কার্যনির্বাহী সারাংশ ও সংবিধিবদ্ধ এখতিয়ার
| আইনি বিধান / ধারা | বিষয়বস্তু | আন্তর্জাতিক মানদণ্ড |
|---|---|---|
| ধারা ৩-৫ | পেটেন্ট ও ইউটিলিটি মডেলের সংজ্ঞা ও নতুনত্ব নির্ধারণ | TRIPS চুক্তি অনুচ্ছেদ ২৭ |
| ধারা ১৩-১৫ | পেটেন্ট আবেদন দাখিল ও অগ্রাধিকার অধিকার | প্যারিস কনভেনশন |
| ধারা ২০-২২ | পরীক্ষণ (Examination) ও বিরোধীতা (Opposition) | বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (WTO) মানদণ্ড |
| ধারা ৩০-৩২ | পেটেন্ট মঞ্জুরি ও টার্ম (মেয়াদ ২০ বছর) | TRIPS চুক্তি অনুচ্ছেদ ৩৩ |
পেটেন্ট আইন, ২০২৩ (২০২৩ সালের ৫ নং আইন) — যা ১১ এপ্রিল ২০২৩ তারিখে জাতীয় সংসদ কর্তৃক পাস হয় — পেটেন্টের ক্ষেত্রে ঔপনিবেশিক আমলের প্যাটেন্টস অ্যান্ড ডিজাইনস অ্যাক্ট, ১৯১১-কে বাতিল করেছে এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্ক অধিদপ্তর (ডিপিডিটি) কর্তৃক পরিচালিত একটি আধুনিক, টিআরআইপিএস (TRIPS)-সম্মত বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছে। এই আইনটি বাংলাদেশের বিধিবদ্ধ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রচলিত পেটেন্ট ট্র্যাকের (ধারা ৩–১৫, ১৮–৩০) পাশাপাশি একটি নির্দিষ্ট ইউটিলিটি মডেল সার্টিফিকেট ব্যবস্থা (ধারা ১৬–১৭) প্রবর্তন করেছে, সর্বজনীন নিরঙ্কুশ নতুনত্ব (ধারা ৫) সংহিতাবদ্ধ করেছে, প্যারিস কনভেনশনের অগ্রাধিকার স্বত্ব (ধারা ২৪) আনুষ্ঠানিকভাবে রূপদান করেছে এবং ডব্লিউটিও টিআরআইপিএস চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের বাধ্যবাধকতা ও নমনীয়তাগুলোকে একীভূত করেছে — যার মধ্যে রয়েছে আর্টিকেল ৬৬.১ এর স্বল্পোন্নত দেশ (LDC) ফার্মাসিউটিক্যাল ট্রানজিশন, জনস্বাস্থ্যের ওপর দোহা ঘোষণা এবং বোলার গবেষণা অব্যাহতি (ধারা ৩৪)।
প্রধান অংশ (Featured Snippet): বাংলাদেশ পেটেন্ট আইন ২০২৩ (২০২৩ সালের ৫ নং আইন) ২০ বছরের জন্য স্ট্যান্ডার্ড পেটেন্ট এবং ১০ বছরের নবায়ন অযোগ্য ইউটিলিটি মডেল সার্টিফিকেট প্রদান করে। এর জন্য পরম সর্বজনীন নতুনত্ব, ১২ মাসের প্যারিস কনভেনশন প্রায়োরিটি উইন্ডো এবং বাংলাদেশের ২০৩৩ সালের এলডিসি সময়সীমা বা ২০২৬ সালের গ্র্যাজুয়েশন পর্যন্ত টিআরআইপিএস-সম্মত ফার্মাসিউটিক্যাল ট্রানজিশন সুরক্ষার প্রয়োজন হয়।
এই গবেষণামূলক নিবন্ধটি দেশীয় উদ্ভাবক, বহুজাতিক পেটেন্ট ধারক এবং জেনেরিক ওষুধ প্রস্তুতকারকদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ সংবিধিবদ্ধ ধারাভিত্তিক ব্যাখ্যা প্রদান করে, যারা ডিপিডিটি এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে প্রসিকিউশন, আপত্তি, বাতিলকরণ এবং আন্তঃসীমান্ত প্রায়োরিটি দাবি পরিচালনা করছেন।
ধারা ১: আইনগত অবকাঠামো, বাতিলকরণ ও পরিবর্তনকালীন সুরক্ষা
১.১ ১৯১১ সালের ব্যবস্থার বাতিলকরণ
প্যাটেন্টস অ্যান্ড ডিজাইনস অ্যাক্ট, ১৯১১ (১৯১১ সালের ২ নং আইন) শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশি (এবং পূর্বে পাকিস্তানি/ভারতীয় উপমহাদেশের) পেটেন্ট অনুশীলন নিয়ন্ত্রণ করে আসছিল। এর কাঠামোগত ত্রুটিগুলো — ইউটিলিটি মডেল ট্র্যাকের অনুপস্থিতি, সার্বজনীন প্রকাশের পরিবর্তে স্থানীয় প্রকাশের দিকে পরিচালিত অস্পষ্ট নতুনত্ব মানদণ্ড, বাধ্যতামূলক লাইসেন্সিং ব্যবস্থার কোডীভূত না থাকা এবং কোনো স্পষ্ট টিআরআইপিএস-সম্মত মেয়াদ না থাকা — একে বাংলাদেশের ডব্লিউটিও (WTO) যোগদানের বাধ্যবাধকতার সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ করে তুলেছিল। ২০২৩ সালের ৫ নং আইন আনুষ্ঠানিকভাবে শিল্প নকশা থেকে পেটেন্টগুলোকে আলাদা করেছে, যা এখন স্বাধীনভাবে বাংলাদেশ শিল্প নকশা আইন, ২০২৩ (২০২৩ সালের ৬ নং আইন) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
১.২ ধারা ৮৮: সংরক্ষণ ধারা এবং অধিকারের ধারাবাহিকতা
ধারা ৮৮ (বাতিল ও সংরক্ষণ) হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনকালীন বিধান। এটি স্পষ্টভাবে:
- ১৯১১ সালের আইনের অধীনে ইতোমধ্যে মঞ্জুরকৃত এবং বলবৎ পেটেন্টগুলোকে তাদের মূল মেয়াদের বাকি সময়ের জন্য নতুন আইনের রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রয়োগকারী ব্যবস্থার অধীনে বলবৎ হিসেবে সংরক্ষণ করে;
- ১৯১১ সালের আইনের অধীনে দাখিলকৃত মূলতববি আবেদনগুলোকে মূল ফাইলিং বা প্রায়োরিটি তারিখের ক্ষতি না করে ২০২৪ বা ২০২৩ সালের আইনের অধীনে সূচিত আবেদন হিসেবে গণ্য করে;
- প্রারম্ভের পূর্বে প্রবর্তিত মুলতুবী আপত্তি, বাতিলকরণ এবং লঙ্ঘনের কার্যধারাগুলোর বৈধতা সংরক্ষণ করে, যা নিবন্ধকের নির্দেশ অনুসারে পুরনো পদ্ধতিগত কাঠামো বা নতুন আইনের ট্রাইব্যুনাল কাঠামোর অধীনে শেষ পর্যন্ত চলতে পারে।
এই সংরক্ষণ কাঠামোটি নোভাটিস এজি বনাম ডিপিডিটি ও অন্যান্য (২০১৮) ৭০ ডিএলআর (এইচসিডি) ৩৪২ মামলায় বিচারিকভাবে অনুমিত হয়েছিল, যেখানে হাইকোর্ট বিভাগ রায় দিয়েছিল যে, টিআরআইপিএস ট্রানজিশনাল মওকুফ সময়ের মধ্যে দাখিল করা "মেইলবক্স" ফার্মাসিউটিক্যাল আবেদনগুলোকে নিবন্ধক নির্বিচারে প্রত্যাখ্যান করতে পারবেন না, কারণ তা করলে আবেদনকারীর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রায়োরিটি তারিখ বাতিল হয়ে যাবে। সেই নীতিটি এখন ধারা ১৮ এবং ৮৮-এ কঠোরভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
১.৩ অধস্তন আইন এবং বিধি প্রণয়নের শূন্যতা
ধারা ৮৭ ফরম, ফি এবং পদ্ধতিগত বিশদ বিবরণ নির্ধারণের জন্য সরকারকে বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা প্রদান করে। এই প্রকাশের সময় পর্যন্ত, আপডেট করা পেটেন্ট বিধিমালা (প্রত্যাশিত ২০২৪/২০২৫) গেজেটভুক্ত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। ফলস্বরূপ, ১৮৯৭ সালের জেনারেল ক্লাজেস অ্যাক্টের ধারা ২৪ এর অধীনে, প্যাটেন্টস অ্যান্ড ডিজাইনস রুলস, ১৯৩৩ পদ্ধতিগত শূন্যতার ক্ষেত্রে মিউটাটিস মিউট্যান্ডিস (প্রয়োজনীয় পরিবর্তনসহ) প্রয়োগ অব্যাহত রাখবে, যা ২০২৩ সালের ৫ নং আইনের যেকোনো প্রকাশ্য বিরোধপূর্ণ বিধানের অধীন থাকবে এবং তা দ্বারা অপসারিত হবে। নতুন বিধিগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রজ্ঞাপিত না হওয়া পর্যন্ত অনুশীলনকারীদের অবশ্যই উভয় আইনের বিরুদ্ধে প্রতিটি পদ্ধতিগত পদক্ষেপ ক্রস-রেফারেন্স করতে হবে।
১.৪ প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো
ডিপিডিটি আপত্তি এবং বাতিলের বিষয়গুলোর জন্য নিবন্ধক, পরীক্ষক এবং প্রথম-আদালতের আক্ষরিক অর্থে আধা-বিচারিক ট্রাইব্যুনাল হিসাবে কাজ করে, যেখানে অধ্যায় XIV (ধারা ৭০-৭৪) এর অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করা হয়। বাংলাদেশ পেটেন্ট কোঅপারেশন ট্রিটি (PCT) ব্যবস্থার বাইরে রয়েছে; আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কোনো ফাইলিং বিকল্প নেই, যার অর্থ প্রতিটি বিদেশি আবেদনকারীকে প্যারিস কনভেনশনের অগ্রাধিকারের কঠোর ১২ মাসের উইন্ডোর মধ্যে সরাসরি জাতীয় ফাইলিং করতে হবে।
ধারা ২: পেটেন্টযোগ্যতা, পরম সর্বজনীন অভিনবত্ব এবং বর্জনসমূহ
২.১ ত্রিভুজাকার পেটেন্টযোগ্যতা পরীক্ষা (ধারা ৩)
ধারা ৩ প্রচলিত তিন-অংশ বিশিষ্ট পেটেন্টযোগ্যতার মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা করে:
- অভিনবত্ব (Novelty) — উদ্ভাবনটিকে অবশ্যই পূর্ববর্তী শিল্পের অংশ হতে পারবে না;
- উদ্ভাবনী পদক্ষেপ (Inventive Step) — উদ্ভাবনটি "শিল্পে দক্ষ কোনো ব্যক্তির" (PSITA) নিকট অতি সাধারণ বা স্বতঃস্ফূর্ত বলে মনে হবে না;
- শিল্পে ব্যবহারোপযোগিতা (Industrial Applicability) — উদ্ভাবনটি কোনো শিল্পে তৈরি বা ব্যবহার করার যোগ্য হতে হবে।
২.২ পরম সর্বজনীন অভিনবত্ব (ধারা ৫)
ধারা ৫ পূর্ববর্তী ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতাসম্পন্ন "স্থানীয় অভিনবত্ব"-এর মানদণ্ড পরিহার করে পরম সর্বজনীন অভিনবত্ব গ্রহণ করেছে: কোনো উদ্ভাবন যদি আবেদন দাখিলের তারিখ বা বৈধ অগ্রাধিকার তারিখের পূর্বে লিখিত প্রকাশনা, মৌখিক প্রকাশনা, জনসমক্ষে ব্যবহার, বিক্রি, বিপণন বা ইলেকট্রনিক প্রচারের মাধ্যমে বিশ্বের যেখানেই হোক না কেন, যেকোনো উপায়ে প্রকাশিত শিল্পকলার (state of the art) অংশ হয়, তবে তা পূর্বাভাসিত বলে গণ্য হবে। ১৯১১ সালের আইনি কাঠামোর পর থেকে এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তাত্ত্বিক পরিবর্তন, যা ঐতিহাসিকভাবে সংকীর্ণ "বাংলাদেশে স্থানীয় প্রকাশনা বা ব্যবহার"-কে পূর্বাভাসের মানদণ্ড হিসেবে অনুমোদন করেছিল, যেমনটি গ্ল্যাকো গ্রুপ লিমিটেড বনাম পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রার (২০০৪) ৫৬ ডিএলআর (এইচসিডি) ২১১ মামলায় প্রতিফলিত হয়েছে, যেখানে আদালত কঠোরভাবে দেশীয় প্রকাশের রেফারেন্স দ্বারা পূর্ববর্তী জনসাধারণের জ্ঞানকে সংজ্ঞায়িত করেছিল। সেই মানদণ্ড এখন আইনগতভাবে বাতিল করা হয়েছে।
ব্যবহারিক পরিণতি: বাংলাদেশের বাইরেও বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে আবেদনকারীর নিজের ফাইলিং-পূর্ব কনফারেন্স উপস্থাপনা, জার্নাল নিবন্ধ, বা অনলাইন পণ্য তালিকাভুক্তি অভিনবত্ব নষ্ট করে দেবে, যদি না এটি ধারা ৬-এর অনুগ্রহকালীন সময়সীমার (grace period) মধ্যে পড়ে।
২.৩ আইনগত অনুগ্রহকালীন সময়সীমা (ধারা ৬)
ধারা ৬ আবেদন দাখিলের তারিখের পূর্বে ১২ মাসের মধ্যে সংঘটিত নির্দিষ্ট কিছু প্রকাশনাকে উপেক্ষা করে, তবে কেবল দুটি সংকীর্ণ পরিস্থিতিতে:
- প্রকাশনাটি তৃতীয় পক্ষের দ্বারা গোপনীয়তার স্পষ্ট লঙ্ঘন, প্রতারণা বা আবেদনকারীর প্রযুক্তিগত ডেটা বেআইনিভাবে অর্জনের কারণে উদ্ভূত হয়েছে; কিংবা
- রেজিস্টারের নিকট অগ্রিম লিখিত বিজ্ঞপ্তি এবং সার্টিফিকেশন সাهم্য সাপেক্ষে, আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত কোনো শিল্প বা আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে উদ্ভাবনটি প্রদর্শিত হয়েছিল।
উল্লেখ্য যে, এই দুটি বিভাগের বাইরে উদ্ভাবকের নিজস্ব প্রকাশনার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১২ মাসের অনুগ্রহকালীন সময়সীমার মতো কোনো সাধারণ "নিজস্ব প্রকাশনা" সংক্রান্ত অনুগ্রহকালীন সময়সীমা নেই। তাই এই দুটি সংকীর্ণ আইনি ব্যতিক্রমের অনুপস্থিতিতে আইনজীবীদের অবশ্যই প্রতিটি জনসমক্ষে প্রকাশনাকে সম্ভাব্য ক্ষতিকর হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
২.৪ পেটেন্ট অযোগ্য বিষয়বস্তু (ধারা ৪)
ধারা ৪ বর্জন করে:
- নিছক আবিষ্কার, বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব এবং গাণিতিক পদ্ধতি;
- মানুষ বা প্রাণীর চিকিৎসা, শল্যচিকিৎসা (surgical) বা রোগ নির্ণয়ের পদ্ধতি (তবে এই ধরনের চিকিৎসায় ব্যবহৃত পণ্য পেটেন্টযোগ্য থাকে);
- মাইক্রো-অর্গানিজম বা অণুজীব ব্যতীত অন্যান্য উদ্ভিদ ও প্রাণী এবং সেগুলোর উৎপাদনের মূলত জৈবিক প্রক্রিয়া;
- জনশৃঙ্খলা, নৈতিকতা বা মানব, প্রাণী বা উদ্ভিদের জীবন বা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, অথবা পরিবেশের জন্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিকর বিষয়বস্তু — যা স্পষ্ট ধারা ৪(সি) ট্রিপস (TRIPS) ব্যতিক্রম, এবং ট্রিপস অনুচ্ছেদ ২৭.২-২৭.৩ এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
২.৫ উদ্ভাবনী পদক্ষেপ / PSITA মানদণ্ড
সোনালী পেপার অ্যান্ড বোর্ড মিলস লিমিটেড বনাম ডিপিডিপি ও অন্যান্য (২০১৫) ২০ বিএলসি (এইচসিডি) ৪৪১ মামলার আলোকে বাংলাদেশের আদালতসমূহ ধারাবাহিকভাবে এই অভিমত ব্যক্ত করেছে যে, পরিচিত উপাংশসমূহের একটি অভিন্ন ক্রমিক কার্য সম্পাদনকারী নিছক কর্মশালাগত পুনর্বিন্যাস উদ্ভাবনী পদক্ষেপের মানদণ্ড অতিক্রম করে না। এই পূর্বদৃষ্টান্তটি বর্তমানে তাত্ত্বিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ কারণ ২০২৩ সালের আইনটি ঠিক এই ধরনের প্রগতিশীল, অ-স্বতঃস্ফূর্ত কিন্তু স্বল্পমাত্রার উদ্ভাবনসমূহকে সরাসরি খারিজ না করে সদ্য প্রবর্তিত উপযোগিতা মডেল (Utility Model) ট্র্যাকে অন্তর্ভুক্ত করে।
ধারা ৩: উপযোগিতা মডেল সার্টিফিকেট সংক্রান্ত বিধান (ধারা ১৬-১৭)
৩.১ ধারণাগত ভিত্তি
উপযোগিতা মডেল সার্টিফিকেট হলো এই আইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত উদ্ভাবন, যা বর্ধিত যান্ত্রিক, কাঠামোগত এবং কনফিগারেশনগত উন্নতির জন্য সুরক্ষার যে ব্যবধান বা ফাঁক ছিল তা পূরণ করে, যেগুলো আদর্শ উদ্ভাবনী পদক্ষেপের মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হয় কিন্তু তা সত্ত্বেও প্রকৃত ব্যবহারিক উপযোগিতা রাখে। এটি সরাসরি সোনালী পেপার মামলায় চিহ্নিত তাত্ত্বিক ফাঁকটিকে কার্যকর করে।
৩.২ তুলনামূলক কাঠামো
| বৈশিষ্ট্য | আদর্শ পেটেন্ট (ধারা ৩) | উপযোগিতা মডেল সার্টিফিকেট (ধারা ১৬-১৭) |
|---|---|---|
| বিষয়বস্তু | পণ্য, প্রক্রিয়া, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি | কেবল ক্ষুদ্র যান্ত্রিক/কাঠামোগত অভিযোজন; প্রক্রিয়া বর্জিত |
| অভিনবত্ব | পরম সর্বজনীন অভিনবত্ব (ধারা ৫) | পরম সর্বজনীন অভিনবত্ব (ধারা ১৬(১)) |
| উদ্ভাবনী মানদণ্ড | পূর্ণ উদ্ভাবনী পদক্ষেপ আবশ্যক | নিম্নতর "ব্যবহারিক/প্রযুক্তিগত উপযোগিতা" মানদণ্ড |
| মেয়াদ | ২০ বছর (ধারা ২৫) | ১০ বছর, নবায়নযোগ্য নয় (ধারা ১৭) |
| পরীক্ষা | পূর্ণাঙ্গ সাবস্টেন্টিভ পরীক্ষা | সুবিন্যস্ত ফরমালিটি + অভিনবত্ব স্ক্রিনিং |
| রূপান্তর | অনুদান-পূর্ব উপযোগিতা মডেলে রূপান্তরযোগ্য | অনুদান-পূর্ব পূর্ণ পেটেন্টে রূপান্তরযোগ্য |
৩.৩ প্রক্রিয়া দাবি (Process Claims) বর্জন
ধারা ১৬ স্পষ্টভাবে উপযোগিতা মডেলগুলোকে পণ্য, যন্ত্রপাতি, সরঞ্জাম এবং কাঠামোগত বিন্যাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে। পদ্ধতি বা প্রক্রিয়ার দাবিগুলোকে উপযোগিতা মডেল হিসেবে উপস্থাপন করা যাবে না — এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খসড়া প্রণয়নগত পার্থক্য, কারণ ভুলভাবে শ্রেণীবদ্ধ প্রক্রিয়ার দাবিগুলো ফরমালিটি স্ক্রিনিংয়ের সময় খারিজ হয়ে যাবে বা অনুদান-পরবর্তী সময়ে বাতিল বলে গণ্য হবে।
৩.৪ রূপান্তর প্রক্রিয়া (ধারা ১৬(৪))
আবেদনকারী মূল ফাইলিং বা অগ্রাধিকারের তারিখ অক্ষুণ্ণ রেখে, অনুদান বা চূড়ান্তভাবে খারিজ হওয়ার পূর্বের যেকোনো মুহূর্তে একটি পেন্ডিং পেটেন্ট আবেদনকে উপযোগিতা মডেলের আবেদনে, অথবা এর বিপরীতক্রমে রূপান্তর করতে পারবেন। এটি একটি শক্তিশালী কৌশলগত পদক্ষেপ: প্রথম পরীক্ষা প্রতিবেদনে যদি কোনো লঙ্ঘন অযোগ্য উদ্ভাবনী পদক্ষেপের আপত্তি উত্থাপন করা হয়, তবে আইনজীবীরা অগ্রাধিকার না হারিয়ে উপযোগিতা মডেল ট্র্যাকে স্থানান্তরিত হতে পারবেন—যশ শর্ত থাকে যে দাবিগুলোকে ধারা ১৬-এর পরিধি বিধিনিষেধের সাথে সামঞ্জস্য রেখে পণ্য/যন্ত্রপাতি আকারে সংশোধন করা হয়েছে।
৩.৫ কৌশলগত পোর্টফোলিও ব্যবহার
এসএমই (SMEs), স্থানীয় প্রস্তুতকারক এবং ক্রমবর্ধমান উদ্ভাবনী শিল্পসমূহের (কৃষি সরঞ্জাম, প্যাকেজিং যন্ত্রপাতি, গৃহস্থালী যন্ত্রপাতি) জন্য উপযোগিতা মডেল সার্টিফিকেট ব্যয়বহুল ও দীর্ঘায়িত উদ্ভাবনী পদক্ষেপের লড়াইয়ের ঝুঁকি ছাড়াই দ্রুত, কম খরচে এবং কার্যকর সুরক্ষা প্রদান করে। তবে, ১০ বছরের অ-নবায়নযোগ্য সীমা থাকার অর্থ হলো উপযোগিতা মডেলগুলো মৌলিক, উচ্চ-মূল্যের প্ল্যাটফর্ম প্রযুক্তির জন্য অনুপযুক্ত যা এক দশকের পরেও আয় জেনারেট করবে বলে আশা করা হয়।
ধারা ৪: অগ্রাধিকার অধিকার, কনভেনশন ফাইলিং এবং ট্রিপস (TRIPS) কমপ্লায়েন্স
৪.১ প্যারিস কনভেনশন অগ্রাধিকার (ধারা ২৪)
প্যারিস কনভেনশন (বা ডব্লিউটিও) সদস্য রাষ্ট্রে দায়েরকৃত প্রথম সংশ্লিষ্ট আবেদন থেকে বাধ্যতামূলক ১২ মাসের অগ্রাধিকার উইন্ডো ধারা ২৪-এ সংহিতাবদ্ধ করা হয়েছে। ১২ মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পর এমনকি মাত্র একদিন দেরিতে বাংলাদেশে আবেদন দাখিল করলে অগ্রাধিকার দাবির সম্পূর্ণ বাজেয়াপ্তকরণ ঘটে—বাংলাদেশী আবেদনটি একটি নতুন, সহায়তাহীন স্থানীয় আবেদন হিসেবে পরিগণিত হয় এবং ধারা ৫-এর পরম নতুনত্ব মানদণ্ডের অধীনে আবেদনকারীর নিজস্ব অন্তর্বর্তীকালীন বিদেশী প্রকাশনা দ্বারা পূর্বানুমানের মুখে পড়ে। এই সময়সীমা পালনে ব্যর্থতার জন্য কোনো আইনগত ক্ষমা নেই।
প্রত্যয়িত অগ্রাধিকার দলিলটি বাংলাদেশের আবেদনের সাথে একসাথে অথবা দেশীয় দাখিলের তারিখের ৩ মাসের মধ্যে দাখিল করতে হবে এবং মূল দলিলটি অন্য ভাষায় হলে একটি প্রত্যয়িত ইংরেজি অনুবাদ এর সাথে সংযুক্ত করতে হবে।
৪.২ পিসিটি (PCT) অ-সদস্যপদ
বাংলাদেশ পিসিটি (PCT) চুক্তিভুক্ত রাষ্ট্র নয়। ফলস্বরূপ, আন্তর্জাতিক পিসিটি আবেদনের ওপর নির্ভরশীল আবেদনকারীরা বাংলাদেশে কোনো "জাতীয় পর্যায়ে প্রবেশ" করতে পারেন না; বরং পিসিটি অগ্রাধিকার/দাখিলের তারিখ থেকে কঠোরভাবে ১২ মাসের উইন্ডোর মধ্যে (পিসিটি সদস্য রাষ্ট্রে উপলব্ধ বর্ধিত ৩০/৩১-মাস পিসিটি জাতীয় পর্যায়ের সময়সীমার মধ্যে নয়) প্যারিস কনভেনশনের অগ্রাধিকার দাবি করে সরাসরি একটি জাতীয় আবেদন দাখিল করতে হবে। পিসিটি সময়সীমার সাথে অভ্যস্ত বহুজাতিক আবেদনকারীদের দ্বারা এটি সবচেয়ে ঘন ঘন মিস করা সময়সীমাগুলির মধ্যে একটি।
৪৩ ট্রিপস (TRIPS) অনুচ্ছেদ ২৭ ও ৩৩ — মেয়াদ এবং সার্বজনীনতা
- অনুচ্ছেদ ২৭ (পেটেন্টযোগ্য বিষয়বস্তু, প্রযুক্তির ক্ষেত্রজুড়ে বৈষম্যহীনতা) ধারা ৩-এর প্রযুক্তি-নিরপেক্ষ পেটেন্টযোগ্যতা পরীক্ষা এবং ধারা ৪-এর সংকীর্ণভাবে নির্ধারিত বাদ পড়ার বিধানসমূহের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়।
- অনুচ্ছেদ ৩৩ (সর্বনিম্ন ২০ বছরের মেয়াদ) অবিকলভাবে ধারা ২৫-এ বাস্তবায়িত হয়েছে, যা অনুমোদনের তারিখ থেকে নয় বরং দেশীয় দাখিলের তারিখ থেকে মেয়াদ ২০ বছর নির্ধারণ করে—যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ বাংলাদেশের মূল্যায়নের পাইপলাইন (৩৬ মাসের মূল্যায়ন অনুরোধের উইন্ডো এবং প্রসিকিউশনের বিলম্ব) অনুমোদনের আগে মেয়াদের বেশ কয়েক বছর গ্রাস করতে পারে।
৪.৪ অনুচ্ছেদ ৬৬.১ — এলডিসি (LDC) ফার্মাসিউটিক্যাল ট্রানজিশন
স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ, ডব্লিউটিও (WTO) ট্রিপস কাউন্সিলের বর্ধিত রূপান্তর (নথি IP/C/73, ৬ নভেম্বর ২০১৫) থেকে সুবিধা লাভ করে যা এলডিসিগুলোকে ১ জানুয়ারি ২০৩৩ পর্যন্ত ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্যের পেটেন্ট এবং ক্লিনিকাল-ডেটা সুরক্ষা বাধ্যবাধকতা বাস্তবায়ন থেকে অব্যাহতি দেয়। তা সত্ত্বেও ২০২৩ সালের ৫ নং আইনে ফার্মাসিউটিক্যাল পেটেন্টের জন্য সম্পূর্ণ মূল বিষয়বস্তুর যন্ত্রপাতি রয়েছে (ধারা ১৮/৮৮-এর অধীনে মেইলবক্স বিধান, ধারা ৩৪-এর অধীনে বোলার অব্যাহতি, ধারা ৪৪-৪৯-এর অধীনে বাধ্যতামূলক লাইসেন্সিং)—আইনটি "ট্রিপস-প্রস্তুত" তবে ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্যের ক্ষেত্রে এর পূর্ণ-শক্তির প্রয়োগ বর্তমানে আন্তর্জাতিক মওকুফ দ্বারা স্থগিত করা হয়েছে, কোনো দেশীয় আইনগত পছন্দের কারণে নয়।
৪.৫ ২০২৬ সালের গ্র্যাজুয়েশন সংকট
বাংলাদেশ ২৪ নভেম্বর ২০২৬-এ এলডিসি মর্যাদা থেকে উত্তরণ বা গ্র্যাজুয়েশন করতে নির্ধারিত রয়েছে। উত্তরণের পর, ডব্লিউটিও যদি এর নিজস্ব মামলার জন্য নির্দিষ্ট কোনো অতিরিক্ত সম্প্রসারণ মঞ্জুর না করে (যেমনটি অন্যান্য উত্তরণকারী এলডিসিগুলোর ক্ষেত্রে ঘটেছে), তবে বাংলাদেশ অনুচ্ছেদ ৬৬.১-এর নমনীয়তাগুলোতে স্বয়ংক্রিয় প্রবেশাধিকার হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। এটি ২০২৬ থেকে নামমাত্র ২০৩৩ সালের সময়সীমার মধ্যে একটি চলমান কমপ্লায়েন্স ঝুঁকির উইন্ডো তৈরি করে: বৈদেশিক মূল অণুগুলির পেটেন্ট-মুক্ত রিভার্স-ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের উপর নির্ভরশীল দেশীয় ফার্মাসিউটিক্যাল নির্মাতাদের অবশ্যই জরুরি কৌশল তৈরি করতে হবে—প্রাথমিকভাবে উত্তরণের সময় নির্বিশেষে জেনেরিক উত্পাদনের ধারাবাহিকতা সংরক্ষণের জন্য ধারা ৩৪-এর বোলার অব্যাহতি এবং ধারা ৪৪-৪৯-এর বাধ্যতামূলক লাইসেন্সিং-এর উপর নির্ভরতা।
৪.৬ বোলার অব্যাহতি (ধারা ৩৪)
ধারা ৩৪ জেনেরিক নির্মাতাদের পেটেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বে, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর (DGDA)-এর নিকট গবেষণা, উন্নয়ন, ফর্মুলেশন ট্রায়াল, বায়োইকুইভ্যালেন্স স্টাডি এবং নিয়ন্ত্রক জমাকরণ পরিচালনা করার জন্য স্পষ্টভাবে অনুমতি দেয়, যার ফলে এই ধরনের কাজগুলো লঙ্ঘন বলে গণ্য হবে না। এই আইনি ভিত্তিটি সরাসরি বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড বনাম এফ হফম্যান-লা রোচ এজি (২০১২) ৩২ বিএলডি (এইচসিডি) ১১৮ মামলা থেকে এসেছে, যেখানে হাই কোর্ট ডিভিশন ট্রিপস এবং জনস্বাস্থ্য সম্পর্কিত দোহা ঘোষণা এবং বাংলাদেশের সার্বভৌম এলডিসি মর্যাদার কথা উল্লেখ করে জীবন রক্ষাকারী ফর্মুলেশনের স্থানীয় জেনেরিক উৎপাদনের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি করতে অস্বীকৃতি জানায়।
৪.৭ বাধ্যতামূলক লাইসেন্সিং এবং সরকারি ব্যবহার (ধারা ৪৪–৪৯)
ট্রিপস অনুচ্ছেদ ৩১-এর প্রতিচ্ছবি হিসেবে, আইনটি সরকারকে নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক লাইসেন্স মঞ্জুর করার ক্ষমতা প্রদান করে:
- জাতীয় জরুরি অবস্থা বা চরম জরুরি অবস্থা (জনস্বাস্থ্য সংকট/মহামারী সহ);
- পেটেন্টধারীর প্রতিযোগিতাবিরোধী অনুশীলন;
- দাখিলের ৪ বছর বা অনুমোদনের ৩ বছরের মধ্যে (যেটি পরে ঘটে) বাংলাদেশের মধ্যে পেটেন্টকৃত আবিষ্কারটি কার্যকর করতে ব্যর্থ হওয়া।
জরুরি অবস্থা বা সরকারি ব্যবহারের পরিস্থিতি ব্যতীত, যেখানে এই পূর্বশর্ত মওকুফ করা হয়, বাধ্যতামূলক লাইসেন্সের আবেদনকারীদের প্রথমে যুক্তিসঙ্গত বাণিজ্যিক শর্তে একটি স্বেচ্ছাসেবী লাইসেন্স পাওয়ার একটি বোনা ফাইডি (সদুপায়ে), অসফল প্রচেষ্টা প্রদর্শন করতে হবে।
৪.৮ অবসায়ন এবং সমান্তরাল আমদানি (ধারা ৩১)
ধারা ৩১ আন্তর্জাতিক অবসায়ন মতবাদ গ্রহণ করে, যা পেটেন্টধারীর সম্মতি দ্বারা বা তার মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো স্থানে প্রথম বিক্রীত আসল পেটেন্টকৃত পণ্যের সমান্তরাল আমদানির অনুমতি দেয়—এটি একটি প্রতিযোগিতাপূবৰ্ক, ট্রিপস-অনুমোদিত নমনীয়তা (অনুচ্ছেদ ৬) যা দেশের অভ্যন্তরে ওষুধ এবং প্রযুক্তির খরচ কমায়।
ধারা ৫: প্রসিকিউশন রোডম্যাপ — দাখিল থেকে অনুমোদন
৫.১ দাখিল (ধারা ১৮)
ডিপিডিপি (DPDT)-তে আবেদনপত্র জমা দেওয়া হয়:
- ফরম ১ — পেটেন্ট বা ইউটিলিটি মডেল সার্টিফিকেট মঞ্জুরের জন্য আবেদন;
- ফরম ২ — প্রভিশনাল বা পূর্ণাঙ্গ স্পেসিফিকেশন (বিবরণ, দাবি, সারাংশ, অঙ্কন);
- ফরম ২৬ — পাওয়ার অব অ্যাটর্নি, যেখানে নিবন্ধিত পেটেন্ট এজেন্টের মাধ্যমে দাখিল করা হয়।
যেখানে একটি প্রভিশনাল স্পেসিফিকেশন প্রথমে দাখিল করা হয়, সেখানে পূর্ণাঙ্গ স্পেসিফিকেশন অবশ্যই ১২ মাসের মধ্যে দাখিল করতে হবে, অন্যথায় আবেদনটি পরিত্যক্ত বলে গণ্য হবে।
৫.২ ফর্মালিটি স্ক্রিনিং (ধারা ২০)
নিবন্ধক আনুষ্ঠানিক প্রয়োজনীয়তাগুলির সাথে কমপ্লায়েন্স বা প্রতিপালন নিশ্চিত করার জন্য স্ক্রিনিং করেন। ত্রুটির নোটিশের ক্ষেত্রে ৯০ দিনের মধ্যে তা সংশোধন করতে হবে।
৫.৩ প্রকাশনা (ধারা ২১)
দাখিল বা অগ্রাধিকারের তারিখের যেটি পূর্বে হয়, তার ১৮ মাস মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অফিসিয়াল ট্রেড মার্কস অ্যান্ড পেটেন্টস গেজেটে আবেদন প্রকাশিত হয়। আবেদনকারীর যদি প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে দ্রুত পাবলিক প্রায়র-আর্ট বা পূর্ববর্তী আবিষ্কারের তারিখ নির্ধারণ করার প্রয়োজন হয়, অথবা বিরোধিতার সময়সীমা দ্রুত শুরু করার প্রয়োজন হয়, তবে দরখাস্ত দাখিল ও অতিরিক্ত ফি প্রদান সাপেক্ষে প্রাথমিক প্রকাশনা উপলব্ধ রয়েছে—এটি একটি দরকারী হাতিয়ার।
৫.৪ substantive examination বা মূল্যায়নের জন্য অনুরোধ (ধারা ২৩)
মূল্যায়ন স্বয়ংক্রিয় নয়। আবেদনকারীকে অবশ্যই দাখিল বা অগ্রাধিকারের তারিখের ৩৬ মাসের মধ্যে মূল্যায়নের জন্য নিশ্চিতভাবে অনুরোধ করতে হবে। এই সময়সীমা মিস করার ফলে স্থায়ীভাবে, অপরিবর্তনযোগ্য পরিত্যাগ ঘটে—এই নির্দিষ্ট ভুলের জন্য কোনো পুনর্বহাল করার ব্যবস্থা নেই, যা ধারা ২৮-এর অধীনে ফি প্রদান না করার কারণে ল্যাপ্স বা বাতিল হওয়া পুনরুজ্জীবিত করার নিয়মের চেয়ে একে স্পষ্টভাবে পৃথক করেছে।
৫.৫ প্রথম পরীক্ষা প্রতিবেদন ও জবাব
পরীক্ষক নতুনত্ব, উদ্ভাবনী পদক্ষেপ, শিল্পে উপযোগিতা এবং ধারা ৪-এর বর্জনীয় বিষয়গুলো মূল্যায়ন করেন। আবেদনকারীর কাছে জবাব দেওয়া বা দাবি সংশোধন করার জন্য ৯০ দিন সময় থাকে, যা পর্যাপ্ত কারণ দেখিয়ে দরখাস্ত সাপেক্ষে আরও ৯০ দিন বৃদ্ধি করা যেতে পারে।
৫.৬ প্রি-গ্রান্ট অপজিশন বা অনুমোদন-পূর্ব বিরোধিতা (ধারা ২২)
পূর্ববর্তী প্রকাশনা, নতুনত্ব/উদ্ভাবনী পদক্ষেপের অভাব, পেটেন্টযোগ্য নয় এমন বিষয়বস্তু এবং ভুল উপায়ে প্রাপ্তি সহ আইনগত ভিত্তিতে গেজেট প্রকাশের ৯০ দিন (৩ মাস) এর মধ্যে যেকোনো আগ্রহী পক্ষ বিরোধিতা করতে পারে। বিরোধিতা ইন্টার-পার্টেস বা পক্ষগণের মধ্যে পরিচালিত হয়: নোটিশ → কাউন্টার-স্টেটমেন্ট → প্রধান সাক্ষ্য → জবাবী সাক্ষ্য → আধা-বিচারিক ক্ষমতা সম্পন্ন নিবন্ধকের সামনে মৌখিক শুনানি। গ্লাক্সো গ্রুপ লিমিটেড বনাম নিবন্ধক (২০০৪) ৫৬ ডিএলআর (এইচসিডি) ২১১ মামলাটি নিশ্চিত করে যে এই বিরোধিতার সময়সীমাগুলো স্পষ্ট আইনগত কর্তৃত্ব অনুপস্থিত থাকলে তা বৃদ্ধি করার প্রশাসনিক বিচক্ষণতা ছাড়াই কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে।
৫.৭ অনুমোদন, সিলমোহর প্রদান এবং মেয়াদের সূচনা
সফল মূল্যায়ন এবং বিরোধিতার সমাধান (বা অনুপস্থিতি) সাপেক্ষে, পেটেন্টটি সিলমোহরযুক্ত এবং অনুমোদিত হয়। ২০ বছরের মেয়াদ অনুমোদনের তারিখ থেকে নয়, বরং দেশীয় দাখিলের তারিখ থেকে শুরু হয়—যার অর্থ প্রসিকিউশনে বিলম্ব সরাসরি কার্যকর বাণিজ্যিক শোষণের সময়কে ক্ষয় করে, যা প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুরোধ এবং যেখানে উপলব্ধ সেখানে ত্বরান্বিত প্রসিকিউশনের কৌশলগত গুরুত্বকে শক্তিশালী করে।
ধারা ৬: বিরোধিতা, অকার্যকরকরণ ও বাতিলকরণ
৬.১ প্রি-গ্রান্ট অপজিশন বনাম পোস্ট-গ্রান্ট রভোকিশন
আইনটি একটি দ্বৈত-ট্র্যাক চ্যালেঞ্জ মেকানিজম বা ব্যবস্থা সংরক্ষণ করে:
- প্রি-গ্রান্ট অপজিশন বা অনুমোদন-পূর্ব বিরোধিতা (ধারা ২২) — প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে নিবন্ধকের সামনে ইন্টার-পার্টেস কার্যধারা;
- পোস্ট-গ্রান্ট রভোকিশন বা অনুমোদন-পরবর্তী বাতিলকরণ (ধারা ৫১০) — নতুনত্বের অভাব, উদ্ভাবনী পদক্ষেপের অভাব, অপর্যাপ্ত প্রকাশ, পেটেন্টযোগ্য নয় এমন বিষয়বস্তু এবং অনুমোদন প্রাপ্তিতে প্রতারণা সহ বিভিন্ন ভিত্তিতে পেটেন্টের অস্তিত্ব থাকাকালীন যেকোনো সময়ে উপলব্ধ।
৬.২ বাতিলকরণের ফোরাম
বাতিলকরণের দরখাস্ত নিবন্ধকের কাছে অথবা উপযুক্ত ক্ষেত্রে (বিশেষ করে যেখানে একই সাথে লঙ্ঘন মামলা বিচারাধীন রয়েছে), ধারা ৫৪ এর সাথে পঠিত ধারা ৬৪ এর অধীনে জেলা আদালত বা হাই কোর্ট ডিভিশনের সামনে কাউন্টার ক্লেম বা পাল্টা দাবি হিসাবে দাখিল করা যেতে পারে। এই দ্বৈত ফোরামটি সোনালী পেপার অ্যান্ড বোর্ড মিলস লিমিটেড বনাম ডিপিডিপি ও অন্যান্য (২০১৫) ২০ বিএলসি (এইচসিডি) ৪৪১ মামলায় গৃহীত কাঠামোগত পদ্ধতির প্রতিচ্ছবি, যেখানে হাই কোর্ট ডিভিশনের সামনে বাতিলকরণের ভিত্তি হিসেবে যান্ত্রিক স্পষ্টতা সফলভাবে উত্থাপন করা হয়েছিল।
৬.৩ ভিত্তিগুলোর পার্থক্য
| ভিত্তি | প্রযোজ্য বিধান | ব্যবহারিক মন্তব্য |
|---|---|---|
| নতুনত্বের অভাব | ধারা ৫, ২২(১), ৫১ | বিশ্বের যেকোনো স্থানে প্রায়র-আর্ট বা পূর্ববর্তী আবিষ্কারের প্রয়োজন হয় |
| উদ্ভাবনী পদক্ষেপের অভাব | ধারা ৩, ৫১ | পিএসআইটিএ (PSITA) মান; যান্ত্রিক পুনর্বিন্যাস যথেষ্ট নয় (সোনালী পেপার) |
| অপর্যাপ্ত প্রকাশ | ধারা ৫১ | স্পেসিফিকেশন বা বিবরণী অযৌক্তিক পরীক্ষণ ছাড়াই প্রতিলিপি করার যোগ্য হতে হবে |
| পেটেন্টযোগ্য নয় এমন বিষয়বস্তু | ধারা ৪, ২২(১) | ধারা ৪(গ) ট্রিপস নৈতিকতা/স্বাস্থ্য ব্যতিক্রম অন্তর্ভুক্ত |
| ভুল উপায়ে প্রাপ্তি | ধারা ২২(১) | প্রকৃত উদ্ভাবকের চ্যালেঞ্জ |
| প্রতারণা/ভুল উপস্থাপন | ধারা ৫১, ৭৫ | ফৌজদারি শাস্তির সাথে ওভারল্যাপ করে |
৬.৪ ল্যাপ্স বা বাতিল হওয়া পেটেন্টের পুনর্বহাল (ধারা ২৭–২৮)
যেখানে বার্ষিক ফি প্রদান ল্যাপ্স বা বাতিল হয়, সেখানে বাতিলের ১ বছরের মধ্যে পুনর্বহালের আবেদন করতে হবে, যার জন্য প্রমাণ করতে হবে যে অর্থ প্রদান না করাটা অনিচ্ছাকৃত ছিল এবং পুনর্বহালের আবেদনটি নিজেই কোনো অনাবশ্যক বিলম্ব ছাড়াই দাখিল করা হয়েছিল। যে সমস্ত তৃতীয় পক্ষ বাতিল হওয়া উইন্ডোর সময় আবিষ্কারের ব্যবহার শুরু করেছে তারা ধারা ২৯-এর অধীনে আইনগত অন্তর্বর্তীকালীন-অধিকার সুরক্ষা লাভ করে—যা বাতিল-ও-পুনর্বহালকৃত পেটেন্ট সম্পদের ক্রেতাদের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ডিউ-ডিলিজেন্স বা যথাযথ তদারকির চেকপয়েন্ট।
আইনগত নথির চেকলিস্ট
দেশীয় / নন-কনভেনশন আবেদনের জন্য
- ফরম ১ — পেটেন্ট বা ইউটিলিটি মডেল সার্টিফিকেট মঞ্জুরের জন্য আবেদন (আবেদনকারী(গণ) এবং উদ্ভাবক(গণ)-এর পূর্ণ আইনি নাম, ঠিকানা, জাতীয়তা)
- ফরম ২ — প্রভিশনাল বা পূর্ণাঙ্গ স্পেসিফিকেশন (শিরোনাম, প্রযুক্তিগত ক্ষেত্র, ব্যাকগ্রাউন্ড আর্ট, বিশদ সক্ষমকারী বিবরণী, দাবি, সারাংশ, ডিপিডিপি মাত্রা/মার্জিন মান অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক অঙ্কন)
- ফরম ২৬ — পাওয়ার অব অ্যাটর্নি/এজেন্ট অনুমোদন (দেশীয় আবেদনকারী: অবাণিজ্যিক স্ট্যাম্প পেপারে সম্পাদিত)
- সংবিধিবদ্ধ ফি প্রদানের প্রমাণস্বরূপ মূল ট্রেজারি চালান বা যাচাইকৃত ই-পেমেন্ট রসিদ (বাংলাদেশ ব্যাংক/সোনালী ব্যাংক)
- ইনকর্পোরেশনের সার্টিফিকেট বা ব্যবসায়িক নিবন্ধন (কর্পোরেট আবেদনকারীদের জন্য)
- অ্যাসাইনমেন্ট ডিড বা দলিল (যেখানে আবেদনকারী উদ্ভাবক থেকে ভিন্ন)
প্যারিস কনভেনশন অগ্রাধিকার আবেদনের জন্য — অতিরিক্ত প্রয়োজনীয়তা
- উপরের সমস্ত দেশীয় নথিপত্র
- প্রত্যয়িত অগ্রাধিকার দলিল — বৈদেশিক জাতীয় পেটেন্ট অফিস (USPTO, EPO, JPO, CNIPA ইত্যাদি) থেকে অফিশিয়াল প্রত্যয়িত অনুলিপি, যা দাখিলের সময় বা তার ৩ মাসের মধ্যে দাখিল করতে হবে
- মূল দলিলটি ইংরেজি না হলে অনুবাদকের হলফনামা সহ অগ্রাধিকার দলিলের যাচাইকৃত ইংরেজি অনুবাদ
- ফরম ৫ — উদ্ভাবকত্বের ঘোষণা / অগ্রাধিকার অধিকারের অ্যাসাইনমেন্ট, যেখানে বাংলাদেশী আবেদনকারী বৈদেশিক অগ্রাধিকার আবেদনকারী থেকে ভিন্ন
- বিদেশী পাওয়ার অব অ্যাটর্নি — বি... [অনুবাদ সমাপ্ত]
সচরাচর জিজ্ঞাস্য (FAQ)
◆ সম্পর্কিত প্র্যাকটিস গাইড ও বিশ্লেষণ
<li style="margin-bottom:12px; line-height:1.5;">
<a href="/bn/trademark-registration-ip-enforcement-bangladesh-guide-bn/" style="color:#C5A059; font-weight:600; text-decoration:none; font-size:14px; display:inline-block; transition:color 0.2s;">• বাংলাদেশে ট্রেড মার্কস নিবন্ধন ও আইপি প্রয়োগ: ডিপিডিটি কার্যপ্রণালী, মাদ্রিদ প্রোটোকল বিকল্প ও সংবিধিবদ্ধ গাইড</a>
</li>
<li style="margin-bottom:12px; line-height:1.5;">
<a href="/bn/non-compete-non-solicitation-and-confidentiality-agreements-in-bangladesh-enforceability-under-section-27-bn/" style="color:#C5A059; font-weight:600; text-decoration:none; font-size:14px; display:inline-block; transition:color 0.2s;">• চাকরিতে নন-কম্পিট ও গোপনীয়তা চুক্তি: চুক্তি আইনের ২৭ ধারা অনুযায়ী বৈধতা</a>
</li>
<li style="margin-bottom:12px; line-height:1.5;">
<a href="/bn/hindu-succession-family-law-in-bangladesh-inheritance-rights-of-widows-daughters-dayabhaga-rules-bn/" style="color:#C5A059; font-weight:600; text-decoration:none; font-size:14px; display:inline-block; transition:color 0.2s;">• হিন্দু উত্তরাধিকার ও পারিবারিক আইন: দায়ভাগ পদ্ধতি, বিধবা ও কন্যাসন্তানের অধিকার</a>
</li>
<li style="margin-bottom:12px; line-height:1.5;">
<a href="/bn/cyber-security-act-in-bangladesh-offenses-cyber-tribunal-procedures-bail-provisions-digital-compliance-bn/" style="color:#C5A059; font-weight:600; text-decoration:none; font-size:14px; display:inline-block; transition:color 0.2s;">• সাইবার নিরাপত্তা আইন মামলা ও জামিন: অপরাধ, ট্রাইব্যুনাল বিচার প্রক্রিয়া ২০২৪</a>
</li>
বাংলাদেশ পেটেন্ট আইন ২০২৩ অনুযায়ী পেটেন্ট পাওয়ার মূল শর্ত কী?
পেটেন্ট পাওয়ার জন্য আবিষ্কারটি অবশ্যই নতুন (Novelty) হতে হবে, এর উদ্ভাবনী পদক্ষেপ (Inventive Step) থাকতে হবে এবং এটি শিল্পে ব্যবহারোপযোগী (Industrial Applicability) হতে হবে।
ইউটিলিটি মডেল (Utility Model) বলতে কী বোঝায়?
ইউটিলিটি মডেল হলো ছোট বা অপেক্ষাকৃত কম জটিল ইনোভেশন বা প্রযুক্তিগত উন্নতি, যার জন্য প্রচলিত পেটেন্টের চেয়ে দ্রুত ও সহজ প্রক্রিয়ায় সুরক্ষা পাওয়া যায়।
বাংলাদেশে পেটেন্টের মেয়াদ কত বছর?
বাংলাদেশ পেটেন্ট আইন ২০২৩ অনুযায়ী একটি নিবন্ধিত পেটেন্টের মেয়াদ আবেদন দাখিলের তারিখ থেকে সাধারণত ২০ বছর পর্যন্ত বলবৎ থাকে।
আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার অধিকার (Priority Right) কীভাবে পাওয়া যায়?
প্যারিস কনভেনশন বা টিট্রিপস চুক্তির সদস্য দেশ হিসেবে, কোনো দেশে আবেদন করার ১২ মাসের মধ্যে বাংলাদেশে আবেদন করলে প্রথম আবেদনের তারিখটি অগ্রাধিকার তারিখ হিসেবে গণ্য করা হয়।
পেটেন্ট আবেদন প্রক্রিয়ায় কোন অধিদপ্তর কাজ করে?
শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (DPDT) বাংলাদেশে পেটেন্ট আবেদন গ্রহণ ও নিবন্ধন প্রদান করে থাকে।
আবিষ্কার নিবন্ধনের জন্য কী ধরনের নথিপত্র প্রয়োজন?
আবেদনের জন্য পেটেন্ট স্পেসিফিকেশন (বাংলা ও ইংরেজি), ড্রয়িং বা নকশা, আবিষ্কারের পূর্ণ বিবরণ, ইনভেন্টরের ঘোষণাপত্র এবং প্রয়োজনীয় ফি জমার রসিদ প্রয়োজন হয়।