নির্বাহী সারসংক্ষেপ ও সংবিধিবদ্ধ কর্তৃত্ব
ফিচার্ড স্নিপেট: বাংলাদেশে অংশীদারি দলিল হলো অংশীদারি আইন, ১৯৩২-এর ধারা ৪-এর অধীনে একটি মৌলিক চুক্তি, যা ২,০০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে সম্পাদিত হয় (স্ট্যাম্প আইন, ১৮৯৯, ১ম তফসিল, অনুচ্ছেদ ৪৬) এবং ধারা ৬৯ মোতাবেক তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে দেওয়ানি কার্যকারিতা ও প্রয়োগযোগ্যতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে ধারা ৫৮-এর অধীনে আরজেএসসি-তে নিবন্ধিত হয়।
বাংলাদেশে অংশীদারি সংক্রান্ত আইনের মূল কাঠামো ঔপনিবেশিক আমলের অংশীদারি আইন, ১৯৩২ (১৯৩২ সনের ৯ নম্বর আইন)-এ বিধিবদ্ধ রয়েছে, যা 'বাংলাদেশ (অ্যাডাপটেশন অব এক্সিস্টিং লজ) অর্ডার, ১৯৭২'-এর বদৌলতে কার্যকর রয়েছে। কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর অধীনে নিগমিত একটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির মতো অংশীদারি ফার্মের কোনো পৃথক আইনি সত্তা (juristic personality) নেই। ধারা ৪ অনুযায়ী এটি মূলত ব্যক্তিবর্গের মধ্যকার পারস্পরিক চুক্তিভিত্তিক সম্পর্ক, যাঁরা যৌথভাবে পরিচালিত ব্যবসায়ের মুনাফা বণ্টন করতে সম্মত হয়েছেন।
একটি বৈধ অংশীদারি দলিলের সংবিধিবদ্ধ রূপরেখা
ফিচার্ড স্নিপেট: অংশীদারি আইন, ১৯৩২-এর ধারা ৪ অনুযায়ী একটি বৈধ অংশীদারি দলিলে অবশ্যই চুক্তি সম্পাদনে সক্ষম প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিবর্গের সম্মতি, একটি বৈধ ব্যবসা, মুনাফা বণ্টনের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা এবং পারস্পরিক প্রতিনিধিত্ব (mutual agency) প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। এর যেকোনো একটি উপাদানের অনুপস্থিতিতে অংশীদারি বাতিল বলে গণ্য হবে।
চারটি অপরিহার্য উপাদান (ধারা ৪)
অংশীদারি আইন, ১৯৩২ কেবল পারিবারিক মর্যাদা বা উত্তরাধিকারের ভিত্তিতে গঠিত হয় না; এটি সম্পূর্ণরূপে চুক্তিভিত্তিক (ধারা ৫)। প্রস্তুতকৃত প্রতিটি দলিলের মূল উপাদানসমূহ:
- পারস্পরিক চুক্তি: দুই বা ততোধিক সক্ষম ব্যক্তির মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি (ধারা ৩০ অনুযায়ী নাবালক ব্যতীত)।
- বৈধ ব্যবসা: যেকোনো আইনসঙ্গত ব্যবসায়, বৃত্তি বা পেশা পরিচালনা (ধারা ২(খ))।
- মুনাফা ও লোকসান বণ্টন: দলিলে সুনির্দিষ্ট অনুপাত উল্লেখ থাকতে হবে; অনুচ্চারিত থাকলে তা সমান বলে গণ্য হবে (ধারা ১৩(খ))।
- পারস্পরিক প্রতিনিধিত্ব (Mutual Agency): প্রত্যেক অংশীদার যুগপৎভাবে ফার্মের প্রধান (principal) ও প্রতিনিধি (agent) হিসেবে কাজ করবেন (ধারা ১৮)।
বাধ্যতামূলক ও সুপারিশকৃত দফাসমূহ
- ফার্মের নাম ও কার্যালয়: ধারা ৫৮(১) অনুযায়ী কোনো বিদ্যমান নিবন্ধিত ফার্ম বা কোম্পানির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়া যাবে না।
- মূলধন ও অনুপাত: ধারা ১৪ ও ধারা ১৩(খ) অনুযায়ী অংশীদারদের প্রদেয় মূলধন এবং লাভ-ক্ষতির হার স্পষ্ট থাকতে হবে।
- মেয়াদকাল: কারবারটি নির্দিষ্ট মেয়াদের নাকি 'ইচ্ছাধীন অংশীদারি' (Partnership at will, ধারা ৭), তা উল্লেখ করা আবশ্যক।
- টিকে থাকার দফা (Surviving Clause): ধারা ৪২(গ) অনুযায়ী কোনো অংশীদারের মৃত্যুতে কারবার স্বয়ংক্রিয় বিলোপ রোধ করতে বিশেষ শর্ত থাকা বাধ্যতামূলক।
- বিরোধ নিষ্পত্তি: দেওয়ানি জটিলতা নিরসনে সালিশ আইন, ২০০১ মোতাবেক আরবিট্রেশন ক্লজ রাখা উচিত।
নিবন্ধন প্রক্রিয়া ও রোডম্যাপ (ধারা ৫৮)
অংশীদারি কারবার নিবন্ধনের ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া নিচে তুলে ধরা হলো:
সংবিধিবদ্ধ দলিলের চেকলিস্ট
- ২,০০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে প্রস্তুতকৃত চুক্তিপত্র (স্ট্যাম্প আইন, ১৮৯৯, তফসিল ১, অনুচ্ছেদ ৪৬(খ))
- নোটারি পাবলিক কর্তৃক সত্যায়িত অংশীদারি চুক্তিপত্র
- সকল অংশীদারের জাতীয় পরিচয়পত্র / পাসপোর্টের কপি
- সকল অংশীদারের ব্যক্তিগত ই-টিন (e-TIN) সনদপত্র
- সকল অংশীদারের পাসপোর্ট সাইজের ছবি
- কার্যালয়ের ঠিকানার প্রমাণক (ভাড়া চুক্তিপত্র / ইউটিলিটি বিলের কপি)
- যথাযথভাবে পূরণকৃত ও স্বাক্ষরিত ফরম-১ (Form I)
- ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে সরকারি ফি পরিশোধের প্রমাণপত্র
নিয়ন্ত্রণমূলক ফি, সময়সীমা ও সংবিধিবদ্ধ পরিপালন
| পদক্ষেপ / প্রয়োজনীয়তা | আইনি ধারা | কর্তৃপক্ষ | ফি / স্ট্যাম্প শুল্ক | সময়সীমা |
|---|---|---|---|---|
| চুক্তি সম্পাদন (মূলধন ≤ ৫০,০০০ টাকা) | স্ট্যাম্প আইন, ১৮৯৯, অনুচ্ছেদ ৪৬(ক) | অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ | ১,০০০ টাকা | সম্পাদনের দিন |
| চুক্তি সম্পাদন (মূলধন > ৫০,০০০ টাকা) | স্ট্যাম্প আইন, ১৮৯৯, অনুচ্ছেদ ৪৬(খ) | অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ | ২,০০০ টাকা | সম্পাদনের দিন |
| ফরম-১ দাখিল ও নিবন্ধন | অংশীদারি আইন, ১৯৩২, ধারা ৫৮-৫৯ | আরজেএসসি (RJSC) | ১,২০০–১,৫০০ টাকা + ১৫% ভ্যাট | ৫–১৫ কার্যদিবস |
| প্রাতিষ্ঠানিক ই-টিন গ্রহণ | আয়কর আইন, ২০২৩, ধারা ২৬১ | জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) | বিনামূল্যে | ১–২ দিন |
| ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ | স্থানীয় সরকার আইন, ২০০৯ | সিটি কর্পোরেশন / পৌরসভা | এলাকাভেদে নির্ধারিত ফি | ৭–১৫ কার্যদিবস |
সাধারণ আইনগত জটিলতা ও পরিপালনজনিত ফাঁদসমূহ
- অনিবন্ধনের ঝুঁকি (ধারা ৬৯): নিবন্ধন স্বেচ্ছাধীন হলেও অনিবন্ধিত ফার্ম কোনো চুক্তিভিত্তিক অধিকার আদায়ে তৃতীয় পক্ষ বা অংশীদারদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে পারে না।
- উত্তরাধিকার ও বিলোপ: চুক্তিতে অংশীদারের মৃত্যুর পর ব্যবসা সচল রাখার শর্ত না থাকলে ধারা ৪২(গ) অনুযায়ী ফার্মটি তাৎক্ষণিকভাবে বিলুপ্ত হয়ে যায়।
- নাবালকের অন্তর্ভুক্তি: ধারা ৩০ অনুসারে নাবালককে কেবল মুনাফার সুবিধায় যুক্ত করা যায়, কখনোই মূল অংশীদার হিসেবে নয়।
- মামলা পরবর্তী নিবন্ধনের অকার্যকারিতা: ৩৯ ডিএলআর (এডি) ১০৩ নজির অনুসারে, মামলা দায়েরের পর ফার্ম নিবন্ধন করলেও তা পূর্বের ত্রুটি সংশোধন করে মামলাকে সচল করতে পারে না।
Frequently Asked Questions
◆ সম্পর্কিত প্র্যাকটিস গাইড ও বিশ্লেষণ
<li style="margin-bottom:12px; line-height:1.5;">
<a href="/bn/100-foreign-equity-company-registration-bida-bangladesh-bn/" style="color:#C5A059; font-weight:600; text-decoration:none; font-size:14px; display:inline-block; transition:color 0.2s;">• শতভাগ বিদেশী মালিকানাধীন কোম্পানি নিবন্ধন ও বিডা অনুমোদন গাইড</a>
</li>
<li style="margin-bottom:12px; line-height:1.5;">
<a href="/bn/bida-section-18a-commercial-permissions-and-foreign-expatria-bn/" style="color:#C5A059; font-weight:600; text-decoration:none; font-size:14px; display:inline-block; transition:color 0.2s;">• বিডা ধারা ১৮এ: বাণিজ্যিক অনুমতি ও বিদেশি কর্মী ওয়ার্ক পারমিট</a>
</li>
<li style="margin-bottom:12px; line-height:1.5;">
<a href="/bn/one-person-company-opc-registration-nominee-directorship-and-bn/" style="color:#C5A059; font-weight:600; text-decoration:none; font-size:14px; display:inline-block; transition:color 0.2s;">• ওয়ান পারসন কোম্পানি (OPC) নিবন্ধন, নমিনি ও রূপান্তর প্রক্রিয়া ২০২০</a>
</li>
<li style="margin-bottom:12px; line-height:1.5;">
<a href="/bn/rjsc-name-clearance-moa-aoa-drafting-statutory-forms-bangladesh-bn/" style="color:#C5A059; font-weight:600; text-decoration:none; font-size:14px; display:inline-block; transition:color 0.2s;">• আরজেএসসি (RJSC) নাম ছাড়পত্র, সংঘস্মারক ও সংঘবিধি প্রণয়ন এবং সংবিধিবদ্ধ ফরম সার্টিফিকেশন গাইডলাইন</a>
</li>
বাংলাদেশে অংশীদারি ফার্ম নিবন্ধন করা কি বাধ্যতামূলক?
অংশীদারি আইন, ১৯৩২-এর অধীনে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক নয়, তবে ধারা ৬৯ অনুযায়ী তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে চুক্তিজনিত আইনি অধিকার ও পাওনা আদায়ের মামলা করার জন্য নিবন্ধন অপরিহার্য।
অংশীদারি চুক্তিনামায় কত টাকার স্ট্যাম্প ডিউটি প্রযোজ্য?
স্ট্যাম্প আইন, ১৮৯৯-এর ১ম তফসিলের অনুচ্ছেদ ৪৬ অনুযায়ী মূলধন ৫০,০০০ টাকার বেশি হলে ২,০০০ টাকার এবং ৫০,০০০ টাকার নিচে হলে ১,০০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প প্রয়োজন হয়।
নাবালক কি অংশীদারি ফার্মের পূর্ণাঙ্গ অংশীদার হতে পারে?
না। অংশীদারি আইনের ধারা ৩০ অনুযায়ী নাবালক পূর্ণ অংশীদার হতে পারে না, তবে বিদ্যমান সকল অংশীদারের সম্মতিতে তাকে অংশীদারির সুবিধায় অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।
কোনো অংশীদারের মৃত্যুতে কি কারবার স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হয়?
চুক্তিপত্রে টিকে থাকার বিশেষ শর্ত (Surviving Clause) না থাকলে ধারা ৪২(গ) অনুসারে কোনো অংশীদারের মৃত্যুতে অংশীদারি ফার্মটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হয়ে যায়।