নির্বাহী সারসংক্ষেপ ও সংবিধিবদ্ধ কর্তৃত্ব
| আইনি বিধান / রেগুলেশন | প্রযোজ্য কর্তৃপক্ষ | মূল বিষয়বস্তু | আইনি বাধ্যবাধকতা |
|---|---|---|---|
| জিএফইটি ভলিউম ১, অধ্যায় ১৪ | বাংলাদেশ ব্যাংক | অনিবাসীর বৈদেশিক মুদ্রার হিসাব ও টাকায় রূপান্তর | বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে বৈদেশিক তহবিল স্থানান্তর বাধ্যতামূলক। |
| সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন | বিএসইসি (BSEC) | পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ন্ত্রণ | বিও (BO) একাউন্টের সাথে নিটা একাউন্টের বাধ্যতামূলক সংযোগ। |
| কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ | রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ (RJSC) | লভ্যাংশ ও মূলধন repatriation | কর পরিশোধ সাপেক্ষে মুনাফা বিদেশ প্রেরণের স্বাধীনতা। |
| এন্ডোর্সমেন্ট ও ট্যাক্স কমপ্লায়েন্স | জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) | মূলধনী লাভ ও ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স | উৎস কর কর্তন ও বার্ষিক রিটার্ন দাখিলের বিধান। |
ফিচার্ড স্নিপেট (Featured Snippet): নন-রেসিডেন্ট ইনভেস্টরস টাকা অ্যাকাউন্ট (নিতা) হলো একটি বিশেষায়িত রূপান্তরযোগ্য টাকা চলতি হিসাব, যা জিএফইটি ভলিউম-১, অধ্যায় ১৪, অনুচ্ছেদ ২৪-২৫ এর অধীনে খোলা হয়। এর মাধ্যমে অনিবাসী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে পোর্টফোলিও বিনিয়োগের জন্য অর্থায়ন করে, বিক্রিয়লব্ধ অর্থ ও লভ্যাংশ গ্রহণ করে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন ব্যতিরেকে বিদেশে মূলধন প্রত্যাবাসন করে।
নন-রেসিডেন্ট ইনভেস্টরস টাকা অ্যাকাউন্ট বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর মধ্যে একটি অনন্য সংবিধিবদ্ধ স্থান দখল করে আছে: এটি বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৪৭ ("FERA 1947") এর ধারা ৪, ৫ এবং ১৮-এ অন্তর্ভুক্ত বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের সাধারণ নিষেধাজ্ঞার ওপর একটি সুচিন্তিত ও নিয়ন্ত্রক-অনুমোদিত ব্যতিক্রম। এই ব্যতিক্রম ছাড়া কোনো অনিবাসী বৈধভাবে বাংলাদেশি টাকা ধারণ, লেনদেন বা প্রত্যাবাসন করতে পারত না। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ইস্যুকৃত এবং পর্যায়ক্রমে সংশোধিত বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন নির্দেশিকা (GFET), ভলিউম ১-এর অধ্যায় ১৪ (অনিবাসী হিসাব সম্পর্কিত) এবং অধ্যায় ৯-এ (পোর্টফোলিও বিনিয়োগ, আইপিও সাবস্ক্রিপশন এবং বিক্রিয়লব্ধ অর্থ ও লভ্যাংশ প্রত্যাবাসন নিয়ন্ত্রণকারী) এই ব্যতিক্রমটিকে কার্যকর করেছে।
প্রতিটি নিতা লেনদেনের ক্ষেত্রে তিনটি নিয়ন্ত্রক স্তম্ভ একত্রিত হয়:
- বাংলাদেশ ব্যাংক, দেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের কাস্টডিয়ান এবং FERA 1947-এর প্রয়োগকারী হিসেবে, জিএফইটি অধ্যায় ১৪ এবং ধারাবাহিক এফই সার্কুলারের (বিশেষ করে এফই সার্কুলার নং ০২/২০১৯, এফই সার্কুলার নং ২৪/২০২১ এবং এফই সার্কুলার নং ০৭/২০২৩) মাধ্যমে অনুমোদিত ক্রেডিট, অনুমোদিত ডেবিট এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নির্ধারণ করে।
- বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯ এবং বিএসইসি আইন, ১৯৯৩-এর অধীনে পরিচালিত হয়ে কাস্টডি, ব্রোকারেজ, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল)-এর মাধ্যমে ডিমেটেরিয়ালাইজড সেটেলমেন্ট এবং নিয়ন্ত্রিত খাতে বৈদেশিক মালিকানার সীমা সংক্রান্ত নিয়মাবলী পরিচালনা করে।
- জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), আয়কর আইন, ২০২৩ ("ITA 2023")-এর অধীনে অনিবাসীদের মূলধন লাভ (ধারা ১১৯-১২০) এবং লভ্যাংশ আয়ের (ধারা ১০২) ওপর উৎসে কর কর্তনের বাধ্যবাধকতা আরোপ করে, যা কর প্রতিপালনের সাপেক্ষে আইনগত প্রত্যাবাসনকে শর্তযুক্ত করে।
কোনো একক আইন একা নিতা পরিচালনা করে না; বরং বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণের উদারীকরণ, সিকিউরিটিজ বাজার পরিকাঠামো এবং কর প্রয়োগের সংযোগস্থলই নির্ধারণ করে যে বিদেশি পোর্টফোলিও মূলধন বাংলাদেশে পরিষ্কারভাবে প্রবেশ করতে, লেনদেন করতে এবং প্রস্থান করতে পারে কিনা। এই গবেষণাপত্রটি কাস্টোডিয়ান ব্যাংক, বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, অনিবাসী বাংলাদেশি (এনআরবি) এবং অন্তর্মুখী পোর্টফোলিও বিনিয়োগের রূপরেখাকারী কর্পোরেট আইনজীবীদের প্রয়োজনীয় সম্পূর্ণ পদ্ধতিগত রোডম্যাপ, বিচারিক পূর্বদৃষ্টান্ত বিশ্লেষণ, নথিপত্র চেকলিস্ট এবং ঝুঁকি হ্রাসের কাঠামো প্রদান করে।
ধারা ১: বাংলাদেশে পোর্টফোলিও মূলধনের নিয়ন্ত্রক কাঠামো
১.১ অনিবাসী ইক্যুইটি অংশগ্রহণের ঐতিহাসিক বিবর্তন
বাংলাদেশের মূলধন হিসাব ঐতিহাসিকভাবে FERA 1947-এর অধীনে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত ছিল। এই আইনটি অবিভক্ত ভারতের যুদ্ধকালীন বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত এবং শুধুমাত্র ক্রমবর্ধমান উদারীকরণের সাথে স্বাধীনতার পরেও বহাল রাখা হয়েছে। ১৯৯০-এর দশকের শুরু পর্যন্ত, তালিকাভুক্ত বাংলাদেশি কোম্পানিতে অনিবাসী ইক্যুইটি অংশগ্রহণের জন্য প্রতিটি আন্তঃপ্রবাহ এবং পরবর্তী প্রতিটি প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের বিচক্ষণ ও কেস-ভিত্তিক অনুমোদনের প্রয়োজন হতো। ১৯৯০-এর দশকে জিএফইটি অধ্যায় ১৪-এর অধীনে নিতা ব্যবস্থার প্রবর্তন একটি কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রতিনিধিত্ব করে: প্রতিটি লেনদেন আলাদাভাবে অনুমোদন করার পরিবর্তে, বাংলাদেশ ব্যাংক লেনদেনের একটি শ্রেণিকে পূর্ব-অনুমোদিত করে—পোর্টফোলিও বিনিয়োগের জন্য অভ্যন্তরীণ রেমিট্যান্স, সেকেন্ডারি মার্কেটে লেনদেন এবং বিক্রিয়লব্ধ অর্থ/লভ্যাংশ প্রত্যাবাসন—শর্ত থাকে যে সেগুলো একচেটিয়াভাবে একটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত অনুমোদিত ডিলার (AD) ব্যাংকে খোলা নির্ধারিত অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রবাহিত হয়।
এফই সার্কুলার নং ২৪/২০২১ (দূরবর্তী/ইলেকট্রনিক নিতা অনবোর্ডিং অনুমোদন) এবং এফই সার্কুলার নং ০২/২০১৯ (বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন ছাড়াই এডি-গুলোর কাছে বহির্মুখী রেমিট্যান্সের ক্ষমতা অর্পণ) দিয়ে শুরু হওয়া ডিজিটাইজেশন তরঙ্গ বিকেন্দ্রীকৃত, এডি-পরিচালিত প্রতিপালনের দিকে একটি নীতিগত গতিপথকে প্রতিফলিত করে—তবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণভাবে, পদ্ধতির বিকেন্দ্রীকরণ হলো বিষয়ের deregulation বা নিয়ন্ত্রণমুক্তি নয়। FERA 1947-এর অন্তর্নিহিত সংবিধিবদ্ধ নিষেধাজ্ঞাগুলো সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে; কেবল প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের কাজটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাউন্টার থেকে বাণিজ্যিক অনুমোদিত ডিলারদের কমপ্লায়েন্স ডেস্কের দিকে স্থানান্তরিত হয়েছে।
১.২ নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কাঠামোগত সংযোগস্থল
বাংলাদেশে বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগের জন্য কোনো একক জানালা নেই। একজন বিনিয়োগকারীকে একই সাথে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো পূরণ করতে হবে:
- বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণের পরিধি — কোন মুদ্রার চলাচল আইনসম্মত তা নিয়ন্ত্রণ করে;
- বিএসইসি-র বাজার আচরণ এবং ডিপোজিটরি পরিধি — কোন সিকিউরিটিজ লেনদেন আইনসম্মত এবং কীভাবে সেগুলো কাস্টোডিতে রাখা হয় তা নিয়ন্ত্রণ করে; এবং
- এনবিআর-এর রাজস্ব পরিধি — প্রত্যাবাসনের পূর্বে লাভ ও আয়ের কত অংশ করযোগ্য তা নিয়ন্ত্রণ করে।
জিএফইটি-এর অধীনে একটি লেনদেন নিখুঁতভাবে আইনসম্মত হওয়া সত্ত্বেও যদি ITA 2023-এর উৎসে করের প্রয়োজনীয়তার সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তবে তা এডি ব্যাংকের রেমিট্যান্স ডেস্কে অবরুদ্ধ হবে। বিপরীতভাবে, কর আইনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ কিন্তু নিতায় অননুমোদিত অভ্যন্তরীণ ক্রেডিট দ্বারা অর্থায়নকৃত কোনো লেনদেন বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে শুরু থেকেই বাতিল (void ab initio) বলে গণ্য হবে। তাই আইনজীবীকে অবশ্যই একই সাথে এই তিনটি নিয়ন্ত্রক দৃষ্টিভঙ্গির সাপেক্ষে প্রতিটি নিতা লেনদেন নিরীক্ষা করতে হবে।
১.৩ সংবিধিবদ্ধ ব্যতিক্রম হিসেবে নিতার আইনি কাঠামো
জিএফইটি ভলিউম-১, অধ্যায় ১৪, অনুচ্ছেদ ২৪ নিতার অনুমোদিত পরিধি সংজ্ঞায়িত করে: এটি শুধুমাত্র (ক) রূপান্তরযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রার অভ্যন্তরীণ রেমিট্যান্স, (খ) একই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে কেনা সিকিউরিটিজের বিক্রিয়লব্ধ অর্থ, এবং (গ) উক্ত সিকিউরিটিজ থেকে অর্জিত লভ্যাংশ/সুদ দিয়ে ক্রেডিট করা যেতে পারে। অনুচ্ছেদ ২৫ ডেবিট দিকটিকে নিয়ন্ত্রণ করে—যা শেয়ার ক্রয়, আইপিও সাবস্ক্রিপশন, ব্রোকারেজ এবং কাস্টডি ফি পরিশোধ এবং হিসাবের স্থিতি বহির্মুখী রেমিট্যান্সের অনুমতি দেয়। এই ক্লোজড-লুপ ডিজাইন হলো সেই সংবিধিবদ্ধ সুরক্ষা যা নিতাকে অননুমোদিত মূলধন পলায়ন বা অর্থ পাচারের মাধ্যমে পরিণত হতে বাধা দেয়: তহবিল কেবল সেই চরিত্রেই (বৈদেশিক মুদ্রা থেকে উদ্ভূত) প্রস্থান করতে পারে যেটিতে এটি প্রবেশ করেছিল।
১.৪ বিনিয়োগকারীর শ্রেণিবিভাগ
অনিবাসী বিনিয়োগকারীদের তিনটি শ্রেণি নিতা কাঠামোর সাথে যোগাযোগ করে, যার প্রতিটির স্বতন্ত্র দলিলগত ও করের ফলাফল রয়েছে:
- অনিবাসী বাংলাদেশি (এনআরবি): বাংলাদেশি নাগরিক বা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তিরা যারা বিদেশে বসবাস করেন, তাঁরা প্রায়শই আইপিও কোটা বরাক্সে বিশেষ সুবিধার সুযোগ পান তবে সেকেন্ডারি মার্কেট লেনদেনের ক্ষেত্রে তাঁরা এখনও পূর্ণ ITA 2023 মূলধন লাভ বিধানের অধীন।
- বিদেশি নাগরিক (ব্যক্তিগত): ব্যক্তিগত সক্ষমতায় বিনিয়োগকারী অ-বাংলাদেশি নাগরিক, বিএফআইইউ সার্কুলার নং ২৬-এর অধীনে আদর্শ কেওয়াইসি/এএমএল (KYC/AML) যাচাই-বাছাইয়ের অধীন।
- বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী (FIIs/QIIs): কর্পোরেট বা তহবিল সত্তা (অ্যাসোম ম্যানেজার, সার্বভৌম সম্পদ তহবিল, পেনশন তহবিল) সাধারণত অমনিবাস কাস্টডি কাঠামোর মাধ্যমে পরিচালিত হয়, যা ITA 2023-এর ধারা ১১৯/১২০-এর অধীনে কর্পোরেট উৎসে কর হারের অধীন এবং প্রায়শই দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি (DTAA) ত্রাণের জন্য যোগ্য।
ধারা ২: এনআইটিএ (NITA) প্রতিষ্ঠা — আইনি শর্তাবলী এবং কাঠামোগত সেটআপ
২.১ অনুমোদিত ডিলার কাস্টোডিয়ান ব্যাংক নির্বাচন এবং বহাল রাখা
প্রাথমিক ধাপটি হলো— বাংলাদেশ ব্যাংক-স্বীকৃত অনুমোদিত ডিলার (Authorized Dealer - AD), যিনি একই সাথে বিএসইসি (BSEC)-এর নিকট কাস্টোডিয়ান হিসেবে নিবন্ধিত, তার সাথে একটি গ্লোবাল কাস্টডি এগ্রিমেন্ট (প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য) অথবা একটি সরলীকৃত কাস্টডি অ্যাকাউন্ট এগ্রিমেন্ট (ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের জন্য) সম্পাদন করা। প্রতিটি এডি (AD) ব্যাংক কাস্টোডিয়াল নিবন্ধনের অধিকারী নয়; অনবোর্ডিং শুরু করার পূর্বে আইনজীবীকে অবশ্যই ব্যাংকটির দ্বৈত লাইসেন্সিং (dual licensing) এর অবস্থা যাচাই করতে হবে, কারণ কেবল কাস্টোডিয়ান-লাইসেন্সপ্রাপ্ত এডি ব্যাংকগুলোই এনআইটিএ-এর পাশাপাশি এর সাথে সংযুক্ত সিডিবিএল (CDBL) বিও (BO) হিসাব পরিচালনা করতে পারে।
কাস্টডি চুক্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকা উচিত: (i) সিকিউরিটিজ লেনদেন গ্রহণ, ধারণ এবং নির্দেশনা প্রদানে কাস্টোডিয়ানের অর্পিত ক্ষমতার পরিধি; (ii) হেফাজত (safekeeping), লেনদেন প্রক্রিয়াকরণ এবং কর্পোরেট অ্যাকশন পরিচালনার জন্য ফি-এর তফসিল; (iii) settlement বা নিষ্পত্তিতে ব্যর্থতার জন্য ক্ষতিপূরণ (indemnity) এবং দায়বদ্ধতা বন্টন; এবং (iv) যেকোনো রিমিট্যান্স বা অর্থ প্রত্যাবাসনের (repatriation) নির্দেশনার পূর্বে কর কর্তন সংক্রান্ত বিধিবিধান প্রতিপালন যাচাই করার কাস্টোডিয়ানের বাধ্যবাধকতা—একটি দায়িত্ব যা ধারা ৬-এ আলোচিত বিচারিক পূর্বদৃষ্টান্ত অনুসারে, চুক্তিতে দায়মুক্তির ঘোষণা থাকা সত্ত্বেও কাস্টোডিয়ানের ওপর বর্তায়।
২.২ সংবিধিবদ্ধ কেওয়াইসি (KYC) / এএমএল (AML) যাচাইকরণ
মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (Money Laundering Prevention Act, 2012), সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ (Anti-Terrorism Act, 2009) এবং বিএফআইইউ সার্কুলার নং ২৬ (BFIU Circular No. 26)-এর অধীনে প্রতিটি এনআইটিএ আবেদনকারীকে বর্ধিত পরিচর্যা বা এনহ্যান্সড ডিউ ডিলিজেন্স (enhanced due diligence) সম্পন্ন করতে হবে, যার নির্দেশাবলীতে রয়েছে:
- পাসপোর্টের সত্যায়িত অনুলিপি এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, অনাবresident (non-resident) বা প্রবাসী মর্যাদা প্রমাণকারী বৈধ ভিসা/বসবাসের প্রমাণপত্র;
- প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য: ইনকর্পোরেশনের সার্টিফিকেট (Certificate of Incorporation), সংঘস্মারক ও সংঘবিধি (Memorandum and Articles of Association - বা সমতুল্য সাংবিধানিক দলিল), এবং একটি বোর্ড রেজোলিউশন যা বিশেষভাবে এনআইটিএ খোলা, ডিএসই (DSE)-তে ট্রেডিং করা এবং অর্থ প্রত্যাবাসনের অনুমোদন দেয়;
- চূড়ান্ত সুফলভোগী মালিকের (Ultimate Beneficial Owner - UBO) ঘোষণা, যেখানে বিনিয়োগকারী সত্তার ১০% বা ততোধিক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ইকুইটি/নিয়ন্ত্রণকারী স্বার্থ ধারণকারী যেকোনো প্রাকৃতিক ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করতে হবে;
- তহবিলের উৎসের ঘোষণা (Source-of-funds declarations), বিশেষ করে যখন আন্তঃপ্রবাহ বা ইনওয়ার্ড রেমিন্ট্যান্সটি এফএটিএফ (FATF) এর ধূসর/কালো তালিকাভুক্ত (grey/black lists) কোনো দেশের মাধ্যমে আসে।
বাংলাদেশের বাইরে সম্পাদিত দলিলপত্রসমূহের ক্ষেত্রে সাধারণত নিজ দেশের এখতিয়ারে নোটারাইজেশন এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ দূতাবাস/হাইকমিশন কর্তৃক তা সত্যায়িত করতে হবে এবং আমমোক্তারনামার (Powers of Attorney) ক্ষেত্রে ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (MoFA) কর্তৃক পরবর্তীতে কাউন্টার-সিগনেচার বা প্রতিস্বাক্ষর করিয়ে নিতে হবে—যাচাইকরণের এই শৃঙ্খল বা চেইনে ব্যর্থতা অনবোর্ডিং বিলম্বিত হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ (ধারা ৬.৩ দ্রষ্টব্য)।
২.৩ এফই সার্কুলার নং ২৪/২০২১ এর অধীনে ডিজিটাল অনবোর্ডিং বিধানাবলী
এফই সার্কুলার নং ২৪ (২০২১) এডি ব্যাংকগুলোকে কেওয়াইসি (KYC) ডকুমেন্টেশনের ইলেকট্রনিক জমা গ্রহণ করতে এবং বিনিয়োগকারীর সশরীরে বাংলাদেশে উপস্থিতি ছাড়াই এনআইটিএ অনবোর্ডিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার অনুমোদন দিয়েছে। এই শিথিলকরণ অফশোর কাস্টোডিয়াল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালিত প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অনবোর্ডিংয়ের সময়সীমাকে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করেছে, তবে এটি অন্তর্নিহিত মূল কেওয়াইসি/এএমএল (KYC/AML) মানদণ্ডকে শিথিল করে না—এটি কেবল জমার মাধ্যমটিকে ডিজিটাল করার অনুমতি দেয়। নথিপত্রের সত্যতা যাচাই করার সম্পূর্ণ দায় এডি ব্যাংকগুলোর ওপরই বর্তায় এবং অনেকে ইলেকট্রনিক মাধ্যমে জমা দেওয়ার পরেও সাংবিধানিক নথিপত্রের জন্য ওয়েট-ইঙ্ক নোটারাইজেশন/অ্যাপোস্টিল (wet-ink notarization/apostille) চাওয়া অব্যাহত রেখেছে।
২.৪ অনুমোদিত বনাম দূষিত ক্রেডিট তত্ত্ব (The Doctrine of Permitted vs. Tainted Credits)
এনআইটিএ প্রশাসনের একক সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল শৃঙ্খলা হলো জিএফইটি (GFET) অধ্যায় ১৪, অনুচ্ছেদ ২৪ এর অধীনে "অনুমোদিত ক্রেডিট" (permitted credit) মতবাদ কঠোরভাবে অনুসরণ করা। একটি এনআইটিএ-তে শুধুমাত্র নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর ক্রেডিট বা জমা প্রদান করা যেতে পারে:
- SWIFT MT103 এর মাধ্যমে রূপান্তরযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রায় ইনওয়ার্ড রেমিন্ট্যান্স, যার প্রমাণস্বরূপ বৈদেশিক মুদ্রা এনক্যাসমেট সার্টিফিকেট (Foreign Currency Encashment Certificate) থাকতে হবে;
- একই এনআইটিএ-র মাধ্যমে ক্রয়কৃত এবং সিডিবিএল (CDBL) এর মাধ্যমে সুরাহাকৃত সিকিউরিটিজের মোট বিক্রয়লব্ধ অর্থ;
- সংযুক্ত বিও (BO) হিসাবে রক্ষিত সিকিউরিটিজের লভ্যাংশ, সুদ বা মূলধন রিটার্ন।
অন্য যেকোনো ক্রেডিট—যেমন দেশীয় ভাড়ার আয়, বাংলাদেশে অর্জিত কনসালটেন্সি ফি, নগদ জমা বা আবাসিক টাকা অ্যাকাউন্ট থেকে আন্তঃহিসাব স্থানান্তর—হিসাবটিকে দূষিত (contaminates) করে। জিএফইটি অধ্যায় ১৪, অনুচ্ছেদ ২৪(সি) এর অধীনে, দূষিত স্থিতি বা ব্যালেন্সের প্রত্যাবাসন ব্লক করা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা অপারেশন বিভাগকে (FEOD) অনিয়মের বিষয়টি রিপোর্ট করা এডি ব্যাংকের সংবিধিবদ্ধ বাধ্যবাধকতা। এটি কোনো স্বেচ্ছাধীন কমপ্লায়েন্স পছন্দ নয়; এটি একটি বাধ্যতামূলক রিপোর্টিং বাধ্যবাধকতা যার লঙ্ঘন FERA 1947 এর ধারা ২৩ এর অধীনে এডি ব্যাংককেই শাস্তির মুখোমুখি করে।
ধারা ৩: ডিপোজিটরি ইন্টিগ্রেশন, সিকিউরিটিজ ব্রোকারেজ ও ডিএসই (DSE)-তে ট্রেডিং
৩.১ সিডিবিএল বাই-লস এবং অ-আবাসিক সুবিধাভোগী মালিক (বিও) হিসাব
ডিপোজিটরি আইন, ১৯৯৯ (Depository Act, 1999) কার্যকর হওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশে শারীরিক শেয়ার সার্টিফিকেট সম্পূর্ণরূপে ডিমেটেরিয়ালাইজড বা ইলেকট্রনিক রূপান্তর করা হয়েছে। প্রতিটি এনআইটিএ ধারককে অবশ্যই সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (CDBL)-এর সাথে একই সাথে একটি সুবিধাভোগী মালিক (BO) হিসাব বজায় রাখতে হবে, যা ডিপোজিটরি পার্টিসিপ্যান্ট (DP) হিসেবে কাজ করা কাস্টোডিয়ান ব্যাংকের মাধ্যমে খোলা হয়। সিডিবিএল বাই-ল ৭.৩ এবং ৭.৪ নির্দেশ করে যে অ-আবাসিক বিও হিসাবগুলোকে বিশেষভাবে "বিদেশী" (Foreign) বা "এনআরবি" (NRB) হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করতে হবে এবং—গুরুত্বপূর্ণভাবে—এই জাতীয় প্রতিটি বিও হিসাবকে একক নির্দিষ্ট এনআইটিএ-র সাথে নন-ফাঙ্গিবলি সংযুক্ত (non-fungibly linked) থাকতে হবে। এই এক থেকে এক (one-to-one) সংযোগটি হলো সেই কাঠামোগত পদ্ধতি যার মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সিডিবিএল যৌথভাবে ধারা ২.৪-এ বর্ণিত ক্লোজড-লুপ ফান্ড সেগ্রিগেশন প্রয়োগ করে: একটি নির্দিষ্ট এনআইটিএ-র তহবিল দিয়ে ক্রয়কৃত সিকিউরিটিজগুলো তদনুযায়ী সংযুক্ত বিও হিসাবে রেকর্ড করা হয় এবং ওই বিও হিসাব থেকে প্রাপ্ত বিক্রয়লব্ধ অর্থ কেবল একই এনআইটিএ-তে জমা করা যেতে পারে।
৩.২ ত্রিপক্ষীয় আদেশ: বিনিয়োগকারী, কাস্টোডিয়ান এবং ডিএসই ব্রোকার
বাণিজ্য বা লেনদেন সম্পাদনের জন্য একটি ত্রিপক্ষীয় সম্পর্ক প্রয়োজন। বিনিয়োগকারী (বা এর নিযুক্ত বিনিয়োগ ব্যবস্থাপক) বিএসইসি (স্টক ব্রোকার, স্টক ডিলার এবং অনুমোদিত প্রতিনিধি) প্রবিধান, ২০০০-এর অধীনে নিযুক্ত ডিএসই-লাইসেন্সপ্রাপ্ত স্টকব্রোকারের কাছে ক্রয়/বিক্রয়ের নির্দেশ জারি করে। ব্রোকার ডিএসই ট্রেডিং ইঞ্জিনে আদেশটি কার্যকর করে, কিন্তু সেটেলমেন্ট বা নিষ্পত্তি—নগদের বিনিময়ে সিকিউরিটিজের প্রকৃত আদান-প্রদান—কাস্টোডিয়ান ব্যাংকের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়, যার এনআইটিএ এবং সংযুক্ত বিও হিসাব উভয়টির ওপরই স্বাক্ষর করার ক্ষমতা থাকে। সর্বোত্তম অনুশীলন বা বেস্ট প্র্যাকটিস হলো সমস্ত ব্রোকার নির্দেশ একই সাথে কাস্টোডিয়ানকে প্রদান করা যাতে একটি সমসাময়িক অডিট ট্রেইল বজায় থাকে, বিশেষ করে ধারা ৬-এ আলোচনা করা কাস্টোডিয়ান ব্যাংকগুলির ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতার ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে।
৩.৩ সেকেন্ডারি বাজারের মেকানিক্স: ক্লিয়ারিং এবং সেটেলমেন্ট
ডিএসই-তালিকাভুক্ত ইক্যুইটিগুলো একটি রোলিং ভিত্তিতে নিষ্পত্তি হয়: ক্যাটগরী এ, বি এবং এন শেয়ারের জন্য টি+২ (T+2), এবং ক্যাটগরী জেড শেয়ারের (শাসনব্যবস্থা বা আর্থিক অনিয়মের জন্য নিয়ন্ত্রক পরীক্ষার অধীনে থাকা কোম্পানি) জন্য টি+৩ থেকে টি+৭ (T+3 to T+7)। ট্রেড এক্সিকিউশন বা লেনদেন সম্পাদনের পর:
- একটি ক্রয়ের (purchase) ক্ষেত্রে: কাস্টোডিয়ান ব্যাংক মোট বিবেচনা মূল্য বা গ্রস কনসিডারেশন প্লাস ব্রোকারেজ কমিশন এবং প্রযোজ্য নিয়ন্ত্রক লেভি (ডিএসই লেনদেন ফি, সিডিবিএল ফি, স্থানান্তরের ওপর স্ট্যাম্প শduty) বাবদ এনআইটিএ ডেবিট করে এবং সিডিবিএলের ইলেকট্রনিক সেটেলমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট শেয়ারগুলো সংযুক্ত বিও হিসাবে জমা করা হয়।
- একটি বিক্রয়ের (sale) ক্ষেত্রে: বিও হিসাব থেকে শেয়ার ডেবিট করা হয় এবং নিট নগদ অর্থ (গ্রস বিক্রয় মূল্য থেকে ব্রোকারেজ কমিশন এবং লেভি বাদ দিয়ে) সরাসরি এনআইটিএ-তে জমা করা হয়।
কাস্টোডিয়ান ব্যাংকগুলো প্রতিটি সেটেলমেন্টের তারিখে সংযুক্ত বিও হিসাবে ডিমেটেরিয়ালাইজড শেয়ার পজিশনের বিপরীতে এনআইটিএ-তে ক্যাশ ব্যালেন্স বা নগদ স্থিতি মেলবন্ধন করবে বলে আশা করা হয়, এমন একটি শৃঙ্খলা যা অননুমোদিত "নগ্ন" (naked) পজিশন প্রতিরোধ করে এবং পরবর্তীতে কর ও প্রত্যাবাসন যাচাইকরণের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যগত ট্রেইল সরবরাহ করে।
৩.৪ কর্পোরেট অ্যাকশন হ্যান্ডলিং
অ-আবাসিকদের হোল্ডিংকে প্রভাবিত করে এমন কর্পোরেট অ্যাকশন—যেমন বোনাস শেয়ার ইস্যু, স্টক স্প্লিট, রাইটস এনটাইটেলমেন্ট এবং বিএসইসি (পাবলিক ইস্যু) বিধিমালা, ২০১৫ এর অধীনে প্রাইমারি মার্কেট আইপিও সাবস্ক্রিপশন—প্রক্রিয়াকরণের জন্যও কাস্টোডিয়ান দায়ী। বোনাস শেয়ার এবং স্টক স্প্লিট সাধারণত নগদ লেনদেন ছাড়াই সিডিবিএলের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রক্রিয়া করা হয়, অন্যদিকে রাইটস ইস্যু এবং আইপিও সাবস্ক্রিপশনের জন্য উপরে আলোচিত একই অনুমোদিত-ডেবিট মত সাপেক্ষে নতুন এনআইটিএ ডেবিট প্রয়োজন হয়। আইপিওতে অংশগ্রহণকারী অ-আবাসিক বিনিয়োগকারীদের অতিরিক্তভাবে সংশ্লিষ্ট প্রসপেক্টাসে নির্দিষ্ট করা যেকোনো বৈদেশিক কোটা সীমাবদ্ধতা মেনে চলতে হবে।
ধারা ৪: ইনকাম ট্যাক্স অ্যাক্ট, ২০২৩ (ITA 2023)-এর অধীনে অনাবresident ইকুইটির জন্য কর কাঠামো
৪.১ মূলধনী লাভ করের বাধ্যবাধকতা — ধারা ১১৯ এবং ১২০
ইনকাম ট্যাক্স অ্যাক্ট, ২০২৩ (Income Tax Act, 2023)-এর বিধান অনুযায়ী অনাবাসীদের প্রদত্ত পেমেন্টের ওপর উৎস কর কর্তনের বিধান রয়েছে, যার মধ্যে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজ বিক্রয়ের মাধ্যমে অর্জিত মূলধনী লাভও অন্তর্ভুক্ত। ধারা ১১৯ অনাবাসীদের পেমেন্টের জন্য সাধারণ উৎস কর (withholding) কাঠামো প্রতিষ্ঠা করে, অন্যদিকে ধারা ১২০ মূলধনী লাভসহ অনাবাসী আয়ের সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়াকরণ নিয়ে আলোচনা করে। প্রযোজ্য হার—প্রাতিষ্ঠানিক অনাবাসী মূলধনী লাভের ক্ষেত্রে যা সাধারণত প্রায় ১০% হিসেবে উদ্ধৃত হয় এবং যা পর্যায়ক্রমিক অর্থ আইন (Finance Act) সংশোধন সাপেক্ষে পরিবর্তিত হয়—বিনিয়োগকারীর শ্রেণিবিভাগের ওপর নির্ভর করে:
- বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক/কর্পোরেট বিনিয়োগকারী: মূলধনী লাভের ওপর সংবিধিবদ্ধ কর্পোরেট অনাবাসী হারে উৎস কর কর্তনের আওতাধীন, যদি না কোনো বৈধ ডিটিএএ (DTAA) দাবির কারণে হার হ্রাস পায়।
- ব্যক্তিগত অনাবাসী/এনআরবি (NRBs): কার্যকর অর্থ আইন দ্বারা সংশোধিত ITA 2023-এর সাধারণ বিধানসমূহের অধীন; সাম্প্রতিক আইনি প্রবণতাগুলো সংবিধিবদ্ধ সীমার বেশি লাভের ওপর উৎস থেকে কর্তনের (deduction-at-source) দিকে ধাবিত হয়েছে, যা ব্যক্তিগত সেকেন্ডারি-মার্কেট লাভের জন্য পূর্ববর্তী সাধারণ অব্যাহতির ব্যবস্থাকে প্রতিস্থাপন করেছে।
আইনজীবীদের প্রতিটি লেনদেনের সময় বর্তমান অর্থ আইনের হার সিডিউল নিশ্চিত করতে হবে, কারণ তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজের জন্য মূলধনী লাভ করের প্রক্রিয়াকরণ বারবার আইনি সংশোধনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
৪.২ লভ্যাংশ কর — ধারা ১০২
ডিএসই (DSE)-তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো কর্তৃক অনাবাসী শেয়ারহোল্ডারদের পরিশোধিত লভ্যাংশ ITA 2023-এর ধারা ১০২ অনুযায়ী উৎসে কর কর্তনের আওতাধীন। বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক ফান্ডস ট্রান্সফার নেটওয়ার্কের (BEFTN) মাধ্যমে সরাসরি এনআইটিএ (NITA)-তে বিতরণের পূর্বে পরিশোধকারী কোম্পানি কর্তৃক এই কর কর্তন করা হয়। ফলে এনআইটিএ সাধারণত কর বাদে (net of tax) লভ্যাংশ ক্রেডিট পেয়ে থাকে, যা কাস্টোডিয়ানের প্রত্যাবাসন যাচাইকরণকে সহজ করে তোলে কারণ লভ্যাংশ অংশের ওপর আর কোনো কর কর্তন মূল্যায়নের প্রয়োজন হয় না (যদি না কোনো চুক্তিভিত্তিক রিক্লেইম বা প্রত্যর্পণের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়)।
৪.৩ দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি (DTAAs)
বাংলাদেশ যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া এবং অন্যান্য বিচারব্যবস্থার সাথে ITA 2023-এর ধারা ১৪৪ অনুসারে সম্পাদিত দ্বিপক্ষীয় দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি (DTAAs)-র একটি ক্রমবর্ধমান নেটওয়ার্ক বজায় রাখে। যে অনাবাসী বিনিয়োগকারী চুক্তিভিত্তিক কর রেয়াত দাবি করেন, তাকে নিজ দেশের কর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ইস্যুকৃত একটি বৈধ ট্যাক্স রেসিডেন্সি সার্টিফিকেট (TRC) এবং সাধারণত এনবিআর (NBR)-এর নিকট দাখিলকৃত চুক্তিভিত্তিক সুবিধা-সংক্রান্ত ঘোষণা প্রদান করতে হবে। চুক্তিটিতে যদি অভ্যন্তরীণ সংবিধিবদ্ধ হারের চেয়ে কম মূলধনী লাভ বা লভ্যাংশ উৎস করের হার প্রদান করা হয়, তবে কাস্টোডিয়ান ব্যাংক—তার কর উপদেষ্টা ফাংশনের মাধ্যমে—এনবিআর কর্তৃক টিআরসি (TRC)-এর বৈধতা গ্রহণ সাপেক্ষে উৎসে হ্রাসকৃত হার প্রয়োগ করে।
৪.৪ সংবিধিবদ্ধ নিরীক্ষকের ভূমিকা
যেকোনো উল্লেখযোগ্য প্রত্যাবাসনের পূর্বে—বিশেষ করে সম্পূর্ণ বা আংশিক মূলধন বিনিয়োগ প্রত্যাহার (disinvestment)-এর ক্ষেত্রে—কাস্টোডিয়ান ব্যাংক সাধারণত বিএসইসি (BSEC)/বাংলাদেশ ব্যাংক-তালিকাভুক্ত চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্সি ফার্ম কর্তৃক ইস্যুকৃত সংবিধিবদ্ধ নিরীক্ষকের রেমিট্যান্স সার্টিফিকেট দাবি করে। এই সার্টিফিকেট স্বাধীনভাবে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো যাচাই করে: (ক) বিক্রিত শেয়ারের মূল ক্রয়মূল্যের ভিত্তি; (খ) স্থূল এবং নিট বিক্রয়লব্ধ অর্থ; (গ) গণনাকৃত এবং কর্তনকৃত মূলধনী লাভ কর; এবং (ঘ) এই নিশ্চয়তা প্রদান যে, লেনদেনের শৃঙ্খলে দেশীয় উৎস থেকে প্রাপ্ত কোনো তহবিল মিশ্রিত হয়নি। এই নিরীক্ষক সার্টিফিকেটটি এডি (AD) ব্যাংকের নিজস্ব কমপ্লায়েন্স ফাইল এবং পরবর্তী যেকোনো এনবিআর নিরীক্ষার জন্য একটি সাক্ষ্যমূলক মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
ধারা ৫: বহির্মুখী মূলধন এবং লভ্যাংশ প্রত্যাবাসনের আইনি প্রক্রিয়া
৫.১ এফই সার্কুলার নং ০২/২০১৯ — বিকেন্দ্রীকৃত প্রত্যাবাসন কর্তৃপক্ষ
২০১৯ সালের পূর্বে, এনআইটিএ থেকে বিক্রয়লব্ধ অর্থের বহির্মুখী রেমিট্যান্সের জন্য প্রতিটি লেনদেনের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনের প্রয়োজন হতো—এটি এমন এক প্রতিবন্ধকতা ছিল যা প্রাতিষ্ঠানিক পোর্টফোলিও প্রবাহকে ব্যাপকভাবে নিরুৎসাহিত করেছিল। এফই সার্কুলার নং ০২ (২০১৯) এই অনুমোদনের ক্ষমতা সরাসরি এডি (AD)-দের কাছে অর্পণ করেছে, যার ফলে কাস্টোডিয়ান ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন ছাড়াই তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজের বিক্রয়লব্ধ অর্থের বহির্মুখী রেমিট্যান্স সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছে। শর্ত হলো এডি-কে নিজস্বভাবে যাচাই করতে হবে যে (ক) তহবিলের উৎস (এককভাবে অনুমোদিত এনআইটিএ ক্রেডিট থেকে উৎসারিত) এবং (খ) কর কর্তন কমপ্লায়েন্স যথাযথ আছে। এই ক্ষমতা অর্পণ আধুনিক এনআইটিএ ব্যবস্থার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উদারীকরণ, তবে বিচারিকভাবে যেমনটি নিশ্চিত করা হয়েছে (নিচের ধারা ৬.২ দ্রষ্টব্য), এটি কমপ্লায়েন্সের বোঝা দূর না করে কেবল এর দায়িত্ব স্থানান্তর করে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিচক্ষণতা থেকে সরিয়ে এডি-র নিজস্ব নিয়ন্ত্রক সম্মুখীনতার (regulatory exposure) ওপর ন্যস্ত করে।
৫.২ ধাপে ধাপে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া
- প্রত্যাবাসন নির্দেশনা: বিনিয়োগকারী (অথবা তার অনুমোদিত স্বাক্ষরকারী/পাওয়ার অব অ্যাটর্নি ধারক) কাস্টোডিয়ান ব্যাংকের নিকট একটি আনুষ্ঠানিক লিখিত প্রত্যাবাসন অনুরোধ জমা দেন, যেখানে পরিমাণ, মুদ্রা এবং গন্তব্য অ্যাকাউন্টের বিবরণ উল্লেখ থাকে।
- এডি যাচাইকরণ: কাস্টোডিয়ানের কমপ্লায়েন্স ডেস্ক এনআইটিএ-র লেনদেন লেজারের বিপরীতে অনুরোধকৃত পরিমাণ ক্রস-চেক করে এবং নিশ্চিত করে যে তহবিলগুলো একচেটিয়াভাবে এসেছে (i) অব্যবহৃত মূল অভ্যন্তরীণ রেমিট্যান্স, (ii) যাচাইকৃত সেকেন্ডারি মার্কেট বিক্রয়লব্ধ অর্থ, অথবা (iii) কর-পরবর্তী লভ্যাংশ ক্রেডিট থেকে।
- কর কমপ্লায়েন্স নিশ্চিতকরণ: এডি নিশ্চিত করে যে ITA 2023-এর ধারা ১০২, ১১৯ এবং ১২০ এর অধীনে প্রযোজ্য উৎস কর কর্তন করা হয়েছে এবং বড় লেনদেনের ক্ষেত্রে ধারা ১৩৭-এর অধীনে এনবিআর কর ছাড়পত্র (Tax Clearance Certificate) সংগ্রহ করা হয়েছে।
- মুদ্রা রূপান্তর: এডি প্রচলিত আন্তঃব্যাংক/বাণিজ্যিক বিনিময় হারে যাচাইকৃত বিডিটি (BDT) স্থিতিটিকে অনুরোধকৃত বৈদেশিক মুদ্রায় রূপান্তর করে এবং সেই অনুযায়ী এনআইটিএ ডেবিট করে।
- সুইফট (SWIFT) সম্পাদন: এডি বিনিয়োগকারীর নির্ধারিত বৈদেশিক ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সুইফট এমটি১০৩ (SWIFT MT103)-এর মাধ্যমে বহির্মুখী ওয়্যার ট্রান্সফার সম্পন্ন করে।
- নিয়ন্ত্রক রিপোর্টিং: এডি একই সাথে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ রিপোর্টিং প্ল্যাটফর্ম (FXRP)-এর মাধ্যমে ফর্ম টিএম (বহির্মুখী রেমিট্যান্সের জন্য আবেদন) দাখিল করে, পরবর্তীতে জিএফইটি (GFET) খণ্ড ২ রিপোর্টিং সিডিউল অনুযায়ী, যা পরবর্তী মাসের ৭ তারিখের মধ্যে জমা দিতে হয়, এডি-র মাসিক সমন্বিত এনআইটিএ অপারেশন রিটার্নে এটি অন্তর্ভুক্ত করে।
৫.৩ অসম্পূর্ণ বিক্রয় চক্র পরিচালনা
যেখানে কোনো বিনিয়োগকারী মধ্যবর্তী নগদ স্থিতি প্রত্যাবাসন করতে চান—উদাহরণস্বরূপ, অব্যবহৃত অভ্যন্তরীণ রেমিট্যান্স যা সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করা হয়নি, বা হোল্ডিংPeriod-এর মধ্যে প্রাপ্ত লভ্যাংশ ক্রেডিট—সেক্ষেত্রে একই যাচাইকরণ প্রক্রিয়া প্রযোজ্য, তবে দলিলের বোঝা হালকা হয় কারণ কোনো মূলধনী লাভ গণনার প্রয়োজন হয় না। কাস্টোডিয়ানকে কেবল নিশ্চিত করতে হবে যে ক্রেডিটটির উৎস একটি অনুমোদিত ইনবউন্ড প্রবাহ থেকে এসেছে।
৫.৪ ক্রস-বর্ডার বিনিময় হার সমন্বয়
প্রাথমিক নগদ রূপান্তর (বৈদেশিক মুদ্রা থেকে বিডিটি) এবং প্রত্যাবাসন (বিডিটি থেকে বৈদেশিক মুদ্রা) উভয় ক্ষেত্রেই এডি-গণ তাদের নিজেদের বাণিজ্যিকভাবে উদ্ধৃত বিনিময় হার (বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদিত স্প্রে ব্যান্ডের মধ্যে) প্রয়োগ করে। বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করা উচিত যে নগদ রূপান্তরের তারিখ এবং প্রত্যাবাসনের তারিখের মধ্যকার বিনিময় হারের পরিবর্তন হলো এনআইটিএ-ভিত্তিক বিনিয়োগের একটি অন্তর্নিহিত, হেজ-অযোগ্য (non-hedgeable) বাজার ঝুঁকি, যা মূলধনী লাভ করের ঝুঁকি থেকে আলাদা এবং অতিরিক্ত।
ধারা ৬: বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ, কাস্টোডিয়াল দায়বদ্ধতা এবং কর ছাড়পত্র নিয়ন্ত্রণকারী বিচারিক দৃষ্টান্তসমূহ
৬.১ বাংলাদেশ ব্যাংক অ্যান্ড অ্যানাদার বনাম স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক অ্যান্ড আদার্স, ৫৮ ডিএলআর (এডি) ১৬২
আপিল বিভাগ নিশ্চিত করেছে যে এফইআরএ ১৯৪৭ (FERA 1947)-এর অধীনে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা ব্যাপক এবং কোনো ব্যতিক্রম ছাড়াই সমস্ত বাণিজ্যিক অনুমোদিত ডিলারদের (Authorized Dealers) জন্য বাধ্যতামূলক। এনআইটিএ-তে প্রয়োগ: কাস্টোডিয়ান ব্যাংকগুলো কোনো অনাবাসী বিনিয়োগকারীর সাথে কোনো ব্যক্তিগত ব্যবস্থার অধীনে সংবিধিবদ্ধ বহির্মুখী রেমিট্যান্সের শর্তগুলো চুক্তিগতভাবে মওকুফ করতে, পরিবর্তন করতে বা পাশ কাটিয়ে চলতে পারে না; তা করলে ব্যাংক এবং বিনিয়োগকারী উভয়েই ধারা ২৩-এর দণ্ডমূলক দায়বদ্ধতার সম্মুখীন হবে।
৬.২ সোনালী ব্যাংক বনাম আমিন
সচরাচর জিজ্ঞাস্য (FAQ)
◆ সম্পর্কিত প্র্যাকটিস গাইড ও বিশ্লেষণ
<li style="margin-bottom:12px; line-height:1.5;">
<a href="/en/bsec-corporate-governance-code-for-listed-companies-bn/" style="color:#C5A059; font-weight:600; text-decoration:none; font-size:14px; display:inline-block; transition:color 0.2s;">• BSEC Corporate Governance Code for Listed Companies</a>
</li>
<li style="margin-bottom:12px; line-height:1.5;">
<a href="/bn/partnership-deed-in-bangladesh-registration-under-partnership-act-1932-stamp-duty-dissolution-bn--1018/" style="color:#C5A059; font-weight:600; text-decoration:none; font-size:14px; display:inline-block; transition:color 0.2s;">• অংশীদারি চুক্তি বাংলাদেশ: অংশীদারি আইন ১৯৩২, স্ট্যাম্প ডিউটি ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া</a>
</li>
<li style="margin-bottom:12px; line-height:1.5;">
<a href="/bn/setting-up-branch-or-liaison-office-in-bangladesh-complete-bida-approval-compliance-roadmap-bn--1019/" style="color:#C5A059; font-weight:600; text-decoration:none; font-size:14px; display:inline-block; transition:color 0.2s;">• বাংলাদেশে ব্রাঞ্চ বা লিয়াজোঁ অফিস স্থাপন: বিডা অনুমোদন ও পূর্ণাঙ্গ আইনি প্রক্রিয়া</a>
</li>
<li style="margin-bottom:12px; line-height:1.5;">
<a href="/bn/directors-in-bangladesh-companies-fiduciary-duties-appointment-removal-liabilities-bn--1020/" style="color:#C5A059; font-weight:600; text-decoration:none; font-size:14px; display:inline-block; transition:color 0.2s;">• বাংলাদেশ কোম্পানিতে পরিচালক: আইনি দায়িত্ব, নিয়োগ, অপসারণ ও দায়বদ্ধতা</a>
</li>
নিটা (NITA) একাউন্ট আসলে কী?
নিটা (Non-Resident Investor's Taka Account) হলো প্রবাসী বাংলাদেশি এবং বিদেশি নাগরিকদের জন্য অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকে পরিচালিত একটি বিশেষ চলতি হিসাব, যার মাধ্যমে তারা বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে শেয়ার ও সিকিউরিজ কেনাবেচা করতে পারেন।
নিটা একাউন্ট খোলার জন্য কী কী কাগজপত্র প্রয়োজন?
পাসপোর্টের অনুলিপি, বৈধ ভিসার কপি বা দ্বৈত নাগরিকত্ব সনদ, পাসপোর্টের ছবি, এনআরবি (NRB) বা বিদেশি ঠিকানার প্রমাণপত্র এবং বৈদেশিক তহবিলের উৎস সংক্রান্ত নথিপত্র প্রয়োজন হয়।
নিটা একাউন্টের মাধ্যমে কি ডিএসই (DSE) এবং সিএসই (CSE)-তে বিনিয়োগ করা যায়?
হ্যাঁ, নিটা একাউন্টটি ব্রোকারেজ হাউজে রক্ষಿತ বিও (BO) একাউন্টের সাথে যুক্ত করে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (DSE) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (CSE)-এ তালিকাভুক্ত শেয়ার ও সিকিউরিজে বিনিয়োগ করা যায়।
শেয়ার বাজার থেকে অর্জিত লভ্যাংশ বা মুনাফা কীভাবে বিদেশে পাঠানো যায়?
জিএফইটি (GFET) বিধিমালা অনুযায়ী, শেয়ার বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ এবং লভ্যাংশ যথাযথভাবে কর পরিশোধ সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের মাধ্যমে সম্পূর্ণ আইনগত উপায়ে বিদেশে নিজ অ্যাকাউন্টে পাঠানো (Repatriation) যায়।
নিটা একাউন্ট কি শুধুমাত্র বৈদেশিক মুদ্রায় পরিচালিত হয়?
না, নিটা একাউন্টটি স্থানীয় মুদ্রায় (টাকায়) পরিচালিত হয়, তবে এই অ্যাকাউন্টে জমার জন্য বৈদেশিক মুদ্রা ব্যাংকের মাধ্যমে এনে স্থানীয় টাকায় রূপান্তর করতে হয়।
নিটা হিসাব পরিচালনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোন নীতিমালা প্রযোজ্য?
বাংলাদেশ ব্যাংকের 'Guidelines for Foreign Exchange Transactions' (GFET) এর ভলিউম ১ এর অধ্যায় ১৪ অনুযায়ী এই অ্যাকাউন্ট পরিচালনা এবং লেনদেন নিয়ন্ত্রিত হয়।