে।
৭. শেয়ার হস্তান্তরের বৈধতা সংক্রান্ত বিচারিক নজির
ফিচার্ড স্নিপেট: বাংলাদেশের আদালতসমূহ অগ্রক্রয়াধিকার সংক্রান্ত ধারা (নুরুল আমিন বনাম স্ট্যান্ডার্ড হোটেল লি., ৫৩ ডিএলআর ২৪১) এবং স্ট্যাম্প আইনের ৩৫ ধারার বাধ্যতামূলক স্ট্যাম্পিংয়ের শর্ত কঠোরভাবে প্রয়োগ করেন; ফলে যথাযথ স্ট্যাম্প শুল্কবিহীন কিংবা সংঘবিধি লঙ্ঘনকারী যেকোনো হস্তান্তর দলিল বাতিল ও অকার্যকর গণ্য হয়, এবং কোম্পানি আইনের ৪৩ ধারার অধীনে কেবল হাইকোর্ট বিভাগই সদস্য বহি সংশোধনের একমাত্র ফোরাম।
- নুরুল আমিন এবং অন্যান্য বনাম মেসার্স স্ট্যান্ডার্ড হোটেল লি. এবং অন্যান্য, (২০০১) ৫৩ ডিএলআর (এডি) ২৪১: সংঘবিধির অগ্রক্রয়াধিকার কার্যপদ্ধতি উপেক্ষা করে সম্পাদিত শেয়ার হস্তান্তর এখতিয়ার-বহির্ভূত (আল্ট্রা ভাইরস) এবং বাতিল; পরিচালকদের তা নিবন্ধন করার কোনো স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতা নেই।
- যথাযথভাবে স্ট্যাম্পযুক্ত দলিলের নীতি (ইনস্ট্রুমেন্ট ডিউলি স্ট্যাম্পড ডকট্রিন): ১৮৯৯ সালের স্ট্যাম্প আইনের ৩৫ ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশের আদালতসমূহ এবং আরজেএসসি স্ট্যাম্পবিহীন বা অপর্যাপ্ত স্ট্যাম্পযুক্ত ফরম ১১৭-কে আইনত নিবন্ধনের অযোগ্য বলে বিবেচনা করে—আরজেএসসি-তে যেকোনো পদক্ষেপ গ্রহণের পূর্বে স্ট্যাম্প কালেক্টরের সম্মুখে ন্যায়নির্ণয়ের (অ্যাডজুডিকেশন) মাধ্যমে এই ত্রুটি প্রতিকার করতে হবে।
- সংশোধনের এখতিয়ার (রেকটিফিকেশন জুরিসডিকশন): কোম্পানি আইনের ১৯৯৪-এর ৪৩ ধারা অনুসারে, বৈধভাবে সম্পাদিত এবং যথাযথ স্ট্যাম্পযুক্ত হস্তান্তর নিবন্ধন করতে কোম্পানি অন্যায়ভাবে অস্বীকার বা বিলম্ব করলে সদস্য বহি সংশোধনে বাধ্য করার এখতিয়ার কেবল হাইকোর্ট বিভাগের রয়েছে—প্রশাসনিকভাবে আরজেএসসি বা সাধারণ দেওয়ানি আদালতের এ এখতিয়ার নেই।
সংবিধিবদ্ধ দলিলের চেকলিস্ট
| ক্র. | দলিল | নিয়ন্ত্রণকারী বিধান |
|---|---|---|
| ১ | সংঘবিধির প্রত্যয়িত অনুলিপি (অগ্রক্রয়াধিকার ধারা পর্যালোচনা) | কোম্পানি আইন ১৯৯৪, ধারা ২(১)(থ) |
| ২ | অগ্রক্রয়াধিকারের প্রস্তাব নোটিশ + বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের লিখিত দাবিত্যাগ পত্র | সংঘবিধি / নুরুল আমিন (২০০১) ৫৩ ডিএলআর ২৪১ |
| ৩ | চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট কর্তৃক প্রদত্ত এনএভি/ডিসিএফ মূল্যায়ন প্রতিবেদন | বাংলাদেশ ব্যাংক এফই সার্কুলার ০১/২০২১ |
| ৪ | সুইফট রেমিট্যান্স অ্যাডভাইস এবং এডি ব্যাংকের এনক্যাশমেন্ট সার্টিফিকেট | ফেরা ১৯৪৭, জিএফইটি অধ্যায় ৯–১০ |
| ৫ | হস্তান্তর অনুমোদনকারী পর্ষদ সিদ্ধান্ত (বোর্ড রেজোলিউশন) | কোম্পানি আইন ১৯৯৪, ধারা ৩৮ |
| ৬ | যথাযথভাবে সম্পাদিত ফরম ১১৭ (হস্তান্তর দলিল) | কোম্পানি আইন ১৯৯৪, ধারা ৩৮ |
| ৭ | ১.৫% স্ট্যাম্প শুল্ক পরিশোধের প্রমাণক ট্রেজারি চালান | স্ট্যাম্প আইন ১৮৯৯, তফসিল ১ অনুচ্ছেদ ৬২(ক) |
| ৮ | হস্তান্তরকারীর মূল শেয়ার সার্টিফিকেটসমূহ | কোম্পানি আইন ১৯৯৪, ধারা ৩৮ |
| ৯ | হস্তান্তরকারী ও হস্তান্তরগ্রহীতার পাসপোর্ট / এনআইডি / বিআইএন | আরজেএসসি ফাইলিংয়ের আবশ্যকতা |
| ১০ | নোটারি ও কনস্যুলার সত্যায়িত পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (প্রতিনিধি উপস্থিত হলে) | আরজেএসসি সশরীরে যাচাইকরণ প্রটোকল |
| ১১ | আয়কর ছাড়পত্র/অগ্রিম কর পরিশোধের প্রমাণ (মূলধনী মুনাফা) | আয়কর আইন ২০২৩, ধারা ৮৯, ৯০, ১১৯ |
| ১২ | বিডা নিবন্ধন/প্রতিবেদন সংক্রান্ত নথিপত্র (প্রযোজ্য খাতের ক্ষেত্রে) | বিডা আইন ও এফডিআই রিপোর্টিং বিধিমালা |
| ১৩ | বাংলাদেশ ব্যাংকে এডি ব্যাংকের ফরম এফই-১ দাখিলের নিশ্চয়তাপত্র | জিএফইটি রিপোর্টিং আবশ্যকতা |
| ১৪ | হস্তান্তরগ্রহীতার অনুকূলে ইস্যুকৃত নতুন শেয়ার সার্টিফিকেট | কোম্পানি আইন ১৯৯৪, ধারা ৪১ |
| ১৫ | হালনাগাদকৃত সদস্য বহির উদ্ধৃতাংশ | কোম্পানি আইন ১৯৯৪, ধারা ৩৪ |
নিয়ন্ত্রণকারী ফি, সময়সীমা এবং জরিমানার ম্যাট্রিক্স
| বিষয় | পরিমাণ / হার | সংবিধিবদ্ধ ভিত্তি | সময়সীমা |
|---|---|---|---|
| শেয়ার হস্তান্তরের স্ট্যাম্প শুল্ক | পণমূল্য বা নামমাত্র মূল্যের মধ্যে যেটি বেশি তার উপর মূল্যানুপাতে (অ্যাড ভ্যালোরেম) ১.৫% | স্ট্যাম্প আইন ১৮৯৯, তফসিল ১, অনুচ্ছেদ ৬২(ক) | দলিল সম্পাদন/দাখিলের পূর্বে প্রদেয় |
| অপর্যাপ্ত স্ট্যাম্প শুল্কের জরিমানা | ঘাটতি শুল্কের অনূর্ধ্ব ১০ গুণ পর্যন্ত (ন্যায়নির্ণয় সাপেক্ষে) | স্ট্যাম্প আইন ১৮৯৯, ধারা ৩৫/ন্যায়নির্ণয় সংক্রান্ত বিধানাবলী | উদঘাটন/ন্যায়নির্ণয়ের পর |
| ফরম ১১৭ আরজেএসসি ফাইলিং ফি | ২০০ – ৪০০ টাকা (অনুমোদিত মূলধনের ধাপ অনুযায়ী পরিবর্তিত) | আরজেএসসি ফি তালিকা / কোম্পানি রুলস ১৯৪১ | ই-ফাইলিংয়ের সময়ে |
| প্রত্যয়িত অনুলিপি ফি | আবেদন প্রতি ৫০ টাকা + প্রতি ফোলিও ৫ টাকা | আরজেএসসি ফি তালিকা | আবেদনের ভিত্তিতে |
| ডিজিটাল প্রসেসিং ফি | প্রতি ই-ফাইলিংয়ে ১০০ – ২০০ টাকা | আরজেএসসি ই-ফাইলিং পোর্টাল | দাখিলের সময়ে |
| বিলম্বিত দাখিলের জরিমানা | ক্রমবর্ধমান দৈনিক খেলাপি ফি | কোম্পানি আইন ১৯৯৪, ধারা ৩৯৮ | খেলাপির তারিখ হতে |
| নতুন শেয়ার সার্টিফিকেট ইস্যুকরণ | দাখিলের ৯০ দিনের মধ্যে | কোম্পানি আইন ১৯৯৪, ধারা ৪১ | আরজেএসসি গ্রহণের পর |
| বাংলাদেশ ব্যাংকে এডি ব্যাংকের প্রতিবেদন (এফই-১) | কোনো ফি নেই; সংবিধিবদ্ধ প্রতিবেদন | জিএফইটি খণ্ড ১, অধ্যায় ৯–১০ | হস্তান্তরের ৩০ দিনের মধ্যে |
| মূলধনী মুনাফা কর ছাড়পত্র | প্রযোজ্য হার/ডিটিএএ সুবিধা অনুযায়ী | আয়কর আইন ২০২৩, ধারা ৮৯, ৯০, ১১৯ | বিদেশে অর্থ প্রেরণের পূর্বে |
সাধারণ আইনি ফাঁদ ও কমপ্লায়েন্স সংক্রান্ত জটিলতাসমূহ
- অগ্রক্রয়াধিকার সংক্রান্ত ধারা উপেক্ষা করা: সংঘবিধির অগ্রক্রয়াধিকার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করে সরাসরি আরজেএসসি-তে দাখিল করলে নুরুল আমিন বনাম স্ট্যান্ডার্ড হোটেল লি. মামলা অনুযায়ী উক্ত হস্তান্তর বাতিল গণ্য হয়—যা পরবর্তীতে আরজেএসসি নিবন্ধনের মাধ্যমেও বৈধ করা যায় না।
- স্ট্যাম্প শুল্ক ফাঁকি দিতে পণমূল্য কম প্রদর্শন: ১.৫% শুল্ক কমাতে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট কর্তৃক প্রত্যয়িত ন্যায্য মূল্যের চেয়ে কম পণমূল্য ঘোষণা করলে স্ট্যাম্প শুল্কের ন্যায়নির্ণয়জনিত জরিমানা (১০ গুণ পর্যন্ত) এবং অর্থ পাচার/স্থানান্তর মূল্যের অসঙ্গতির কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তের মুখে পড়তে হয়।
- রেমিট্যান্স ও ঘোষণার মধ্যে অমিল: সুইফট/এনক্যাশমেন্ট সার্টিফিকেটের অর্থের পরিমাণের সাথে ফরম ১১৭-এ উল্লিখিত পণমূল্যের অসঙ্গতি আরজেএসসি কর্তৃক আপত্তি ও বিলম্বের অন্যতম প্রধান কারণ।
- বিদেশি হস্তান্তরগ্রহীতার অনুপস্থিতি: অনুপস্থিত বিদেশি হস্তান্তরগ্রহীতার পক্ষে যথাযথভাবে নোটারি ও বাংলাদেশ মিশন কর্তৃক কনস্যুলার সত্যায়িত পাওয়ার অব অ্যাটর্নি প্রদানে ব্যর্থ হলে আরজেএসসি-এর সশরীরে যাচাইকরণ ধাপে আবেদনটি সরাসরি বাতিল হয়ে যায়।
- বিদেশে অর্থ প্রেরণের পূর্বে কর ছাড়পত্র গ্রহণে ব্যর্থতা: অনাবাসী বিক্রেতা আয়কর আইন, ২০২৩-এর ৮৯, ৯০ ও ১১৯ ধারা অনুযায়ী মূলধনী মুনাফা কর নিষ্পত্তি না করে বিক্রয়লব্ধ অর্থ প্রত্যাবাসন করতে গেলে এডি ব্যাংক বিদেশে অর্থ পাঠাতে অস্বীকৃতি জানায়।
- বিডা/এস
◆ সম্পর্কিত প্র্যাকটিস গাইড ও বিশ্লেষণ
<li style="margin-bottom:12px; line-height:1.5;">
<a href="/bn/startup-financing-safe-agreements-convertible-notes-bsec-bangladesh-bn/" style="color:#C5A059; font-weight:600; text-decoration:none; font-size:14px; display:inline-block; transition:color 0.2s;">• স্টার্টআপ অর্থায়ন, সেফ (SAFE) চুক্তি ও রূপান্তরযোগ্য নোট: বিএসইসি (BSEC) ও বাংলাদেশ ব্যাংক রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্ক</a>
</li>
<li style="margin-bottom:12px; line-height:1.5;">
<a href="/bn/franchise-agreement-royalty-remittance-bida-bangladesh-bn/" style="color:#C5A059; font-weight:600; text-decoration:none; font-size:14px; display:inline-block; transition:color 0.2s;">• আন্তর্জাতিক ফ্র্যাঞ্চাইজ চুক্তি ও রয়্যালটি রেমিট্যান্স: বিডা (BIDA) অনুমোদন ও ফরেন এক্সচেঞ্জ গাইড</a>
</li>
<li style="margin-bottom:12px; line-height:1.5;">
<a href="/bn/payment-gateway-pso-psp-licensing-escrow-bangladesh-bn/" style="color:#C5A059; font-weight:600; text-decoration:none; font-size:14px; display:inline-block; transition:color 0.2s;">• পেমেন্ট গেটওয়ে পিএসও/পিএসপি লাইসেন্স ও এসক্রো বিরোধ: বাংলাদেশ ব্যাংক ফিনটেক রেগুলেশন</a>
</li>
<li style="margin-bottom:12px; line-height:1.5;">
<a href="/bn/freelancer-banking-erq-account-inward-remittance-bangladesh-bn/" style="color:#C5A059; font-weight:600; text-decoration:none; font-size:14px; display:inline-block; transition:color 0.2s;">• ফ্রিল্যান্সার ব্যাংকিং ও ৭০% ইআরকিউ (ERQ) অ্যাকাউন্ট: অন্তর্মুখী রেমিট্যান্স যাচাই ও কর অব্যাহতি আইনি গাইড</a>
</li>
Frequently Asked Questions
বাংলাদেশে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিতে শেয়ার হস্তান্তরের ক্ষেত্রে কি বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের অগ্রাধিকার থাকে?
হ্যাঁ, কোম্পানি আইন ১৯৯৪ এবং কোম্পানির সংঘবিধি (Articles of Association)-এর বিধান অনুযায়ী সাধারণ অবস্থায় বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের অগ্রাধিকারমূলক ক্রয় অধিকার (Pre-emption Rights) থাকে। কোনো শেয়ারহোল্ডার শেয়ার বিক্রির ইচ্ছা প্রকাশ করলে প্রথমে অন্যান্য শেয়ারহোল্ডারদের কাছে আনুপাতিক হারে শেয়ার ক্রয়ের লিখিত প্রস্তাব পাঠাতে হয়। তারা প্রত্যাখ্যান করলেই কেবল তৃতীয় পক্ষের কাছে হস্তান্তর করা যায়।
শেয়ার হস্তান্তর দলিলের ক্ষেত্রে স্ট্যাম্প শুল্ক (Stamp Duty) কত এবং তা কীভাবে নির্ধারিত হয়?
স্ট্যাম্প অ্যাক্ট ১৮৯৯ (তফসিল ১, অনুচ্ছেদ ৬২) অনুযায়ী শেয়ার হস্তান্তরের ক্ষেত্রে হস্তান্তরিত শেয়ারের মোট অভিহিত মূল্যের (Face Value) অথবা বিবেচিত মূল্যের (যেটি প্রযোজ্য) উপর ১.৫% নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প শুল্ক পরিশোধ করতে হয়। এই শুল্ক ফরম ১১৭ দলিলের উপর নন-জুডিশিয়াল ফিজিক্যাল স্ট্যাম্প পেপারের মাধ্যমে সংযুক্ত করতে হয়।
ফরম ১১৭ (Form 117) কী এবং এটি কারা স্বাক্ষর করে?
ফরম ১১৭ হলো কোম্পানি আইন ১৯৯৪-এর অধীন শেয়ার হস্তান্তরের সংবিধিবদ্ধ আইনগত দলিল (Instrument of Transfer)। হস্তান্তরকারী (Transferor) এবং গ্রহীতা (Transferee) উভয়কেই নির্দিষ্ট স্বাক্ষীগণের উপস্থিতিতে এই ফরমে স্বাক্ষর করতে হয়। ফরমে শেয়ারের সংখ্যা, ক্রমিক নম্বর, ক্রেতা-বিক্রেতার পরিচিতি এবং আর্থিক লেনদেনের সুস্পষ্ট বিবরণ থাকতে হয়।
পরিচালনা পর্ষদ কি কোনো শেয়ার হস্তান্তরের আবেদন প্রত্যাখ্যান করতে পারে?
কোম্পানি আইন ১৯৯৪-এর ধারা ৩৮ ও ৩৮(২) অনুযায়ী, সংঘবিধিতে ক্ষমতা দেওয়া থাকলে পরিচালনা পর্ষদ যুক্তিসঙ্গত কারণে শেয়ার হস্তান্তর প্রত্যাখ্যান করতে পারে। তবে প্রত্যাখ্যানের ক্ষেত্রে আবেদন জমার ৬০ দিনের মধ্যে হস্তান্তরকারী ও গ্রহীতাকে আনুষ্ঠানিক নোটিশ মারফত সিদ্ধান্ত অবহিত করতে হবে। ভিত্তিহীন বা অসদুদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রত্যাখ্যানের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ পক্ষ আদালতে আবেদন করতে পারেন।
বিদেশি নাগরিক বা বিদেশি সত্তার অনুকূলে বা তাদের থেকে শেয়ার হস্তান্তরের ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ নিয়ম আছে কি?
বিদেশি শেয়ারহোল্ডারের অন্তর্ভুক্তিতে শেয়ার হস্তান্তরের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন (FERA 1947) এবং গাইডলাইন্স ফর ফরেন এক্সচেঞ্জ ট্রানজ্যাকশনস (GFET) মানতে হয়। শেয়ারের অর্থ ব্যাংকিং চ্যানেলে ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্সের মাধ্যমে আসতে হবে এবং এনক্যাশমেন্ট সার্টিফিকেট ও যথাযথ ট্যাক্স কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করে আরজেএসসি-তে আবেদন করতে হয়।
শেয়ার হস্তান্তরের পর আরজেএসসি (RJSC)-তে নথিভুক্ত না করলে এর আইনি পরিণতি কী?
আরজেএসসি-তে ফরম ১১৭ সাবমিট ও অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত কোম্পানির সংবিধিবদ্ধ সরকারি রেকর্ডে হস্তান্তরটি প্রতিফলিত হয় না। ফলে সরকারি নথিতে পূর্ববর্তী শেয়ারহোল্ডারই মালিক হিসেবে গণ্য থাকেন। আইনি বিতর্ক এড়াতে, লভ্যাংশ অধিকার ও ভোটাধিকার সুরক্ষিত রাখতে হস্তান্তর কার্যকর হওয়ার পর দ্রুত আরজেএসসি-তে ফাইলিং সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক।