লিখনীতে: ব্যারিস্টার লিটন আসাদুজ্জামান সরকার, অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
বহুজাতিক কোম্পানির সাধারণ আইন পরামর্শদাতা, বিদেশি ব্র্যান্ডের মালিক এবং অনাবাসী কর্পোরেট আবেদনকারীদের জন্য বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির ল্যান্ডস্কেপ বা পরিমণ্ডলে কাজ করার জন্য স্থানীয় আইনি কাঠামো ও প্রশাসনিক প্রোটোকল সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট জ্ঞান থাকা আবশ্যক। উদীয়মান অর্থনৈতিক পরাশক্তি হিসেবে বাংলাদেশ বিপুল বাণিজ্যিক সুযোগ প্রদান করে, তবে এগুলোকে অবশ্যই শক্তিশালী বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি সুরক্ষার মাধ্যমে নিরাপদ রাখতে হবে। নিয়ন্ত্রক আইন হিসেবে ট্রেড মার্কস আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ১৯ নং আইন) এবং এর সাথে পঠিত ট্রেড মার্কস বিধিমালা, ২০১৫ ট্রেডমার্কের নিবন্ধন, সুরক্ষা এবং প্রয়োগের জন্য একটি ব্যাপক, যদিও কঠোরভাবে পদ্ধতিগত, প্রক্রিয়া প্রদান করে।
এই প্রগাঢ় আইনি গ্রন্থটি কর্পোরেট আবেদনকারী এবং আইনি অনুশীলনকারীদের জন্য একটি প্রকাশনা-মানের ম্যানুয়াল হিসেবে কাজ করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এটি শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের (ডিপিডিটি) প্রক্রিয়াগত কলাকৌশলগুলো বিশ্লেষণ করে, আন্তঃসীমান্ত ব্র্যান্ড সুরক্ষার সূক্ষ্ম বিষয়গুলোকে ব্যাখ্যা করে এবং বাংলাদেশের ক্ষতিগ্রস্থ অধিকার ধারকদের জন্য উপলব্ধ দেওয়ানি ও ফৌজদারি প্রয়োগের ব্যবস্থাগুলোর রূপরেখা তুলে ধরে।
সংবিধিবদ্ধ কাঠামো এবং ডিপিডিটি প্রশাসন
ট্রেড মার্কস আইন, ২০০৯ এবং ট্রেড মার্কস বিধিমালা, ২০১৫ বাংলাদেশে ট্রেডমার্ক নিবন্ধন নিয়ন্ত্রণ করে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (ডিপিডিটি) কর্তৃক পরিচালিত, এই সংবিধিবদ্ধ কাঠামো দেশি ও বিদেশি আবেদনকারীদের জন্য সমস্ত ফাইলিং, পরীক্ষা, আপত্তি এবং নিবন্ধনের পদ্ধতি নির্ধারণ করে।
বাংলাদেশের ট্রেডমার্ক আইনের আইনগত কাঠামোটি ট্রেড মার্কস আইন, ২০০৯ দ্বারা সুরক্ষিত, যা সেকালের পুরোনো ট্রেড মার্কস আইন, ২০০৯-কে বাতিল ও প্রতিস্থাপন করেছে। এই আধুনিকায়ন বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি régimen-কে আন্তর্জাতিক মান, বিশেষ করে ট্রিপস (TRIPS) চুক্তির সাথে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ করেছে, যদিও স্বতন্ত্র স্থানীয় প্রক্রিয়াগত বৈশিষ্ট্যগুলো এখনও বিদ্যমান। অধস্তন আইন, ট্রেড মার্কস বিধিমালা, ২০১৫, প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগের জন্য নির্দিষ্ট পদ্ধতিগত পথপ্রদর্শন করে।
ট্রেডমার্ক নিবন্ধন মঞ্জুর করার ক্ষমতা অর্পিত প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ হলো শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (ডিপিডিটি)। ডিপিডিটি-এর প্রধান কার্যালয় ঢাকায় অবস্থিত এবং এটি দেশের সমস্ত বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি আবেদনের কেন্দ্রীয় সংগ্রহশালা ও পরীক্ষক সংস্থা হিসেবে কাজ করে। বিদেশি কর্পোরেট আবেদনকারীদের জন্য, ডিপিডিটি-র কার্যপদ্ধতি বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রেজিস্ট্রি সংবিধিবদ্ধ ফরম এবং সময়সীমার কঠোর আনুগত্যের উপর পরিচালিত হয়, যার অনেকগুলোই সম্প্রসারণযোগ্য নয়। আইন ও বিধিমালার সুনির্দিষ্ট প্রয়োজনীয়তা পালনে ব্যর্থতা প্রায়শই আবেদন বাতিলের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, যার ফলে ফাইলিং এবং প্রসিকিউশনের ক্ষেত্রে একটি সূক্ষ্ম পদ্ধতি অবলম্বন করা প্রয়োজন হয়।
প্রি-ফাইলিং ক্লিয়ারেন্স এবং শ্রেণীকরণ প্রোটোকল
বাংলাদেশের প্রি-ফাইলিং ক্লিয়ারেন্সের ক্ষেত্রে নিস ক্লাসিফিকেশন ১১তম সংস্করণ (পণ্যের জন্য ১-৩৪ শ্রেণি, সেবার জন্য ৩৫-৪৫ শ্রেণি) ব্যবহার করা হয়। ট্রেড মার্কস বিধিমালা, ২০১৫-এর বিধি ১০৪ অনুযায়ী, আপেক্ষিক ভিত্তিতে আবেদন প্রত্যাখ্যানের ঝুঁকি প্রশমিত করতে আবেদনকারীদের ডিপিডিটি থেকে একটি আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শংসাপত্র (সার্টিফিকেট) পেতে ফরম টিএম-৫০ দাখিল করতে হবে।
একটি আনুষ্ঠানিক আবেদনে সম্পদ উৎসর্গ করার পূর্বে, বিচক্ষণ আইনি অনুশীলনের অংশ হিসেবে একটি পূর্ণাঙ্গ ক্লিয়ারেন্স অনুসন্ধান পরিচালনা করা আবশ্যক। বাংলাদেশ নিস ক্লাসিফিকেশন ১১তম সংস্করণ অনুসরণ করে, পণ্যগুলোকে ১ থেকে ৩৪ শ্রেণিতে এবং সেবাগুলোকে ৩৫ থেকে ৪৫ শ্রেণিতে শ্রেণীবদ্ধ করে। বর্তমান সংবিধিবদ্ধ কাঠামোর অধীনে বহুমুখী বা মাল্টি-ক্লাস আবেদন অনুমোদিত নয়; পণ্য বা সেবার প্রতিটি শ্রেণির জন্য পৃথক আবেদন দাখিল করতে হবে।
প্রাতিষ্ঠানিক ক্লিয়ারেন্স অনুসন্ধানটি ট্রেড মার্কস বিধিমালা, ২০১৫-এর বিধি ১০৪ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। আবেদনকারী বা তাদের নিবন্ধিত ট্রেডমার্ক এজেন্টদের অবশ্যই ফরম টিএম-৫০ ব্যবহার করে অনুসন্ধান অনুরোধ জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সংবিধিবদ্ধ ফি পরিশোধের পর, নিবন্ধক (Registrar) নিবন্ধিত বা পেন্ডিং থাকা যেকোনো অভিন্ন বা বিভ্রান্তিকরভাবে সদৃশ মার্ক শনাক্ত করতে ডিপিডিটি ডাটাবেস অনুসন্ধান করেন। অনুসন্ধান শংসাপত্রটি মার্কের প্রাপ্যতার একটি প্রাথমিক ইঙ্গিত প্রদান করে, যদিও এটি নিবন্ধনের কোনো নিশ্চয়তা দেয় না। আইনের ধারা ১০ (প্রত্যাখ্যানের আপেক্ষিক ভিত্তি) এর অধীনে আপত্তি প্রতিরোধ করতে এবং একটি কৌশলগত ফাইলিং পদ্ধতি তৈরি করতে বহুজাতিক ব্র্যান্ডের মালিকদের জন্য এই পদক্ষেপটি অপরিহার্য।
ফাইলিং মেকানিক্স এবং আন্তঃসীমান্ত ব্র্যান্ড সুরক্ষা
ফরম টিএম-১ ব্যবহার করে ধারা ১৫ এর অধীনে ট্রেডমার্ক আবেদন দাখিল করা হয়। বিদেশি আবেদনকারীদের ফরম টিএম-৪৮ এ নোটারি পাবলিক কর্তৃক সত্যায়িত পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বা ওকালতনামা জমা দিতে হবে। যেহেতু বাংলাদেশ মাদ্রিদ প্রোটোকলের স্বাক্ষরকারী নয়, তাই আন্তর্জাতিক আবেদনকারীদের সরাসরি জাতীয় আবেদন দাখিল করতে হবে অথবা ধারা ১১২ এর অধীনে প্যারিস কনভেনশনের অগ্রাধিকার দাবি করতে হবে।
নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হয় ট্রেড মার্কস আইন, ২০০৯ এর ধারা ১৫ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। ট্রেডমার্ক নিবন্ধনের জন্য একটি আবেদন অবশ্যই নিবন্ধকের কাছে লিখিতভাবে ফরম টিএম-১ ব্যবহার করে করতে হবে। অনাবাসী কর্পোরেট আবেদনকারী এবং বিদেশি ব্র্যান্ডের মালিকদের জন্য সরাসরি আবেদন দাখিল করার অনুমতি নেই। তাদের অবশ্যই স্থানীয় নিবন্ধিত ট্রেডমার্ক এজেন্ট বা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন অ্যাডভোকেট নিয়োগ করতে হবে। এই নিয়োগটি ফরম টিএম-৪৮-এ একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সম্পাদনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক রূপ পায়, যা আবেদনকারীর নিজ দেশের এখতিয়ারভুক্ত অঞ্চলে যথাযথভাবে নোটারি করতে হবে।
বহুজাতিক সাধারণ আইন পরামর্শকদের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বিবেচনা হলো যে, বাংলাদেশ মাদ্রিদ সিস্টেমের (মাদ্রিদ চুক্তি বা মাদ্রিদ প্রোটোকল) কোনো স্বাক্ষরকারী দেশ নয়। ফলস্বরূপ, আন্তর্জাতিক নিবন্ধগুলো বাংলাদেশকে মনোনীত করতে পারে না। ব্র্যান্ডের মালিকদের অবশ্যই তাদের স্থানীয় এজেন্টের মাধ্যমে সরাসরি জাতীয় আবেদন দাখিল করতে হবে।
তবে, বাংলাদেশ শিল্প সম্পত্তি সুরক্ষার জন্য প্যারিস কনভেনশনের সদস্য। আইনের ধারা ১১২ এর অধীনে, আবেদনকারীরা কোনো কনভেনশনভুক্ত দেশে দাখিলকৃত পূর্ববর্তী আবেদনের ভিত্তিতে অগ্রাধিকার দাবি করতে পারেন, শর্ত থাকে যে বাংলাদেশের আবেদনটি মূল দেশের আবেদন তারিখের ছয় (6) মাসের মধ্যে দাখিল করা হয়েছে। অগ্রাধিকার দাবি নিখুঁত করতে, আবেদনকারীকে মূল আবেদনের একটি প্রত্যয়িত কপি জমা দিতে হবে। অগ্রাধিকার দলিলটি ইংরেজিতে না থাকলে, ফাইলিংয়ের সাথে একটি পরীক্ষিত ইংরেজি অনুবাদ সংযুক্ত করতে হবে। বৈশ্বিক ব্র্যান্ড রোলআউট সিঙ্ক্রোনাইজ করতে এবং এই বিচারব্যবক্ষায় প্রাথমিক ফাইলিং তারিখ সুরক্ষিত করার জন্য এই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
| আবেদনকারীর শ্রেণি | নিয়ন্ত্রক ফরম | সংবিধিবদ্ধ ধারা | ডিপিডিটি পরীক্ষা কাল | আপত্তির উইন্ডো | প্রাথমিক মেয়াদ | নবায়ন প্রক্রিয়া |
|---|---|---|---|---|---|---|
| দেশি কর্পোরেট আবেদনকারী | ফরম টিএম-১ | ধারা ১৫ | ১২-১৮ মাস | ২ মাস (কঠোর) | ৭ বছর | ফরম টিএম-১২ (১০ বছর) |
| বিদেশি কর্পোরেট আবেদনকারী | ফরম টিএম-১ + টিএম-৪৮ | ধারা ১৫ | ১২-১৮ মাস | ২ মাস (কঠোর) | ৭ বছর | ফরম টিএম-১২ (১০ বছর) |
| প্যারিস কনভেনশন অগ্রাধিকার আবেদনকারী | ফরম টিএম-১ + টিএম-৪৮ + অগ্রাধিকার দলিল | ধারা ১১২ | ১২-১৮ মাস | ২ মাস (কঠোর) | ৭ বছর | ফরম টিএম-১২ (১০ বছর) |
| প্রতিরক্ষামূলক মার্ক আবেদনকারী | ফরম টিএম-১ + সুবিখ্যাত মর্যাদার প্রমাণ | ধারা ৪৩ | ১৮-২৪ মাস | ২ মাস (কঠোর) | ৭ বছর | ফরম টিএম-১২ (১০ বছর) |
পরীক্ষা, প্রত্যাখ্যানের ভিত্তি এবং আপত্তির উইন্ডো
ধারা ১৫ এর অধীনে, ডিপিডিটি পরম (ধারা ৮), রাসায়নিক (ধারা ৯) এবং আপেক্ষিক (ধারা ১০) প্রত্যাখ্যানের ভিত্তির বিরুদ্ধে আবেদনগুলো পরীক্ষা করে। গৃহীত মার্কগুলো ট্রেড মার্কস জার্নালে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয় (ধারা ১৭), যা ধারা ১৮ এর অধীনে কঠোর, অ-সম্প্রসারণযোগ্য ২ মাসের আপত্তি সময়কালকে ট্রিগার করে।
ফরম টিএম-১ জমা দেওয়ার পরে, আবেদনটি ধারা ১৫ এর অধীনে ডিপিডিটি কর্তৃক পরিচালিত মূল পরীক্ষার ধাপে প্রবেশ করে। পরীক্ষক আইনে বর্ণিত সংবিধিবদ্ধ নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে মার্কটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করেন। ধারা ৮ প্রত্যাখ্যানের পরম ভিত্তিগুলোর বিস্তারিত বিবরণ দেয়, যেখানে স্বাতন্ত্র্যসূচক বৈশিষ্ট্যের অভাব রয়েছে এমন মার্ক, বর্ণনামূলক, বর্তমান ভাষার প্রচলিত বা যা প্রতারিত করতে পারে বা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এমন মার্কগুলোকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। উপরন্তু, যেসব মার্ক ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে বা স্ক্যান্ডালযুক্ত বিষয় ধারণ করে তা নিষিদ্ধ। ধারা ৯ বিশেষভাবে এমন শব্দগুলোর নিবন্ধন নিষিদ্ধ করে যা কোনো একক রাসায়নিক উপাদান বা একক রাসায়নিক যৌগের সাধারণভাবে ব্যবহৃত এবং গ্রহণযোগ্য নাম। ধারা ১০ আপেক্ষিক ভিত্তিগুলোকে সমাধান করে, যদি একই বা অনুরূপ পণ্য/সেবার ক্ষেত্রে মার্কটি কোনো পূর্বে নিবন্ধিত ট্রেডমার্ক বা পূর্ববর্তী অগ্রাধিকার তারিখ সহ একটি পেন্ডিং আবেদনের সাথে অভিন্ন বা বিভ্রান্তিকরভাবে সদৃশ হয় তবে তা প্রত্যাখ্যান করা বাধ্যতামূলক করে।
যদি পরীক্ষক কোনো আপত্তি উত্থাপন করেন, তবে একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ (শেল-কজ নোটিশ) জারি করা হয়। আপত্তিগুলো কাটিয়ে উঠতে আবেদনকারীকে অবশ্যই একটি লিখিত জবাব দাখিল করতে হবে এবং শুনানির অনুরোধ করতে পারন। আপত্তিগুলো সফলভাবে উত্তরণের পর, অথবা মার্কটি সম্পূর্ণভাবে গৃহীত হলে, নিবন্ধক ধারা ১৭ অনুসারে মাসিক ট্রেড মার্কস জার্নালে আবেদনটি বিজ্ঞাপনের আদেশ দেন।
জার্নালে প্রকাশনাটি সমালোচনামূলক আপত্তি পর্যায়কে শুরু করে। ধারা ১৮ এর অধীনে, জার্নালে প্রকাশের তারিখ থেকে কঠোর এবং অ-সম্প্রসারণযোগ্য দুই (২) মাসের সংবিধিবদ্ধ উইন্ডোর মধ্যে যেকোনো ব্যক্তি ফরম টিএম-৫ এ আপত্তির নোটিশ (Notice of Opposition) দাখিল করতে পারেন। আপত্তির নোটিশ প্রাপ্তির পর, নিবন্ধক আবেদনকারীর কাছে একটি অনুলিপি পরিবেশন করেন, যাকে দুই মাসের মধ্যে ফরম টিএম-৬-এ একটি পাল্টা বিবৃতি (Counter-statement) দাখিল করতে হবে। পাল্টা বিবৃতি দাখিল করতে ব্যর্থ হলে আবেদনটি পরিত্যক্ত বলে গণ্য হবে।
আপত্তি কার্যধারার evidentiary বা সাক্ষ্য প্রমাণমূলক পর্যায়টি অত্যন্ত আনুষ্ঠানিক। ট্রেড মার্কস বিধিমালা, ২০১৫ এর বিধানের অধীনে সাক্ষ্য প্রমাণ কঠোরভাবে হলফনামা (Affidavits) দ্বারা উপস্থাপিত হয়। বিধি ৪৪ বিরোধিতার সমর্থনে বিরোধাতার সাক্ষ্য নিয়ন্ত্রণ করে; বিধি ৪৫ আবেদনের সমর্থনে আবেদনকারীর সাক্ষ্য নিয়ন্ত্রণ করে; এবং বিধি ৪৬ বিরোধিতার জবাবে বিরোধিতার সাক্ষ্য নিয়ন্ত্রণ করে। জেরা (Cross-examination) খুব কমই অনুমোদিত হয়, যা এই হলফনামাগুলোর খসড়া প্রস্তুত এবং সংকলনকে সর্বোচ্চ আইনি কৌশলের বিষয় করে তোলে।
<line x1="160" y1="120" x2="200" y2="120" stroke="#2c3e50" stroke-width="3" marker-end="url(#arrow)" />
<rect x="200" y="80" width="140" height="80" rx="10" fill="#e67e22" />
<text x="270" y="115" fill="white" font-family="sans-serif" font-size="12" font-weight="bold" text-anchor="middle">২. ডিপিডিটি পরীক্ষা</text>
<text x="270" y="135" fill="white" font-family="sans-serif" font-size="12" font-weight="bold" text-anchor="middle">(ধারা ১৫)</text>
<line x1="340" y1="120" x2="380" y2="120" stroke="#2c3e50" stroke-width="3" marker-end="url(#arrow)" />
<rect x="380" y="80" width="140" height="80" rx="10" fill="#9b59b6" />
<text x="450" y="115" fill="white" font-family="sans-serif" font-size="12" font-weight="bold" text-anchor="middle">৩. জার্নাল প্রকাশ ও</text>
<text x="450" y="135" fill="white" font-family="sans-serif" font-size="12" font-weight="bold" text-anchor="middle">ধারা ১৮ আপত্তি</text>
<line x1="520" y1="120" x2="560" y2="120" stroke="#2c3e50" stroke-width="3" marker-end="url(#arrow)" />
<rect x="560" y="80" width="140" height="80" rx="10" fill="#2ecc71" />
<text x="630" y="115" fill="white" font-family="sans-serif" font-size="12" font-weight="bold" text-anchor="middle">৪. ধারা ২০ সনদ ও</text>
<text x="630" y="135" fill="white" font-family="sans-serif" font-size="12" font-weight="bold" text-anchor="middle">ব্যাকডেটিং</text>
<line x1="700" y1="120" x2="740" y2="120" stroke="#2c3e50" stroke-width="3" marker-end="url(#arrow)" />
<rect x="740" y="80" width="140" height="80" rx="10" fill="#e74c3c" />
<text x="810" y="115" fill="white" font-family="sans-serif" font-size="12" font-weight="bold" text-anchor="middle">৫. ১০-বছরের নবায়ন ও</text>
<text x="810" y="135" fill="white" font-family="sans-serif" font-size="12" font-weight="bold" text-anchor="middle">প্রয়োগ</text>
<defs>
<marker id="arrow" markerWidth="10" markerHeight="10" refX="9" refY="3" orient="auto" markerUnits="strokeWidth">
<path d="M0,0 L0,6 L9,3 z" fill="#2c3e50" />
</marker>
</defs>
নিবন্ধন, মেয়াদ, নবায়ন এবং প্রতিরক্ষামূলক মার্ক
কোনো আপত্তি অতিক্রম করার পরে, ধারা ২০ ফাইলিংয়ের তারিখের সাথে ব্যাকডেটেড রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট প্রদান বাধ্যতামূলক করে। প্রাথমিক মেয়াদ ৭ বছর (ধারা ২২(১)), যা ফরম টিএম-১২ এর মাধ্যমে ১০ বছরের মেয়াদে নবায়নযোগ্য (ধারা ২২(২))। ধারা ৪৩ সুবিখ্যাত মার্কের জন্য প্রতিরক্ষামূলক নিবন্ধনের অনুমতি দেয়।
যদি কোনো আবেদন কোনো বিরোধিতার মুখোমুখি না হয়, বা কোনো বিরোধিতা আবেদনকারীর পক্ষে সমাধান করা হয়, তবে নিবন্ধক ধারা ২০ এর অধীনে ট্রেডমার্ক নিবন্ধন করতে এগিয়ে যান। এখানে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইনি নীতি হলো নিবন্ধনটি মূল আবেদন দাখিলের তারিখের (অথবা প্রযোজ্য হলে অগ্রাধিকার তারিখের) সাথে ব্যাকডেটেড করা হয়। এটি আবেদনকারীর সংবিধিবদ্ধ অধিকারগুলোকে পূর্ববর্তীভাবে প্রতিষ্ঠা করে, যা আবেদন বিচারাধীন থাকার সময় অননুমোদিত ব্যবহার শুরু করতে পারে এমন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োগের জন্য একটি শক্তিশালী হাতিয়ার প্রদান করে।
বাংলাদেশে একটি নিবন্ধিত ট্রেডমার্কের সুরক্ষার প্রাথমিক মেয়াদ সাত (৭) বছর, যা ধারা ২২(১) দ্বারা নির্ধারিত। এই মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে, মালিককে অবশ্যই ফরম টিএম-১২ ব্যবহার করে নবায়নের জন্য আবেদন করতে হবে। ধারা ২২(২) এর অধীনে, পরবর্তী নবায়নগুলো দশ (১০) বছরের মেয়াদের জন্য মঞ্জুর করা হয়। ডিপিডিটি কঠোরভাবে নবায়নের সময়সীমা কার্যকর করে। নবায়ন ফি অ পরিশোধের কারণে রেজিস্টার থেকে কোনো মার্ক বাদ দেওয়া হলে, শেষ নিবন্ধনের মেয়াদ শেষ হওয়ার এক বছরের মধ্যে আবেদন করা হলে ফরম টিএম-১৩ এবং নির্ধারিত জরিমানা দাখিল করে ধারা ২২(৫) এর অধীনে এটি পুনরুদ্ধার করা যেতে পারে।
বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত ব্র্যান্ডের অধিকারী বহুজাতিক কর্পোরেশনগুলোর জন্য, ধারা ৪৩ প্রতিরক্ষামূলক নিবন্ধনের ব্যবস্থা অফার করে। এটি একজন সুবিখ্যাত ট্রেডমার্কের মালিককে এমন পণ্য বা সেবার জন্য এটি নিবন্ধন করার অনুমতি দেয় যার জন্য তারা বর্তমানে মার্কটি ব্যবহার করে না, বা ব্যবহার করার ارادہও রাখে না। এটি তৃতীয় পক্ষগুলোকে অপ্রাসঙ্গিক পণ্য বিভাগে সুবিখ্যাত মার্কের সুনামের স্পিলওভার থেকে পুঁজি করা থেকে বিরত রাখে, যার ফলে ব্র্যান্ডের স্বাতন্ত্র্য হ্রাস পায়।
দেওয়ানি প্রয়োগ এবং কমন ল পাসিং অফ
লঙ্ঘন বা পাসিং অফ এর জন্য দেওয়ানি মামলা অবশ্যই ধারা ৯৬ এর অধীনে জেলা জজ আদালতের সমক্ষে দায়ের করতে হবে। ধারা ৯৭ এর অধীনে প্রতিকারের মধ্যে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা, ক্ষতিপূরণ এবং আন্তন পিলার আদেশ। ধারা ২৪(২) অনিবন্ধিত মার্কের বিরুদ্ধে পাসিং অফ এর সাধারণ আইনগত অধিকারগুলোকে স্পষ্টভাবে সংরক্ষণ করে।
বাংলাদেশে বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি অধিকারের প্রয়োগ দেওয়ানি ও ফৌজদারি প্রতিকারে বিভক্ত। দেওয়ানি ফ্রন্টে, ট্রেড মার্কস আইন, ২০০৯ এর ধারা ৯৬ এখতিয়ারগত থ্রেশহোল্ড স্থাপন করে: কোনো নিবন্ধিত ট্রেডমার্কের লঙ্ঘন, বা নিবন্ধিত ট্রেডমার্কের কোনো অধিকার সম্পর্কিত, বা পাসিং অফ এর জন্য কোনো মামলা জেলা জজ আদালতের নিম্নতর কোনো আদালতে দায়ের করা যাবে না। এটি নিশ্চিত করে যে জটিল আইপি মামলাগুলো সিনিয়র বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের দ্বারা পরিচালিত হয়।
যদিও নিবন্ধন সংবিধিবদ্ধ একচেটিয়া অধিকার প্রদান করে, আইনটি স্পষ্টভাবে সাধারণ আইনের অধিকারগুলোকে স্বীকৃতি দেয় এবং সংরক্ষণ করে। ধারা ২৪(২) বলে যে আইনের কোনো কিছুই অন্য ব্যক্তির পণ্য বা সেবা হিসাবে পণ্য বা সেবা পাসিং অফ করার জন্য যেকোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের অধিকারকে প্রভাবিত করবে বলে গণ্য হবে না। এটি বিদেশি ব্র্যান্ডের মালিকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জীবনরেখা যাদের মার্ক এখনও বাংলাদেশে নিবন্ধিত হতে পারে না কিন্তু যারা আন্তঃসীমান্ত খ্যাতি এবং সদিচ্ছা (goodwill) প্রতিষ্ঠা করেছেন।
যখন একটি মামলা দায়ের করা হয়, তখন বাদী ধারা ৯৭ এর অধীনে প্রতিকারের একটি শক্তিশালী অ্যারে চাইতে পারেন। এর মধ্যে রয়েছে ১৯০৮ সালের দেওয়ানি কার্যবিধি (CPC)-এর অর্ডার XXXIX দ্বারা নিয়ন্ত্রিত অস্থায়ী এবং স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা। বাংলাদেশের আদালতগুলো কোনো ব্র্যান্ডের খ্যাতির আসন্ন ক্ষতি রোধ করতে একতরফা অ্যাড-ইন্টারিম নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে ক্রমশ ইচ্ছুক। অধিকন্তু, বাদীরা ক্ষতিপূরণ বা লাভের হিসাব দাবি করতে পারেন। গুরুতর জালিয়াতির ক্ষেত্রে, আদালত আন্তন পিলার আদেশ জারি করতে পারে—একতরফা অনুসন্ধান এবং জব্দের আদেশ যা বাদীর প্রতিনিধিদের, একজন স্থানীয় কমিশনারের সাথে, প্রমাণ সংরক্ষণের জন্য বিবাদীর প্রাঙ্গণে প্রবেশ করার অনুমতি দেয়। ধারা ৯৭ আদালতকে লঙ্ঘনকারী লেবেল, ডাই এবং নকল পণ্যগুলো সমর্পণ বা ধ্বংস করার আদেশ দেওয়ার ক্ষমতাও প্রদান করে।
এমন পরিস্থিতিতে যেখানে বিবাদী বাদীর নিবন্ধিত ট্রেডমার্কের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে, ধারা ৯৯ নিবন্ধক বা হাইকোর্ট বিভাগের সামনে সংশোধন কার্যধারার (rectification proceedings) ফলাফলের অপেক্ষায় দেওয়ানি লঙ্ঘন কার্যধারা স্থগিত করা বাধ্যতামূলক করে। পরিশেষে, ধারা ১০০ প্রদান করে যে নিবন্ধকের যেকোনো সিদ্ধান্ত থেকে সংবিধিবদ্ধ আপিল সরাসরি বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে ন্যস্ত হয়, যা সর্বোচ্চ সাংবিধানিক আদালত কর্তৃক আপিল তদারকি নিশ্চিত করে।
ফৌজদারি বিচার এবং সীমান্ত প্রয়োগ
ফৌজদারি প্রয়োগ ধারা ৭৩ (মিথ্যা মার্ক প্রয়োগ) এবং ধারা ৭৪ (সর্বোচ্চ ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড / ২০০,০০০ টাকা জরিমানা) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। ধারা ৮৫ পুলিশকে তল্লাশি ও জব্দের ক্ষমতা প্রদান করে। নকলের বিরুদ্ধে সীমান্ত প্রয়োগ ১৯৬৯ সালের কাস্টমস আইনের ধারা ১৫ এর অধীনে কার্যকর করা হয়।
দেওয়ানি মোকদ্দমার বাইরেও, ট্রেড মার্কস আইন, ২০০৯ জালিয়াতির বিরুদ্ধে কঠোর ফৌজদারি শাস্তি প্রদান করে, যা একটি গুরুতর অর্থনৈতিক অপরাধ হিসাবে বিবেচিত হয়। ধারা ৭৩ মিথ্যা ট্রেড মার্ক, মিথ্যা ট্রেড বিবরণী প্রয়োগ করা বা মিথ্যা মার্ক বহনকারী পণ্য বিক্রি করার কাজকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে। শাস্তিগুলো কঠোর: ধারা ৭৪ এর অধীনে, প্রথমবারের অপরাধী দুই (২) বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, বা ২০০,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয়। দ্বিতীয় বা পরবর্তী দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ক্ষেত্রে, শাস্তি তিন (৩) বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, বা ৩০০,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, বা উভয় দণ্ডে উন্নীত হয়।
নকলকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপের সুবিধা দিতে, ধারা ৮৫ আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে উল্লেখযোগ্য ক্ষমতা প্রদান করে। সাব-ইন্সপেক্টর পদের নিচে নয় এমন একজন পুলিশ অফিসার, একজন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে সন্তুষ্ট হয়ে যে আইনের অধীনে একটি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, হচ্ছে, বা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, প্রাঙ্গণে তল্লাশি করার এবং নকল পণ্য, ডাই এবং যন্ত্রাংশ জব্দ করার ওয়ারেন্ট পেতে পারেন। জরুরি পরিস্থিতিতে, জব্দ করা ঘটতে পারে, যদিও তাৎক্ষণিকভাবে বিচারিক তদারকি প্রয়োজন।
বহুজাতিক ব্র্যান্ডের মালিকদের জন্য, সীমান্তে নকল পণ্য থামানো প্রায়শই সবচেয়ে সাশ্রয়ী প্রয়োগের কৌশল। যদিও ট্রেড মার্কস আইন মূল অধিকার প্রদান করে, সীমান্ত প্রয়োগ ১৯৬৯ সালের কাস্টমস আইনের ধারা ১৫ এর মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এই ধারাটি জাল ট্রেডমার্ক বা মিথ্যা ট্রেড বিবরণী বহনকারী পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করে। ব্র্যান্ডের মালিকরা বাংলাদেশ কাস্টমসের সাথে তাদের নিবন্ধিত ট্রেডমার্কগুলো রেকর্ড করতে পারেন, যা কাস্টমস কর্মকর্তাদের স্বউদ্যোগে (ex-officio) বা অধিকার ধারক কর্তৃক প্রদত্ত নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন নকল চালান আটক করতে সক্ষম করে।
সচরাচর জিজ্ঞাস্য প্রশ্নাবলী (FAQs)
◆ সম্পর্কিত প্র্যাকটিস গাইড ও বিশ্লেষণ
<li style="margin-bottom:12px; line-height:1.5;">
<a href="/bn/ai-copyright-deepfakes-intellectual-property-bangladesh-bn/" style="color:#C5A059; font-weight:600; text-decoration:none; font-size:14px; display:inline-block; transition:color 0.2s;">• এআই কপিরাইট, ডিপফেক ও মেধা সম্পদ (IP) সুরক্ষা: সাইবার নিরাপত্তা ও আইনি অধিকার হ্যান্ডবুক</a>
</li>
<li style="margin-bottom:12px; line-height:1.5;">
<a href="/bn/cross-border-saas-cloud-hosting-data-protection-bangladesh-bn/" style="color:#C5A059; font-weight:600; text-decoration:none; font-size:14px; display:inline-block; transition:color 0.2s;">• ক্রস-বর্ডার সাস (SaaS), ক্লাউড হোস্টিং ও ডেটা সার্বভৌমত্ব: বাংলাদেশে তথ্য গোপনীয়তা ও আইনি কাঠামো</a>
</li>
<li style="margin-bottom:12px; line-height:1.5;">
<a href="/bn/non-compete-non-solicitation-and-confidentiality-agreements-in-bangladesh-enforceability-under-section-27-bn/" style="color:#C5A059; font-weight:600; text-decoration:none; font-size:14px; display:inline-block; transition:color 0.2s;">• চাকরিতে নন-কম্পিট ও গোপনীয়তা চুক্তি: চুক্তি আইনের ২৭ ধারা অনুযায়ী বৈধতা</a>
</li>
<li style="margin-bottom:12px; line-height:1.5;">
<a href="/bn/hindu-succession-family-law-in-bangladesh-inheritance-rights-of-widows-daughters-dayabhaga-rules-bn/" style="color:#C5A059; font-weight:600; text-decoration:none; font-size:14px; display:inline-block; transition:color 0.2s;">• হিন্দু উত্তরাধিকার ও পারিবারিক আইন: দায়ভাগ পদ্ধতি, বিধবা ও কন্যাসন্তানের অধিকার</a>
</li>
১. কোনো বিদেশি কোম্পানি কি সরাসরি ডিপিডিটিতে ট্রেডমার্ক আবেদন দাখিল করতে পারে?
না। ডিপিডিটির প্রক্রিয়াগত নিয়ম অনুযায়ী, অনাবাসী বিদেশি কর্পোরেট আবেদনকারীদের অবশ্যই একজন নিবন্ধিত স্থানীয় ট্রেডমার্ক এজেন্ট বা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন অ্যাডোকিটের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। এর জন্য ফরম টিএম-৪৮ এ একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সম্পাদন করা প্রয়োজন, যা আবেদনকারীর নিজ দেশে নোটারি করা আবশ্যক।
২. আন্তর্জাতিক নিবন্ধনের জন্য বাংলাদেশ কি মাদ্রিদ প্রোটোকলের সদস্য?
না, বাংলাদেশ মাদ্রিদ সিস্টেমের স্বাক্ষরকারী নয়। আন্তর্জাতিক আবেদনকারীরা ডাব্লিউআইপিও (WIPO) আন্তর্জাতিক আবেদনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে মনোনীত করতে পারে না। ট্রেড মার্কস আইন, ২০০৯ এর ধারা ১৫ এর অধীনে সরাসরি জাতীয় আবেদন দাখিল করা বাধ্যতামূলক।
৩. বাংলাদেশে প্যারিস কনভেনশনের অগ্রাধিকার দাবি কীভাবে কাজ করে?
ধারা ১১২ এর অধীনে, একটি প্যারিস কনভেনশন সদস্য রাষ্ট্রের আবেদনকারী তাদের মূল আবেদনের ভিত্তিতে অগ্রাধিকার দাবি করতে পারেন। মূল ফাইলিং তারিখের ছয় (৬) মাসের মধ্যে বাংলাদেশের আবেদন দাখিল করতে হবে। দাবিটি নিখুঁত করার জন্য মূল আবেদনের একটি প্রত্যয়িত কপি (প্রয়োজনে ইংরেজি অনুবাদ সহ) জমা দিতে হবে।
৪. ট্রেডমার্কের বিরুদ্ধে আপত্তি জানানোর সংবিধিবদ্ধ উইন্ডো কী এবং এটি কি বাড়ানো যেতে পারে?
ধারা ১৮ এর অধীনে, আপত্তির উইন্ডোটি ট্রেড মার্কস জার্নালে মার্ক বিজ্ঞাপন দেওয়ার তারিখ থেকে কঠোরভাবে দুই (২) মাস। এটি একটি অনমনীয় সংবিধিবদ্ধ সময়সীমা এবং এটি সম্প্রসারণযোগ্য নয়। ফরম টিএম-৫ দাখিল করার মাধ্যমে আপত্তি শুরু করা হয়।
৫. ট্রেডমার্ক সুরক্ষার প্রাথমিক মেয়াদ কত এবং এটি কীভাবে নবায়ন করা হয়?
ধারা ২২(১) অনুযায়ী, সুরক্ষার প্রাথমিক মেয়াদ আবেদন তারিখ থেকে সাত (৭) বছর। ধারা ২২(২) এর অধীনে, ফরম টিএম-১২ দাখিল করে এবং প্রয়োজনীয় সংবিধিবদ্ধ ফি পরিশোধ করে দশ (১০) বছরের ধারাবাহিক সময়ের জন্য এটি অনির্দিষ্টকালের জন্য নবায়ন করা যেতে পারে।
৬. ট্রেডমার্ক লঙ্ঘন মামলার ক্ষেত্রে কোন আদালতের এখতিয়ার রয়েছে?
ট্রেড মার্কস আইন, ২০০৯ এর ধারা ৯৬ অনুসারে, নিবন্ধিত ট্রেডমার্কের লঙ্ঘন বা পাসিং অফ এর জন্য কোনো মামলা জেলা জজ আদালতের নিম্নতর কোনো আদালতে দায়ের করা যাবে না। নিবন্ধকের সিদ্ধান্ত থেকে আপিল ধারা ১০০ এর অধীনে সরাসরি হাইকোর্ট বিভাগে ন্যস্ত হয়।
৭. বাংলাদেশে জালিয়াতির জন্য কী কী ফৌজদারি শাস্তি বিদ্যমান?
ধারা ৭৪ এর অধীনে, মিথ্যা ট্রেডমার্ক প্রয়োগ করা বা নকল পণ্য বিক্রি করা সর্বোচ্চ দুই (২) বছরের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ২০০,০০০ টাকা জরিমানা, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয়। পুনরাবৃত্ত অপরাধীরা তিন (৩) বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ৩০০,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানার সম্মুখীন হন।
বাংলাদেশে কৌশলগত আইপি পরামর্শ প্রয়োজন?
আপনার বহুজাতিক ব্র্যান্ড সুরক্ষার জন্য সুনির্দিষ্ট প্রয়োগ এবং আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ প্রয়োজন। ডিপিডিটি ফাইলিং, প্যারিস কনভেনশন অগ্রাধিকার দাবি, এবং ট্রেড মার্কস আইন, ২০০৯ এর অধীনে জালিয়াতি বিরোধী মামলার বিশেষজ্ঞ সহায়তার জন্য, আজই আমাদের সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেটগণের সাথে যোগাযোগ করুন।
Frequently Asked Questions
১. বাংলাদেশে ট্রেড মার্কস নিবন্ধনের মূল আইনি কাঠামো কী?
বাংলাদেশে ট্রেড মার্কস নিবন্ধনের মূল আইনি কাঠামো পরিচালিত হয় 'ট্রেড মার্কস আইন, ২০০৯' এবং 'ট্রেড মার্কস বিধিমালা, ২০১৫'-এর অধীনে। পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেড মার্কস অধিদপ্তর (DPDT) এই আইন বাস্তবায়নের দায়িত্বে নিয়োজিত সংবিধিবদ্ধ কর্তৃপক্ষ, যা শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন।
২. মাদ্রিদ প্রোটোকলের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ট্রেড মার্কস সুরক্ষার সুবিধা কীভাবে পাওয়া যায়?
বাংলাদেশ মাদ্রিদ প্রোটোকলের সদস্য হওয়ায় দেশীয় উদ্যোক্তারা একটি মাত্র আন্তর্জাতিক আবেদন ফরম এবং ফি জমা দিয়েই একই সাথে প্রোটোকলের সদস্যভুক্ত অন্যান্য রাষ্ট্রে তাদের ট্রেড মার্কস সুরক্ষার জন্য আবেদন করতে পারেন। ডিপিডিটি এই প্রক্রিয়ার অফিস অব অরিজিন হিসেবে কাজ করে এবং আন্তর্জাতিক ব্যুরোর সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে।
৩. ট্রেড মার্কস নিবন্ধনের মেয়াদ কত বছর এবং পরবর্তীতে নবায়ন পদ্ধতি কী?
বাংলাদেশে ট্রেড মার্কস নিবন্ধনের প্রাথমিক মেয়াদ ৭ (সাত) বছর। মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পূর্বে নির্ধারিত ফি প্রদান সাপেক্ষে প্রতিবারে ১০ (দশ) বছরের জন্য ট্রেড মার্কস নবায়ন বা রিনিউ করা যায়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নবায়ন না করলে ট্রেড মার্কস বাতিল হওয়ার আইনি ঝুঁকি থাকে।
৪. ট্রেড মার্কস ইনফ্রিঞ্জমেন্ট বা জালিয়াতি হলে আইনি প্রতিকারের উপায় কী?
কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অননুমোদিতভাবে নিবন্ধিত ট্রেড মার্কস ব্যবহার করলে ট্রেড মার্কস আইন, ২০০৯-এর বিধান অনুযায়ী দেওয়ানি আদালতে নিষেধাজ্ঞা ও ক্ষতিপূরণের মামলা এবং ফৌজদারি আদালতে তল্লাশি ও আটকের জন্য মামলা দায়ের করা যায়। এছাড়া কাস্টমস কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আমদানিকৃত জালপণ্য আটকও করা সম্ভব।
৫. ট্রেড মার্কস আবেদনে কোনো আপত্তি (Opposition) আসলে করণীয় কী?
কোনো ট্রেড মার্কস জার্নালে প্রকাশের পর যদি তৃতীয় পক্ষ তাতে আপত্তি জানায়, তবে ডিপিডিটি কর্তৃক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাউন্টার-স্টেটমেন্ট বা জবাব দাখিল করতে হয়। উভয় পক্ষের শুনানির মাধ্যমে রেজিস্ট্রার বাHearing Officer এই বিরোধ নিষ্পত্তি করেন, যেখানে অভিজ্ঞ আইপি আইনজীবীর সহায়তা নেওয়া বাধ্যতামূলক।
৬. ডিপিডিটি-তে ট্রেড মার্কস আবেদন দাখিলের ক্ষেত্রে কোন শ্রেণি বা Nice Classification অনুসরণ করা হয়?
পণ্যের বা সেবার প্রকৃতি নির্ধারণের জন্য আন্তর্জাতিক 'Nice Classification' (尼斯 শ্রেণী বিন্যাস)-এর ৪৫টি শ্রেণি অনুসরণ করা হয়। এর মধ্যে ১ থেকে ৩৪ শ্রেণি পণ্যের জন্য এবং ৩৫ থেকে ৪৫ শ্রেণি বিভিন্ন ধরনের সেবামূলক ব্যবসার জন্য নির্দিষ্ট করা রয়েছে। সঠিক শ্রেণિ নির্বাচন না করলে আবেদন বাতিল হতে পারে।