নির্বাহী সারসংক্ষেপ ও সংবিধিবদ্ধ কর্তৃত্ব
| পদক্ষেপ / প্রয়োজনীয়তা | আইনি ধারা / ভিত্তি | কর্তৃপক্ষ | সরকারি ফি / আর্থিক শর্ত | আনুমানিক সময়সীমা |
|---|---|---|---|---|
| বিডা প্রাক-অনুমোদন আবেদন (OSS পোর্টাল) | বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৬-এর ধারা ১৫ ও নীতিমালার শর্তাবলী | বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (BIDA) | আবেদন ফি: ২৫,০০০ টাকা (ভ্যাট প্রযোজ্য) | ২ - ৩ সপ্তাহ |
| ব্যাংক হিসাব খোলা ও ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্স আনয়ন | বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৪৭ (FERA) এর ধারা ১৮এ এবং বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার | অনুমোদিত ডিলার (AD) ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংক | ন্যূনতম ৫০,০০০ মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা (স্থাপনের ব্যয়ের জন্য) | ১ - ২ সপ্তাহ |
| স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স | বিদেশী নাগরিক ও সত্তা পর্যবেক্ষণ নির্দেশিকা এবং বিডা এসওপি | স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (সুরক্ষা সেবা বিভাগ) ও স্পেশাল ব্রাঞ্চ (SB) | কোনো নির্ধারিত ফি নেই (প্রশাসনিক প্রক্রিয়া) | ৪ - ৮ সপ্তাহ |
| আরজেএসসি নিবন্ধন (RJSC Registration) | কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর ধারা ৩৭৮ থেকে ৩৮৩ (Part XI: Foreign Companies) | যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর (RJSC) | নিবন্ধন ফি ও স্ট্যাম্প ডিউটি: অনুমোদিত মূলধন ও স্কেল অনুযায়ী (প্রায় ১৫,০০০ - ৩০,০০০ টাকা) | ৭ - ১০ কার্যদিবস |
| কর নিবন্ধন (TIN/TDS) ও স্থানীয় ট্রেড লাইসেন্স | আয়কর আইন, ২০২৩ এবং স্থানীয় সরকার আইন ২০০৯ | জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) ও স্থানীয় সিটি কর্পোরেশন / পৌরসভা | সিটি কর্পোরেশনের নির্ধারিত শুল্ক (স্থানীয় অঞ্চলভেদে ৫,০০০ - ৫০,০০০ টাকা) | ৩ - ৫ কার্যদিবস |
ফিচার্ড স্নিপেট: একটি বিদেশি কোম্পানি বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৬-এর ধারা ১৫, ১৬ ও ২১ অনুযায়ী বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নিকট থেকে লিখিত পূর্বানুমতি গ্রহণের পর কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর একাদশ খণ্ড (ধারা ৩৭৮–৩৯২)-এর অধীনে আরজেএসসি (RJSC)-তে বাধ্যতামূলক নিবন্ধন এবং ফরেন এক্সচেঞ্জ রেগুলেশন অ্যাক্ট, ১৯৪৭-এর ধারা ১৮বি (18B) পরিপালন সাপেক্ষেই কেবল বাংলাদেশে ব্রাঞ্চ বা লিয়াজোঁ অফিস স্থাপন করতে পারে।
বাংলাদেশে সাবসিডিয়ারি ব্যতীত সরাসরি কোনো বাস্তবিক উপস্থিতি (physical presence) স্থাপনে ইচ্ছুক বিদেশি কর্পোরেশনসমূহ কেবল একটি অফিস স্পেস ভাড়া নিয়েই তাদের কার্যক্রম শুরু করতে পারে না। বাংলাদেশের আইন অনিগমিত (unincorporated) বৈদেশিক বাণিজ্যিক উপস্থিতিকে—তা ব্রাঞ্চ অফিস (বিও), লিয়াজোঁ অফিস (এলও), কিংবা রিপ্রেজেন্টেটিভ অফিস যে নামেই অভিহিত হোক না কেন—জাতীয় অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা যাচাই (সিকিউরিটি ভেটিং) এবং বৈদেশিক মুদ্রা শৃঙ্খলার বিষয় হিসেবে বিবেচনা করে। এর নিয়ন্ত্রক সংবিধিবদ্ধ কাঠামোটি ত্রিস্তরীয়: (১) বিনিয়োগ মঞ্জুরি এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় নিরাপত্তা ছাড়পত্রের জন্য বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৬; (২) বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদিত ডিলার (এডি) নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মুদ্রা-নিয়ন্ত্রণ অনুমোদনের জন্য ফরেন এক্সচেঞ্জ রেগুলেশন অ্যাক্ট, ১৯৪৭ (FERA), বিশেষত ধারা ১৮এ এবং ১৮বি; এবং (৩) যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর (আরজেএসসি)-এ কর্পোরেট নিবন্ধনের জন্য কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর একাদশ খণ্ড। এই ত্রিবিধ কাঠামোর পাশাপাশি আয়কর আইন, ২০২৩, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ এবং স্থানীয় সরকার/পৌর কর্তৃপক্ষের ট্রেড লাইসেন্স সংক্রান্ত সংবিধিবদ্ধ আইনসমূহ প্রযোজ্য হয়। বিচ্ছিন্নভাবে কোনো একক অনুমোদনই যথেষ্ট নয়—যেকোনো একটি স্তর বাদ পড়লে সমগ্র প্রতিষ্ঠানটি এখতিয়ারবহির্ভূত (ultra vires) বলে গণ্য হবে এবং সংশ্লিষ্ট স্বাক্ষরকারীদের FERA-এর ধারা ২৩ মোতাবেক ফৌজদারি দায়বদ্ধতার মুখে দাঁড় করাবে। এই আলোচনায় পর্যায়ক্রমিকভাবে এবং পূর্ণাঙ্গ আইনি উদ্ধৃতিসহ সেই চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা তুলে ধরা হয়েছে, যা একজন সিনিয়র অ্যাডভোকেট কোনো বহুজাতিক মক্কেলকে অনুসরণের পরামর্শ দেবেন।
সংবিধিবদ্ধ পার্থক্য: বাংলাদেশে ব্রাঞ্চ অফিস বনাম লিয়াজোঁ অফিস
ফিচার্ড স্নিপেট: একটি ব্রাঞ্চ অফিস স্থানীয় গ্রাহকদের অনুকূলে ইনভয়েস ইস্যু করতে পারে, বাংলাদেশ-উৎস থেকে রাজস্ব আয় করতে পারে এবং আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ২(৪৬) অনুযায়ী এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থায়ী স্থাপনা (Permanent Establishment বা PE) হিসেবে গণ্য হয়; অপরদিকে, একটি লিয়
বিডা অনুমোদন প্রক্রিয়া: ফরম বিডা-১ দাখিলের রূপরেখা
বিশেষ সংক্ষিপ্তসার: বিডা অনুমোদনের জন্য ওয়ান স্টপ সার্ভিস (ওএসএস) পোর্টালের মাধ্যমে অ্যাপোস্টিলকৃত গঠনতান্ত্রিক দলিল (চার্টার ডকুমেন্টস), পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত (বোর্ড রেজোলিউশন) এবং নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীসহ ফরম বিডা-১ দাখিল করা আবশ্যক; আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি (বিডা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনবিআর) সাধারণত ৩০–৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে আবেদনসমূহ নিষ্পত্তি করে থাকে।
ধাপ ১ — আবেদনের পূর্বে বিদেশি নথিপত্রাদির সত্যায়ন
কোনো আবেদন দাখিলের পূর্বে, বাংলাদেশের বাইরে সম্পাদিত সকল কর্পোরেট দলিলপত্রাদিকে অবশ্যই একটি ত্রি-স্তরীয় বৈধকরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে:
- নিগমনকারী (ইনকর্পোরেশন) দেশের নোটারি পাবলিক কর্তৃক নোটারাইজেশন।
- উক্ত দেশের উপযুক্ত পররাষ্ট্র বিষয়ক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অ্যাপোস্টিল/সত্যায়ন (অথবা অ-হেগ কনভেনশনভুক্ত রাষ্ট্রসমূহের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সত্যায়ন)।
- সংশ্লিষ্ট দেশে দায়িত্বপ্রাপ্ত বাংলাদেশ দূতাবাস/হাইকমিশন কর্তৃক প্রতি-স্বাক্ষর (Countersignature)।
এই প্রক্রিয়াক্রম অনুসরণ না করা নথিপত্রাদি বিডার ওএসএস স্ক্রুটিনি ডেস্ক কর্তৃক প্রশাসনিকভাবে বাতিল করা হয়, যার ফলে প্রক্রিয়াকরণের নির্ধারিত সময় পুনরায় শূন্য থেকে গণনা শুরু হয়।
ধাপ ২ — বিডা ওএসএস পোর্টালের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক ফাইলিং (ফরম বিডা-১)
সংবিধিবদ্ধ আবেদনের দলিলটি হলো ফরম বিডা-১ — "Application for Permission to Open a Branch/Liaison/Representative Office of a Foreign Entity" (একটি বিদেশি সত্তার শাখা/লিয়াজোঁ/প্রতিনিধিত্বমূলক কার্যালয় খোলার অনুমতির আবেদন)। আবেদনটি কেবল বিডার ওয়ান স্টপ সার্ভিস পোর্টালের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়, যা বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৬-এর ২১ ধারার অধীনে প্রতিষ্ঠিত। উক্ত ধারার বিধিবদ্ধ বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী বিডা একটি একক সমন্বয়কারী সংস্থা হিসেবে কাজ করে, যা বাংলাদেশ ব্যাংক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (সুরক্ষা সেবা বিভাগ) এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মধ্যকার পৃথক পৃথক অনুমোদন প্রক্রিয়াকে একক প্ল্যাটফর্মে সমন্বয় করে।
ফরম বিডা-১-এর সাথে আবশ্যকীয় সংযুক্তিসমূহ নিম্নরূপ: - মূল কোম্পানির স্মারকলিপি ও সংঘবিধির (বা সমমানের চার্টার) সত্যায়িত অনুলিপি; - বিও/এলও (শাখা/লিয়াজোঁ কার্যালয়) স্থাপনের অনুমোদন প্রদানকারী এবং স্থানীয় ক্ষমতাপ্রাপ্ত স্বাক্ষরকারী/প্রধান প্রতিনিধির নাম উল্লেখপূর্বক মূল কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত (বোর্ড রেজোলিউশন); - পূর্ববর্তী অর্থবছরের জন্য মূল সত্তার নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী (যা নিট সম্পদ ও আর্থিক সচ্ছলতার প্রমাণস্বরূপ); - মূল কোম্পানির ইনকর্পোরেশন সনদপত্র; - প্রস্তাবিত প্রধান প্রতিনিধি/কান্ট্রি ম্যানেজারের জীবনবৃত্তান্ত এবং পাসপোর্টের অনুলিপি; - বাংলাদেশে প্রস্তাবিত কার্যালয়ের ঠিকানার সপক্ষে ভাড়ার চুক্তির খসড়া বা দালিলিক প্রমাণ; - প্রস্তাবিত কার্যক্রমের বিবরণ, প্রত্যাশিত স্থানীয় কর্মসংস্থান এবং প্রাতিষ্ঠানিক সাংগঠনিক কাঠামো (অর্গানোগ্রাম)।
ধাপ ৩ — সংবিধিবদ্ধ ফি এবং কমিটিতে প্রেরণ
আবেদন ফি হলো ২৫,০০০ টাকা এবং তৎসহ ১৫% ভ্যাট, যা ওএসএস-এর সমন্বিত পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে পরিশোধযোগ্য। ফি পরিশোধ নিশ্চিতকরণের পর, নথিটি শাখা/লিয়াজোঁ কার্যালয় সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় স্ক্রুটিনি কমিটিতে প্রেরণ করা হয়, যা নিম্নোক্ত বিষয়াদি সম্পাদন করে: - মূল সত্তা এবং প্রস্তাবিত বিদেশি কর্মকর্তা/কর্মচারীদের নিরাপত্তা ও পটভূমি যাচাই (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক); - খাতভিত্তিক নীতিগত পরিপালন পর্যালোচনা (প্রস্তাবিত কার্যক্রমটি অনুমোদিত বা সংরক্ষিত শিল্প নীতির আওতাভুক্ত কি না); - বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের সম্ভাব্যতা যাচাই (বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি কর্তৃক)।
ধাপ ৪ — বিডা অনুমোদনপত্র জারি
কমিটির ছাড়পত্র প্রাপ্তির পর, বিডা একটি আনুষ্ঠানিক অনুমোদনপত্র জারি করে, যা সাধারণত নবায়ন সাপেক্ষে তিন (৩) বছরের জন্য কার্যকর থাকে। এই পত্রে বাধ্যতামূলক সংবিধিবদ্ধ শর্তাবলী অন্তর্ভুক্ত থাকে, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো: - অনুমোদনপত্রের তারিখ হতে ৬০ দিনের মধ্যে প্রাথমিক স্থাপনা ও পরিচালনা ব্যয়ের জন্য ন্যূনতম ৫০,০০০ মার্কিন ডলার বৈদেশিক রেমিট্যান্স হিসেবে আনয়ন; - কার্যক্রম কঠোরভাবে অনুমোদিত পরিধির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা (এর ব্যত্যয় ঘটলে তা বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইনের ধারা ১৮বি এবং বিডা আইনের ধারা ১৬ অনুযায়ী আইনত দণ্ডনীয় লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে); - পরবর্তী যেকোনো ওয়ার্ক পারমিট/ভিসা অনুমোদনের শর্ত হিসেবে স্থানীয় বনাম বিদেশি কর্মী নিয়োগের অনুপাত বজায় রাখা (সাধারণত এই অনুপাত সর্বোচ্চ ১:২০ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ, তবে খাতভিত্তিক ভিন্নতা প্রযোজ্য হতে পারে)।
বাধ্যতামূলক অন্তর্মুখী রেমিট্যান্স ও এডি ব্যাংকের কমপ্লায়েন্স
ফিচার্ড স্নিপেট: বিডা (BIDA)-র অনুমোদনপত্র জারির ৬০ দিনের মধ্যে, মূল বা প্যারেন্ট কোম্পানিকে অবশ্যই বাংলাদেশে অবস্থিত একটি অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকের মাধ্যমে ন্যূনতম ৫০,০০০ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স হিসেবে প্রেরণ করতে হবে; উক্ত এডি ব্যাংক FERA রিপোর্টিং বিধিমালার অধীনে একটি নগদায়ন সনদ বা এনক্যাশমেন্ট সার্টিফিকেট (ফরম সি) ইস্যু করে, যা একটি বাধ্যতামূলক পূর্বশর্ত (condition-precedent) হিসেবে পুনরায় বিডায় দাখিল করতে হয়।
এডি ব্যাংকসমূহের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক পরিচালিত FERA-এর বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর অধীন নিম্নোক্ত ধারাবাহিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক:
- হিসাব খোলা (Account Opening): বিডার অনুমোদনপত্রকে মূল কেওয়াইসি (KYC) নথি হিসেবে ব্যবহার করে শাখা কার্যালয় (BO) বা লিয়াজোঁ কার্যালয় (LO) কোনো এডি ব্যাংকে একটি কার্যকর ব্যাংক হিসাব (সাধারণত একটি বৈদেশিক মুদ্রা হিসাব এবং একটি স্থানীয় টাকার চলতি হিসাব উভয়ই) খোলে।
- অন্তর্মুখী রেমিট্যান্স (Inward Remittance): মূল কোম্পানি তার অফশোর হিসাব থেকে সদ্য খোলা বাংলাদেশি হিসাবে বিধিবদ্ধ ন্যূনতম ৫০,০০০ মার্কিন ডলার (বা ক্ষেত্রমত অনুমোদনপত্রে উল্লিখিত নির্দিষ্ট উচ্চতর অঙ্ক) প্রেরণ করে।
- এনক্যাশমেন্ট সার্টিফিকেট (ফরম সি): উক্ত এডি ব্যাংক অন্তঃপ্রবাহিত বৈদেশিক মুদ্রা রূপান্তর ও জমা করার পর, Guidelines for Foreign Exchange Transactions (GFET), Volume 1, Chapter 10-এর আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের রিপোর্টিং সময়সূচী পূরণপূর্বক সংবিধিবদ্ধ Foreign Exchange Inward Remittance Encashment Certificate ইস্যু করে।
- বিডায় রিপোর্ট দাখিল: বিধিবদ্ধ ৬০ দিনের সময়সীমার মধ্যে এনক্যাশমেন্ট সার্টিফিকেটটি বিডায় দাখিল করতে হবে; অন্যথায় বিডা উক্ত অনুমোদনটি বাতিল বা তামাদি গণ্য করার এবং প্রত্যাহার কার্যক্রম শুরু করার এখতিয়ার রাখে।
তৎপরবর্তী চলমান পরিচালনাগত রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে এডি ব্যাংকে পর্যায়ক্রমিক রিপোর্টিং আবশ্যক, এবং উদ্বৃত্ত/অব্যয়িত তহবিলের যেকোনো বহির্মুখী রেমিট্যান্স (outward remittance)-এর ক্ষেত্রে (কার্যালয় বিলুপ্তির সময় অথবা শাখা কার্যালয়ের নিট মুনাফার বার্ষিক প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে) বিডা থেকে অনাপত্তি সনদ (NOC), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) থেকে কর পরিশোধ সনদ (Tax Clearance Certificate) এবং এডি ব্যাংকের অনুমোদন আবশ্যক — যা সামগ্রিকভাবে FERA-এর ধারা ১৮বি (Section 18B)-এর অধীন প্রস্থানকালীন প্রতিপালন স্তর (exit-compliance gate) গঠন করে।
কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর একাদশ খণ্ডের অধীনে আরজেএসসি (RJSC) নিবন্ধন
ফিচার্ড স্নিপেট: বাংলাদেশে ব্যবসায়ের স্থান প্রতিষ্ঠার ৩০ দিনের মধ্যে, বিদেশি কোম্পানিকে কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর ধারা ৩৭৯–৩৮১-এর অধীনে আরজেএসসি (RJSC)-তে ফরম XXXVI–XXXIX দাখিল করতে হবে, যার মাধ্যমে কোম্পানির সনদ বা মূল সংবিধিবদ্ধ দলিলসমূহ (charter documents), পরিচালকদের বিবরণ এবং সমন ও নোটিশ জারির জন্য স্থানীয়ভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধির বিবরণ প্রদান করতে হয়।
কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর একাদশ খণ্ড (ধারা ৩৭৮–৩৯২) বাংলাদেশে "ব্যবসায়ের স্থান" প্রতিষ্ঠাকারী প্রতিটি বিদেশি কোম্পানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য — রাজস্ব উৎপাদনের মর্যাদা নির্বিশেষে শাখা ও লিয়াজোঁ উভয় কার্যালয় অন্তর্ভুক্ত করার স্বার্থে এই অভিব্যক্তিটির বিস্তৃত ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়। নির্ধারিত ফরমে আরজেএসসি-তে দাখিলযোগ্য প্রধান সংবিধিবদ্ধ ফাইলিংসমূহ:
| ফরম | সংবিধিবদ্ধ ভিত্তি | বিষয়বস্তু |
|---|---|---|
| ফরম XXXVI | ধারা ৩৭৯(১)(ক) | মূল কোম্পানির সনদ (charter), সংবিধি (statutes), স্মারকলিপি (MoA)/সংঘবিধি (AoA) বা গঠনতান্ত্রিক দলিলের প্রত্যায়িত অনুলিপি (বিদেশি ভাষায় রচিত হলে প্রত্যয়িত ইংরেজি অনুবাদসহ) |
| ফরম XXXVII | ধারা ৩৭৯(১)(খ) | উৎপত্তিস্থল বা নিজ দেশে কোম্পানির নিবন্ধিত/প্রধান কার্যালয়ের ঠিকানা |
| ফরম XXXVIII | ধারা ৩৭৯(১)(গ) | পূর্ণাঙ্গ বিবরণসহ (জাতীয়তা, ঠিকানা, পেশা) পরিচালক ও কোম্পানি সচিবের তালিকা |
| ফরম XXXIX | ধারা ৩৭৯(১)(ঘ)–(ঙ) | কোম্পানির পক্ষে সমন ও নোটিশ গ্রহণের জন্য বাংলাদেশে বসবাসরত ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম ও ঠিকানা এবং বাংলাদেশে ব্যবসায়ের স্থানের পূর্ণ ঠিকানা |
বিধিবদ্ধ ৩০ দিনের সময়সীমার মধ্যে দাখিল করতে ব্যর্থ হলে ধারা ৩৭৯(৩)-এর অধীন অব্যাহত দৈনিক খেলাপি জরিমানা আরোপিত হবে, এবং ক্রমাগত ব্যর্থতার ফলে আরজেএসসি কর্তৃক নিবন্ধন বাতিল এবং অনুমোদন প্রত্যাহারের জন্য বিডায় প্রেরণ করা হতে পারে। এ ছাড়া ধারা ৩৮০ অনুযায়ী প্রতি বছর মূল কোম্পানির স্থিতিপত্র (balance sheet) এবং লাভ-ক্ষতির হিসাব (বা সমন্বিত গ্রুপ হিসাব) আরজেএসসি-তে দাখিল করা বাধ্যতামূলক, এবং ধারা ৩৮১ মোতাবেক শাখা/লিয়াজোঁ কার্যালয়ের প্রতিটি ব্যবসায়িক লেটারহেড, ইনভয়েস ও সাইনবোর্ডে মূল সত্তার নিগমবদ্ধকরণের (incorporation) দেশ সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা আবশ্যক — যা প্রায়শই উপেক্ষিত একটি সংবিধিবদ্ধ বাধ্যবাধকতা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার কারণ দর্শানোর নোটিশ জারির একটি সাধারণ কারণ।
নিবন্ধন-পরবর্তী কর, ভ্যাট এবং পৌর কমপ্লায়েন্স
ফিচার্ড স্নিপেট: শাখা এবং লিয়াজোঁ উভয় কার্যালয়কেই ১২-সংখ্যার ই-টিআইএন (e-TIN) গ্রহণ, মূসক ব্যবসায় শনাক্তকরণ নম্বর (BIN) নিবন্ধন, মাসিক মূসক-৯.১ ভ্যাট রিটার্ন দাখিল, আয়কর আইন ২০২৩-এর ধারা ৮৬–১৪৩ এর অধীন উৎসে কর কর্তন এবং প্রতি বছর পৌর ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ ও নবায়ন করতে হবে।
আয়কর সংক্রান্ত কমপ্লায়েন্স
- স্থায়ী স্থাপনা শ্রেণিবিন্যাস (আয়কর আইন ২০২৩, ধারা ২(৪৬)): একটি শাখা কার্যালয় চূড়ান্তভাবেই স্থায়ী স্থাপনা (PE) হিসেবে গণ্য; তবে লিয়াজোঁ কার্যালয় যদি প্রাথমিক বা সহায়ক কার্যাবলীর সীমা অতিক্রম করে, তবে সেটিও PE হিসেবে পুনর্শ্রেণিবিন্যাসের ঝুঁকিতে পড়ে।
- কর্পোরেট করের হার (ধারা ৭৩ এবং অর্থ আইনের হারের তফসিল): অনাবাসী/বিদেশি কোম্পানির শাখা কার্যালয়ের মুনাফার ওপর তালিকাভুক্তি ও খাতের ওপর ভিত্তি করে সাধারণত ২৭.৫%–৩০% হারে কর ধার্য করা হয় (যেমন, তামাক বা মোবাইল টেলিকমের মতো নির্দিষ্ট শিল্পের ক্ষেত্রে উচ্চতর হার প্রযোজ্য)।
- উৎসে কর কর্তন (TDS) সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা (ধারা ৮৬, ১১৯–১৪৩): স্থানীয় ভেন্ডর পরিশোধ, ভাড়া এবং কর্মচারীদের বেতনের ক্ষেত্রে শাখা ও লিয়াজোঁ উভয় কার্যালয়ই সংবিধিবদ্ধ উৎসে কর্তনকারী সত্তা (withholding agent); উৎসে কর কর্তন বা সরকারি কোষাগারে জমা প্রদানে ব্যর্থ হলে উক্ত ব্যয় অননুমোদন (disallowance) এবং শাস্তিমূলক সুদ আরোপ করা হয়।
- সার্বজনীন স্বনির্ধারণী/রিটার্ন দাখিল (ধারা ১৬৬): উভয় ধরনের সত্তার জন্যই বার্ষিক রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক — এমনকি বাণিজ্যিক আয়হীন লিয়াজোঁ কার্যালয়কেও অন্তর্মুখী রেমিট্যান্স প্রাপ্তি এবং স্থানীয় ব্যয়ের তথ্য প্রকাশ করে রিটার্ন দাখিল করতে হবে।
ভ্যাট সংক্রান্ত কমপ্লায়েন্স
- বিআইএন (BIN) নিবন্ধন (মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২, ধারা ৪ ও ১৫): রাজস্ব অর্জনের মর্যাদা নির্বিশেষে এটি বাধ্যতামূলক, কারণ উৎসে মূসক কর্তন বিধিমালা, ২০২০-এর অধীন স্থানীয় ভেন্ডর/ঠিকাদারদের অর্থ পরিশোধকালে উৎসে কর কর্তনের (VDS) উদ্দেশ্যে এই কার্যালয়টি একটি "উৎসে কর্তনকারী সত্তা"।
- মাসিক রিটার্ন (মূসক-৯.১): করযোগ্য সরবরাহ সংঘটিত হোক বা না হোক, ভিডিএস কর্তন এবং যেকোনো প্রাসঙ্গিক করযোগ্য লেনদেন রিপোর্ট করার জন্য এটি দাখিল করা বাধ্যতামূলক (যা মূলত স্থানীয় সেবা প্রদানকারী শাখা কার্যালয়সমূহের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য)।
পৌর ট্রেড লাইসেন্স
স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯ এবং সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশনের আদর্শ কর তফসিল-এর অধীন প্রতিটি ভৌত ব্যবসায়িক প্রাঙ্গণের জন্য — শাখা কিংবা লিয়াজোঁ কার্যালয় নির্বিশেষে — একটি ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ ও প্রতি বছর তা নবায়ন করা বাধ্যতামূলক, এবং ক্ষেত্রমত সাইনবোর্ড/বিজ্ঞাপন কর পরিশোধ করতে হবে।
সংবিধিবদ্ধ দলিলের চেকলিস্ট
বিডা ফরম বিডা-১ (BIDA-1) দাখিলের জন্য: - [ ] যথাযথভাবে পূরণকৃত ফরম বিডা-১ (বিডা ওএসএস পোর্টাল) - [ ] মূল/পেরেন্ট কোম্পানির অ্যাপোস্টিলকৃত (Apostilled)/সত্যায়িত স্মারকলিপি ও সংঘবিধি - [ ] শাখা কার্যালয় (BO)/লিয়াজোঁ কার্যালয় (LO) স্থাপন অনুমোদন এবং প্রধান প্রতিনিধি মনোনীতকরণ সংক্রান্ত পরিচালনা পর্ষদের প্রস্তাব (বোর্ড রেজোলিউশন) - [ ] নিগমন সনদপত্র / ইনকর্পোরেশন সনদ (অ্যাপোস্টিলকৃত) - [ ] মূল/পেরেন্ট কোম্পানির নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী (সর্বশেষ প্রাপ্ত বছর) - [ ] প্রস্তাবিত প্রধান প্রতিনিধির পাসপোর্টের অনুলিপি এবং জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) - [ ] প্রস্তাবিত কার্যক্রমের বিবরণী এবং সাংগঠনিক/জনবল পরিকল্পনা - [ ] বাংলাদেশে কার্যালয়ের খসড়া ভাড়া চুক্তিপত্র / ঠিকানার প্রমাণক - [ ] মূল/পেরেন্ট কোম্পানির ব্যাংক স্বচ্ছলতা সনদপত্র (সুপারিশকৃত) - [ ] বিডা আবেদন ফি পরিশোধের রশিদ (২৫,০০০ টাকা + ১৫% ভ্যাট)
অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংক হিসাব খোলা এবং অন্তর্মুখী রেমিট্যান্সের (Inward Remittance) জন্য: - [ ] বিডা-র অনুমোদন পত্র (মূল/সত্যায়িত অনুলিপি) - [ ] পরিচালনা পর্ষদের প্রস্তাব (বোর্ড রেজোলিউশন) এবং নমুনা স্বাক্ষর - [ ] ক্ষমতাপ্রাপ্ত স্বাক্ষরকারীর পাসপোর্ট/ভিসা - [ ] বাংলাদেশ ব্যাংকের এএমএল/সিএফটি (AML/CFT) নির্দেশিকা অনুযায়ী কেওয়াইসি (KYC) নথিপত্র - [ ] মূল সত্তা/কোম্পানি হতে সুইফট (SWIFT) রেমিট্যান্স নির্দেশনা (ন্যূনতম ৫০,০০০ মার্কিন ডলার)
আরজেএসসি (RJSC) একাদশ খণ্ড (Part XI) নিবন্ধনের জন্য: - [ ] ফরম XXXVI (সত্যায়িত অনুবাদসহ সনদ/গঠনমূলক দলিলসমূহ) - [ ] ফরম XXXVII (বিদেশে নিবন্ধিত কার্যালয়ের ঠিকানা) - [ ] ফরম XXXVIII (পরিচালক/সচিববৃন্দের তালিকা) - [ ] ফরম XXXIX (মামলা বা নোটিশ জারির জন্য স্থানীয় ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি) - [ ] বিডা-র অনুমোদন পত্র (সত্যায়িত অনুলিপি) - [ ] আরজেএসসি ফাইলিং ফি পরিশোধের চালান
নিবন্ধন-পরবর্তী পরিপালন (পোস্ট-রেজিস্ট্রেশন কমপ্লায়েন্স): - [ ] ই-টিন (e-TIN) সনদপত্র (এনবিআর) - [ ] বিন (BIN)/ভ্যাট নিবন্ধন সনদপত্র - [ ] সিটি কর্পোরেশন ট্রেড লাইসেন্স - [ ] অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংক হতে এনক্যাশমেন্ট সার্টিফিকেট (ফরম সি) - [ ] বিডা-র সুপারিশের মাধ্যমে কর্মকর্তা/কর্মচারীদের ওয়ার্ক পারমিট/ভিসা (বিদেশি কর্মী)
নিয়ন্ত্রক ফি, সময়সীমা ও দণ্ড সংক্রান্ত ছক (পেনাল্টি ম্যাট্রিক্স)
| পরিপালনের পর্যায় | নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ/সংবিধি (আইন) | ফি/আর্থিক সীমা | সংবিধিবদ্ধ সময়সীমা | অপরিপালনের দণ্ড |
|---|---|---|---|---|
| বিডা ফরম বিডা-১ আবেদন | বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৬, ধারা ১৫–১৬, ২১ | ২৫,০০০ টাকা + ১৫% ভ্যাট | ৩০–৪৫ কার্যদিবস (কমিটির অনুমোদন) | আবেদন প্রত্যাখ্যান; পুনরায় দাখিল আবশ্যক |
| ন্যূনতম অন্তর্মুখী রেমিট্যান্স | বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৪৭ (FERA), ধারা ১৮বি; বিডা-র অনুমোদনের শর্তাবলি | ন্যূনতম ৫০,০০০ মার্কিন ডলার | অনুমোদন পত্র জারির ৬০ দিনের মধ্যে | অনুমোদন বাতিল বলে গণ্য হবে; প্রত্যাহারের ঝুঁকি |
| বিডা-তে এনক্যাশমেন্ট সার্টিফিকেট দাখিল | অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংক / বাংলাদেশ ব্যাংক জিএফইটি (GFET) অধ্যায় ১০ | প্রযোজ্য নয় | ৬০ দিনের মধ্যে (রেমিট্যান্সের সাথে যুগপৎভাবে) | পূর্বশর্তের অপূরণ/ব্যত্যয়; অনুমোদন প্রত্যাহার |
| আরজেএসসি একাদশ খণ্ড দাখিল (ফরম XXXVI–XXXIX) | কোম্পানি আইন, ১৯৯৪, ধারা ৩৭৯ | আরজেএসসি ফাইলিং ফি (তফসিল অনুযায়ী) | ব্যবসার স্থান প্রতিষ্ঠার ৩০ দিনের মধ্যে | ধারা ৩৭৯(৩) অনুযায়ী চলমান দৈনিক খেলাপজনিত জরিমানা; তালিকাভুক্তি বিলুপ্তির (স্ট্রাইক-অফ) ঝুঁকি |
| আরজেএসসি-তে বার্ষিক আর্থিক বিবরণী দাখিল | কোম্পানি আইন, ১৯৯৪, ধারা ৩৮০ | আরজেএসসি ফাইলিং ফি | বার্ষিক ভিত্তিতে, মূল কোম্পানির স্থিতিপত্রসহ (ব্যালেন্স শিট) | খেলাপজনিত দণ্ড; নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিরূপ মন্তব্য |
| ই-টিন (e-TIN) নিবন্ধন | আয়কর আইন, ২০২৩, ধারা ১৬৬ | প্রযোজ্য নয় (নিবন্ধন) | প্রথম রিটার্ন দাখিলের পূর্বে | রিটার্ন দাখিল না করার দণ্ড + সম্ভাব্য ফৌজদারি প্রসিকিউশন |
| বিন (BIN)/ভ্যাট নিবন্ধন | মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২, ধারা ৪, ১৫ | প্রযোজ্য নয় (নিবন্ধন) | যেকোনো করযোগ্য/উৎস কর্তন সংক্রান্ত কার্যক্রম শুরুর পূর্বে | জরিমানা + কর্তন না করা উৎসে ভ্যাটের (VDS) ওপর সুদ |
| মাসিক ভ্যাট রিটার্ন (মূসক-৯.১) | মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ | প্রযোজ্য নয় | পরবর্তী মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে | বিলম্বে দাখিলের জরিমানা এবং সুদ |
| ট্রেড লাইসেন্স | স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯ / সিটি কর্পোরেশন আদর্শ কর তফসিল | আদর্শ কর তফসিল অনুযায়ী (কর্পোরেশন ও কার্যালয়ের আয়তনের ওপর ভিত্তি করে পরিবর্তনশীল) | বার্ষিক নবায়ন | পৌর/সিটি কর্পোরেশনের জরিমানা; কার্যালয় সিলগালা করার ঝুঁকি |
| অননুমোদিত প্রতিষ্ঠান স্থাপন (বিডা/FERA পরিপালন ব্যতীত) | বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৪৭, ধারা ২৩ | প্রযোজ্য নয় | প্রযোজ্য নয় | অনূর্ধ্ব ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড, এবং/অথবা সম্পত্তি বাজেয়াপ্তকরণ |
| অনুমোদিত কার্যপরিধির বাইরে কার্যক্রম পরিচালনা | বিডা আইন, ২০১৬, ধারা ১৬; FERA ধারা ১৮বি | প্রযোজ্য নয় | প্রযোজ্য নয় | অনুমোদন বাতিল; মূল সত্তাকে সম্ভাব্য কালো তালিকাভুক্তকরণ |
| অনাপত্তি সনদ (NOC)/কর নিষ্পত্তি সনদ ব্যতীত অর্থ প্রত্যাবাসন (Repatriation) | FERA ১৯৪৭, ধারা ১৮বি; অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকের প্রবিধান | প্রযোজ্য নয় | যেকোনো বহির্মুখী রেমিট্যান্সের পূর্বে | অনুমোদিত ডিলার ব্যাংক কর্তৃক লেনদেন প্রত্যাখ্যান; FERA-র অধীনে প্রসিকিউশনের মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকি |
সচরাচর আইনি ফাঁদ ও পরিপালনজনিত ত্রুটিসমূহ
-
লিয়াজোঁ কার্যালয়ের (LO) কার্যক্রমের সাথে বাণিজ্যিক কার্যক্রমকে একীভূত বা গুলিয়ে ফেলা: সবচেয়ে বেশি মামলা বা বিরোধের সম্মুখীন হওয়া পরিপালন ব্যর্থতাটি হলো—লিয়াজোঁ কার্যালয়ের (এলও) প্রধান প্রতিনিধি কর্তৃক পণ্যের মূল্যের শর্তাবলি নিয়ে দরকষাকষি করা, ক্রয়াদেশে (পারচেজ অর্ডার) স্বাক্ষর করা, কিংবা বিক্রয়োত্তর সেবা প্রদান করা; যেসব কার্যক্রম আইনত কেবল শাখা কার্যালয়ের (ব্রাঞ্চ অফিস) জন্য সংরক্ষিত। এর ফলে মূল কোম্পানি আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ২(৪৬) অনুযায়ী ভূতাপেক্ষভাবে স্থায়ী ভিত্তি বা পার্মানেন্ট এস্টাবলিশমেন্ট (PE) হিসেবে কর নির্ধারণ এবং বিডা কর্তৃক অনুমোদন বাতিলের ঝুঁকির মুখে পড়ে।
-
৬০ দিনের মধ্যে অন্তর্মুখী রেমিট্যান্স আনয়নের সময়সীমা লঙ্ঘন: রেমিট্যান্স আনয়ন সাপেক্ষে বিডা-র অনুমোদন পত্র অনির্দিষ্টকালের জন্য বৈধ থাকে না; ৬০ দিনের মধ্যে ৫০,০০০ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স প্রেরণে ব্যর্থতা এবং অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকের এনক্যাশমেন্ট সার্টিফিকেট দাখিল না করাকে অনুমোদনের সমাপ্তি বা তামাদি (lapse) হিসেবে গণ্য করা হয়, যার ফলে সাধারণ সময় বৃদ্ধির আবেদনের পরিবর্তে নতুন করে আবেদন দাখিল আবশ্যক হয়ে পড়ে।
Frequently Asked Questions
◆ সম্পর্কিত প্র্যাকটিস গাইড ও বিশ্লেষণ
<li style="margin-bottom:12px; line-height:1.5;">
<a href="/bn/taxation-of-it-freelancers-and-software-exporters-in-bangladesh-exemption-criteria-banking-proof-bn/" style="color:#C5A059; font-weight:600; text-decoration:none; font-size:14px; display:inline-block; transition:color 0.2s;">• আইটি ফ্রিল্যান্সার ও সফটওয়্যার রপ্তানিকারকদের আয়কর অব্যাহতি ও নিয়মাবলী</a>
</li>
<li style="margin-bottom:12px; line-height:1.5;">
<a href="/bn/bangladesh-bank-guidelines-on-outward-remittance-google-meta-it-saas-payment-regulations-bn/" style="color:#C5A059; font-weight:600; text-decoration:none; font-size:14px; display:inline-block; transition:color 0.2s;">• আউটওয়ার্ড রেমিট্যান্স বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মাবলী: গুগল ও মেটা পেমেন্ট গাইড২০২৪</a>
</li>
<li style="margin-bottom:12px; line-height:1.5;">
<a href="/bn/bida-work-permit-expatriate-visa-bangladesh-bn/" style="color:#C5A059; font-weight:600; text-decoration:none; font-size:14px; display:inline-block; transition:color 0.2s;">• বিডা (BIDA) ওয়ার্ক পারমিট ও বিদেশি নাগরিকদের কর্মসংস্থান ভিসা: কর্পোরেট কমপ্লায়েন্স ও আইনি নির্দেশিকা</a>
</li>
<li style="margin-bottom:12px; line-height:1.5;">
<a href="/bn/beza-economic-zones-tax-holiday-one-stop-service-bangladesh-bn/" style="color:#C5A059; font-weight:600; text-decoration:none; font-size:14px; display:inline-block; transition:color 0.2s;">• বেজা (BEZA) অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাই-টেক পার্ক: ১০ বছরের কর অবকাশ (Tax Holiday) ও ওয়ান স্টপ সার্ভিস গাইড</a>
</li>
বাংলাদেশে লিয়াজোঁ (Liaison) ও ব্রাঞ্চ অফিসের (Branch Office) মূল আইনি পার্থক্য কী?
লিয়াজোঁ অফিস কেবল মূল বিদেশী কোম্পানির যোগাযোগ, গ্রাহক সমন্বয় ও বাজার গবেষণার কাজ করতে পারে; তারা বাংলাদেশে কোনো বাণিজ্যিক লেনদেন বা আয় উপার্জন করতে পারে না এবং সকল ব্যয় বিদেশী রেমিট্যান্স থেকে নির্বাহ করতে হয়। অন্যদিকে, একটি ব্রাঞ্চ অফিস বিডার পূর্বানুমোদিত নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে এবং বাংলাদেশে চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে আয় করতে পারে।
বিডা (BIDA) অনুমোদনের পর ন্যূনতম কত বৈদেশিক মুদ্রা বাংলাদেশে আনা বাধ্যতামূলক?
বিডার অনুমোদনপত্র ইস্যু হওয়ার দিন থেকে দুই (২) মাসের মধ্যে অফিস স্থাপন ও প্রাথমিক পরিচালন ব্যয়ের জন্য কমপক্ষে ৫০,০০০ মার্কিন ডলার (বা সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা) মূল কোম্পানি থেকে বাংলাদেশের একটি অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকে ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্স হিসেবে স্থানান্তর করতে হয়।
একটি বিদেশী ব্রাঞ্চ বা লিয়াজোঁ অফিসকে কি আরজেএসসি (RJSC)-তে নিবন্ধন করতে হয়?
হ্যাঁ, কোম্পানি আইন ১৯৯৪-এর ধারা ৩৭৮-৩৮৩ (Part XI) অনুযায়ী বিডার অনুমোদন পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্র (যেমন চার্টার, মেমোরেন্ডাম, বোর্ড রেজুলেশন ও অনুমোদিত প্রতিনিধির বিবরণী) আরজেএসসিতে দাখিল করে বৈদেশিক কোম্পানির শাখা হিসেবে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হয়।
লিয়াজোঁ অফিস কি স্থানীয়ভাবে কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে এবং কর্মী নিয়োগ দিতে পারে?
হ্যাঁ, বিডার অনুমোদন সাপেক্ষে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা যায়, তবে এটি হবে একটি নন-কনভার্টেবল টাকা অ্যাকাউন্ট যেখানে কেবল বিদেশ থেকে পাঠানো রেমিট্যান্স জমা হবে। এই অ্যাকাউন্ট থেকে স্থানীয় কর্মীদের বেতন ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যয় নির্বাহ করা যাবে। বাংলাদেশী কর্মী বা বিদেশী বিশেষজ্ঞ নিয়োগের ক্ষেত্রে বিডা ও শ্রম আইনের বিধান প্রযোজ্য।
শাখা বা লিয়াজোঁ অফিসের প্রাথমিক অনুমোদনের মেয়াদ কতদিন এবং কীভাবে তা নবায়ন করা যায়?
সাধারণত বিডা প্রাথমিকভাবে ৩ (তিন) বছরের জন্য অনুমোদন প্রদান করে। সন্তোষজনক কার্যক্রম, নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী দাখিল, নিয়মিত ট্যাক্স কমপ্লায়েন্স এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স প্রাপ্তি সাপেক্ষে মেয়াদ শেষ হওয়ার কমপক্ষে ২ মাস পূর্বে নবায়নের আবেদন করতে হয়।
লিয়াজোঁ বা ব্রাঞ্চ অফিসের ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা কী?
আয়কর আইন ২০২৩ অনুযায়ী প্রতিটি ব্রাঞ্চ ও লিয়াজোঁ অফিসকে কর শনাক্তকরণ নম্বর (e-TIN) গ্রহণ করতে হবে এবং এমনকি লিয়াজোঁ অফিসের কোনো স্থানীয় আয় না থাকলেও প্রতি করবর্ষে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট দ্বারা নিরীক্ষিত অডিট রিপোর্টসহ শূন্য বা প্রযোজ্য আয়কর রিটার্ন এবং উৎসে কর কর্তন (TDS) বিবরণী এনবিআরে দাখিল করা বাধ্যতামূলক।