নির্বাহী সারসংক্ষেপ ও দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশিকা
আমি আপনার সাথে সরাসরি এবং স্পষ্ট ভাষায় বলছি: তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ (২০০৯ সালের ২০ নম্বর আইন) একজন সাধারণ বাংলাদেশী নাগরিকের হাতে থাকা অন্যতম শক্তিশালী— অথচ সবচেয়ে কম ব্যবহৃত আইনি হাতিয়ার। এটি মূলত এই জন্যই তৈরি করা হয়েছে যাতে আপনাকে জনণের টাকা কীভাবে খরচ হচ্ছে, কেন কোনো প্রকল্পের কাজ থমকে গেছে, বা আপনার জীবনকে প্রভাবিত করে এমন কোনো বিষয়ে সরকারি অফিস কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা জানার জন্য কারও কাছে হাত পাততে, অনুরোধ করতে বা ঘুষ দিতে না হয়। এই আইনের ধারা ৪ এর অধীনে, প্রতিটি নাগরিকের যেকোনো পাবলিক অথরিটি (সরকারি কর্তৃপক্ষ), সংবিধিবদ্ধ সংস্থা, সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত এনজিও বা সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান থেকে তথ্য চাওয়ার একটি আইনগত এবং প্রয়োগযোগ্য অধিকার রয়েছে— এবং সেই কর্তৃপক্ষ আপনাকে উত্তর দিতে আইনগতভাবে বাধ্য।
আমি এমন অসংখ্য মক্কেলের মুখোমুখি হয়েছি যারা ধরে নিয়েছিলেন যে সরকারি নথিপত্র সাধারণ মানুষের চোখের আড়ালে চিরকালের জন্য তালাবদ্ধ থাকে। আসলে তা নয়। একজন নাগরিক এবং সত্যের মাঝখানে সাধারণত যা দেওয়াল হয়ে দাঁড়ায় তা কোনো আইন নয়— বরং সঠিক ফরমটি কোনটি, কোন কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করতে হবে এবং কোনো কর্মকর্তা গড়িমসি করলে কোন ধাপগুলো অনুসরণ করে ওপরের স্তরে যেতে হবে সে সম্পর্কে অজ্ঞতা। এই নির্দেশিকাটিতে আপনাকে ঠিক সেই বিষয়গুলোই জানানো হচ্ছে: ফরম, কর্মকর্তা, সময়সীমা, ফি এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণভাবে— কেউ যখন আপনার সাথে লুকোচুরি খেলার চেষ্টা করবে, ঠিক সেই মুহূর্তে আপনার করণীয় কী।
নাগরিকদের জন্য দ্রুত করণীয়: জরুরি ভিত্তিতে সরকারি তথ্য প্রয়োজন? কোনো অনানুষ্ঠানিক চিঠি লিখবেন না— সেটির কোনো আইনি ভিত্তি নেই।
www.infocom.gov.bdওয়েবসাইট থেকে ফরম-ক (Form-Ka) ডাউনলোড করুন অথবাrtionline.gov.bd-এর মাধ্যমে ডিজিটালি আবেদন করুন। সংশ্লিষ্ট অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তা (DIO) বরাবর আবেদনটি পাঠান। আইন অনুযায়ী, আপনাকে ২০ কার্যদিবসের মধ্যে (জীবন বা ব্যক্তিগত স্বাধীনতার প্রশ্ন জড়িত থাকলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে) উত্তর দিতে হবে। তথ্য প্রদানে গড়িমসি বা আইনগত কারণ ছাড়া প্রত্যাখ্যান করা হলে আপনার আপিল করার অধিকার তৈরি হয়— প্রথমে অভ্যন্তরীণভাবে, এবং পরবর্তীতে ধারা ২৪ অনুযায়ী তথ্য কমিশন-এ।
আইনগত অধিকার ও সাংবিধানিক সুরক্ষা কাঠামো
আপনার জানার অধিকার কোনো উদার আমলাতন্ত্রের পক্ষ থেকে দেওয়া দয়া বা অনুগ্রহ নয়— এটি দেশের সর্বোচ্চ আইনে প্রোথিত এবং বিশেষ আইন দ্বারা সুদৃঢ়।
- সাংবিধানিক নির্দেশিকা (অনুচ্ছেদ ৩৯): গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদের অধীনে চিন্তা, বিবেক ও বাকস্বাধীনতা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। আমাদের উচ্চ আদালতসমূহ ধারাবাহিকভাবে এই মর্মে রায় দিয়েছেন যে, এই স্বাধীনতার অন্তর্নিহিত অর্থ হলো "জানার অধিকার"— কারণ একজন নাগরিক সঠিক সরকারি তথ্য না জেনে অর্থবহভাবে কথা বলতে, সংগঠিত হতে বা ক্ষমতার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারেন না।
- অনুচ্ছেদ ২৭ (আইনের দৃষ্টিতে সমতা): তথ্য চাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিটি নাগরিক— শ্রেণি, যোগাযোগ বা প্রভাব নির্বিশেষে— অভিন্ন আচরণের অধিকারী। কোনো ডিআইও (DIO) আইনগতভাবে কোনো প্রভাবশালী আবেদনকারীকে সাধারণ কৃষক বা পোশাক শ্রমিকের চেয়ে অগ্রাধিকার দিতে পারবেন না।
- অনুচ্ছেদ ৩১ (আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার): জীবন, স্বাধীনতা বা সম্পত্তির ওপর প্রভাব ফেলে এমন যেকোনো ব্যবস্থার ক্ষেত্রে প্রতিটি নাগরিকের আইন অনুযায়ী এবং কেবল আইন অনুযায়ী আচরণের অধিকার রয়েছে। কোনো আইনগত তথ্য আবেদন অযৌক্তিক ও ব্যাখ্যাহীনভাবে প্রত্যাখ্যান করা এই গ্যারান্টি লঙ্ঘন করে।
- তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ (২০০৯ সালের ২০ নম্বর আইন): ২০০৯ সালের ৬ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি কর্তৃক অনুমোদিত এবং ২০০৯ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া এই আইনটি আপনার প্রধান আইনি অস্ত্র।
- ধারা ৪ (তথ্য লাভের অধিকার): প্রতিটি নাগরিকের তথ্য লাভের অধিকার রয়েছে এবং ধারা ৭-এর সীমিত ব্যতিক্রমসমূহ সাপেক্ষে, যেকোনো কর্তৃপক্ষ আবেদন করার পর তা সরবরাহ করতে বাধ্য।
- ধারা ৮ (তথ্য প্রাপ্তির আবেদন পদ্ধতি): আপনার আবেদনটি লিখিত বা ইলেকট্রনিক ফর্মে হতে হবে, নির্ধারিত ফরম— ফরম-ক— এ জমা দিতে হবে, যেখানে আপনার পরিচয় স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে এবং কাঙ্ক্ষিত তথ্যের বিবরণ থাকতে হবে।
- ধারা ৯ (আবেদন নিষ্পত্তি): ডিআইও (DIO)-এর ওপর একটি কঠোর আইনি সময়সীমা নির্ধারণ করে— সাধারণ ক্ষেত্রে ২০ কার্যদিবস, জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা সম্পর্কিত বিষয়ের জন্য ২৪ ঘণ্টা, এবং একাধিক কর্তৃপক্ষ বা তৃতীয় পক্ষের স্বার্থ জড়িত এমন ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ ৩০ কার্যদিবস।
- ধারা ২৪ (তথ্য কমিশনে আপিল/অভিযোগ): ডিআইও দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হলে, অসম্পূর্ণ বা মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করলে, অথবা আপনার অভ্যন্তরীণ আপিল অন্যায়ভাবে খারিজ বা অবহেলা করা হলে সরাসরি প্রধান তথ্য কমিশনারের কাছে যাওয়ার অধিকার।
- ধারা ২৫ (কমিশনের ক্ষমতা): কমিশনকে দেওয়ানি আদালতের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে— এটি সাক্ষীদের সমন পাঠাতে পারে, নথি পেশ করতে বাধ্য করতে পারে, রেকর্ড পরিদর্শন করতে পারে এবং বাধ্যতামূলক আদেশ জারি করতে পারে।
- ধারা ২৭ (অভ্যন্তরীণ আপিল): প্রত্যাখ্যান বা তথ্য প্রদানে ব্যর্থতার ৩০ দিনের মধ্যে, বাইরের স্তরে যাওয়ার আগে, আপনাকে প্রথমে নির্ধারিত আপিল কর্তৃপক্ষ (ডিআইও-এর প্রশাসনিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা)-র কাছে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।
- ধারা ৩২ ও ৩৩ (অপরাধ ও শাস্তি): কমিশনকে ক্ষমতা দেয় যাতে তারা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ কর্মকর্তাদের জন্য প্রতিদিন দেরির জন্য ৫০ টাকা হারে, সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করতে পারে এবং বিভাগীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের আনুষ্ঠানিক সুপারিশ করতে পারে।
- তথ্য অধিকার বিধিমালা, ২০০৯: ফরম-ক-এর সঠিক বিন্যাস, ফটোকপি ও অনুসন্ধান সময়ের জন্য ফি-এর সর্বোচ্চ সীমা এবং অভ্যন্তরীণ আপিলের পদ্ধতিগত নমুনা নির্ধারণকারী অধীনস্থ আইন।
- তথ্য অধিকার (তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মনোনয়ন ও আপিল কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ) প্রবিধানমালা, ২০০৯: প্রতিটি মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, উপজেলা পরিষদ এবং রাষ্ট্রমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানকে তাদের নোটিশ বোর্ড ও ওয়েবসাইটে তাদের ডিআইও এবং আপিল কর্তৃপক্ষের নাম, রুম নম্বর, ফোন নম্বর ও ইমেল জনসমক্ষে প্রকাশ করতে আইনগতভাবে বাধ্য করে। কোনো অফিস যদি এই নোটিশ প্রদর্শন করতে ব্যর্থ হয়, তবে সেই ব্যর্থতা নিজেই একটি লঙ্ঘন যা আপনি আপনার অভিযোগে উল্লেখ করতে পারেন।
ধাপ অনুযায়ী ব্যবহারিক পদ্ধতি
সঠিকতা তথ্য অধিকার (RTI) আবেদনকে জয়ী করে; অস্পষ্টতা সেগুলোকে ব্যর্থ করে। এই ক্রমটি ঠিকভাবে অনুসরণ করুন, তাহলে একজন অনিচ্ছুক কর্মকর্তা যে অজুহাতই খুঁজতে চাক না কেন, আপনি তা খণ্ডন করতে পারবেন।
পর্যায় ১: লক্ষ্যভিত্তিক কর্তৃপক্ষ এবং ডিআইও (DIO) চিহ্নিত করুন
- সঠিক এখতিয়ার ম্যাপ করুন। নিজেকে প্রশ্ন করুন: কোন অফিসটি আসলে এই রেকর্ডটি সংরক্ষণ করে? রাস্তা নির্মাণের তহবিলের বিবরণ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (UNO) বা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (LGED)-এর উপজেলা কার্যালয়ের কাছে থাকে— সাধারণত জেলা প্রশাসনের কাছে নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির রেকর্ড সেই নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে থাকে। ভুল অফিসে আবেদন করলে আপনার ২০ দিনের সময়সীমা নষ্ট হবে, কারণ সেই অফিস আইনগতভাবে উত্তর দিতে পারে যে তাদের কাছে কাঙ্ক্ষিত রেকর্ডটি নেই।
- ডিআইও (DIO) কে খুঁজে বের করুন। প্রতিটি সরকারি অফিসে একটি "তথ্য বোর্ড" প্রদর্শিত থাকতে হবে— অফিসের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা শারীরিক নোটিশ বোর্ড চেক করুন, অথবা অফিসের অভ্যর্থনায় সরাসরি ফোন করে জিজ্ঞেস করুন, "আপনাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তা কে?" যদি কোনো ডিআইও-এর নাম ঘোষণা না করা হয়ে থাকে, তবে আপনার আবেদন সরাসরি অফিসের প্রধানের উদ্দেশ্যে সম্বোধন করুন এবং আপনার ফাইলে এই অনুপস্থিতির কথা উল্লেখ করুন— এটি পরবর্তীতে যেকোনো আপিলকে আরও শক্তিশালী করবে।
পর্যায় ২: ফরম-ক (Form-Ka) প্রস্তুত ও জমা দিন
- তথ্য কমিশনের ওয়েবসাইট (
www.infocom.gov.bd) থেকে অফিসিয়াল ফরমটি ডাউনলোড করুন অথবাrtionline.gov.bd-এর মাধ্যমে সরাসরি অনলাইনে আবেদন করুন। কোনো ব্যক্তিগত নমুনা ব্যবহার করবেন না— ভুল বিন্যাসের আবেদন একজন অনিচ্ছুক কর্মকর্তাকে আপনাকে আটকে রাখার একটি প্রযুক্তিগত অজুহাত দেয়। - প্রতিটি ক্ষেত্র নিখুঁতভাবে পূরণ করুন:
- কর্তৃপক্ষের নাম: সঠিক অফিসের নাম লিখুন (যেমন, সিভিল সার্জন কার্যালয়, ঢাকা বা নির্বাহী প্রকৌশলী, পানি উন্নয়ন বোর্ড, সিলেট)।
- ডিআইও-এর নাম: জানা থাকলে অন্তর্ভুক্ত করুন— এটি ইঙ্গিত দেয় যে আপনি আপনার হোমওয়ার্ক করেছেন এবং বিলম্ব করার কৌশলগুলোর সহজ শিকার হবেন না।
- আবেদনকারীর বিবরণ: আপনার পূর্ণ আইনগত নাম, পিতা/মাতার নাম, স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা, ফোন নম্বর এবং ইমেল।
- কাঙ্ক্ষিত তথ্যের বিবরণ: সুনির্দিষ্ট হোন। "প্রকল্প এক্স-এর সমস্ত ফাইল আমাকে দিন"— এমনটি লিখবেন না। পরিবর্তে লিখুন: "উপজেলা পরিষদের তহবিল, ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের অধীনে ০৪ নম্বর ওয়ার্ডে বাস্তবায়িত আরসিসি ড্রেন নির্মাণের অনুমোদিত ব্যয়ের বিলের প্রত্যয়িত কপি, ঠিকাদারের পরিমাপ বইয়ের (MB) এন্ট্রি এবং প্রকল্প সমাপ্তির সার্টিফিকেটের অনুলিপি।" সুনির্দিষ্ট তথ্য কর্মকর্তার জন্য আপনার আবেদনকে "অস্পষ্ট" বলে দাবি করার সুযোগ কেড়ে নেয়।
- সরবরাহ ফরম্যাট: আপনি কি শারীরিক কপি চান, সরাসরি সংগ্রহ করতে চান, নাকি ইমেল/ইউএসবি-র মাধ্যমে সফট কপি চান তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করুন।
- তারিখ ও স্বাক্ষর: ডিজিটালভাবে প্রিন্ট করা জমা দেওয়ার ক্ষেত্রেও যেখানে সরাসরি স্বাক্ষরের প্রয়োজন হয়, সেখানে স্বাক্ষর এবং তারিখ দিন।
- আপনার জমা দেওয়ার মাধ্যম বেছে নিন:
- অনলাইন:
rtionline.gov.bd-এ রেজিস্টার করুন, ড্রপডাউন থেকে সঠিক সংস্থা নির্বাচন করুন, যেকোনো সহায়ক নথি সংযুক্ত করুন এবং জমা দিন। আপনি তাৎক্ষণিকভাবে একটি ট্র্যাকিং আইডি এবং এসএমএস/ইমেল নিশ্চিতকরণ পাবেন— উভয়ই সংরক্ষণ করুন। - শারীরিক কাউন্টার: দুটি কপি প্রিন্ট করুন। একটি জমা দিন, এবং রিসিভিং ক্লার্ককে আপনার কাছে থাকা দ্বিতীয় কপিতে সিল, স্বাক্ষর, তারিখ দিতে এবং একটি ইনওয়ার্ড ডায়রি/ক্রমিক নম্বর রেকর্ড করতে বাধ্য করুন। ক্লার্ক যদি আপনার আবেদন গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন (একটি সাধারণ প্রথম সারির বাধা দেওয়ার কৌশল), তবে নিচের এসকালেশন বা উচ্চতর পদক্ষেপে চলে যান।
- রেজিস্টার্ড ডাকযোগ: প্রাপ্তি স্বীকারপত্র (A/D)-সহ রেজিস্টার্ড ডাকযোগে অথবা কোনো নামকরা কুরিয়ারের মাধ্যমে ডিআইও-র নাম ও পদবি উল্লেখ করে পাঠান। ডাকঘরের রসিদ এবং ট্র্যাকিং নম্বর সংরক্ষণ করুন— এটি আপনার সেবা প্রদানের তারিখের আইনি প্রমাণ।
পর্যায় ৩: আপনার প্রাপ্তি স্বীকার রসিদ সুরক্ষিত ও সংরক্ষণ করুন
- কাগজের এই ছোট্ট টুকরোটিই আপনার সমগ্র আইনি মামলার মেরুদণ্ড। আইনিভাবে ২০ কার্যদিবসের সময়সীমা কঠোরভাবে সেই তারিখ থেকে শুরু হয় যেদিন ডিআইও আপনার আবেদনটি গ্রহণ করেন— আপনি যেদিন এটি পোস্ট করেছেন সেদিন থেকে নয়, এবং আপনি ব্যক্তিগতভাবে যা ন্যায্য মনে করেন সেদিন থেকেও নয়।
- আপনার ফোনে অবিলম্বে আপনার সিলমোহরযুক্ত ডুপ্লিকেট কপির ছবি তুলুন, যাতে তারিখটি স্পষ্টভাবে দেখা যায়, এবং একটি শারীরিক ও ডিজিটাল কপি উভয়ই সংরক্ষণ করুন।
- কাউন্টারে শান্ত ও স্পষ্টভাবে বলুন: "দয়া করে আপনার অফিসের ইনওয়ার্ড রেজিস্টার নম্বর দিয়ে আমার ডুপ্লিকেট কপিতে সিল, স্বাক্ষর এবং তারিখ দিন। তথ্য অধিকার বিধিমালা, ২০০৯ অনুযায়ী এটি আমার আইনি অধিকার।" কোনো ক্লার্ক যদি এটি করতে অস্বীকার করেন, তবে তা আপনাকে আইনি প্রমাণ থেকে বঞ্চিত করার শামিল— তার নাম, দৃশ্যমান হলে ব্যাজ নম্বর এবং সঠিক সময় নোট করুন এবং লিখিতভাবে অবিলম্বে অফিসের প্রধানের কাছে অভিযোগ জানান।
অফিসিয়াল ফি তফসিলে, পেমেন্ট চালান ও সরবরাহের সময়সীমা
অফিসিয়াল ফি তফসিল
| আইটেম | ফি (টাকা) | নোটসমূহ |
|---|---|---| | আবেদন ফি — অনলাইন (rtionline.gov.bd) | বিনামূল্যে | ডিজিটাল মাধ্যমে আবেদন করার জন্য কোনো চার্জ প্রযোজ্য নয় | | আবেদন ফি — সরাসরি জমা দেওয়া | ১০–২০ টাকা | সাধারণ প্রশাসনিক চার্জ, যা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ওপর নির্ভর করে | | ফটোকপি / প্রিন্টআউট (প্রতিটি A4/Legal পেজ) | ২–৫ টাকা | তথ্য অধিকার বিধি, ২০০৯ অনুযায়ী নির্ধারিত — কোনো অযৌক্তিক অতিরিক্ত ফি নেওয়া যাবে না | | সফট কপি (CD/DVD/USB) | মিডিয়ার প্রকৃত মূল্য + ৫০–২০০ টাকা কম্পাইলেশন ফি | ডিজিটাল রেকর্ডের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে ফি নির্ধারিত হবে | | রেকর্ড পরিদর্শন — প্রথম এক ঘণ্টা | বিনামূল্যে | আইনগত অধিকার | | পরিদর্শন — পরবর্তী ঘণ্টাগুলোর জন্য | ২০–৫০ টাকা/ঘণ্টা | সামান্য ফি, চার্জ করা হলে তা লিখিতভাবে যুক্তিসঙ্গত হতে হবে |
অস্বচ্ছল নাগরিকদের জন্য আইনগত ফি অব্যাহতি
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র অথবা ওয়ার্ড কাউন্সিলরের নিকট থেকে "দরিদ্র" হিসেবে প্রত্যয়নপত্রপ্রাপ্ত নাগরিকগণ সাধারণ তথ্য আবেদনের ক্ষেত্রে তল্লাশি, পরিদর্শন ও কপির ফি থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি পাবেন। এই সুবিধা পাওয়ার জন্য আপনার ফরম-‘ক’-এর সাথে মূল প্রত্যয়নপত্র সংযুক্ত করুন — এই অধিকারের বিষয়ে মৌখিক অস্বীকৃতি গ্রহণ করবেন না; সরাসরি তথ্য অধিকার বিধি, ২০০৯ উদ্ধৃত করুন।
ফি পরিশোধের মাধ্যমসমূহ
- ট্রেজারি চালান: তথ্য পুনरुৎপাদন বা তল্লাশির ফি বেশি হলে, যেকোনো বাংলাদেশ ব্যাংক বা সোনালী ব্যাংকের শাখায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগের নির্ধারিত নন-ট্যাক্স রেভিনিউ (NTR) হেড কোডে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে ফি জমা দিন। সিলমোহরযুক্ত চালান কপি সর্বদা সংরক্ষণ করুন।
- মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (MFS):
rtionline.gov.bd-এর মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করলে সরাসরি বিকাশ, নগদ এবং রকেটের পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার করা যায় — পেমেন্টের প্রমাণ হিসেবে ট্রানজেকশন কনফার্মেশন এসএমএস সংরক্ষণ করুন।
আইনগত সরবরাহ সময়সীমা
| পরিস্থিতি | আইনগত সময়সীমা | আইনগত ভিত্তি |
|---|---|---|
| সাধারণ তথ্য আবেদন | প্রাপ্তির দিন থেকে ২০ কার্যদিবস | ধারা ৯(১) |
| জীবন, গ্রেপ্তার বা ব্যক্তিগত মুক্তি সংশ্লিষ্ট তথ্য | ২৪ ঘণ্টা | ধারা ৯(৩) |
| একাধিক কর্তৃপক্ষ বা তৃতীয় পক্ষের বাণিজ্যিক গোপনীয়তা সংশ্লিষ্ট আবেদন | সর্বোচ্চ ৩০ কার্যদিবস (১০ দিনের সময়বৃদ্ধি, তবে প্রাথমিক সময়সীমা শেষ হওয়ার পূর্বেই তা লিখিতভাবে জানাতে হবে) | ধারা ৯(২) |
আইনজীবীর পরামর্শ: সরকারি ছুটি এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলো "কার্যদিবস"-এর গণনায় অন্তর্ভুক্ত হবে না। আবেদন করার সাথে সাথেই ম্যানুয়াল ক্যালেন্ডারে তারিখ নোট করে রাখুন — এই একটি অভ্যাস অতীতে আমার অনেক মক্কেলকে পরবর্তীতে ভুলভাবে অস্বীকার করার দাবি থেকে রক্ষা করেছে।
বাধ্যতামূলক দলিল ও প্রমাণ যাচাইকরণ চেকস্টলিস্ট
আবেদন জমা দেওয়ার আগে — কিংবা আপিল করার আগে — নিশ্চিত করুন যে আপনার নথিতে নিচের প্রতিটি জিনিস রয়েছে:
- ফরম-ক (Form-Ka): সঠিকভাবে পূরণকৃত, স্বাক্ষরিত, তারিখযুক্ত এবং কাঙ্ক্ষিত রেকর্ডগুলোর সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট বিবরণ সংবলিত।
- জমাদানের প্রমাণ:
- অনলাইন: ডিজিটাল ট্র্যাকিং নম্বর এবং এসএমএস/ইমেইল কনফার্মেশনের স্ক্রিনশট।
- সরাসরি: সিল, স্বাক্ষর এবং তারিখযুক্ত ইনওয়ার্ড ডায়েরি নম্বরসহ অনুলিপি।
- ডাকযোগ: রেজিস্টার্ড ডাকযোগের এ/ডি (A/D) প্রাপ্তি স্বীকার কার্ড এবং কুরিয়ার ট্র্যাকিং রসিদ।
- ফি পরিশোধের রসিদ (যেখানে প্রযোজ্য): মূল ট্রেজারি চালান, ব্যাংক স্ক্রল কপি বা এমএফএস ট্রানজেকশন আইডি।
- দরিদ্র সনদ (ফি মওকুফ চাচ্ছিলেন): সংশ্লিষ্ট স্থানীয় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির মূল সনদপত্র।
- অস্বীকৃতি নোটিশ বা নীরবতার রেকর্ড: মূল লিখিত প্রত্যাখ্যান চিঠি ও খাম (যদি ইস্যু করা হয়ে থাকে), অথবা কোনো জবাব ছাড়াই ২০ কার্যদিবসের সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার প্রমাণস্বরূপ আপনার তারিখযুক্ত ক্যালেন্ডার লগ।
- যোগাযোগের ধারাবাহিকতা: ডিআইও-র (DIO) কাছে পাঠানো প্রতিটি ফলো-আপ ইমেল, ফোন লগ বা চিঠির অনুলিপি — বিষয়টি তথ্য কমিশন বা হাইকোর্টে গড়ালে এগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হয়ে দাঁড়ায়।
সাধারণ ফাঁদ, আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা ও আত্মরক্ষার কৌশল
আমি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মন্ত্রণালয়, জেলা এবং পৌর অফিসগুলোতে এই চারটি বাধা দেওয়ার কৌশল বারবার দেখতে পাচ্ছি। এগুলো তাৎক্ষণিকভাবে চিনতে পারলে তাদের ক্ষমতা খর্ব হয়ে যায়।
ফাঁদ ১: "অস্পষ্ট আবেদন" বলে আটকে দেওয়া
ফাঁদ: ডিআইও (DIO) আপনার আবেদন এই বলে ফিরিয়ে দেন যে এটি খুব বেশি বিস্তৃত বা অস্পষ্ট এবং এমন সব অভ্যন্তরীণ ফাইল নম্বর বা স্মারক রেফারেন্স দাবি করেন যা একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আপনার পক্ষে কখনোই থাকা সম্ভব নয়।
আপনার পাল্টা কৌশল: সরাসরি ধারা ৮ উদ্ধৃত করুন। আইনে কেবল কাঙ্ক্ষিত তথ্যের একটি স্পষ্ট বিবরণ চাওয়া হয়েছে — অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক রেফারেন্স নম্বর নয়। আপনার বিবরণটি সামান্য সংকুচিত করে (নির্দিষ্ট তারিখ, প্রকল্পের নাম, অর্থবছর, ওয়ার্ড নম্বর) লিখিতভাবে জবাব দিন এবং স্পষ্টভাবে পুনরায় উল্লেখ করুন: "তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর ধারা ৮ অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ ফাইল নম্বর সরবরাহ করা আমার আইনগত বাধ্যবাধকতা নয়। অনুগ্রহ করে যেভাবে আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে সেভাবেই তা প্রক্রিয়াকরণ করুন।"
ফাঁদ ২: "টোটাল সাইলেন্স" বা তথ্য না দিয়ে চুপ থাকা
ফাঁদ: ২০ কার্যদিবস পেরিয়ে যায়। কোনো চিঠি নেই, কোনো কল নেই, কোনোAcknowledgment নেই — অফিস এই শর্তে বসে আছে যে আপনি একসময় ক্লান্ত হয়ে নিজে থেকেই হাল ছেড়ে চলে যাবেন।
আপনার শিকারী কৌশল: এই বিষয়ে আইন অন্য যেকোনো জায়গার চেয়ে আপনার পক্ষে আরও স্পষ্ট। সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ার পরও কোনো জবাব না দেওয়া মানে আইনের বিধান অনুযায়ী এটি একটি "দেমড রিফিউজাল" (Deemed Refusal বা অমৌখিক অস্বীকৃতি) — আইনগতভাবে এটিকে ঠিক সেভাবেই গণ্য করা হবে যেন ডিআইও লিখিতভাবে আবেদনটি প্রত্যাখ্যান করেছেন। নিখুঁতভাবে কার্যদিবস গণনা করুন এবং ২১তম দিনে ধারা ২৭ অনুযায়ী আপিল কর্তৃপক্ষের নিকট আপনার অভ্যন্তরীণ আপিল দায়ের করুন। ভদ্রতা বশত বেশি দিন অপেক্ষা করবেন না — আপনার নিজের আপিল করার সময়ও ঘড়ির কাটার মতো বয়ে চলেছে।
ফাঁদ ৩: অযৌক্তিক ফি বা ঘুষের অবৈধ দাবি
ফাঁদ: কোনো কর্মকর্তা অনানুষ্ঠানিকভাবে অতিরিক্ত নগদ অর্থ দাবি করেন — যেমন ধরুন, ১০ পৃষ্ঠার ফটোকপির জন্য ২,০০০ টাকা চান যার প্রকৃত খরচ হওয়া উচিত ৩০–৫০ টাকা — অথবা ইঙ্গিত দেন যে কিছু "স্পিড মানি" দিলে আপনার ফাইল দ্রুত এগোবে।
আপনার পাল্টা কৌশল: কখনো অনানুষ্ঠানিকভাবে এবং সরকারি রসিদ ছাড়া কখনো নগদ টাকা দেবেন না। স্পষ্টভাবে বলুন: "অনুগ্রহ করে তথ্য অধিকার বিধি, ২০০৯ অনুযায়ী নির্ধারিত ফি-এর একটি লিখিত ও হিসাবযুক্ত বিবরণ আমাকে দিন।" শান্ত ও দৃঢ়ভাবে বলা এই একটিমাত্র বাক্য অধিকাংশ ঘুষের প্রচেষ্টাকে তৎক্ষণাৎ থামিয়ে দেয়, কারণ এটি চাহিদাকে লিখিত রেকর্ডের মধ্যে নিয়ে আসে। যদি দাবি অব্যাহত থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রধানের কাছে লিখিত অভিযোগ করুন, দুদক (ACC) হটলাইনে (১০৬) কল করুন এবং একই সাথে তথ্য কমিশনকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানান।
ফাঁদ ৪: ধারা ৭-এর exemptions বা ব্যতিক্রমের অপপ্রয়োগ
ফাঁদ: টেন্ডার এওয়ার্ড, সম্পন্ন হওয়া প্রকল্পের বিল বা সাধারণ প্রশাসনিক ব্যয়ের মতো রুটিন বিষয়গুলোতেও ডিআইও "ধারা ৭-এর ব্যতিক্রম" কথাটি ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আপনার আবেদন নির্বিচারে প্রত্যাখ্যান করেন।
আপনার প্রতিবাদ: ধারা ৭ মনোযোগ সহকারে পড়ুন—এটি শুধুমাত্র অত্যন্ত সংকুচিত পরিসরে নির্দিষ্ট কিছু বিষয়কে অব্যাহতি দেয়: রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, বিচারাধীন ফৌজদারি তদন্ত, সিদ্ধান্তের পূর্বে মন্ত্রিসভার আলোচনা এবং প্রকৃত ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বা বাণিজ্যিক গোপনীয়তা। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণভাবে, धारा ৭(৪) অনুযায়ী দুর্নীতি, মানবাধিকার লঙ্ঘন বা ২৫ বছরের অধিক পুরোনো সম্পন্ন হওয়া তদন্ত সম্পর্কিত তথ্য কোনো অব্যৃতির অজুহাতে অস্বীকার করা যাবে না। আপনার অভ্যন্তরীণ আপিলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করুন: "ডিআইও (DIO)-এর ধারা ৭-এর ওপর নির্ভরতা ভুল হয়েছে, কারণ প্রার্থিত তথ্যটি স্পষ্টভাবে ধারা ৭(৪)-এর তথ্য প্রকাশের আদেশের আওতাভুক্ত।"
হয়রানি, তথ্য প্রদানে অস্বীকৃতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রতিকার
যদি কোনো কর্মকর্তা আপনার আইনগত অনুরোধে গড়িমসি করেন, কালক্ষেপণ করেন, ভয়ভীতি দেখান বা সরাসরি তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান, তবে আইন আপনাকে একটি স্পষ্ট, ধাপে ধাপে এগোনোর উপায় বা সিঁড়ি দিয়েছে। নিয়ম মেনে এক এক ধাপে এগিয়ে যান—কোনো ধাপ বাদ দেবেন না। কারণ প্রতিটি ধাপের নথিপত্র ভবিষ্যতে প্রয়োজনে আপনাকে হাইকোর্টে রিট মামলা করতে সাহায্য করবে।
[ধাপ ১: ডিআইও-এর নিকট ফরম 'ক' দাখিল]
│
▼ (২০ কার্যদিবস অতিক্রান্ত হওয়া / লিখিত অনীহা প্রকাশ)
[ধাপ ২: আপিল কর্তৃপক্ষের নিকট অভ্যন্তরীণ আপিল — ধারা ২৭]
│
▼ (১৫-৩০ দিন অতিক্রান্ত হওয়া / আপিল অগ্রাহ্য বা উপেক্ষিত হওয়া)
[ধাপ ৩: তথ্য কমিশনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ — ধারা ২৪]
│
▼ (কমিশনের শুনানি → বাধ্যবাধকতামূলক আদেশ + ধারা ৩২/৩৩ অনুযায়ী জরিমানা)
[ধাপ ৪: সাংবিধানিক রিট অব ম্যানডামাস — হাইকোর্ট বিভাগ, অনুচ্ছেদ ১০২]
ধাপ ১: অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক আপিল (ধারা ২৭)
- আপিল করার সময়সীমা: তথ্য প্রদানে অস্বীকৃতির নোটিশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে, অথবা ২০ কার্যদিবসের আইনি নীরবতার মেয়াদ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই।
- আবেদনের ঠিকানা: আপিল কর্তৃপক্ষ—সাধারণত ডিআইও-এর সরাসরি প্রশাসনিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা (অফিসভেদে একজন মহাপরিচালক, যুগ্ম সচিব বা জেলা প্রশাসক)।
- আবেদনে যা যা সংযুক্ত করবেন: আপনার মূল আবেদনের তারিখ এবং ট্র্যাকিং বা ডায়েরি নম্বর, ডিআইও-এর দায়িত্বহীনতা বা ভুলভাবে তথ্য না দেওয়ার একটি বাস্তবসম্মত বিবরণ, এবং অবিলম্বে তথ্য প্রকাশের আদেশ চেয়ে একটি স্পষ্ট প্রার্থনা।
- নিষ্পত্তির আইনি সময়সীমা: ১৫ দিন, যা কেবল লিখিত কারণ লিপিবদ্ধ করে এবং আপনাকে তা জানিয়ে সর্বোচ্চ ৩০ দিন পর্যন্ত বৃদ্ধি করা যেতে পারে।
আপনার কাভার লেটারের জন্য ব্যবহারিক খসড়া: "আমি [তারিখ]-এ [ডিআইও-এর নাম/অফিস]-এর নিকট ফরম 'ক' জমা দিয়েছি, যার প্রাপ্তি স্বীকারপত্র ইনওয়ার্ড ডায়েরি নম্বর [নম্বর]-এ সংরক্ষিত আছে। এই আপিল দাখিলের তারিখ পর্যন্ত, [কোনো জবাব পাওয়া যায়নি / কোনো বৈধ আইনি ভিত্তি ছাড়াই আবেদনটি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে]। আমি বিনীতভাবে অনুরোধ করছি যে, তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর ধারা ২৭ অনুযায়ী আপিল কর্তৃপক্ষ হিসেবে আপনি প্রার্থিত তথ্যসমূহ অবিলম্বে প্রকাশের নির্দেশ প্রদান করুন।"
ধাপ ২: তথ্য কমিশনে অভিযোগ (ধারা ২৪)
- অভিযোগ করার সময়সীমা: আপিল কর্তৃপক্ষের কোনো প্রতিকূল সিদ্ধান্তের ৩০ দিনের মধ্যে, অথবা কোনো সমাধান ছাড়াই আপিল নিষ্পত্তির সময়সীমা অতিক্রান্ত হলে।
- যেখানে আবেদন করবেন: তথ্য কমিশন বাংলাদেশ, আগারগাঁও, ঢাকা, অথবা তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট
www.infocom.gov.bd-এর মাধ্যমে। - কমিশনের ক্ষমতা (ধারা ২৫): দেওয়ানি আদালতের ক্ষমতাবলে কমিশন ডিআইও-কে সশরীরে তলব করতে পারে, আটকে রাখা ফাইলগুলো তলব করতে পারে, শপথ পাঠের মাধ্যমে সাক্ষ্য গ্রহণ করতে পারে এবং তথ্য প্রকাশের জন্য বাধ্যতামূলক নির্দেশ জারি করতে পারে।
- যে ধরনের শাস্তির বিধান রয়েছে (ধারা ৩২ ও ৩৩): কমিশন যদি কোনো অযৌক্তিক অস্বীকৃতি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কালক্ষেপণ বা জেনেশুনে ভুল তথ্য সরবরাহের সত্যতা পায়, তবে তারা প্রতিদিন বিলম্বের জন্য ৫০ টাকা হারে, যা সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে, জরিমানা আরোপ করতে পারে এবং দায়ী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ বা معطل (সাসপেনশন)-এর আনুষ্ঠানিক সুপারিশ করতে পারে।
ধাপ ৩: সাংবিধানিক রিট পিটিশন (অনুচ্ছেদ ১০২)
যদি কোনো সরকারি কর্তৃপক্ষ তথ্য কমিশনের বাধ্যতামূলক আদেশও অমান্য করে—যা প্রাতিষ্ঠানিক অনমনীয়তার ক্ষেত্রে ক্ষেত্রবিশেষে ঘটে থাকে—তবে একজন নাগরিক আইনজীবীর মাধ্যমে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২ অনুযায়ী রিট অব ম্যানডামাস (হাইকোর্টের এমন একটি আদেশ যা কোনো সরকারি কর্তৃপক্ষকে তার আইনগত দায়িত্ব পালনে বাধ্য করে যা তারা বেআইনিভাবে পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে) দায়ের করতে পারবেন। এটি একটি কঠোর পদক্ষেপ, যা নিয়মিত এবং নথিবদ্ধ অসহযোগিতার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য—তবে প্রশাসনিক প্রতিকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হলে আদালত এই ধরনের রিট গ্রহণ করে থাকেন।
জরুরি ও প্রশাসনিক হেল্পলাইন
| হেল্পলাইন | নম্বর | কখন ব্যবহার করবেন |
|---|---|---|
| জাতীয় জরুরি সেবা | ৯৯৯ | কোনো সরকারি অফিসে আপনার তথ্য অধিকার (RTI) চর্চা করার সময় শারীরিক হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা বেআইনি আটকের শিকার হলে |
| জাতীয় নাগরিক হেল্পলাইন | ৩৩৩ | সরকারি পদ্ধতি এবং জেলা প্রশাসনে অভিযোগ দায়ের সংক্রান্ত সাধারণ নির্দেশনার জন্য |
| দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) হটলাইন | ১০৬ | টেন্ডার দলিল, প্রকল্পের রেকর্ড বা যেকোনো জনগুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদানে ঘুষ দাবি করার অভিযোগ জানাতে |
| তথ্য কমিশন | www.infocom.gov.bd এর মাধ্যমে |
ফরমাল ধারা ২৪ অনুযায়ী অভিযোগ ও আপিল দায়েরের জন্য |
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
১. ফরম 'ক' পূরণ করার সময় তথ্য চাওয়ার কারণ কি আমাকে ব্যাখ্যা করতে হবে?
না। তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর ধারা ৮(২) অনুযায়ী, তথ্য চাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা বা ন্যায়সংগত প্রমাণ করার কোনো বাধ্যবাধকতা আপনার নেই। আপনাকে কেবল আপনার পরিচয়, যোগাযোগের ঠিকানা এবং কাঙ্ক্ষিত রেকর্ডগুলোর সুনির্দিষ্ট বিবরণ প্রদান করতে হবে। যদি কোনো কর্মকর্তা জানতে চান "কেন" আপনার তথ্য প্রয়োজন, তবে আপনি বিনীতভাবে কিন্তু দৃঢ়তার সাথে তা প্রত্যাখ্যান করতে পারেন এবং সরাসরি ধারা ৮(২) এর কথা উল্লেখ করতে পারেন।
২. সরকারি অফিস কি আমার কাছে ফটোকপি বাবদ অতিরিক্ত বা মনগড়া ফি দাবি করতে পারে?
না। তথ্য অধিকার বিধিমালা, ২০০৯ অনুযায়ী ফটোকপি এবং তল্লাশি ফি কঠোরভাবে নির্ধারিত—সাধারণত প্রতি পৃষ্ঠা ২ টাকা থেকে ৫ টাকা। কোনো কর্মকর্তা যদি স্ফীত, অনানুষ্ঠানিক বা রসিদ ছাড়া নগদ অর্থ দাবি করেন, তবে তিনি আইনের বাইরে গিয়ে কাজ করছেন। লিখিত ও সুনির্দিষ্ট ফি-এর হিসাব বা রসিদ দাবি করুন, এবং রসিদ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তা লিখিত অভিযোগ দায়েরের ভিত্তি হিসেবে গণ্য করুন।
৩. ডিআইও যদি আমার আবেদন সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেন, তবে কী হবে?
কোনো ধরনের লিখিত জবাব ছাড়াই যখন টানা ২০ কার্যদিবস পার হয়ে যায়, তখন আইন অনুযায়ী একে "উপেক্ষা বা অস্বীকৃতি (Deemed Refusal)" হিসেবে ধরে নেওয়া হয়। আপনাকে অনির্দিষ্টকাল অপেক্ষা করতে হবে না বা পুনরায় আবেদন করতে হবে না—এই নীরবতাই আপনাকে নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল কর্তৃপক্ষের নিকট অভ্যন্তরীণ আপিল করার আইনি অধিকার দেয়।
৪. আমি কি চলমান কোনো সরকারি টেন্ডার বা প্রকিউরমেন্ট প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য চাইতে পারি?
সম্পন্ন হওয়া টেন্ডার মূল্যায়ন, অনুমোদিত বিল এবং কাজের আদেশ বা চুক্তি সাধারণত জনসমক্ষে প্রকাশযোগ্য। তবে, ধারা ৭ অনুযায়ী, যে টেন্ডার প্রক্রিয়াটি এখনো সক্রিয়ভাবে মূল্যায়নের অধীনে রয়েছে—যেখানে দরপত্রগুলো সিলগালা অবস্থায় রয়েছে এবং বাণিজ্যিক গোপনীয়তা প্রকৃতপক্ষেই বজায় রাখা প্রয়োজন—সেগুলোর তথ্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে অব্যাহতিপ্রাপ্ত হতে পারে। প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হওয়ার পর সেই অব্যাহতির মেয়াদ শেষ হয় এবং নথিপত্রগুলো প্রকাশের উপযোগী হয়ে ওঠে।
৫. কোন ধরনের তথ্যগুলো তথ্য প্রকাশের আওতা থেকে প্রকৃতপক্ষেই অব্যাহতিপ্রাপ্ত?
ধারা ৭ অনুযায়ী, কর্তৃপক্ষ আইনগতভাবেই সেই সমস্ত তথ্য আটকে রাখতে পারে যা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা, নিরাপত্তা বা প্রতিরক্ষার ক্ষতি করতে পারে; যা কোনো সক্রিয় ফৌজদারি তদন্ত বা বিচারাধীন আদালতকে প্রভাবিত করতে পারে; যা প্রকৃত ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বা বাণিজ্যিক গোপনীয়তাকে ক্ষুণ্ন করে (যদি না বৃহত্তর জনস্বার্থ জড়িত থাকে); অথবা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পূর্বে মন্ত্রিসভার গোপনীয় আলোচনা সংক্রান্ত। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণভাবে, ধারা ৭(৪) সমস্ত অব্যাহতির বাইরে একটি বিশেষ বিধান রেখেছে: দুর্নীতি, মানবাধিকার লঙ্ঘন বা ২৫ বছরেরও বেশি সময় পূর্বে সম্পন্ন হওয়া তদন্ত সম্পর্কিত তথ্য যেকোনো অব্যাহতির দাবি সত্ত্বেও অবশ্যই প্রকাশ করতে হবে।
৬. সাংবাদিক, গবেষক বা বিদেশি নাগরিকরা কি বাংলাদেশে তথ্য অধিকার (RTI) আবেদন করতে পারবেন?
ধারা ৪-এর অধীনে প্রদত্ত এই আইনগত অধিকার কেবল বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য। যে সকল সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ এবং স্বাধীন গবেষক বাংলাদেশের নাগরিক, তারা এই আইনটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করে থাকেন...
| Stages / Document / Service | Statutory Authority / Provision | Official Fee (BDT) & Payment Mode | Processing Timeline & Statutory Deadline | Responsible Authority & Escalation Forum |
|---|---|---|---|---|
| Initial Information Request | RTI Act, 2009 - Section 8(1) [Form 'Ka'] | BDT 10 (Standard); Free for marginalized citizens | 20 Working Days (Extended to 30 days for third party/life-related matters) | Designated Officer (DO) of the respective Public Authority |
| First Appeal | RTI Act, 2009 - Section 24(1) | No statutory fee prescribed | 30 Days from DO's refusal or expiry of deadline | Chief Administrative Officer / Appellate Authority of the Authority |
| Second Appeal (Complaint) | RTI Act, 2009 - Section 25 | No formal fee required | Within 30 Days of Appellate Authority's decision or lapse | Information Commission Bangladesh |
◆ সম্পর্কিত প্র্যাকটিস গাইড ও বিশ্লেষণ
<li style="margin-bottom:12px; line-height:1.5;">
<a href="/bn/register-trust-society-bangladesh-ngo-bn/" style="color:#C5A059; font-weight:600; text-decoration:none; font-size:14px; display:inline-block; transition:color 0.2s;">• বাংলাদেশে ট্রাস্ট ও অলাভজনক সমিতি নিবন্ধন: সোসাইটিজ রেজিস্ট্রেশন ও ট্রাস্ট আইন গাইড</a>
</li>
<li style="margin-bottom:12px; line-height:1.5;">
<a href="/bn/insurance-claims-dispute-settlement-idra-bangladesh-bn/" style="color:#C5A059; font-weight:600; text-decoration:none; font-size:14px; display:inline-block; transition:color 0.2s;">• বীমা দাবি বিরোধ ও আইডিআরএ (IDRA) নিষ্পত্তি পদ্ধতি: মেরিন কার্গো, ফায়ার পলিসি ও ক্ষতিপূরণ আদায় গাইড</a>
</li>
<li style="margin-bottom:12px; line-height:1.5;">
<a href="/bn/real-estate-developer-law-rajuk-approval-disputes-bangladesh-bn/" style="color:#C5A059; font-weight:600; text-decoration:none; font-size:14px; display:inline-block; transition:color 0.2s;">• রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার বিরোধ ও রাজউক নকশা অনুমোদন: ফ্ল্যাট ক্রেতা ও আবাসন খাতের আইনি প্রতিকার</a>
</li>
<li style="margin-bottom:12px; line-height:1.5;">
<a href="/bn/medical-negligence-bmdc-complaint-compensation-suit-hospital-bangladesh-bn/" style="color:#C5A059; font-weight:600; text-decoration:none; font-size:14px; display:inline-block; transition:color 0.2s;">• চিকিৎসায় অবহেলা ও ভুল চিকিৎসা: বিএমডিসি (BMDC) অভিযোগ ও হাসপাতালে ক্ষতিপূরণ মামলার আইনি গাইড</a>
</li>
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQs)
বাংলাদেশের তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ অনুযায়ী ফরম 'ক' কী?
তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর ধারা ৮(১) অনুযায়ী নির্ধারিত আবেদনপত্র হলো ফরম 'ক'। বাংলাদেশের যেকোনো সরকারি কর্তৃপক্ষ, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা বা সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে তথ্য পেতে নাগরিকদের বাধ্যতামূলকভাবে এই নির্দিষ্ট ফরম ব্যবহার করতে হয়। ফরমটিতে আবেদনকারীর নাম, পূর্ণ ঠিকানা, সুনির্দিষ্ট তথ্যের বিবরণ এবং তথ্য গ্রহণের পদ্ধতি পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করতে হয়।
তথ্য অধিকার আইনের আবেদন ফরম জমা দেওয়ার জন্য সরকারি ফি কত?
ফরম 'ক'-এর মাধ্যমে তথ্য পাওয়ার প্রাথমিক আবেদনের জন্য নির্ধারিত ফি হলো মাত্র ১০ (দশ) টাকা, যা কোর্ট ফি, ট্রেজারি চালান বা উপযুক্ত রসিদের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হয়। তবে সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী চরম দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী বা সুবিধাবঞ্চিত নাগরিকগণ উপযুক্ত প্রমাণ সাপেক্ষে এই ফি পরিশোধ থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি পেয়ে থাকেন।
দায়িত্বরত কর্মকর্তা কত দিনের মধ্যে তথ্য সরবরাহ করতে বাধ্য?
তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর ধারা ৯ অনুযায়ী, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (DO) আবেদন প্রাপ্তির তারিখ হতে ২০ কার্যদিবসের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত তথ্য সরবরাহ করতে বাধ্য। তবে যদি তথ্যের পরিধি ব্যাপক হয় বা কোনো ব্যক্তির জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা সংশ্লিষ্ট বিষয় হয়, তবে বিশেষ ক্ষেত্রে তা ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে বাড়ানো যেতে পারে, যা আবেদনকারীকে লিখিতভাবে জানাতে হয়।
নির্দিষ্ট ২০ দিনের মধ্যে তথ্য না পেলে বা অস্বীকার করলে কী করতে হবে?
যদি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নির্ধারিত ২০ কার্যদিবসের মধ্যে তথ্য প্রদানে ব্যর্থ হন কিংবা অযৌক্তিকভাবে তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান, তবে আপনি প্রথম আপিল করার আইনি অধিকার রাখেন। তথ্য প্রত্যাখ্যান বা সময়সীমা শেষ হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সরকারি কার্যালয়ের উচ্চপদস্থ আপিল কর্তৃপক্ষের নিকট এই আপিল দায়ের করতে হবে।
তথ্য কমিশনে দ্বিতীয় আপিল বা অভিযোগ করার নিয়ম কী?
প্রথম আপিল দায়েরের ৩০ দিনের মধ্যে যদি আপিল কর্তৃপক্ষ কোনো সিদ্ধান্ত না দেয় বা আপনি সন্তোষজনক উত্তর না পান, তবে আইনের ২৫ ধারা অনুযায়ী আপনি সরাসরি বাংলাদেশ তথ্য কমিশনে দ্বিতীয় আপিল বা অভিযোগ দায়ের করতে পারবেন। তথ্য কমিশনের শুনানির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ও তথ্য সরবরাহের নির্দেশ দেওয়ার আইনি ক্ষমতা রয়েছে।
তথ্য অধিকার আইনের আওতায় কোন ধরনের তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক নয়?
হ্যাঁ, তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর ধারা ৭ অনুযায়ী কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ে তথ্য প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক নয়। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষাকারী গোয়েন্দা প্রতিবেদন, চলমান বিচারিক কার্যক্রম সংক্রান্ত গোপনীয় বিষয়, বাণিজ্যিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ক্ষতিকর বাণিজ্য রহস্য এবং কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত গোপনীয়তা যা জনস্বার্থের সাথে সম্পর্কিত নয়।