বিদেশি কর্মীদের জন্য বিডা ওয়ার্ক পারমিট ও ভিসা সংগ্রহের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া

বাংলাদেশে কর্পোরেট অভিবাসন এবং বিদেশি কর্মী নিয়োগের সামগ্রিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে একাধিক সরকারি সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত একটি জটিল ও সংবিধিবদ্ধ কাঠামো কঠোরভাবে অনুসরণ করা আবশ্যক। বিদেশি বিনিয়োগকারী, বহুজাতিক কর্পোরেশন এবং স্থানীয় যেসকল প্রতিষ্ঠান বিদেশি কারিগরি বিশেষজ্ঞ কিংবা ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের জনবল…

ID: 1076 4,507 words

উৎস ও যাচাইয়ের তথ্য

এই গাইডের বিশ্বাসযোগ্যতার সংকেত

এগুলো এই কনটেন্ট রেকর্ডের মেটাডেটা। এগুলো কোনো নির্দিষ্ট আইনি ফলাফল বা বর্তমান আইনের নিশ্চয়তা নয়।

স্ট্যাটিক প্রকাশনার জন্য প্রস্তুত
আইনি উৎসের রেফারেন্স
এই রেকর্ডে কোনো উৎস-রেফারেন্স দেওয়া নেই।
রেকর্ডের অবস্থা

সর্বশেষ পর্যালোচনার তারিখ রেকর্ড করা নেই

ইংরেজি-বাংলা জোড়া যাচাই করা

রেকর্ড আইডি: 1076

গুরুত্বপূর্ণ: এটি সাধারণ তথ্য, আইনি পরামর্শ নয়। আপনার পরিস্থিতির জন্য যোগ্য আইনজীবীর পরামর্শ নিন এবং সরকারি প্রকাশনা যাচাই করুন।

দ্রুত ধারণা

নির্বাহী সারসংক্ষেপ

বাংলাদেশে কর্পোরেট অভিবাসন এবং বিদেশি কর্মী নিয়োগের সামগ্রিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে একাধিক সরকারি সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত একটি জটিল ও সংবিধিবদ্ধ কাঠামো কঠোরভাবে অনুসরণ করা আবশ্যক। বিদেশি বিনিয়োগকারী, বহুজাতিক কর্পোরেশন এবং স্থানীয় যেসকল প্রতিষ্ঠান বিদেশি কারিগরি বিশেষজ্ঞ কিংবা ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের জনবল…

বিষয় foreign investment
পড়ার সময় প্রায় 21 মিনিট
সর্বশেষ তারিখ রিভিউ অপেক্ষমাণ
English Edition Looking for the authoritative English legal edition?
Read English Guide →

নির্বাহী সারসংক্ষেপ ও সাধারণ পর্যালোচনা

বাংলাদেশে কর্পোরেট অভিবাসন এবং বিদেশি কর্মী নিয়োগের সামগ্রিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে একাধিক সরকারি সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত একটি জটিল ও সংবিধিবদ্ধ কাঠামো কঠোরভাবে অনুসরণ করা আবশ্যক। বিদেশি বিনিয়োগকারী, বহুজাতিক কর্পোরেশন এবং স্থানীয় যেসকল প্রতিষ্ঠান বিদেশি কারিগরি বিশেষজ্ঞ কিংবা ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের জনবল নিয়োজিত করতে চায়, তাদের জন্য বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করে। বিডা তার ডিজিটালাইজড ওয়ান-স্টপ সার্ভিস (ওএসএস) পোর্টালের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি), ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সমন্বয়ে একটি সুসংহত অনুমোদন প্রক্রিয়া পরিচালনা করে।

বিশেষ অংশ (Featured Snippet): বাংলাদেশে বিডা ওয়ার্ক পারমিট প্রাপ্তির জন্য নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে প্রথমে বিডা ওএসএস পোর্টালের মাধ্যমে একটি ই-ভিসা সুপারিশপত্র সংগ্রহ করতে হবে, যার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট বিদেশি কর্মী "ই" (কর্মসংস্থান) ভিসায় বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারবেন। বাংলাদেশে আগমনের ১৫ দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক ওয়ার্ক পারমিটের আবেদন দাখিল করতে হবে, যা ১:৫ অনুপাতের বিদেশি ও স্থানীয় কর্মী কোটা এবং বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা ছাড়পত্র প্রাপ্তির শর্তসাপেক্ষে অনুমোদিত হয়।

এই প্রামাণ্য বিবরণীটি বাংলাদেশে বিদেশি কর্মীদের ওয়ার্ক পারমিট এবং কর্মসংস্থান ভিসা প্রাপ্তির জন্য একটি অত্যন্ত সহজগম্য, সুগভীর এবং ব্যবহারিক আইনি রূপরেখা প্রদান করে। এটি সংশ্লিষ্ট সংবিধিবদ্ধ কাঠামোর চুলচেরা বিশ্লেষণ করে, সুনির্দিষ্ট কার্যপ্রণালীর প্রতিটি ধাপ তুলে ধরে, বাধ্যতামূলক কর ও আর্থিক নীতিমালার বিশদ বিবরণ দেয় এবং এমন সব গুরুত্বপূর্ণ আইনি ঝুঁকির প্রতি আলোকপাত করে যা কোম্পানিগুলোকে কঠোর দণ্ডমূলক ও আর্থিক শাস্তির মুখে ফেলতে পারে।


ধাপ ১ই-ভিসা অনুমোদনভিসা রিকমেন্ডেশনধাপ ২ভিসা ইস্যু'E' ভিসায় আগমনধাপ ৩ওএসএস পোর্টালওয়ার্ক পারমিট আবেদনধাপ ৪যাচাই বাছাইনিরাপত্তা ছাড়পত্র (SB)ধাপ ৫চূড়ান্ত অনুমোদনভিসা এক্সটেনশন ও ই-টিআইএন

১. সংবিধিবদ্ধ ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো

আইনি কাঠামো / বিধিমালাধারা / বিধাননিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষআইনি বাধ্যবাধকতা ও প্রয়োগ
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৬ধারা ১৫ ও ১৬বিডা (BIDA)বেসরকারি খাতে শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে বিদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থান অনুমোদন ও ওয়ার্ক পারমিট জারি।
দ্য ফরেনার্স অ্যাক্ট, ১৯৪৬ (Foreigners Act, 1946)ধারা ৩ ও ১৪স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (সুরক্ষা সেবা বিভাগ)বৈধ ভিসা ও পারমিট ব্যতীত বাংলাদেশে অবস্থান বা কাজ করা দণ্ডনীয় অপরাধ; অননুমোদিত অবস্থানের ক্ষেত্রে বহিষ্কার ও কারাদণ্ড।
বিদেশি নাগরিকদের কর্মসংস্থান সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় নীতিমালাঅনুচ্ছেদ ২ ও ৪বিডা ও এসবি (Special Branch)স্থানীয় ও বিদেশি জনবলের অনুপাত (বাণিজ্যিকে ৫:১ এবং শিল্পে ১০:১) অক্ষুণ্ণ রাখা এবং বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা ছাড়পত্র গ্রহণ।
আয়কর আইন, ২০২৩ধারা ৩০৭ ও তৎসংশ্লিষ্ট উপধারাজাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR)বৈধ ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া বিদেশি কর্মীকে পারিশ্রমিক প্রদান করলে কোম্পানির ব্যবসায়িক ব্যয় নামঞ্জুর এবং ৫০% অতিরিক্ত কর বা জরিমানা আরোপ।
বাংলাদেশ ভিসা ও ইমিগ্রেশন বিধিমালাক্যাটাগরি 'E' ও 'PI' বিধানডিআইপি (DIP) ও বাংলাদেশ দূতাবাসসমূহকর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে আগমনের পূর্বে যথাযথ সুপারিশপত্রের ভিত্তিতে দূতাবাস থেকে 'E' (Employment) ভিসা সংগ্রহ বাধ্যতামূলক।

বাংলাদেশের বেসরকারি বাণিজ্যিক ও শিল্প খাতে লাভজনক কর্মসংস্থানে নিয়োজিত হতে ইচ্ছুক বিদেশি নাগরিকদের নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা কেবল কোনো একক আইনের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং এটি বিনিয়োগ উন্নয়ন আইন, অভিবাসন সংক্রান্ত সংবিধিবদ্ধ আইন, নিরাপত্তা গোয়েন্দা রূপরেখা, শ্রম আইন এবং প্রত্যক্ষ কর বিধিমালার একটি বহুমাত্রিক কাঠামোর দ্বারা পরিচালিত হয়। নিরবচ্ছিন্ন ও যথাযথ আইনি পরিপালন নিশ্চিত করার স্বার্থে কর্পোরেট কাউন্সেল এবং মানবসম্পদ বিভাগের পরিচালকদের জন্য এই সামগ্রিক আইনি কাঠামোটি সম্যকভাবে অনুধাবন করা অপরিহার্য।

১.১ প্রধান প্রাথমিক আইনসমূহ

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৬ (২০১৬ সনের ৩৪ নং আইন) বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহের বাইরে বিদেশি বিনিয়োগ এবং বিদেশি জনবল নিয়োগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বিডা আইন একটি মৌলিক ভিত্তিপ্রস্তর। * ধারা ১৫: বিডার ক্ষমতা ও কার্যাবলি নির্ধারণ করে, যার মধ্যে সুস্পষ্টভাবে শিল্প প্রকল্প ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (শাখা, লিয়াজোঁ এবং প্রতিনিধি কার্যালয়) নিবন্ধন এবং এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় বিদেশি জনবল অনুমোদন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। * ধারা ১৬: ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের (ওএসএস) সংবিধিবদ্ধ কাঠামো প্রতিষ্ঠা করে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসনের উদ্দেশ্যে এই ধারাটি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সরকারি সংস্থাসমূহকে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আইনগত ছাড়পত্র প্রদানের জন্য আইনত বাধ্য করে। * ধারা ১৮ ও ১৯: বিদেশি মূলধন এবং বিদেশি মানবসম্পদ নিয়োগ সংক্রান্ত বাধ্যতামূলক কার্যকর বিধিমালা, নির্দেশিকা ও দিকনির্দেশনা প্রণয়নের ক্ষমতা বিডাকে অর্পণ করে।

দ্য ফরেনার্স অ্যাক্ট, ১৯৪৬ (১৯৪৬ সনের ৩১ নং আইন) এবং ফরেনার্স অর্ডার, ১৯৫১ বিডা বিনিয়োগ সহজীকরণ করলেও ফরেনার্স অ্যাক্ট-এর অধীনে রাষ্ট্রীয় সীমানা নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির সার্বভৌম ক্ষমতা রাষ্ট্রের হাতেই ন্যস্ত থাকে। * ধারা ৩: বিদেশিদের প্রবেশ, অবস্থান, কর্মসংস্থান এবং প্রস্থান নিয়ন্ত্রণ, সীমিতকরণ বা নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা সরকারকে প্রদান করে। * ধারা ১১: ভিসার শর্তাদি লঙ্ঘনকারী বিদেশি নাগরিকদের গ্রেপ্তার, আটক এবং তল্লাশি করার জন্য নির্ধারিত ইমিগ্রেশন ও আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে ক্ষমতা প্রদান করে। * ধারা ১৪, ১৪এ, ১৪বি: অননুমোদিত প্রবেশ, সংবিধিবদ্ধ ভিসার মেয়াদের অতিরিক্ত সময় অবস্থান (ওভারস্টে) এবং প্রবেশ/কর্মসংস্থানের শর্ত লঙ্ঘন করাকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করে। এই অপরাধগুলোর জন্য সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড এবং জামিন-অযোগ্য অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। * ফরেনার্স অর্ডার, ১৯৫১-এর অনুচ্ছেদ ১০: উপযুক্ত সংবিধিবদ্ধ কর্তৃপক্ষের (বিডা, বেপজা, বিএইচটিপিএ বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়) সুস্পষ্ট লিখিত অনুমতি ব্যতীত বিদেশি নাগরিকদের কর্মসংস্থান সুনির্দিষ্টভাবে নিষিদ্ধ করে।

ওয়ান-স্টপ সার্ভিস আইন, ২০১৮ (২০১৮ সনের ১০ নং আইন) এই আইনটি আন্তঃদাপ্তরিক ছাড়পত্র প্রদানের ক্ষেত্রে সংবিধিবদ্ধ সময়সীমা নির্ধারণ বাধ্যতামূলক করে। প্রথম তফসিলের অধীনে ওয়ার্ক পারমিট প্রক্রিয়াকরণ, নিরাপত্তা ছাড়পত্র প্রেরণ এবং ভিসা সুপারিশকে সময়াবদ্ধ আইনগত বাধ্যবাধকতা হিসেবে নির্দিষ্ট করা হয়েছে। পরবর্তীকালে প্রণীত ওয়ান-স্টপ সার্ভিস (বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) বিধিমালা, ২০২০-এর মাধ্যমে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি), ডিজিটাল আবেদন পদ্ধতি এবং ওয়ার্ক পারমিট অনুমোদনের সংবিধিবদ্ধ সময়সীমা সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে।

১.২ সহায়ক নিয়ন্ত্রক নীতিমালা ও আর্থিক নির্দেশনাবলী

বিদেশি নাগরিকদের কর্মসংস্থান সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় নির্দেশিকা বিদেশি নাগরিকদের কর্মসংস্থান সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি (যা বিডা কর্তৃক আহূত এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর, এনবিআর এবং গোয়েন্দা সংস্থাসমূহের সমন্বয়ে গঠিত) দ্বারা পরিচালিত এই নির্দেশিকাসমূহ প্রধান কার্যপদ্ধতিগত নিয়মাবলি নির্ধারণ করে: * বয়স ও মেয়াদের সীমাবদ্ধতা: একজন বিদেশি কর্মীর ন্যূনতম বয়স হতে হবে ২৫ বছর। সার্বিক ধারাবাহিক কর্মকালের মানসম্মত সংবিধিবদ্ধ সর্বোচ্চ সীমা ৫ বছর; তবে কারিগরি অপরিহার্যতার ভিত্তিতে আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির অনুমোদনক্রমে যুক্তিসঙ্গত ব্যতিক্রম হিসেবে এই মেয়াদ বৃদ্ধি করা যেতে পারে।

আয়কর আইন, ২০২৩ (২০২৩ সনের ১২ নং আইন) রাজস্ব ও কর পরিপালন সরাসরি অভিবাসন মর্যাদার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। * ধারা ৫৬: অনিবাসীদের কর্মসংস্থান থেকে অর্জিত আয়ের ওপর কঠোরভাবে উৎসে কর কর্তন (উইথহোল্ডিং ট্যাক্স) করার বাধ্যবাধকতা আরোপ করে। * ধারা ৩০৮ ও ৩০৯ (ধারা ২৭৬ সহ পঠিত): বাংলাদেশে কর্মরত প্রত্যেক বিদেশি নাগরিকের জন্য দেশত্যাগের পূর্বে কর নির্ধারণভিত্তিক কর পরিশোধ সংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র বা ট্যাক্স ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট (টিসিসি) গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক করে। বকেয়া যে কোনো করদায়ের জন্য নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান যৌথ ও পৃথকভাবে দায়ী থাকবে। * ধারা ৫৫ (অননুমোদনযোগ্য বিয়োজন): যদি কোনো প্রতিষ্ঠান বৈধ বিডা ওয়ার্ক পারমিট ব্যতীত কোনো বিদেশি নাগরিককে নিয়োগ দেয় কিংবা সংবিধিবদ্ধ আয়কর উৎসে কর্তন করতে ব্যর্থ হয়, তবে উক্ত প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক পারিশ্রমিক/বেতন-ভাতা বাবদ ব্যয় কোম্পানির করযোগ্য আয় থেকে অনুমোদনযোগ্য ব্যবসায়িক খরচ হিসেবে গণ্য হবে না (ডিসঅ্যালাউ করা হবে)। উপরন্তু, প্রদেয় করের ৫০% অথবা ৫,০০,০০০ টাকা (উভয়ের মধ্যে যা বেশি) সরাসরি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক জরিমানা হিসেবে আরোপ করা হবে।


২. কৌশলগত পূর্বশর্ত এবং অনুপাত পরিপালন সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা

বিডা ওএসএস (BIDA OSS) পোর্টালে কোনো আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করার পূর্বে, স্পনসরকারী প্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এবং পরিচালন সূচকসমূহ কঠোর সংবিধিবদ্ধ পূর্বশর্তের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আবেদন দাখিলের পূর্বে এই সূচকসমূহ যাচাই ও নিরীক্ষা করতে ব্যর্থ হলে আবেদনটি নিশ্চিতভাবে প্রত্যাখ্যাত হবে এবং সম্ভাব্য প্রশাসনিক তদন্তের মুখে পড়বে।

২.১ অলঙ্ঘনীয় অনুপাত বিধিমালা: ১:৫ এবং ১:২০-এর চুলচেরা বিশ্লেষণ

বাংলাদেশ সরকার স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে কঠোর সংরক্ষণমূলক নীতি প্রয়োগ করে থাকে। কেবল তখনই বিদেশি নাগরিকদের নিয়োগের অনুমতি দেওয়া হয়, যখন স্পষ্টভাবে প্রমাণ করা যায় যে সংশ্লিষ্ট পদে প্রয়োজনীয় স্থানীয় দক্ষতার অভাব রয়েছে। এটি গাণিতিকভাবে বিদেশি ও স্থানীয় কর্মচারী অনুপাত সংক্রান্ত নির্দেশিকার মাধ্যমে বলবৎ করা হয়: * বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানসমূহ (শাখা, লিয়াজোঁ ও প্রতিনিধিত্বকারী কার্যালয়): ১:৫ অনুপাত প্রযোজ্য। নিযুক্ত প্রতি ১ জন বিদেশি নাগরিকের বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটিতে ন্যূনতম ৫ জন স্থানীয় বাংলাদেশি সার্বক্ষণিক (ফুল-টাইম) কর্মচারী কর্মরত থাকতে হবে। * শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহ (উৎপাদনকারী/প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা): ১:২০ অনুপাত প্রযোজ্য। প্রতি ১ জন বিদেশি নাগরিকের বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটিতে ন্যূনতম ২০ জন স্থানীয় বাংলাদেশি সার্বক্ষণিক কর্মচারী কর্মরত থাকতে হবে।

স্থানীয় জনবল গণনা পদ্ধতি: একজন বৈধ "স্থানীয় কর্মচারী" হিসেবে কারা গণ্য হবেন? বিডা এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কোনোভাবেই অনিয়মিত বা নৈমিত্তিক শ্রমিক, স্বাধীন ঠিকাদার কিংবা কোনো অস্তিত্বহীন/ভুয়া কর্মচারীকে গ্রহণ করে না। একজন বৈধ স্থানীয় কর্মচারীর অবশ্যই একটি আনুষ্ঠানিক নিয়োগ চুক্তি থাকতে হবে, কোম্পানির পে-রোলে (বেতন বিবরণী) নাম অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে উৎসে কর কর্তন (TDS) হতে হবে এবং আদর্শগতভাবে একটি স্বীকৃত ভবিষ্য তহবিলে (প্রভিডেন্ট ফান্ড) তালিকাভুক্ত থাকতে হবে। সরেজমিনে যাচাইকালে এনএসআই (NSI) এবং এসবি (SB) কর্মকর্তাগণ অনুপাত যাচাই করার জন্য প্রত্যক্ষ পে-রোল রেজিস্টার এবং ব্যাংক ট্রান্সফার স্টেটমেন্ট তলব করবেন।

২.২ ৫০,০০০ মার্কিন ডলারের অন্তর্মুখী রেমিট্যান্স প্রেরণের শর্ত

নতুন প্রতিষ্ঠিত শাখা, লিয়াজোঁ বা প্রতিনিধিত্বকারী কার্যালয় এবং নতুন প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের (FDI) ক্ষেত্রে বিডা-র নিকট আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দাখিল করতে হয়। বিদেশি কর্মীর বেতনসহ প্রাথমিক পরিচালন ব্যয় নির্বাহের নিমিত্তে প্রতিষ্ঠানটিকে ন্যূনতম ৫০,০০০ মার্কিন ডলার (বা সমমূল্যের রূপান্তরযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রা) অন্তর্মুখী রেমিট্যান্স (Inward Remittance) হিসেবে আনার প্রমাণ প্রদর্শন করতে হবে। বাংলাদেশের একটি অনুমোদিত ডিলার (AD) ব্যাংক কর্তৃক ইস্যুকৃত এনক্যাশমেন্ট সার্টিফিকেটের মাধ্যমে এর প্রমাণ দাখিল করা আবশ্যক।

২.৩ শ্রমবাজার যাচাই: প্রকাশ্য বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট পদের জন্য যোগ্য কোনো স্থানীয় প্রার্থী পাওয়া যায়নি তা প্রমাণ করার জন্য নিয়োগকর্তাকে অবশ্যই শ্রমবাজার যাচাই করতে হবে। এর অংশ হিসেবে অন্তত দুটি বহুল প্রচারিত জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় (একটি ইংরেজিতে এবং একটি বাংলায়) অথবা খ্যাতিমান জাতীয় অনলাইন জব পোর্টালে নির্দিষ্ট পদটির জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে। বিজ্ঞাপনের মূল কাটিং বা সত্যায়িত ডিজিটাল ক্লিপিং সংরক্ষণ করতে হবে এবং ওএসএস (OSS) পোর্টালে আপলোড করতে হবে। বিজ্ঞাপনে প্রযুক্তিগত যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা এবং কাজের বিবরণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে, যা বিদেশি প্রার্থীর জীবনবৃত্তান্তের (CV) সাথে হুবহু সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

২.৪ বিদেশি কর্মীদের উত্তরসূরি সংক্রান্ত নীতি (Expatriate Succession Policy)

বিডা বিদেশি কর্মীদের নিয়োগকে জ্ঞান ও দক্ষতা স্থানান্তরের একটি সাময়িক প্রয়োজনীয়তা হিসেবে বিবেচনা করে, স্থায়ী কর্মী সমাধানের মাধ্যম হিসেবে নয়। অতএব, নিয়োগকর্তাকে একটি সুস্পষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক অঙ্গীকারনামা—একটি উত্তরসূরি পরিকল্পনা (Succession Plan) দাখিল করতে হবে। এই দলিলে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে, সর্বোচ্চ অনুমোদিত ৫ বছরের কর্মসংস্থান চক্রের মধ্যে বর্তমানে বিদেশি নাগরিকের অধীনস্থ কারিগরি বা ব্যবস্থাপনা পদে একজন স্থানীয় বাংলাদেশি শিক্ষানবিস বা সহকারীকে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে উক্ত পদে পদায়িত করা হবে।


৩. ৭-ধাপের ওএসএস আবেদন রোডম্যাপ (ধাপে ধাপে নির্দেশিকা)

বিডা-নিয়ন্ত্রিত ওয়ার্ক পারমিট অর্জনের প্রক্রিয়াটি একটি আন্তঃসংযুক্ত ও বহুধাপবিশিষ্ট প্রশাসনিক পথ অনুসরণ করে। বিদেশি নাগরিকের ঢাকার উদ্দেশ্যে বিমানে ওঠার বহু পূর্বেই এই প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং তাঁর পাসপোর্টে চূড়ান্ত মাল্টিপল-এন্ট্রি ভিসা স্ট্যাম্প করার মাধ্যমে এর সমাপ্তি ঘটে।

প্রথম ধাপ: বিডা ওএসএস পোর্টালে স্পনসরকারী প্রতিষ্ঠানের প্রোফাইল প্রস্তুতকরণ

কোনো একক আবেদন দাখিলের পূর্বে স্পনসরকারী প্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই বিডা ওয়ান-স্টপ সার্ভিস (OSS) পোর্টালে (bidaquickserv.org) সম্পূর্ণ নিবন্ধিত এবং যাচাইকৃত হতে হবে। ১. অ্যাকাউন্ট তৈরি: ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা অনুমোদিত আইনি প্রতিনিধি একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্রোফাইল তৈরি করবেন। ২. নথিপত্র আপলোড: প্রতিষ্ঠানটিকে তার মৌলিক সংবিধিবদ্ধ দলিলপত্র আপলোড করতে হবে: ইনকর্পোরেশন সনদ (Certificate of Incorporation), স্মারকলিপি ও সংঘবিধি (MoA/AoA), হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স, ই-টিআইএন (e-TIN) সনদ এবং বিডার প্রাথমিক শিল্প নিবন্ধনপত্র অথবা ১৫ ধারা মোতাবেক শাখা/লিয়াজোঁ অফিস খোলার অনুমতিপত্র। ৩. যাচাইকরণ: বিডার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর (RJSC)-এর ডেটাবেজ এবং বিডার পূর্ববর্তী রেকর্ডের সাথে মিলিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক প্রোফাইলটি যাচাই করবেন।

দ্বিতীয় ধাপ: ই-ভিসা সুপারিশপত্র সংগ্রহ

যেসব বিদেশি নাগরিক বাংলাদেশে কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করেন, তাঁদের অবশ্যই কর্মসংস্থান ("ই") ভিসা নিয়ে দেশে প্রবেশ করতে হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশন থেকে এই ভিসা প্রাপ্তির জন্য বিডা থেকে একটি সংবিধিবদ্ধ সুপারিশপত্র প্রয়োজন হয়। ১. অনলাইন আবেদন: বিদেশি নাগরিকের বাংলাদেশে আগমনের পূর্বেই নিয়োগকর্তা ওএসএস পোর্টালের মাধ্যমে একটি ই-ভিসা সুপারিশপত্রের জন্য আবেদন দাখিল করবেন। ২. প্রয়োজনীয় তথ্য ও উপাত্ত: আবেদনের সাথে বিদেশি প্রার্থীর পাসপোর্টের কপি, সিভি, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র, নিয়োগের অনুমোদন সংক্রান্ত পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত (Board Resolution) এবং খসড়া নিয়োগ চুক্তি দাখিল করতে হবে। ৩. নিষ্পত্তির সময়সীমা: দাপ্তরিকভাবে এতে ৩ থেকে ৭ কার্যদিবস সময় লাগে; তবে বাস্তবক্ষেত্রে ৭ থেকে ১০ কার্যদিবস লাগতে পারে। ৪. ফলাফল: ডিজিটালভাবে সত্যায়িত একটি বিডা সুপারিশপত্র ইস্যু করা হয়, যা বিদেশি প্রার্থীর নিজ দেশে বা তাঁর আইনগতভাবে বসবাসের দেশে অবস্থিত সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাস/হাইকমিশন/কনস্যুলেট বরাবর প্রেরিত হয়। একই সাথে সিস্টেমের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (MoHA) এবং বহির্গমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরে (DIP) একটি অনুলিপি স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রেরিত হয়।

তৃতীয় ধাপ: কনস্যুলার প্রক্রিয়াকরণ এবং "ই" ভিসা প্রদান

বিডার সুপারিশপত্র প্রাপ্তির পর বিদেশি নাগরিককে মূল ভিসা সংগ্রহ করতে হবে। ১. কনস্যুলার দাখিল: বিদেশি প্রার্থী নির্দিষ্ট বাংলাদেশ কূটনৈতিক মিশনে মেশিন রিডেবল ভিসা (MRV) বা অনলাইন ভিসা আবেদনপত্র দাখিল করবেন। ২. সহায়ক নথিপত্র: আবেদনের সাথে বিডার সুপারিশপত্র, বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের কর্পোরেট স্পনসরশিপ পত্র, নিয়োগ চুক্তি এবং শিক্ষাগত ও পেশাগত যোগ্যতার প্রমাণপত্র সংযুক্ত করতে হবে। ৩. ভিসা প্রদান: সংশ্লিষ্ট মিশন "E" ক্যাটাগরি সংবলিত একটি প্রবেশ ভিসা (Entry Visa) ইস্যু করে। এটি সাধারণত একটি সিঙ্গেল বা ডাবল-এন্ট্রি ভিসা হয়ে থাকে, যার মেয়াদ ইস্যুর তারিখ থেকে ৩ মাস এবং এটি আগমনের পর সর্বোচ্চ ৩ মাস বাংলাদেশে অবস্থানের প্রাথমিক অনুমতি প্রদান করে। ৪. অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা: পরবর্তীতে ওয়ার্ক পারমিটে রূপান্তরের উদ্দেশ্যে কোনো বিদেশি কর্মীকে পর্যটক ("T") বা ব্যবসায়িক ("B") ভিসায় বাংলাদেশে আসার পরামর্শ কখনো দেবেন না। পর্যটন বা ব্যবসায়িক ভিসাকে কর্মসংস্থান বা "ই" ভিসায় অভ্যন্তরীণভাবে রূপান্তর করা আইনত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এরূপ ক্ষেত্রে বিদেশি নাগরিককে নিজ খরচে দেশ ত্যাগ করে বিদেশে গিয়ে পুনরায় "ই" ভিসা নিয়ে দেশে প্রবেশ করতে হবে, যা ব্যাপক বিলম্বের সৃষ্টি করে এবং কালো তালিকাভুক্তির ঝুঁকি তৈরি করে।

চতুর্থ ধাপ: বিধিবদ্ধ অনলাইন ওয়ার্ক পারমিট আবেদন দাখিল (১৫ দিনের নিয়ম)

এটি সমগ্র প্রক্রিয়ার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল পদ্ধতিগত সময়সীমা। ১. ১৫ দিনের সংবিধিবদ্ধ সময়সীমা: বিদেশি নাগরিকের বাংলাদেশে সশরীরে আগমনের তারিখ থেকে (যা বর্ডার ইমিগ্রেশনের আগমনী সিলমোহর দ্বারা প্রমাণিত) অনধিক ১৫ ক্যালেন্ডার দিনের মধ্যে বিডা ওএসএস-এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ওয়ার্ক পারমিটের আবেদন দাখিল করতে হবে। ২. আবেদন পদ্ধতি: নিয়োগকর্তা ওএসএস-এ লগইন করে পূর্বে ইস্যুকৃত ই-ভিসা সুপারিশপত্রটি লিংক করবেন এবং চূড়ান্ত ডসিয়ার আপলোড করবেন। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকবে দেশে প্রবেশের বাস্তব প্রমাণাদি (কাস্টমস/ইমিগ্রেশনের অ্যারাইভাল সিল এবং "E" ভিসা পৃষ্ঠা), সংবাদপত্রের বিজ্ঞাপন, উত্তরসূরি পরিকল্পনা (Succession Plan), এবং স্থানীয় ও বিদেশি কর্মচারীদের সাংগঠনিক কাঠামো (Organogram)। ৩. ফি প্রদান: সমন্বিত অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ের (এ-চালান/সোনালী পেমেন্ট গেটওয়ে) মাধ্যমে সংবিধিবদ্ধ ফি পরিশোধ করতে হবে। ৪. আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যালোচনা: বিডার বিদেশি বিষয়ক সেল (Expatriate Affairs Cell) আবেদনটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে নিরীক্ষা করে। যদি ১৫ দিনের সময়সীমা লঙ্ঘিত হয় বা জনবল অনুপাতে কোনো অসঙ্গতি থাকে, তবে নথিটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির কাছে প্রেরণ করা হয়, যার ফলে প্রক্রিয়াটি ৩ থেকে ৬ মাস বিলম্বিত হতে পারে। ৫. শর্তসাপেক্ষ পারমিট প্রদান: দাখিলকৃত ডসিয়ার যথাযথ থাকলে বিডা একটি সাময়িক/শর্তসাপেক্ষ ওয়ার্ক পারমিট প্রদান করে। এটি সাধারণত ১ থেকে ২ বছর (বা চুক্তির মেয়াদের সাথে সামঞ্জস্য রেখে) মেয়াদী হয়। তবে এতে স্পষ্টভাবে শর্তারোপ করা হয় যে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে নিঃশর্ত নিরাপত্তা ছাড়পত্র প্রাপ্তির ওপরই এর পূর্ণ ও চলমান বৈধতা নির্ভর করবে।

পঞ্চম ধাপ: বহুপাক্ষিক নিরাপত্তা ছাড়পত্র যাচাই-বাছাই

শর্তসাপেক্ষ ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু হওয়ার সাথে সাথেই সিস্টেমের মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকের নথিটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে (জননিরাপত্তা বিভাগ) প্রেরিত হয়। ১. গোয়েন্দা সংস্থার সম্পৃক্ততা: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রধান দুটি গোয়েন্দা সংস্থাকে দায়িত্ব প্রদান করে: বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ (SB) এবং জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (NSI)। ২. মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধান: এটি কেবল কোনো দাপ্তরিক পর্যালোচনা নয়। এসবি এবং এনএসআই-এর মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাগণ সরেজমিনে প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধিত কার্যালয় এবং প্রকল্প সাইট পরিদর্শন করবেন। তাঁরা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো যাচাই করবেন: * প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত বাণিজ্যিক কার্যক্রম অনুসন্ধান ও জেরা। * এটি কোনো ভুয়া বা কাগুজে (Shell) কোম্পানি নয় তা নিশ্চিত করতে সরাসরি অফিস প্রাঙ্গণ পরিদর্শন। * ১:৫ বা ১:২০ অনুপাত কার্যকর রয়েছে কি না তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় ও বিদেশি কর্মীদের তালিকা এবং পে-রোল রেকর্ড যাচাই। * বিদেশি নাগরিকের মূল পাসপোর্ট, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র এবং আবাসিক ভাড়ার চুক্তিপত্র পরীক্ষা। * রাষ্ট্রবিরোধী, অপরাধমূলক বা অননুমোদিত কোনো ধর্মীয়/রাজনৈতিক কার্যকলাপে সংশ্লিষ্টতা নেই মর্মে নিশ্চিত হওয়া। ৩. ছাড়পত্র প্রেরণ: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী, ৩০ থেকে ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে এই প্রতিবেদন প্রেরণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে বাস্তবক্ষেত্রে এ প্রক্রিয়ায় ৬০ থেকে ৯০ দিন সময় লাগতে পারে। পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরাসরি বিডার নিকট ইলেকট্রনিক অনাপত্তিপত্র (No Objection Certificate) প্রেরণ করে। ৪. প্রতিকূল প্রতিবেদন: গোয়েন্দা সংস্থা থেকে কোনো নেতিবাচক বা প্রতিকূল প্রতিবেদন আসলে (যেমন: কোম্পানি যদি অনুপাত বজায় রাখতে ব্যর্থ হয় বা বিদেশি প্রার্থীর সনদপত্র ভুয়া প্রমাণিত হয়), বিডা আইনত তাৎক্ষণিকভাবে সাময়িক ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করতে বাধ্য এবং এর ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অবিলম্বে বহিষ্কারের (Deportation) প্রক্রিয়া শুরু হয়।

ষষ্ঠ ধাপ: "ই" ভিসার নিয়মিতকরণ ও মেয়াদ বৃদ্ধি (ডিআইপি)

বিদেশে বাংলাদেশ মিশন থেকে প্রাপ্ত প্রাথমিক "E" ভিসা কেবল ৩ মাস অবস্থানের অনুমতি দেয়। বিডা ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু হওয়ার পর, পারমিটের মেয়াদের সাথে মিল রেখে ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি করতে হয়। ১. ডিআইপিতে আবেদন: নিয়োগকর্তা ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বহির্গমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরে (DIP) আবেদন দাখিল করবেন। ২. প্রয়োজনীয় নথিপত্র: সাময়িক/চূড়ান্ত বিডা ওয়ার্ক পারমিট, বিডা ভিসা সম্প্রসারণ সুপারিশপত্র (ওএসএস-এর মাধ্যমে প্রস্তুতকৃত), মূল পাসপোর্ট এবং পুলিশ ক্লিয়ারেন্স/নিরাপত্তা ছাড়পত্রের বর্তমান স্থিতি। ৩. ভিসা এনডোর্সমেন্ট: পাসপোর্ট অধিদপ্তর আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পাসপোর্টে বিডা ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদের সাথে হুবহু মিল রেখে একটি মাল্টিপল-এন্ট্রি "E" ভিসা স্ট্যাম্প প্রদান করে। এর ফলে বিদেশি নাগরিক তাঁর কর্মসংস্থানের মেয়াদকালে নির্বিঘ্নে বাংলাদেশে আসা-যাওয়া করতে পারেন।

সপ্তম ধাপ: পারমিট-পরবর্তী আবশ্যিক আর্থিক সংহতি

ওয়ার্ক পারমিট এবং ভিসা সুরক্ষিত করা কেবল অভিবাসন সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে; এর পরপরই আবশ্যিক আর্থিক কার্যক্রম শুরু হয়। ১. ই-টিআইএন গ্রহণ: ওয়ার্ক পারমিট ইস্যুর ৩০ দিনের মধ্যে বিদেশি নাগরিককে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) থেকে একটি স্বতন্ত্র কর শনাক্তকরণ নম্বর (e-TIN) গ্রহণ করতে হবে। ২. ব্যাংকিং সংহতি: বাংলাদেশ ব্যাংকের এফই সার্কুলার নং ০১/২০২০ (FE Circular No. 01/2020) অনুসারে স্পনসরকারী প্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই একটি অনুমোদিত ডিলার (AD) ব্যাংকে সংশ্লিষ্ট বিদেশি কর্মীর প্রোফাইল নিবন্ধন করতে হবে। বিদেশি নাগরিকের মাসিক বেতনের অর্থ আইনসম্মতভাবে নিজ দেশে প্রেরণের (Repatriation) সুবিধার্থে এটি সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক।

৪. রাজস্ব সমন্বয়, রেমিট্যান্স এবং প্রস্থান কাঠামো

বাংলাদেশে অভিবাসন আইন এবং কর আইনের পারস্পরিক প্রয়োগ অত্যন্ত কঠোরভাবে বলবৎ করা হয়। বিদেশি কর্মী এবং তাদের নিয়োগকর্তাদের কর নির্ধারণ এবং তহবিল প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত কঠোর বিধিনিষেধ সতর্কতার সাথে পরিপালন করতে হয়।

৪.১ অনাবাসী কর নির্ধারণ পদ্ধতি (আয়কর আইন, ২০২৩)

বিদেশি কর্মীরা অত্যন্ত কঠোর কর নির্ধারণ প্রক্রিয়ার আওতাধীন। * ১৮২ দিনের নিয়ম: আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ৩ অনুযায়ী, একজন ব্যক্তির কর আবাসিক মর্যাদা (রেসিডেন্সি স্ট্যাটাস) তার শারীরিক উপস্থিতির ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। যদি কোনো বিদেশি কর্মী কোনো আয় বছরে বাংলাদেশে ১৮২ দিন বা তার বেশি সময় অবস্থান করেন, তবে তিনি করের উদ্দেশ্যে "নিবাসী" (Resident) হিসেবে গণ্য হবেন এবং তার অর্জিত আয় সাধারণ ব্যক্তিক কর ধাপ অনুযায়ী (০% থেকে ২৫% পর্যন্ত) করযোগ্য হবে। * অনাবাসীদের জন্য ফ্ল্যাট রেট: যদি বিদেশি কর্মী ১৮২ দিনের কম সময় অবস্থান করেন, তবে তিনি "অনাবাসী" (Non-Resident) হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ হবেন এবং তার বাংলাদেশে অর্জিত সমগ্র আয়ের ওপর প্রাথমিক করমুক্ত সীমার কোনো সুবিধা ব্যতিরেকেই সার্বজনীন ৩০% ফ্ল্যাট হারে কর আরোপিত হবে। * নিয়োগকর্তার উৎসে কর কর্তন (ধারা ৫৬): নিয়োগকর্তা আইনত বিদেশি কর্মীর মাসিক বেতন থেকে উৎসে কর কর্তন (TDS) করে তা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে বাধ্য। এটি পরিপালনে ব্যর্থ হলে ধারা ৫৫-এর অধীন কঠোর জরিমানা আরোপিত হবে (সমগ্র বেতন ব্যয় অননুমোদন এবং ৫০% অতিরিক্ত সারচার্জ আরোপ)।

৪.২ বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবাসন (বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রবিধানমালা)

বিদেশি কর্মীরা তাদের উপার্জিত অর্থ নিজ দেশে প্রেরণের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে কাজ করেন। এই প্রক্রিয়াটি বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৪৭ (Foreign Exchange Regulation Act, 1947) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা সার্কুলার দ্বারা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়। * ৭৫% নিয়ম: এফই সার্কুলার নং ০১ (২০২০) অনুযায়ী, অনুমোদিত ডিলার (AD) ব্যাংকগুলোকে বৈধ বিডা (BIDA) ওয়ার্ক পারমিটধারী আইনসম্মত বিদেশি কর্মীদের মাসিক নিট কর-পরবর্তী বেতনের সর্বোচ্চ ৭৫% পর্যন্ত বিদেশে প্রেরণের (রেমিট্যান্স) অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। * রেমিট্যান্সের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র: মাসিক রেমিট্যান্স কার্যকর করতে এডি ব্যাংক বৈধ বিডা ওয়ার্ক পারমিট, নিয়োগ চুক্তিপত্র, মাসিক বেতন বিবরণী (পে-স্লিপ), এবং নির্দিষ্ট মাসের বিপরীতে উৎসে আয়কর কর্তন প্রমাণকারী ট্রেজারি চালান দাবি করবে। বৈধ ওয়ার্ক পারমিট এবং কর কর্তনের প্রমাণ ব্যতীত অর্থ প্রেরণ বেআইনি এবং অসম্ভব। * চূড়ান্ত রেমিট্যান্স: স্থায়ীভাবে বাংলাদেশ ত্যাগ এবং ওয়ার্ক পারমিট বাতিলের প্রেক্ষিতে, বিদেশি কর্মী তার যাচাইকৃত চূড়ান্ত সঞ্চয়, প্রভিডেন্ট ফান্ডের জমাকৃত অর্থ এবং চাকরি সমাপ্তিকালীন প্রাপ্ত সুবিধার ১০০% বিদেশে পাঠাতে পারবেন, তবে শর্ত থাকে যে চূড়ান্ত কর পরিশোধ সনদ (Tax Clearance Certificate) প্রদর্শন করতে হবে।

৪.৩ প্রস্থান ব্যবস্থাপনা: কর পরিশোধ সনদ (টিসিসি)

চুক্তির মেয়াদ শেষে কোনো বিদেশি কর্মী চাইলেই কেবল একটি বিমানে উঠে স্থায়ীভাবে বাংলাদেশ ত্যাগ করতে পারেন না। * ধারা ৩০৮/৩০৯-এর বাধ্যবাধকতা: প্রত্যেক বিদেশি নাগরিককে দেশত্যাগের পূর্বে এনবিআর (NBR) থেকে কর নির্ধারণভিত্তিক কর পরিশোধ সনদ (TCC) বা একটি অব্যাহতি সনদ (Exemption Certificate) সংগ্রহ করতে হবে। * প্রক্রিয়া: বিদেশি কর্মীর কর আইনজীবীকে একটি চূড়ান্ত আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে, কর উপ-কমিশনারের (ডিসিটি) মাধ্যমে কর নির্ধারণ সম্পন্ন করতে হবে এবং বেতন, বাড়িভাড়া ভাতা, যানবাহন সুবিধা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার (perquisites) ওপর সমস্ত কর সম্পূর্ণরূপে পরিশোধ করা হয়েছে মর্মে প্রমাণ দাখিল করতে হবে। * সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভিবাসন কর্মকর্তারা টিসিসি তলব করার পূর্ণ কর্তৃত্ব রাখেন। কোনো বিদেশি কর্মী যদি উক্ত সনদ ব্যতিরেকে দেশত্যাগের চেষ্টা করেন, তবে তাকে সীমান্তে আটক করা হতে পারে এবং উদঘাটিত যেকোনো কর ফাঁকির জন্য নিয়োগকর্তাকে যৌথ ও পৃথকভাবে দায়ী করা হবে।


৫. প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং যাচাইকরণ চেকলিস্ট

বিডা ওএসএস (OSS) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দাখিলকৃত সমস্ত আবেদন অবশ্যই সংবিধিবদ্ধ মানদণ্ড পূরণ করতে হবে। বিদেশি ভাষার নথিপত্রের ক্ষেত্রে একজন অনুমোদিত শপথ গ্রহণকারী অনুবাদক (sworn translator) বা নোটারি পাবলিক কর্তৃক প্রত্যায়িত ইংরেজি অনুবাদ দাখিল করা আবশ্যক। তদুপরি, অ্যাপোস্টিল কনভেনশনে (Apostille Convention) বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির কারণে প্রচলিত কনস্যুলার সত্যায়নের চেয়ে অ্যাপোস্টিলযুক্ত নথিপত্রকে উত্তরোত্তর অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

ক্যাটাগরি ক: বিদেশি কর্মীর ব্যক্তিগত ও পেশাগত রেকর্ড

নথির নাম সংবিধিবদ্ধ মানদণ্ড ও ফরম্যাটিং যাচাইকারী কর্তৃপক্ষ
পাসপোর্টের কপি স্ক্যান করা বায়ো-পেজ; আবেদনের সময় ন্যূনতম ৬ মাসের মেয়াদ থাকতে হবে। দেশে অবস্থানকালীন আবেদনের ক্ষেত্রে মূল আগমন সিল এবং বৈধ "ই" (E) ভিসা প্রদর্শিত থাকতে হবে। ডিআইপি (DIP) / সীমান্ত অভিবাসন
শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র স্নাতক/স্নাতকোত্তর সনদের মূল কপির স্ক্যান। বাংলাদেশের বাইরের ডিগ্রিসমূহ সংশ্লিষ্ট দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক সত্যায়িত এবং/অথবা নোটারিকৃত (বা অ্যাপোস্টিলযুক্ত) হতে হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় / কনস্যুলার মিশন
জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) বিদেশি কর্মী কর্তৃক স্বাক্ষরিত। নির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত/ব্যবস্থাপনাগত ক্ষেত্রের সাথে সরাসরি প্রাসঙ্গিক ন্যূনতম ৩–৫ বছরের ধারাবাহিক পেশাগত অভিজ্ঞতার বিশদ কালানুক্রমিক বিবরণ থাকতে হবে। বিডা বিদেশি কর্মী বিষয়ক সেল
ছবি বিধিবদ্ধ ডিজিটাল ছবি, ৫৫ মিমি x ৪৫ মিমি, সাদা পটভূমি (background), বিগত ৯০ দিনের মধ্যে তোলা। বিডা ওএসএস বায়োমেট্রিক পোর্টাল

ক্যাটাগরি খ: কর্পোরেট, বাণিজ্যিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক রেকর্ড

নথির নাম সংবিধিবদ্ধ মানদণ্ড ও ফরম্যাটিং যাচাইকারী কর্তৃপক্ষ
বিডা নিবন্ধন প্রাথমিক বিডা শিল্প নিবন্ধনপত্রের প্রত্যায়িত অনুলিপি বা ধারা ১৫-এর অধীন আনুষ্ঠানিক বিডা শাখা/লিয়াজোঁ অফিস অনুমতিপত্র। বিডা বাণিজ্যিক শাখা
ইনকর্পোরেশন সংক্রান্ত নথিপত্র স্থানীয় প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে: আরজেএসসি (RJSC) কর্তৃক প্রদত্ত স্মারকলিপি (MoA) ও সংঘবিধির (AoA) প্রত্যায়িত অনুলিপি। বিদেশি শাখা কার্যালয়ের ক্ষেত্রে: বিদেশে অবস্থিত সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ মিশন কর্তৃক সত্যায়িত মূল কোম্পানির গঠনতন্ত্র/চার্টার। আরজেএসসি / বিডা
সাংগঠনিক কাঠামো (অর্গানোগ্রাম) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কর্তৃক প্রত্যায়িত প্রতিষ্ঠানের বিশদ অর্গানোগ্রাম, যেখানে প্রতিটি বিদেশি পদ এবং স্থানীয় প্রতিরূপ পদ সুস্পষ্টভাবে চিহ্নিত থাকবে, যা ১:৫ বা ১:২০ অনুপাতের গাণিতিক পরিপালন প্রমাণ করবে। বিডা / এসবি / এনএসআই
বোর্ড রেজোলিউশন বিদেশি নাগরিককে নিয়োগের সিদ্ধান্ত সংবলিত কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের প্রত্যায়িত প্রস্তাব, যেখানে পদের নাম, চাকরির মেয়াদ এবং বিশদ বেতন ও সুবিধার প্যাকেজ স্পষ্টভাবে বিবৃত থাকবে। প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ
নিয়োগ চুক্তিপত্র স্বাক্ষরিত চুক্তি যেখানে কর্মপরিধি, পারিশ্রমিক (বেতন, ভাতা, আনুতোষিক সুবিধাদি), চাকরি অবসানের শর্তাবলী উল্লেখ থাকবে এবং অপরিশোধিত থাকলে কর্মীর সমস্ত ব্যক্তিগত করের দায়ভার নিয়োগকর্তা বহন করবেন মর্মে অঙ্গীকার লিপিবদ্ধ থাকবে। বিডা / এনবিআর

ক্যাটাগরি গ: গণবিজ্ঞাপন ও রাজস্ব ছাড়পত্রসমূহ

নথির নাম সংবিধিবদ্ধ মানদণ্ড ও ফরম্যাটিং যাচাইকারী কর্তৃপক্ষ
বিজ্ঞাপনের প্রমাণক কমপক্ষে দুটি বহুল প্রচারিত জাতীয় দৈনিক সংবাদপত্রে (একটি ইংরেজি, একটি বাংলা) প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মূল কাটিং/প্রত্যায়িত ডিজিটাল ক্লিপিং। বিডা আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি
উত্তরাধিকার পরিকল্পনা (সাকসেশন প্ল্যান) ৫ বছরের মধ্যে একজন স্থানীয় বাংলাদেশি বিকল্প কর্মকর্তাকে সমমানের প্রশিক্ষণ প্রদানের সুস্পষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক অঙ্গীকারনামা। বিডা বিদেশি কর্মী বিষয়ক শাখা
নগদায়ন সনদ (এনক্যাশমেন্ট সার্টিফিকেট) বাধ্যতামূলক ন্যূনতম ৫০,০০০ মার্কিন ডলার অন্তর্মুখী বৈদেশিক রেমিট্যান্সের প্রমাণপত্র (শাখা/লিয়াজোঁ অফিস এবং নতুন বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য)। এডি ব্যাংক / বাংলাদেশ ব্যাংক
আয়কর ছাড়পত্র স্পনসরকারী সত্তার পূর্ববর্তী কর বছরের কর্পোরেট কর নির্ধারণী আদেশ (Assessment Order), এবং আবেদনটি মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য হলে সংশ্লিষ্ট কর্মীর ব্যক্তিগত ই-টিন (e-TIN)/আয়কর রিটার্ন। এনবিআর কর সার্কেল

৬. সরকারি ফি, প্রক্রিয়াকরণের সময়সীমা এবং জরিমানা ম্যাট্রিক্স

কর্পোরেট পরিকল্পনার স্বার্থে আর্থিক ও প্রক্রিয়াগত সময়সীমা এবং অ-পরিপালনের ক্ষেত্রে শাস্তিমূলক ঝুঁকিগুলো অনুধাবন করা অপরিহার্য।

৬.১ সংবিধিবদ্ধ সরকারি ফিসমূহ

  • ই-ভিসা সুপারিশপত্র: কোনো সংবিধিবদ্ধ সরকারি ফি নেই। নামমাত্র বিডা ওএসএস সার্ভিস প্ল্যাটফর্ম ফি প্রযোজ্য (সাধারণত ৫০০ – ১,০০০ টাকা এবং সাথে ১৫% ভ্যাট)।
  • বিডা ওয়ার্ক পারমিট যাচাই ফি: প্রতিষ্ঠানের মোট বিনিয়োগের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়। আবেদনকারী প্রতি প্রমিত ফি ৫,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা + ১৫% ভ্যাট।
  • ওএসএস প্রসেসিং চার্জ: আবেদন প্রতি ১,০০০ – ২,৫০০ টাকা।
  • ভিসা সম্প্রসারণ ফি (ডিআইপি): স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত দ্বিপাক্ষিক পারস্পরিক নীতিমালার (reciprocity schedules) সাথে প্রমিত ভিসা সম্প্রসারণ ফি সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিদেশি কর্মীর জাতীয়তার ওপর ভিত্তি করে এটি ৫০ মার্কিন ডলার থেকে ৩০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত নির্ধারিত হয় (সমপরিমাণ বাংলাদেশি টাকায় প্রদেয়)।

৬.২ সংবিধিবদ্ধ বনাম বাস্তবসম্মত সময়সীমা

প্রক্রিয়ার পর্যায় সংবিধিবদ্ধ সময়সীমা (ওএসএস বিধিমালা) বাস্তবসম্মত সময়সীমা
ই-ভিসা সুপারিশ ৩ - ৭ কার্যদিবস ৭ - ১০ কার্যদিবস
কনস্যুলার "ই" ভিসা প্রদান মিশনভেদে ভিন্ন হয় ৫ - ১৫ কার্যদিবস
বিডা ওয়ার্ক পারমিট (শর্তসাপেক্ষ) ১৬ কার্যদিবস ২১ - ৩০ কার্যদিবস
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা ছাড়পত্র ৩০ - ৪৫ কার্যদিবস ৬০ - ৯০ কার্যদিবস
ডিআইপি ভিসা সম্প্রসারণ ৭ - ১০ কার্যদিবস ১৪ - ২১ কার্যদিবস

৬.৩ জরিমানা ম্যাট্রিক্স

  • আগমনের ১৫ দিনের মধ্যে আবেদন দাখিলে ব্যর্থতা: বিষয়টি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটিতে প্রেরণ করা হয়; ৩-৬ মাসের বিলম্ব ঘটে; ভিসা সম্প্রসারণ প্রত্যাখ্যাত হওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয় যা অবৈধ অবস্থানের (overstay) দিকে পরিচালিত করে। এর জন্য ব্যবস্থাপনা পরিচালক কর্তৃক স্বাক্ষরিত উপযুক্ত ও তথ্যভিত্তিক কারণ দর্শানোসহ (যেমন: গুরুতর অসুস্থতা বা চিকিৎসাজনিত অপারগতা) আনুষ্ঠানিক বিলম্ব মার্জনা (condonation of delay) পিটিশন দাখিল আবশ্যক।
  • ট্যুরিস্ট ("টি") বা বিজনেস ("বি") ভিসায় কাজ করা: ফরেনার্স অ্যাক্ট, ১৯৪৬ (Foreigners Act, 1946)-এর ধারা ১৪ অনুযায়ী এটি একটি আমলযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ। এর শাস্তি সর্বোচ্চ ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, বাংলাদেশ থেকে বহিষ্কার (ডিপোর্টেশন) এবং কালোতালিকাভুক্তি।
  • ওয়ার্ক পারমিট ব্যতীত নিয়োগ প্রদান (কর্পোরেট কর জরিমানা): আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ৫৫ অনুযায়ী, উক্ত কর্মীর সম্পূর্ণ বেতন ব্যয় ব্যবসায়িক খরচ হিসেবে অননুমোদন করা হবে, এবং প্রদেয় করের ওপর ৫০% সারচার্জ বা ৫,০০,০০০ টাকা (উভয়ের মধ্যে যা বেশি) জরিমানা আরোপিত হবে।
  • অনুপাত লঙ্ঘন: এসবি বা এনএসআই-এর সরেজমিনে মাঠপর্যায়ে তদন্তের সময় অনুপাত লঙ্ঘিত দেখা গেলে ওয়ার্ক পারমিটের আবেদন তাৎক্ষণিক প্রত্যাখ্যান বা ইস্যুকৃত শর্তসাপেক্ষ ওয়ার্ক পারমিট অবিলম্বে বাতিল করা হয়।

৭. সাধারণ আইনগত ত্রুটি, বাস্তব পরামর্শ ও নজির আইন

যেহেতু অভিবাসন, বহিষ্কার এবং বিদেশি নাগরিকদের ওপর প্রশাসনিক স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা প্রয়োগ রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতার অংশ, তাই ওয়ার্ক পারমিট সংক্রান্ত মামলা-মোকদ্দমা সচরাচর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীনে সাংবিধানিক রিট পিটিশনের মাধ্যমেই পরিচালিত হয়। হাইকোর্ট বিভাগ কীভাবে সংশ্লিষ্ট সংবিধিবদ্ধ বিধানসমূহের ব্যাখ্যা প্রদান করে, সে সম্পর্কে কর্পোরেট আইনজীবীদের সম্যক ধারণা থাকতে হবে।

৭.১ আগ

সচরাচর জিজ্ঞাস্য (FAQ)

◆ সম্পর্কিত প্র্যাকটিস গাইড ও বিশ্লেষণ

    <li style="margin-bottom:12px; line-height:1.5;">
      <a href="/en/labour-inspection-and-audit-in-bangladesh-compliance-guide-bn/" style="color:#C5A059; font-weight:600; text-decoration:none; font-size:14px; display:inline-block; transition:color 0.2s;">&bull; Labour Inspection and Audit in Bangladesh: Compliance Guide</a>
    </li>
    
    <li style="margin-bottom:12px; line-height:1.5;">
      <a href="/en/hiring-employees-in-epzbepza-specialized-labour-regulations-bn/" style="color:#C5A059; font-weight:600; text-decoration:none; font-size:14px; display:inline-block; transition:color 0.2s;">&bull; Hiring Employees in EPZ/BEPZA: Specialized Labour Regulations</a>
    </li>
    
    <li style="margin-bottom:12px; line-height:1.5;">
      <a href="/bn/instagram-reels-rmg-minimum-wage-regulations-bn/" style="color:#C5A059; font-weight:600; text-decoration:none; font-size:14px; display:inline-block; transition:color 0.2s;">&bull; ইনস্টাগ্রাম রিলস ও গার্মেন্টস শ্রমিকের মজুরি: আইনি বাস্তবতা</a>
    </li>
    
    <li style="margin-bottom:12px; line-height:1.5;">
      <a href="/bn/bangladesh-labour-act-2006-amended-complete-employer-legal-rights-compliance-handbook-bn/" style="color:#C5A059; font-weight:600; text-decoration:none; font-size:14px; display:inline-block; transition:color 0.2s;">&bull; বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬: নিয়োগকর্তার আইনি অধিকার ও কারখানা কমপ্লায়েন্স গাইড</a>
    </li>

সরকারি কর্তৃপক্ষ, গেজেট ও নিয়ন্ত্রক পোর্টাল

নিয়ন্ত্রক মূল আইনসমূহ: বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬, বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা ২০১৫, ইপিজেড শ্রম আইন ২০১৯

<div style="margin-bottom:12px; padding-bottom:12px; border-bottom:1px solid #1E293B;">
  <a href="https://dife.gov.bd/" target="_blank" rel="noopener noreferrer" style="color:#C5A059; font-weight:600; font-size:14px; text-decoration:underline;">Department of Inspection for Factories and Establishments (DIFE) &nearr;</a>
  <p style="color:#94A3B8; font-size:12px; margin:4px 0 0 0; line-height:1.4;">Factory Licensing, Safety Compliance & Labour Law Enforcement</p>
</div>

<div style="margin-bottom:12px; padding-bottom:12px; border-bottom:1px solid #1E293B;">
  <a href="https://bida.gov.bd/" target="_blank" rel="noopener noreferrer" style="color:#C5A059; font-weight:600; font-size:14px; text-decoration:underline;">BIDA Foreign Work Permit Portal &nearr;</a>
  <p style="color:#94A3B8; font-size:12px; margin:4px 0 0 0; line-height:1.4;">Expatriate Visa Recommendation & Security Clearance Directives</p>
</div>

<div style="margin-bottom:12px; padding-bottom:12px; border-bottom:1px solid #1E293B;">
  <a href="https://mole.gov.bd/" target="_blank" rel="noopener noreferrer" style="color:#C5A059; font-weight:600; font-size:14px; text-decoration:underline;">Ministry of Labour and Employment &nearr;</a>
  <p style="color:#94A3B8; font-size:12px; margin:4px 0 0 0; line-height:1.4;">National Minimum Wage Gazette & Tripartite Consultative Directives</p>
</div>

বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয় ও বিদেশি জনবলের অনুমোদিত অনুপাত কত?

বিডা-এর বর্তমান নির্দেশিকা অনুযায়ী, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে প্রতি ১ জন বিদেশি কর্মীর বিপরীতে অন্তত ৫ জন স্থানীয় কর্মী (১:৫) এবং উৎপাদনমুখী শিল্প কারখানায় প্রতি ১ জন বিদেশির বিপরীতে অন্তত ১০ জন স্থানীয় কর্মী (১:১০) কর্মরত থাকতে হবে।

ট্যুরিস্ট (T) বা বিজনেস (B) ভিসায় বাংলাদেশে এসে কি ওয়ার্ক পারমিট নেওয়া সম্ভব?

না। পর্যটন বা ব্যবসায়িক ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে কাজ করা আইনত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ওয়ার্ক পারমিট পেতে হলে প্রার্থীকে অবশ্যই বিডার সুপারিশপত্রের ভিত্তিতে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে 'E' (Employment) অথবা 'PI' (Private Investor) ক্যাটাগরির ভিসা নিয়ে দেশে প্রবেশ করতে হবে।

বাংলাদেশে আগমনের পর কত দিনের মধ্যে ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করতে হয়?

বিদেশি কর্মীর বাংলাদেশে প্রবেশের তারিখ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে বিডার ওয়ান স্টপ সার্ভিস (OSS) পোর্টালের মাধ্যমে ওয়ার্ক পারমিটের আনুষ্ঠানিক আবেদন দাখিল করতে হয়।

ওয়ার্ক পারমিটের প্রাথমিক মেয়াদ কত দিনের জন্য মঞ্জুর করা হয়?

সাধারণত পদের ধরন, কোম্পানির প্রয়োজনীয়তা এবং চুক্তিপত্রের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে ১ (এক) বছরের জন্য ওয়ার্ক পারমিট মঞ্জুর করা হয়, যা পরবর্তীতে সন্তোষজনক নিরাপত্তা ছাড়পত্র সাপেক্ষে প্রতি বছর নবায়ন করা যায়।

নিরাপত্তা ছাড়পত্র বা পুলিশ ভেরিফিকেশন (Security Clearance) না পেলে কী হবে?

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন স্পেশাল ব্রাঞ্চ (SB) এবং এনএসআই (NSI) কর্তৃক বিরূপ প্রতিবেদন এলে অথবা নিরাপত্তা ছাড়পত্র প্রত্যাখ্যাত হলে বিডা তাৎক্ষণিকভাবে ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করে এবং সংশ্লিষ্ট বিদেশি কর্মীকে দেশত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়।

ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া বিদেশি কর্মী নিয়োগ দিলে প্রতিষ্ঠানের ওপর কী ধরনের আইনি জটিলতা তৈরি হয়?

আয়কর আইন ২০২৩ অনুযায়ী, অননুমোদিত বিদেশি কর্মীকে প্রদত্ত বেতন-ভাতা কোম্পানির অনুমোদিত ব্যয় হিসেবে গণ্য হয় না এবং ৫০% অতিরিক্ত কর বা অনধিক ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। এছাড়াও ফরেনার্স অ্যাক্ট অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও বিদেশি নাগরিক ফৌজদারি দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।

ব্যক্তিগত আইনি সহায়তা

আপনার পরিস্থিতি অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট আইনি সহায়তা প্রয়োজন?

আমাদের সিনিয়র আইনজীবী ও রেগুলেটরি বিশেষজ্ঞদের সাথে পরামর্শ করে আপনার ঝুঁকি নিরূপণ ও সমাধান নিশ্চিত করুন।

রক্ষণাবেক্ষণ লুপ

এই গাইডে সমস্যা দেখেছেন?

ভুল উদ্ধৃতি, ভাঙা লিংক, অনুবাদ বা বর্তমানতার সমস্যা জানাতে রেকর্ড আইডিসহ সম্পাদকীয় টিমকে জানান। এটি স্বয়ংক্রিয় আইনি আপডেটের নিশ্চয়তা নয়।