নির্বাহী সারসংক্ষেপ ও সংবিধিবদ্ধ কর্তৃত্ব
| পদক্ষেপ / প্রয়োজনীয়তা | আইনি ভিত্তি / ধারা | কর্তৃপক্ষ | সরকারি ফি / কর কাঠামো | প্রমিত সময়সীমা |
|---|---|---|---|---|
| নতুন সাধারণ ট্রেড লাইসেন্স আবেদন | স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন ২০০৯, ধারা ৮৪ ও তফসিল ৪ | সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা / রাজস্ব সার্কেল | ব্যবসার ধরনভেদে ১,৫০০ - ৫০,০০০ টাকা + ১৫% ভ্যাট | ৩ - ৭ কার্যদিবস |
| ঝুঁকিপূর্ণ / উৎপাদনমুখী শিল্পের আবেদন (কারখানা ও গুদাম) | পৌর আদর্শ কর তফসিল ২০১৬ ও পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা | সিটি কর্পোরেশন, ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশ অধিদপ্তর | লাইসেন্স ফি + বিশেষ পরিদর্শন ফি ও সাইনবোর্ড কর | ১৫ - ৩০ কার্যদিবস |
| বার্ষিক ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন | স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন ২০০৯, ধারা ৮৫ | সিটি কর্পোরেশন জোনাল রাজস্ব শাখা / অনলাইন ই-ট্রেড পোর্টাল | মূল লাইসেন্স ফি + নবায়ন সারচার্জ ও উৎসে কর (AIT) | ১ - ৩ কার্যদিবস (অনলাইনে তাৎক্ষণিক) |
| ব্যবসায়িক ঠিকানা বা ক্ষেত্র স্থানান্তর | সিটি কর্পোরেশন আদর্শ কর বিধিমালা, ২০১৬ | রাজস্ব কর্মকর্তা / লাইসেন্স সুপারভাইজার | স্থানান্তর ফি ও রেকর্ড সংশোধন ফি (১,০০০ - ৫,০০০ টাকা) | ৫ - ৭ কার্যদিবস |
| মালিকানা বা অংশীদারিত্ব পরিবর্তন সংশোধন | স্থানীয় সরকার আইন ২০০৯ এবং অংশীদারি আইন ১৯৩২ | প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন | সংশোধন ফি ও নতুন প্রত্যয়ন ব্যয় (২,০০০ - ১০,০০০ টাকা) | ৭ - ১০ কার্যদিবস |
ফিচার্ড স্নিপেট: বাংলাদেশে ট্রেড লাইসেন্স হলো স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ৬০ নং আইন)-এর ৮৪ ধারা এবং স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯-এর ৯৮ ধারার অধীন ইস্যুকৃত একটি বাধ্যতামূলক বার্ষিক পৌর অনুমতিপত্র, যা কোনো ব্যক্তি, ফার্ম বা কোম্পানিকে একটি নির্দিষ্ট স্থানীয় সরকার এখতিয়ারের মধ্যে আইনসম্মতভাবে কোনো ব্যবসা, পেশা বা বৃত্তি পরিচালনার কর্তৃত্ব প্রদান করে। লাইসেন্স ব্যতীত ব্যবসা পরিচালনা করা ২০০৯ সনের আইনের ১১৫ ধারার অধীন দণ্ডনীয় অপরাধ।
বাংলাদেশে ট্রেড লাইসেন্স ব্যবস্থা কোনো একক, কেন্দ্রীয়ভাবে বিধিবদ্ধ লাইসেন্সিং সংবিধি নয়; বরং এটি স্থানীয় সরকারের তিনটি স্তর—সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পরিষদ—দ্বারা পরিচালিত একটি বিকেন্দ্রীকৃত রাজস্ব-নিয়ামক কাঠামো, যার প্রতিটি ২০০৯ সনে প্রণীত স্বীয় ক্ষমতায়নকারী আইনের দ্বারা ক্ষমতাপ্রাপ্ত। স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯ হলো বাংলাদেশের এগারোটি সিটি কর্পোরেশনের (ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল, রংপুর, কুমিল্লা, গাজীপুর এবং নারায়ণগঞ্জ) প্রধান সংবিধিবদ্ধ কর্তৃত্ব; যেখানে স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ প্রায় ৩২৯টি পৌরসভা নিয়ন্ত্রণ করে এবং স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ গ্রামীণ ব্যবসায়িক লাইসেন্সিং নিয়ন্ত্রণ করে।
ট্রেড লাইসেন্স মূলত একটি কর আরোপের দলিল (taxing instrument), স্বত্ব প্রদানকারী বা সম্পত্তির বৈধতাদানকারী কোনো দলিল নয়। এর সংবিধিবদ্ধ চরিত্র ৮৪ ধারা (সিটি কর্পোরেশন) এবং সংশ্লিষ্ট তৃতীয়/চতুর্থ তফসিলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষসমূহের ওপর ন্যস্ত কর আরোপের ক্ষমতা থেকে উদ্ভূত, যেখানে "পেশা, ব্যবসা ও বৃত্তি"-র সেই বিভাগসমূহ তালিকাভুক্ত করা হয়েছে যার ওপর পৌর লাইসেন্স ফি ধার্য করা যেতে পারে। বাংলাদেশে বাণিজ্যিক মক্কেলদের পরামর্শদানকারী প্রত্যেক আইন অনুশীলনকারীকে অবশ্যই উপলব্ধি করতে হবে যে, ট্রেড লাইসেন্স অন্তত চারটি স্বতন্ত্র নিয়ন্ত্রক কাঠামোর মিলনস্থলে অবস্থিত: স্থানীয় সরকার কর আইন, আয়কর আইন (আয়কর আইন, ২০২৩), মূসক আইন (মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২), এবং খাতভিত্তিক ছাড়পত্র (অগ্নি নির্বাপণ, পরিবেশ, ওষুধ, শ্রম)।
ট্রেড লাইসেন্স পরিচালনাকারী সংবিধিবদ্ধ কাঠামো
ফিচার্ড স্নিপেট: বাংলাদেশে ট্রেড লাইসেন্স শহরাঞ্চলের ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯-এর ৮৪ ধারা ও চতুর্থ তফসিল এবং পৌরসভার ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯-এর ৯৮ ধারা ও তৃতীয় তফসিল দ্বারা পরিচালিত হয়, যা যথাক্রমে ২০১৬ এবং ২০১৪ সালের আদর্শ কর তফসিল দ্বারা সম্পূরক।
মূল ক্ষমতাপ্রদানকারী বিধানসমূহ
- স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ৬০ নং আইন)
- ৮৪ ধারা প্রতিটি সিটি কর্পোরেশনকে সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে এবং সভার সিদ্ধান্তের (resolution) মাধ্যমে চতুর্থ তফসিলের দ্বিতীয় খণ্ডে নির্দিষ্টকৃত পেশা, ব্যবসা ও বৃত্তির ওপর লাইসেন্স ফিসহ কর, রেইট, টোল এবং ফি আরোপ করার সংবিধিবদ্ধ ক্ষমতা প্রদান করে।
- ১১৫ ধারা প্রয়োজনীয় লাইসেন্স গ্রহণ ব্যতিরেকে কোনো তফসিলভুক্ত ব্যবসা, পেশা বা বৃত্তি পরিচালনাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে, যার ফলে অপরাধী ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট দোষী সাব্যস্ত হলে অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
- ১১৬ ধারা সিটি কর্পোরেশনের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের লাইসেন্সবিহীন বাণিজ্যিক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আমলে গ্রহণ, প্রাঙ্গণ সিলগালাকরণ এবং প্রসিকিউশন বা মামলা দায়েরের ক্ষমতা প্রদান করে।
-
৪৬ ধারা কর্পোরেশনকে লাইসেন্সিং প্রশাসন, যার মধ্যে পরিদর্শন, যাচাইকরণ এবং বাতিলকরণ পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত, পরিচালনার জন্য উপ-আইন (bye-laws) প্রণয়নের ক্ষমতা প্রদান করে।
-
স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ৫৮ নং আইন)
- তৃতীয় তফসিলসহ পঠিত ৯৮ ধারা পৌর এলাকার মধ্যে পরিচালিত ব্যবসা, বৃত্তি ও পেশার ওপর পৌরসভার শ্রেণি (ক, খ, গ) অনুযায়ী বিন্যস্ত লাইসেন্স ফি ধার্যের ক্ষমতা পৌরসভাকে প্রদান করে।
-
৯৯–১০১ ধারা অপরিশোধিত লাইসেন্স বকেয়ার মূল্যায়ন, আপিল এবং আদায় প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে, যা সরকারি দাবি আদায় আইন, ১৯১৩ (Public Demands Recovery Act, 1913)-এর অধীন সরকারি দাবি হিসেবে আদায়যোগ্য দায় হিসেবে গণ্য হয়।
-
স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ৬১ নং আইন)
- চতুর্থ তফসিলসহ পঠিত ৬৫ ধারা গ্রামীণ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানসমূহের ক্ষেত্রেও অনুরূপ লাইসেন্সিং বাধ্যবাধকতা বিস্তৃত করে, যদিও এক্ষেত্রে সংবিধিবদ্ধ ফির সর্বোচ্চ সীমা তুলনামূলকভাবে অনেকটাই কম।
অর্পিত আইন প্রণয়ন: আদর্শ কর তফসিল
মূল সংবিধিসমূহে সুনির্দিষ্ট ফির তফসিল নির্ধারণ করা হয়নি, বরং ৮৪ ধারার অধীন বিধি-প্রণয়ন ক্ষমতার আওতায় জারিকৃত অর্পিত আইনের মাধ্যমে তা নির্ধারণ করা হয়েছে:
- সিটি কর্পোরেশন আদর্শ কর তফসিল, ২০১৬ — স্থানীয় বৈচিত্র্যসহ ডিএনসিসি, ডিএসসিসি, চসিক এবং অন্যান্য সিটি কর্পোরেশনে সমরূপভাবে প্রযোজ্য, যা মূলধনী বিনিয়োগ, মেঝের ক্ষেত্রফল এবং ব্যবসায়ের প্রকৃতির ভিত্তিতে হাজার হাজার ব্যবসার বিবরণকে বিভিন্ন ফি-বন্ধনীতে শ্রেণিবদ্ধ করেছে।
- পৌরসভা আদর্শ কর তফসিল, ২০১৪ — 'ক', 'খ' এবং 'গ' শ্রেণির পৌরসভার ফির সর্বোচ্চ সীমা নিয়ন্ত্রণ করে।
সরকারি গেজেটে আনুষ্ঠানিক প্রকাশনা ব্যতীত এই তফসিলসমূহের যেকোনো সংশোধন ৮৪ ধারার অধীন অর্পিত বিধি-প্রণয়ন ক্ষমতার এখতিয়ারবহির্ভূত (ultra vires) হিসেবে বাতিলযোগ্য — যা বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশনের বিরুদ্ধে ফি বৃদ্ধি সংক্রান্ত মোকদ্দমায় হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক বারবার নিশ্চিত করা হয়েছে।
সংবিধিবদ্ধ আন্তঃসমন্বয় বিন্দুসমূহ
| সংবিধি | সংশ্লিষ্ট বিধান | ট্রেড লাইসেন্স ইন্টারফেস |
|---|---|---|
| আয়কর আইন, ২০২৩ (২০২৩ সনের ১২ নং আইন) | ধারা ২৬৪ (পিএসআর বাধ্যবাধকতা); উৎস কর তফসিল | লাইসেন্স ইস্যু/নবায়নের পূর্বে পিএসআর (PSR) বাধ্যতামূলক; উৎসে অগ্রিম আয়কর (AIT) কর্তন |
| মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ | ধারা ৪, ধারা ৯ | মূসক-নিবন্ধনযোগ্য ব্যবসার জন্য ১৩-সংখ্যার বিআইএন (BIN) বাধ্যতামূলক |
| কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ | ধারা ১৮, ধারা ২৮ | ট্রেড লাইসেন্স স্থানীয়ভাবে নিবন্ধিত কার্যালয়ের ঠিকানাকে বৈধতা প্রদান করে |
| বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৬ | ধারা ১৫ | বিদেশি বিনিয়োগযুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে লাইসেন্স ইস্যুর পূর্বে বিডা (BIDA)-র ছাড়পত্র আবশ্যক |
| বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ | কারখানা লাইসেন্সিং সংক্রান্ত বিধানসমূহ | উৎপাদনকারী ইউনিটের ক্ষেত্রে ডিআইএফই (DIFE) কারখানা লাইসেন্স একটি পূর্বশর্ত |
| বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ | পরিবেশগত ছাড়পত্র সংক্রান্ত বিধানসমূহ | কমলা/লাল শ্রেণিভুক্ত শিল্পের ক্ষেত্রে পরিবেশগত ছাড়পত্র (ECC) পূর্বশর্ত |
ট্রেড লাইসেন্স ইস্যুর ধাপভিত্তিক প্রক্রিয়া
ফিচার্ড স্নিপেট: বাংলাদেশে ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু করার জন্য প্রয়োজনীয় ধাপসমূহ হলো: (১) জোনিং বা অঞ্চলভিত্তিক উপযোগিতা যাচাই, (২) প্রযোজ্য ক্ষেত্রে খাতভিত্তিক অনাপত্তি/ছাড়পত্র, (৩) আবেদনপত্র দাখিল ("ক" ফরম বা অনলাইন ইটিএল পোর্টালের মাধ্যমে), (৪) রাজস্ব পরিদর্শক কর্তৃক সরজমিন পরিদর্শন, (৫) ভ্যাট, এআইটি (অগ্রিম আয়কর) এবং সাইনবোর্ড করসহ ফি নির্ধারণ, এবং (৬) ফি পরিশোধ ও লাইসেন্স ইস্যুকরণ—যা সাধারণত ৭–১৫ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পন্ন হয়।
প্রথম ধাপ: আবেদন-পূর্ববর্তী জোনিং সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা প্রতিপালন
কোনো আবেদন দাখিলের পূর্বে, আইন উপদেষ্টাকে অবশ্যই নিশ্চিত হতে হবে যে প্রস্তাবিত বাণিজ্যিক প্রাঙ্গণটি প্রযোজ্য সংবিধিবদ্ধ মহাপরিকল্পনার (মাস্টার প্ল্যান) অধীন বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদনযোগ্য অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত:
- ঢাকায়, রাজউক বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ/DAP)-এর শর্তাবলি প্রতিপালন বাধ্যতামূলক।
- চট্টগ্রামে, সিডিএ মহাপরিকল্পনা (মাস্টার প্ল্যান)-এর বিধানাবলি প্রযোজ্য।
- দখলিস্বত্ব বা অধিকার অবশ্যই নিম্নলিখিত যেকোনো একটির মাধ্যমে প্রমাণিত হতে হবে:
- ন্যূনতম ৩০০ টাকার নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে সম্পাদিত একটি নিবন্ধিত বা নোটারিকৃত ভাড়াচুক্তি (ভাড়ানামা), যার সাথে বাড়িওয়ালার হালনাগাদ পৌর হোল্ডিং ট্যাক্সের রশিদ সংযুক্ত থাকতে হবে, অথবা
- আবেদনকারী স্বত্বাধিকারী/মালিক হলে হালনাগাদ নামজারি খতিয়ান (মিউটেশন খতিয়ান) ও হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধের প্রমাণপত্রসহ মালিকানা দলিল (স্বত্ব দলিল)।
গেজেটভুক্ত মহাপরিকল্পনার অধীন সুস্পষ্টভাবে আবাসিক হিসেবে চিহ্নিত কোনো প্লটের বাণিজ্যিক ব্যবহারকে বৈধতা প্রদান করে সিটি কর্পোরেশন আইনত কোনো ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু করতে পারে না—এটি একটি সুপ্রতিষ্ঠিত বিচারিক নীতি (নজির), যা নিম্নে বিশদভাবে আলোচনা করা হয়েছে।
দ্বিতীয় ধাপ: আবেদন দাখিল
সরাসরি/ম্যানুয়াল পদ্ধতি: আবেদনকারী সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন অঞ্চল বা পৌরসভার আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার (জেডইও) নিকট প্রয়োজনীয় নথিপত্রের চেকলিস্টসহ (নিম্নোক্ত অনুচ্ছেদ দ্রষ্টব্য) নির্ধারিত "ক" আবেদন ফরম দাখিল করবেন।
ডিজিটাল পদ্ধতি — ইটিএল (eTL) পোর্টাল: ডিএনসিসি, ডিএসসিসি, চসিক এবং আরও বেশ কয়েকটি সিটি কর্পোরেশন বর্তমানে ই-ট্রেড লাইসেন্স (eTL) প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করছে, যার মাধ্যমে নিম্নলিখিত সুবিধা পাওয়া যায়: - মোবাইল নম্বর/জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যাচাইয়ের মাধ্যমে অনলাইন প্রোফাইল তৈরি - সকল সংবিধিবদ্ধ দলিলাদির স্ক্যান কপি আপলোড - আবেদনের বাস্তব সময়ভিত্তিক (রিয়েল-টাইম) অগ্রগতি ট্র্যাকিং - মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (বিকাশ, নগদ, রকেট) বা অনলাইন ব্যাংকিং গেটওয়ের মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ফি পরিশোধ
তৃতীয় ধাপ: সরজমিন যাচাই
একজন রাজস্ব পরিদর্শক (আরআই) বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত লাইসেন্সিং কর্মকর্তা প্রাঙ্গণটি সরজমিনে পরিদর্শন করে নিম্নলিখিত বিষয়াদি যাচাই করেন: - প্রকৃতপক্ষে দখলকৃত মেঝের ক্ষেত্রফল বা ফ্লোর স্পেস (এর ওপর ভিত্তি করে সাইনবোর্ড কর এবং কোনো কোনো তফসিলে লাইসেন্স ফি-র স্তর নির্ধারিত হয়) - ঘোষিত ব্যবসার প্রকৃতি এবং প্রত্যক্ষকৃত ব্যবসায়িক কার্যক্রমের মধ্যে সামঞ্জস্যতা - কোম্পানি হলে স্মারকলিপি (মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন) কিংবা ফার্ম হলে অংশীদারি দলিলের (পার্টনারশিপ ডিড) সাথে তুলনামূলক যাচাইকরণ
চতুর্থ ধাপ: কর নির্ধারণ ও দাবিনামা (ডিমান্ড নোটিশ)
লাইসেন্সিং বিভাগ নিম্নলিখিত উপাদানসমূহের সমন্বয়ে একটি সামগ্রিক সংবিধিবদ্ধ দাবিনামা প্রস্তুত করে:
- মূল লাইসেন্স ফি — আদর্শ কর তফসিল ২০১৬/২০১৪ অনুযায়ী, যা ব্যবসার ধরন এবং মূলধন/টার্নওভারের স্তরভিত্তিক নির্ধারিত।
- ১৫% মূল্য সংযোজন কর (মূসক/ভ্যাট) — মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর অধীন মূল লাইসেন্স ফি-র ওপর আরোপিত।
- সাইনবোর্ড/বিজ্ঞাপন কর — কর্পোরেশনের বিজ্ঞাপন উপ-আইনের অধীন প্রতি বর্গফুট হিসেবে নির্ধারিত, যেখানে আলোকিত ও অনালোকিত সাইনবোর্ডের জন্য ভিন্ন ভিন্ন হার প্রযোজ্য।
- অগ্রিম আয়কর (এআইটি) — আয়কর আইন, ২০২৩-এর অধীন উৎসে কর্তনযোগ্য, যা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন দ্বারা নির্ধারিত হারে ধার্য হয় (নিম্নোক্ত ফি ম্যাট্রিক্স দ্রষ্টব্য)।
- পরিচ্ছন্নতা/কনজারভেন্সি সারচার্জ — অধিকাংশ ক্ষেত্রে নামমাত্র একটি নির্দিষ্ট পৌর ইউটিলিটি চার্জ।
পঞ্চম ধাপ: ফি পরিশোধ ও লাইসেন্স ইস্যুকরণ
তফসিলি ব্যাংকের মাধ্যমে (কর্পোরেশন নির্ধারিত ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে) অথবা সমন্বিত ই-পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করতে হয়। অর্থ জমা হওয়ার পর, সিস্টেম থেকে ট্রেড লাইসেন্স সনদপত্র তৈরি হয়, যাতে অন্তর্ভুক্ত থাকে: - একটি অনন্য লাইসেন্স/নিবন্ধন নম্বর - ব্যবসায়িক শ্রেণির শ্রেণিবিন্যাস কোড - মেয়াদকাল (অর্থবছরভিত্তিক বা বহুবর্ষীয়, যেখানে প্রযোজ্য) - ডিজিটাল যাচাইকরণের জন্য কিউআর-কোড বা বারকোড (ডিএনসিসি/ডিএসসিসি ডিজিটাল লাইসেন্সের ক্ষেত্রে)
সাধারণ নিষ্পত্তির সময়সীমা: যথাযথ নথিপত্রসহ ত্রুটিমুক্ত আবেদনের ক্ষেত্রে ৭–১৫ কার্যদিবস; তবে খাতভিত্তিক অনাপত্তি (ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তর) প্রক্রিয়াধীন থাকলে আরও বেশি সময় লাগতে পারে।
সিটি কর্পোরেশনভিত্তিক সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া: ডিএনসিসি, ডিএসসিসি এবং অন্যান্য
ফিচার্ড স্নিপেট: ডিএনসিসি এবং ডিএসসিসি সুনির্দিষ্ট অনলাইন ট্রেড লাইসেন্স পোর্টাল পরিচালনা করে, যা প্রচলিত ব্যবসার ক্ষেত্রে ডিজিটাল পদ্ধতিতে আবেদন, ফি পরিশোধ এবং বহুবর্ষীয় (৩–৫ বছর পর্যন্ত) লাইসেন্স গ্রহণের সুযোগ প্রদান করে আঞ্চলিক কার্যালয়ে সশরীরে উপস্থিতির বাধ্যবাধকতা হ্রাস করেছে; বিপরীতে, তুলনামূলক ছোট সিটি কর্পোরেশন এবং পৌরসভাগুলোতে এখনও বহুলাংশে প্রচলিত ম্যানুয়াল ও আঞ্চলিক কার্যালয়ভিত্তিক লাইসেন্স ব্যবস্থা বিদ্যমান।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)
অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের বিভক্তির পর থেকে, ডিএনসিসি এবং ডিএসসিসি উভয়ই তাদের নিজ নিজ অঞ্চলের আওতাধীন এলাকায় স্বাধীনভাবে ট্রেড লাইসেন্স কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে (ডিএনসিসি: অঞ্চল ১–১০, যার আওতাভুক্ত গুলশান, বনানী, উত্তরা, মিরপুর, ক্যান্টনমেন্ট এলাকা ইত্যাদি; ডিএসসিসি: অঞ্চল ১–১০, যার আওতাভুক্ত পুরান ঢাকা, মতিঝিল, ধানমন্ডি (আংশিক), যাত্রাবাড়ী ইত্যাদি)। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ হলো:
- অনলাইন ই-ট্রেড লাইসেন্স ব্যবস্থা: যা প্রচলিত সাধারণ শ্রেণির ব্যবসার জন্য সশরীরে কার্যালয়ে উপস্থিত হওয়া ব্যতিরেকেই নতুন আবেদন, নবায়ন এবং প্রতিলিপি (ডুপ্লিকেট) সনদ গ্রহণের সুবিধা প্রদান করে।
- বহুবর্ষীয় লাইসেন্সের সুবিধা: যা সাধারণ ঝুঁকিমুক্ত ব্যবসার ক্ষেত্রে ২, ৩ বা সর্বোচ্চ ৫ বছরের জন্য অগ্রিম ফি পরিশোধের সুযোগ দেয়, ফলে প্রতি বছর নবায়নের জটিলতা এড়ানো সম্ভব হয় (তবে লাইসেন্স ইস্যুর সময় নির্ধারিত না থাকলে সংশ্লিষ্ট বছরের নির্ধারিত হারে এআইটি এবং মূসক প্রদেয় হবে)।
- রিয়েল-টাইমে পিএসআর (রি
ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন প্রক্রিয়া ২০২৬
ফিচার্ড স্নিপেট: কোনো প্রকার বিলম্ব ফি বা সারচার্জ ব্যতীত প্রতিটি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন সম্পন্ন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন/পৌরসভার উপ-আইন (bye-laws) অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বরের পর নবায়নের ক্ষেত্রে মূল নির্ধারিত ফি-এর ওপর ১০% থেকে ৫০% পর্যন্ত সংবিধিবদ্ধ সারচার্জ আরোপিত হয়, যা খেলাপি মেয়াদের বৃদ্ধির সাথে সাথে ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পায়।
অর্থবছরভিত্তিক মেয়াদ চক্র
প্রতিটি ট্রেড লাইসেন্স, তা নতুন ইস্যুকৃত হোক বা নবায়িত, সংবিধিবদ্ধভাবে বাংলাদেশের অর্থবছর — ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন-এর সাথে সম্পর্কিত। এর অর্থ হলো, অর্থবছরের মাঝামাঝি সময়ে (যেমন নভেম্বরে) প্রাপ্ত লাইসেন্সের মেয়াদও পরবর্তী ৩০ জুনে উত্তীর্ণ হয়ে যাবে, যার ফলে অবিলম্বে তা নবায়ন করা আবশ্যক।
নবায়নের সময়সীমা এবং সারচার্জ বৃদ্ধি
- বিলম্ব ফি-মুক্ত নবায়নের সময়সীমা: নতুন অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর।
- ৩০ সেপ্টেম্বর-পরবর্তী খেলাপি: কর্পোরেশনসমূহ ক্রমবর্ধমান হারে সারচার্জ আরোপ করে — যা সাধারণত প্রথম ত্রৈমাসিক খেলাপির জন্য ১০% এবং দীর্ঘমেয়াদী অনবায়নের ক্ষেত্রে বৃদ্ধি পেয়ে ২৫–৫০% পর্যন্ত নির্ধারিত হয়, যা মূল নির্ধারিত ফি-এর ওপর ধার্য করা হয় (সংশ্লিষ্ট বছরের ভ্যাট পুনঃগণনা ব্যতীত)।
- একটি পূর্ণ অর্থবছর অতিক্রম করে ক্রমাগত অনবায়নের ক্ষেত্রে নতুন লাইসেন্সের ন্যায় নতুন করে মূল্যায়ন (fresh assessment) শুরু হতে পারে, পাশাপাশি মেয়াদোত্তীর্ণ/লাইসেন্সবিহীন অবস্থায় কার্যক্রম পরিচালনার দায়ে ২০০৯ সালের আইনের ১১৫ ধারার অধীনে সম্ভাব্য ফৌজদারি কার্যধারার মুখোমুখি হতে হতে পারে।
নবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় দলিলাদি (২০২৬ চক্র)
- সমর্পণ/পৃষ্ঠাঙ্কনের (annotation) জন্য মূল ট্রেড লাইসেন্স (পূর্ববর্তী বছরের)।
- আয়কর আইন, ২০২৩-এর ২৬৪ ধারার অধীন সংশ্লিষ্ট করবর্ষের হালনাগাদ রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র (পিএসআর)।
- চলতি হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধের সনদ/ছাড়পত্র (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, বিশেষ করে নিজস্ব প্রাঙ্গণ বা স্থাপনার ক্ষেত্রে)।
- হালনাগাদ ভাড়াচুক্তিপত্র, যদি ইজারার মেয়াদ নবায়িত হয়ে থাকে বা প্রাঙ্গণ পরিবর্তিত হয়।
- ভ্যাট/বিআইএন (BIN) সনদের নিশ্চিতকরণ (প্রাথমিক ইস্যুর পর পরিবর্তিত না হলে অপরিবর্তিত থাকে)।
সংবিধিবদ্ধ দলিলাদির চেকলিস্ট
সার্বজনীন প্রাথমিক দলিলাদি (সকল আবেদনকারীর জন্য)
| # | দলিল/কাগজপত্র | সংবিধিবদ্ধ ভিত্তি |
|---|---|---|
| ১ | আবেদনকারী/ক্ষমতাপ্রাপ্ত স্বাক্ষরকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি)/স্মার্ট কার্ড/পাসপোর্ট | প্রশাসনিক আবশ্যকতা, ফরম "ক" |
| ২ | ৩–৪ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি | প্রশাসনিক আবশ্যকতা |
| ৩ | ভাড়া চুক্তিপত্র (৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে সম্পাদিত) + বাড়িওয়ালার হোল্ডিং ট্যাক্সের রশিদ, অথবা মালিকানা স্বত্বের দলিল (টাইটেল ডিড) + নামজারি খতিয়ান + হোল্ডিং ট্যাক্সের রশিদ | উপ-আইনের অধীন প্রাঙ্গণ যাচাইকরণ |
| ৪ | ই-টিন (e-TIN) সনদপত্র + রিটার্ন দাখিলের প্রমাণক (পিএসআর) | ধারা ২৬৪, আয়কর আইন, ২০২৩ |
| ৫ | ১৩-সংখ্যার বিন (BIN)/মূসক নিবন্ধন সনদপত্র | ধারা ৪, ধারা ৯, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ |
সত্তাভিত্তিক অতিরিক্ত দলিলাদি
একমালিকানা কারবার - একমালিকানার হলফনামা/ঘোষণাপত্র (স্বতন্ত্র ব্যবসায়িক নাম ব্যবহারের জন্য)
অংশীদারি কারবার - নিবন্ধিত অংশীদারি চুক্তিপত্র (স্ট্যাম্পযুক্ত) - ফরম ১ – ফার্মের নিবন্ধন সনদপত্র (আরজেএসসি, অংশীদারি আইন, ১৯৩২-এর অধীন)
প্রাইভেট/পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি - নিগমবদ্ধকরণ সনদের (সার্টিফিকেট অব ইনকর্পোরেশন) সত্যায়িত অনুলিপি (আরজেএসসি) - সত্যায়িত সংঘস্মারক (মেমোরেন্ডাম) ও সংঘবিধি (আর্টিকেলস অব অ্যাসোসিয়েশন) - ফরম ১২ – পরিচালকদের বিবরণী (আরজেএসসি) - ট্রেড লাইসেন্স আবেদন এবং স্বাক্ষরকারীকে ক্ষমতায়ন সংক্রান্ত পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত (বোর্ড রেজোলিউশন)
বিদেশি বিনিয়োগযুক্ত সত্তা / শাখা কার্যালয় / লিয়াজোঁ অফিস - বিডা (BIDA) অনুমোদনপত্র (ধারা ১৫, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৬) - অনুমোদিত শাখা/লিয়াজোঁ অফিসের মঞ্জুরিপত্র - মূলধনের অন্তর্মুখী রেমিট্যান্সের প্রমাণক হিসেবে এনক্যাশমেন্ট সনদপত্র
খাতভিত্তিক পূর্বশর্তমূলক ছাড়পত্রসমূহ
| খাত | প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র | নিয়ন্ত্রণকারী আইন |
|---|---|---|
| ম্যানুফ্যাকচারিং/কারখানা | ফায়ার লাইসেন্স; কারখানা লাইসেন্স (ডিআইএফই); পরিবেশগত ছাড়পত্র | অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপণ আইন, ২০০৩; বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬; বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ |
| ফার্মাসিউটিক্যালস/ওষুধের দোকান | ড্রাগ লাইসেন্স (ডিজিডিএ) | ড্রাগস অ্যাক্ট, ১৯৪০ / ড্রাগস (কন্ট্রোল) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২ |
| রেস্তোরাঁ/খাদ্য সেবা | বিএসটিআই সনদপত্র; স্বাস্থ্য/স্যানিটারি ছাড়পত্র | বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন আইন, ২০১৮ |
| গুদামজাতকরণ/বন্ডেড ওয়্যারহাউস | কাস্টমস বন্ডেড ওয়্যারহাউস লাইসেন্স | কাস্টমস আইন, ১৯৬৯ |
| আর্থিক সেবা | বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তিপত্র (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) | ব্যাংক-কোম্পানী আইন, ১৯৯১ |
নিয়ন্ত্রণমূলক ফি, সময়সীমা ও দণ্ডবিধি সংক্রান্ত ম্যাট্রিক্স
| বিষয় | হার/সময়সীমা | সংবিধিবদ্ধ ভিত্তি |
|---|---|---|
| ভিত্তি লাইসেন্স ফি (সিটি কর্পোরেশন) | আদর্শ কর তফসিল, ২০১৬ অনুযায়ী — ব্যবসায়ের শ্রেণি/মূলধনের স্তরভেদে বিন্যস্ত (সাধারণত ৫০০ টাকা থেকে বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ৫০,০০০+ টাকা) | ধারা ৮৪, চতুর্থ তফসিল, ২০০৯ সনের ৬০ নং আইন |
| ভিত্তি লাইসেন্স ফি (পৌরসভা) | আদর্শ কর তফসিল, ২০১৪ অনুযায়ী — ক/খ/গ শ্রেণিভেদে বিন্যস্ত, সাধারণত সিটি কর্পোরেশনের হারের তুলনায় কম | ধারা ৯৮, তৃতীয় তফসিল, ২০০৯ সনের ৫৮ নং আইন |
| লাইসেন্স ফির ওপর মূসক | সরাসরি ১৫% | মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ |
| উৎসে আয়কর (এআইটি) — ঢাকা/চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন | ৪,০০০–৫,০০০ টাকা | আয়কর আইন, ২০২৩, উৎসে কর তফসিল |
| উৎসে আয়কর (এআইটি) — অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন | ৩,০০০ টাকা | আয়কর আইন, ২০২৩ |
| উৎসে আয়কর (এআইটি) — জেলা সদরের পৌরসভা | ১,৫০০ টাকা | আয়কর আইন, ২০২৩ |
| উৎসে আয়কর (এআইটি) — অন্যান্য পৌরসভা | ১,০০০ টাকা | আয়কর আইন, ২০২৩ |
| সাইনবোর্ড/বিজ্ঞাপন কর | প্রতি বর্গফুট হিসেবে, আলোকসজ্জিত সাইনবোর্ডের ক্ষেত্রে উচ্চতর | কর্পোরেশন বিজ্ঞাপন উপ-আইন |
| নবায়নের সময়সীমা (জরিমানা ব্যতীত) | ১ জুলাই – ৩০ সেপ্টেম্বর | কর্পোরেশনের অর্থবছর চক্র |
| বিলম্বিত নবায়ন সারচার্জ | বিলম্বের মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে ক্রমবর্ধনশীল ১০% – ৫০% | কর্পোরেশন/পৌরসভা উপ-আইন |
| বহু-বার্ষিক লাইসেন্স সুবিধা (ডিএনসিসি/ডিএসসিসি) | সর্বোচ্চ ৩–৫ বছর, অগ্রিম প্রদেয় | কর্পোরেশন প্রশাসনিক পরিপত্র |
| নিষ্পত্তির সময়সীমা (নতুন লাইসেন্স) | ৭–১৫ কার্যদিবস (দলিলাদি পূর্ণাঙ্গ থাকা সাপেক্ষে) | প্রশাসনিক চর্চা |
| লাইসেন্স ব্যতীত ব্যবসা পরিচালনার দণ্ড | দোষী সাব্যস্তকরণ সাপেক্ষে অর্থদণ্ড + ব্যবসা প্রাঙ্গণ সিলগালা করার সম্ভাবনা | ধারা ১১৫ ও ধারা ১১৬, ২০০৯ সনের ৬০ নং আইন |
সাধারণ আইনি ফাঁদ ও পরিপালনগত ত্রুটিসমূহ
-
ট্রেড লাইসেন্স জোনিং লঙ্ঘন বৈধ করে মর্মে ধারণা করা। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ডিএপি)-এর অধীন আবাসিক হিসেবে নির্ধারিত কোনো প্লটের বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু করা হলেও তা মূল জোনিং আইন লঙ্ঘনজনিত ত্রুটি দূর (cure) করে না। আদালতসমূহ ধারাবাহিকভাবে এই সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন যে, মাস্টার প্ল্যানের কর্তৃত্ববহির্ভূত (ultra vires) ইস্যুকৃত লাইসেন্স বাতিল করার ক্ষমতা সিটি কর্পোরেশনের অক্ষুণ্ণ রয়েছে — এবং তারা তা প্রয়োগ করতে বাধ্য; এবং দ্য টাউন ইমপ্রুভমেন্ট অ্যাক্ট, ১৯৫৩ বা বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন অ্যাক্ট, ১৯৫২-এর অধীন আইন প্রয়োগমূলক ব্যবস্থার (enforcement action) বিরুদ্ধে শুধুমাত্র লাইসেন্স থাকা কোনো কার্যকর আত্মপক্ষ সমর্থনের যুক্তি হতে পারে না।
-
ট্রেড লাইসেন্সকে ভাড়াটিয়া স্বত্ব/মালিকানা স্বত্বের সমতুল্য মনে করা। ট্রেড লাইসেন্স কেবল একটি রাজস্ব-নিয়ন্ত্রণমূলক অনুমতিপত্র, এটি কোনো প্রাঙ্গণের মালিকানা বা নিরবচ্ছিন্ন ইজারা স্বত্বের প্রমাণ নয়। বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১-এর অধীন কোনো ভাড়াটিয়া চুক্তি আইনসম্মতভাবে অবসান করা হলে, উক্ত ট্রেড লাইসেন্স প্রাঙ্গণে অবস্থানের কোনো অবশিষ্ট অধিকার (residual right of occupation) প্রদান করে না এবং পৌর কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট বাড়িওয়ালা-ভাড়াটিয়ার বিরোধ নিষ্পত্তির এখতিয়ার রাখে না।
-
পিএসআর/বিন-এর পূর্বশর্ত বাদ পড়া। বৈধ রিটার্ন দাখিলের প্রমাণক বা পিএসআর (আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ২৬৪) কিংবা বাধ্যতামূলক ১৩-সংখ্যার বিন (যেখানে ব্যবসাটি মূসক-নিবন্ধনযোগ্য) ব্যতীত দাখিলকৃত আবেদনসমূহ যাচাই-বাছাই পর্যায়ে নিয়মিতভাবেই বাতিল করা হয়, যা অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্বের সৃষ্টি করে।
-
খাতভিত্তিক ছাড়পত্র গ্রহণের পর্যায়ক্রম উপেক্ষা করা। ম্যানুফ্যাকচারিং, ফার্মাসিউটিক্যাল এবং খাদ্য-সেবামূলক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসমূহ প্রায়শই চেষ্টা করে
সংবিধিবদ্ধ দলিলাদির তালিকা
সর্বজনীন মৌলিক দলিলাদি (সকল আবেদনকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য)
| # | দলিল/দস্তাবেজ | সংবিধিবদ্ধ ভিত্তি |
|---|---|---|
| ১ | আবেদনকারী/ক্ষমতাপ্রাপ্ত স্বাক্ষরকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র/স্মার্ট কার্ড/পাসপোর্ট | প্রশাসনিক আবশ্যকতা, ফরম "ক" |
| ২ | ৩–৪ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি | প্রশাসনিক আবশ্যকতা |
| ৩ | ভাড়া চুক্তিপত্র (৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে) + বাড়িওয়ালার হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধের রশিদ, অথবা মালিকানা দলিল + নামজারি খতিয়ান + হোল্ডিং ট্যাক্স রশিদ | উপ-আইনের অধীন প্রাঙ্গণ যাচাইকরণ |
| ৪ | ই-টিন (e-TIN) সনদপত্র + রিটার্ন দাখিলের প্রমাণক (পিএসআর) | ধারা ২৬৪, আয়কর আইন, ২০২৩ |
| ৫ | ১৩-সংখ্যার বিন (BIN)/মূসক নিবন্ধন সনদপত্র | ধারা ৪, ধারা ৯, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ |
সত্তা-নির্দিষ্ট অতিরিক্ত দলিলাদি
একমালিকানা কারবার - স্বত্বাধিকার সংক্রান্ত হলফনামা/ঘোষণাপত্র (স্বতন্ত্র বাণিজ্যিক নাম ব্যবহারের ক্ষেত্রে)
অংশীদারি কারবার - নিবন্ধিত অংশীদারি চুক্তিপত্র (স্ট্যাম্পযুক্ত) - ফরম ১ – ফার্মের নিবন্ধন সনদপত্র (আরজেএসসি, অংশীদারি আইন, ১৯৩২-এর অধীন)
প্রাইভেট/পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি - নিগমবদ্ধকরণ সনদের সত্যায়িত অনুলিপি (আরজেএসসি) - সংঘস্মারক ও সংঘবিধির সত্যায়িত অনুলিপি - ফরম ১২ – পরিচালকদের বিবরণী (আরজেএসসি) - ট্রেড লাইসেন্সের আবেদন ও স্বাক্ষরকারীকে ক্ষমতায়ন সংক্রান্ত পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত (বোর্ড রেজুলেশন)
বিদেশি বিনিয়োগকৃত সত্তা / শাখা / লিয়াজোঁ অফিস - বিডা (BIDA) অনুমোদনপত্র (ধারা ১৫, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৬) - অনুমোদিত শাখা/লিয়াজোঁ অফিস মঞ্জুরিপত্র - মূলধনের অন্তর্মুখী রেমিট্যান্সের প্রমাণক হিসেবে এনক্যাশমেন্ট সার্টিফিকেট
খাত-নির্দিষ্ট পূর্বশর্তমূলক ছাড়পত্রসমূহ
| খাত | প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র | নিয়ন্ত্রণকারী আইন/সংবিধি |
|---|---|---|
| উৎপাদন/কারখানা | ফায়ার লাইসেন্স; কারখানা লাইসেন্স (ডিআইএফই); পরিবেশগত ছাড়পত্র | অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপণ আইন, ২০০৩; বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬; বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ |
| ওষুধ/ফার্মেসি | ড্রাগ লাইসেন্স (ডিজিডিএ) | ড্রাগস অ্যাক্ট, ১৯৪০ / ড্রাগস (কন্ট্রোল) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২ |
| রেস্তোরাঁ/খাদ্য সেবা | বিএসটিআই সনদ; স্বাস্থ্য/স্যানিটারি ছাড়পত্র | বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন আইন, ২০১৮ |
| গুদামজাতকরণ/বন্ডেড স্টোরেজ | কাস্টমস বন্ডেড ওয়্যারহাউস লাইসেন্স | কাস্টমস অ্যাক্ট, ১৯৬৯ |
| আর্থিক সেবা | বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তিপত্র (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) | ব্যাংক-কোম্পানী আইন, ১৯৯১ |
নিয়ন্ত্রক ফি, সময়সীমা ও দণ্ডবিধি সংক্রান্ত মেট্রিক্স
| বিষয় | হার/সময়সীমা | সংবিধিবদ্ধ ভিত্তি |
|---|---|---|
| মূল লাইসেন্স ফি (সিটি কর্পোরেশন) | আদর্শ কর তফসিল, ২০১৬ অনুযায়ী — ব্যবসার ধরন/মূলধন কাঠামোর ভিত্তিতে বিন্যস্ত (সাধারণত ৫০০ টাকা থেকে বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের জন্য ৫০,০০০+ টাকা পর্যন্ত) | ধারা ৮৪, চতুর্থ তফসিল, ২০০৯ সালের ৬০ নং আইন |
| মূল লাইসেন্স ফি (পৌরসভা) | আদর্শ কর তফসিল, ২০১৪ অনুযায়ী — ‘ক’/‘খ’/‘গ’ শ্রেণিভেদে নির্ধারিত, যা সাধারণত সিটি কর্পোরেশনের হারের চেয়ে কম | ধারা ৯৮, তৃতীয় তফসিল, ২০০৯ সালের ৫৮ নং আইন |
| লাইসেন্স ফি-এর উপর মূসক | নির্ধারিত ১৫% | মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ |
| অগ্রিম আয়কর (এআইটি) — ঢাকা/চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন | ৪,০০০–৫,০০০ টাকা | আয়কর আইন, ২০২৩, উৎসে কর তফসিল |
| অগ্রিম আয়কর (এআইটি) — অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন | ৩,০০০ টাকা | আয়কর আইন, ২০২৩ |
| অগ্রিম আয়কর (এআইটি) — জেলা সদরের পৌরসভা | ১,৫০০ টাকা | আয়কর আইন, ২০২৩ |
| অগ্রিম আয়কর (এআইটি) — অন্যান্য পৌরসভা | ১,০০০ টাকা | আয়কর আইন, ২০২৩ |
| সাইনবোর্ড/বিজ্ঞাপন কর | প্রতি বর্গফুট হিসেবে, আলোকসজ্জিত সাইনবোর্ডের ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি | কর্পোরেশনের বিজ্ঞাপন উপ-আইন |
| নবায়ন সময়কাল (জরিমানা ব্যতীত) | ১ জুলাই – ৩০ সেপ্টেম্বর | কর্পোরেশনের অর্থবছর চক্র |
| বিলম্বে নবায়নের সারচার্জ | বিলম্বের সময়কালের ভিত্তিতে ক্রমবর্ধমান হারে ১০% – ৫০% | কর্পোরেশন/পৌরসভার উপ-আইন |
| বহু-বর্ষীয় লাইসেন্স সুবিধা (ডিএনসিসি/ডিএসসিসি) | সর্বোচ্চ ৩–৫ বছর পর্যন্ত, অগ্রিম পরিশোধযোগ্য | কর্পোরেশনের প্রশাসনিক পরিপত্র |
| নিষ্পত্তির সময়সীমা (নতুন লাইসেন্স) | ৭–১৫ কার্যদিবস (দলিলাদি পূর্ণাঙ্গ থাকা সাপেক্ষে) | প্রশাসনিক রীতি |
| লাইসেন্স ব্যতীত ব্যবসা পরিচালনার দণ্ড | দোষী সাব্যস্তকরণে অর্থদণ্ড + ব্যবসা প্রাঙ্গণ সিলগালা করার সম্ভাবনা | ধারা ১১৫ ও ধারা ১১৬, ২০০৯ সালের ৬০ নং আইন |
সচরাচর আইনি ফাঁদ ও কমপ্লায়েন্স সংক্রান্ত ত্রুটিসমূহ
-
ট্রেড লাইসেন্স জোনিং সংক্রান্ত লঙ্ঘন বৈধ করে—এমন ধারণা পোষণ করা। রাজউকের বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ)-এর অধীন আবাসিক হিসেবে চিহ্নিত কোনো প্লটের বাণিজ্যিক ব্যবহারের উদ্দেশ্যে জারিকৃত ট্রেড লাইসেন্স কোনোভাবেই অন্তর্নিহিত জোনিং লঙ্ঘন বা ব্যত্যয় দূর করে না। আদালতসমূহ ধারাবাহিকভাবে এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, মহাপরিকল্পনার (মাস্টার প্ল্যান) এখতিয়ারবহির্ভূতভাবে (ultra vires) জারিকৃত লাইসেন্স প্রত্যাহার বা বাতিল করার ক্ষমতা সিটি কর্পোরেশনের সংরক্ষিত থাকে—এবং তারা তা প্রয়োগ করতে বাধ্য—এবং কেবল একটি লাইসেন্স থাকলেই তা দ্য টাউন ইমপ্রুভমেন্ট অ্যাক্ট, ১৯৫৩ বা ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২-এর অধীন গৃহীত বলবৎকরণ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কোনো আইনি প্রতিরক্ষা হিসেবে গণ্য হবে না।
-
ট্রেড লাইসেন্সকে ভাড়াটিয়াস্বত্ব বা স্বত্বাধিকারের সাথে একীভূত করা। ট্রেড লাইসেন্স একটি রাজস্ব-নিয়ন্ত্রক অনুমতি মাত্র, এটি কোনো প্রাঙ্গণের মালিকানা কিংবা ধারাবাহিক ইজারাস্বত্বের কোনো প্রমাণ নয়। বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১-এর অধীন কোনো ভাড়াটিয়াস্বত্ব আইনানুগভাবে সমাপ্ত করা হলে, উক্ত ট্রেড লাইসেন্স প্রাঙ্গণে অবস্থানের কোনো অবশিষ্ট দখলিস্বত্ব প্রদান করে না, এবং পৌর কর্তৃপক্ষ বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়ার মধ্যকার অন্তর্নিহিত বিরোধ নিষ্পত্তির এখতিয়ার রাখে না।
-
পিএসআর/বিন (PSR/BIN) সংক্রান্ত পূর্বশর্ত পালনে ব্যর্থতা। বৈধ রিটার্ন দাখিলের প্রমাণক বা পিএসআর (আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ২৬৪) অথবা বাধ্যতামূলক ১৩-সংখ্যার বিন (যেখানে কারবারটি মূসক নিবন্ধনের যোগ্য) ব্যতিরেকে দাখিলকৃত আবেদনসমূহ যাচাই-বাছাই পর্যায়ে নিয়মিতভাবেই বাতিল করা হয়, যার ফলে পরিহারযোগ্য বিলম্বের সৃষ্টি হয়।
-
খাত-নির্দিষ্ট ছাড়পত্রের ক্রম উপেক্ষা করা। শিল্পোৎপাদন, ওষুধ ও খাদ্য সেবা সংক্রান্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসমূহ প্রায়শই উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকে
Frequently Asked Questions
◆ সম্পর্কিত প্র্যাকটিস গাইড ও বিশ্লেষণ
<li style="margin-bottom:12px; line-height:1.5;">
<a href="/bn/share-transfer-stamp-duty-form-117-rjsc-rectification-bd-bn/" style="color:#C5A059; font-weight:600; text-decoration:none; font-size:14px; display:inline-block; transition:color 0.2s;">• শেয়ার হস্তান্তর স্ট্যাম্প ডিউটি, ফর্ম ১১৭ সম্পাদন এবং আরজেএসসি (RJSC) শেয়ার রেজিস্টার সংশোধন নির্দেশিকা</a>
</li>
<li style="margin-bottom:12px; line-height:1.5;">
<a href="/bn/100-percent-foreign-equity-company-registration-bida-oss-bangladesh-bn/" style="color:#C5A059; font-weight:600; text-decoration:none; font-size:14px; display:inline-block; transition:color 0.2s;">• ১০০% বিদেশী মালিকানাধীন কোম্পানি নিবন্ধন, বিডা (BIDA) ওএসএস অনুমোদন এবং ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্স প্রোটোকল</a>
</li>
<li style="margin-bottom:12px; line-height:1.5;">
<a href="/bn/statutory-nominee-directorship-ubo-domicile-rules-bangladesh-bn/" style="color:#C5A059; font-weight:600; text-decoration:none; font-size:14px; display:inline-block; transition:color 0.2s;">• বিধিবদ্ধ মনোনীত পরিচালক, প্রকৃত সুবিধাভোগী মালিকানা (UBO) এবং আবাসিকতার বিধিমালা: বাংলাদেশের বাণিজ্যিক আইন</a>
</li>
<li style="margin-bottom:12px; line-height:1.5;">
<a href="/bn/authorized-capital-increase-section-116-form-iv-bd-bn/" style="color:#C5A059; font-weight:600; text-decoration:none; font-size:14px; display:inline-block; transition:color 0.2s;">• ধারা ১১৬ এর অধীনে অনুমোদিত মূলধন বৃদ্ধি: ফর্ম IV সম্পাদন এবং স্ট্যাম্পিং সারচার্জ</a>
</li>
ট্রেড লাইসেন্স ব্যতীত ব্যবসা পরিচালনা করলে আইনি পরিণতি কী?
স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন ২০০৯ এর ৮৪ ধারা এবং স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন ২০০৯ অনুযায়ী যেকোনো বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ট্রেড লাইসেন্স বাধ্যতামূলক। লাইসেন্সবিহীন ব্যবসা পরিচালনা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ, যার ফলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সিলগালা, জরিমানা বা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দণ্ডাদেশ হতে পারে।
নতুন ট্রেড লাইসেন্স আবেদনের জন্য প্রধান প্রধান নথিপত্র কী কী?
আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), ই-টিআইএন (e-TIN) সার্টিফিকেট, ব্যবসায়িক কার্যালয়ের ভাড়ার চুক্তিপত্র বা মালিকানার প্রমাণ (হোল্ডিং ট্যাক্স রশিদ), ৩ কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি এবং কোম্পানির ক্ষেত্রে মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন ও ইনকর্পোরেশন সার্টিফিকেট প্রয়োজন হয়।
অনলাইন ট্রেড লাইসেন্স (e-Trade License) কীভাবে যাচাই করা যায়?
ঢাকা উত্তর (DNCC), ঢাকা দক্ষিণ (DSCC) বা অন্যান্য সিটি কর্পোরেশনের নির্ধারিত ই-ট্রেড পোর্টালের মাধ্যমে কিউআর (QR) কোড স্ক্যান করে অথবা লাইসেন্স নম্বর ও আবেদন ট্র্যাকিং আইডি ইনপুট দিয়ে ডিজিটালভাবে লাইসেন্সের সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা যায়।
ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের সরকারি সময়সীমা এবং বিলম্ব ফি কত?
ট্রেড লাইসেন্সের মেয়াদ প্রতি অর্থবছরের ৩০ জুন শেষ হয়। প্রতি বছর ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কোনো বিলম্ব ফি ছাড়া সাধারণ নবায়ন করা যায়। ৩০ সেপ্টেম্বরের পর নবায়ন করলে প্রতি মাসের জন্য সিটি কর্পোরেশন আদর্শ কর তফসিল অনুযায়ী ১০% হারে সারচার্জ বা বিলম্ব ফি আরোপিত হয়।
আবাসিক ভবনে কি বাণিজ্যিক ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া সম্ভব?
রাজউক বা সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী নির্ধারিত বাণিজ্যিক বা মিশ্র জোনিং ব্যতীত খাঁটি আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু সাধারণত নিষিদ্ধ। তবে আইটি/সফটওয়্যার সেবা বা ক্ষুদ্র পরামর্শক অফিসের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্ত ও অনাপত্তিপত্র (NOC) সাপেক্ষে সীমিত অনুমোদন দেওয়া হতে পারে।
উৎসে আয়কর (AIT) কীভাবে ট্রেড লাইসেন্স ফি-এর সাথে আদায় করা হয়?
আয়কর আইন ২০২৩ অনুযায়ী, সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়নকালে নির্ধারিত হারে উৎসে আয়কর (AIT) সংগ্রহ করা হয়। ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকায় এটি সাধারণত ৩,০০০ থেকে ৪,০০০ টাকা এবং অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভায় ১,০০০ থেকে ২,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।