নির্বাহী সারসংক্ষেপ ও সংবিধিবদ্ধ কর্তৃত্ব
| আইনি প্রক্রিয়া / বিষয়বস্তু | সংশ্লিষ্ট ধারা (কোম্পানি আইন ১৯৯৪) | নির্ধারিত সংবিধিবদ্ধ সময়সীমা | পালনযোগ্য আইনি বাধ্যবাধকতা |
|---|---|---|---|
| প্রথম বার্ষিক সাধারণ সভা (First AGM) | ধারা ৮১(১) | কোম্পানি নিবন্ধনের তারিখ হতে অনধিক ১৮ মাস | নিবন্ধনের পর ১৮ মাসের মধ্যে প্রথম এজিএম সম্পন্ন করতে হবে; বিলম্বের ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতের অনুমতি আবশ্যক। |
| পরবর্তী নিয়মিত এজিএম (Subsequent AGM) | ধারা ৮১(১) | প্রতি ক্যালেন্ডার বছরে অন্তত একবার এবং পূর্ববর্তী এজিএম-এর ১৫ মাসের মধ্যে | প্রতি বছর বাধ্যতামূলকভাবে সভা আহ্বান করতে হবে। কোনো পরিস্থিতিতেই দুটি এজিএমের ব্যবধান ১৫ মাসের বেশি হবে না (রেজিস্ট্রার কর্তৃক বিশেষ ক্ষেত্রে ৯০ দিন পর্যন্ত বৃদ্ধি ব্যতীত)। |
| এজিএম আহ্বানের নোটিশ (Notice of AGM) | ধারা ৮৫ | সভা অনুষ্ঠানের অন্তত ২১ দিন পূর্বে লিখিত নোটিশ | কোম্পানির সকল শেয়ারহোল্ডার, নিরীক্ষক এবং যোগ্য ব্যক্তিদের নিকট সভার তারিখ, সময়, স্থান ও আলোচ্যসূচিসহ ২১ দিনের লিখিত নোটিশ পাঠাতে হবে। |
| বার্ষিক রিটার্ন দাখিল (Filing Annual Return - Schedule X) | ধারা ১৯০ | এজিএম অনুষ্ঠানের পর ২১ দিনের মধ্যে | তফসিল ১০ (Schedule X) অনুযায়ী শেয়ার মূলধন, পরিচালক ও শেয়ারহোল্ডারদের পূর্ণ বিবরণী প্রস্তুত করে আরজেএসসিতে দাখিল করতে হবে। |
| হিসাব ও নিরীক্ষা বিবরণী দাখিল (Filing Balance Sheet & Profit-Loss) | ধারা ১৮৩ ও ১৮৫ | এজিএম শেষ হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে | যোগ্যতাসম্পন্ন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট দ্বারা নিরীক্ষিত ব্যালেন্স শিট, লাভ-ক্ষতির হিসাব এবং পরিচালকদের প্রতিবেদন সহ আরজেএসসিতে দাখিল বাধ্যতামূলক। |
গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষেপ (Featured Snippet): বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) হলো কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর ৮১ ধারা অনুযায়ী শেয়ারহোল্ডারদের একটি বাধ্যতামূলক বাৎসরিক সভা, যেখানে নিরীক্ষিত হিসাব অনুমোদন, লভ্যাংশ ঘোষণা এবং পরিচালক ও নিরীক্ষক নিয়োগ করা হয়। সভা অনুষ্ঠানের পরবর্তী ২১ দিনের মধ্যে কোম্পানিকে ৩৬ ধারার অধীনে আরজেএসসি-তে তফসিল ১০ (Schedule X) বার্ষিক বিবরণী দাখিল করতে হয় এবং ১৯০ ধারার অধীনে ৩০ দিনের মধ্যে নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী জমা দিতে হয়।
বাংলাদেশের করপোরেট সুশাসন কাঠামো মূলত পর্যায়ক্রমিক শেয়ারহোল্ডারদের কাছে জবাবদিহিতার শৃঙ্খলার ওপর বহুলাংশে প্রতিষ্ঠিত। কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন)-এর অধীনে শেয়ার মূলধনসহ নিবন্ধিত প্রতিটি কোম্পানি সংবিধিবদ্ধভাবে নির্ধারিত সময়ান্তে একটি এজিএম আহ্বান করতে, সদস্যদের সম্মুখে নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী উপস্থাপন করতে এবং তৎপরবর্তীতে কোম্পানির মূলধন কাঠামো ও সদস্য তালিকার একটি বিধিবদ্ধ সংক্ষিপ্ত বিবরণী — অর্থাৎ তফসিল ১০ বার্ষিক বিবরণী (Schedule X Annual Return) — যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর (আরজেএসসি)-এর নিবন্ধকের নিকট প্রেরণ করতে আইনত বাধ্য। এই বাধ্যবাধকতা নিছক কোনো প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং এটি হলো এমন একটি প্রাথমিক আইনি মাধ্যম যার মাধ্যমে রাষ্ট্র, পাওনাদার, সংখ্যালঘু শেয়ারহোল্ডার, কর কর্তৃপক্ষ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীগণ একটি করপোরেট সত্তার চলমান স্বচ্ছলতা, মালিকানা এবং ব্যবস্থাপনাগত সততা ও ন্যায়নিষ্ঠা যাচাই করে থাকেন।
এর সংবিধিবদ্ধ কাঠামোটি মূলত চারটি পারস্পরিক আন্তঃসংযুক্ত বিধানের ওপর সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত:
- ৮১ ধারা — যে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে এজিএম আহ্বান করতে হবে তার কালিক সীমারেখা নির্ধারণ করে, যেখানে প্রথম এজিএম (কোম্পানি নিবন্ধনের ১৮ মাসের মধ্যে) এবং পরবর্তী এজিএমসমূহ (পূর্ববর্তী এজিএমের ১৫ মাসের মধ্যে এবং একই ক্যালেন্ডার বর্ষে)-এর মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য করা হয়েছে, এবং এ সময়সীমা অনধিক ৯০ দিন পর্যন্ত বৃদ্ধি করার জন্য আরজেএসসি-কে একটি সীমিত ও সময়াবদ্ধ এখতিয়ার প্রদান করে।
- ৮২ ধারা — ৮১ ধারার বিধান পরিপালনে ব্যর্থতাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে বা দণ্ডারোপ করে, যেখানে কোম্পানি এবং খেলাপি প্রত্যেক কর্মকর্তার ওপর অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়, যা অপরাধ অব্যাহত থাকার ভিত্তিতে ক্রমাগত বৃদ্ধি পায়।
- ১৯০ ধারা — যে এজিএম-এ নিরীক্ষিত স্থিতিপত্র (ব্যালেন্স শিট) এবং লাভ-ক্ষতির হিসাব গৃহীত ও অনুমোদিত হয়েছে, তার ৩০ দিনের মধ্যে তা আরজেএসসি-তে দাখিল করা বাধ্যতামূলক করে।
- ৮৫(৩) ধারা — স্বাভাবিক করপোরেট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সভা আহ্বান ও পরিচালনা করা "অবাস্তবায়নযোগ্য" (impracticable) হয়ে পড়লে, সাধারণ সভা আহ্বান ও পরিচালনার আদেশ প্রদানের জন্য বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগকে একটি অসাধারণ প্রতিকারমূলক এখতিয়ার প্রদান করে — ৮১ ধারার সময়সীমা (আরজেএসসি-এর ৯০ দিনের বর্ধিত সময়সহ) অপরিবর্তনীয়ভাবে অতিক্রান্ত হয়ে গেলে এটিই একমাত্র বৈধ আইনি উপায়।
৩৬ ধারা-এর অধীনে নির্ধারিত তফসিল ১০ (Schedule X) স্বয়ং বার্ষিক বিবরণীকে কার্যকর রূপ দান করে, যার মাধ্যমে কোম্পানিগুলোকে একটি প্রমিত সংবিধিবদ্ধ ফরমেটে শেয়ার মূলধনের সারসংক্ষেপ, ডিবেঞ্চার ঋণগ্রস্ততা, বন্ধক/চার্জের বিবরণ এবং অতীত ও বর্তমান সদস্যদের সম্পূর্ণ তালিকা—তাদের শেয়ারধারণ ও শেয়ার হস্তান্তরের ইতিহাসসহ—প্রকাশ করতে বাধ্য করা হয়। এই গবেষণাগ্রন্থটি উক্ত প্রতিটি বিধান পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে, প্রযোজ্য নজিরসমূহ (কেস ল) সমন্বয় করে এবং কর্মরত করপোরেট আইনজীবীদের জন্য একটি বিশদ পরিপালন রূপরেখা, ফি ম্যাট্রিক্স ও ঝুঁকি নিরসন কাঠামো উপস্থাপন করে।
১. ৮১ ধারার অধীন সংবিধিবদ্ধ পরিক্রমা: সময় নির্ধারণের কার্যপদ্ধতি এবং ৯০ দিনের সময় বৃদ্ধি
ক. প্রথম এজিএম সংক্রান্ত নিয়মাবলী
৮১(১) ধারা অনুসারে প্রতিটি কোম্পানিকে তার নিবন্ধনের তারিখ হতে ১৮ মাসের মধ্যে প্রথম এজিএম অনুষ্ঠান করতে হবে। অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, একটি কোম্পানি যদি এই নিয়ম পরিপালন করে, তবে তাকে নিবন্ধনের বছরে কিংবা তার অব্যবহিত পরবর্তী ক্যালেন্ডার বর্ষে কোনো এজিএম অনুষ্ঠান করতে হবে না। এটি নবগঠিত সত্তার প্রাথমিক কার্যক্রম গুছিয়ে নেওয়ার সময়কালের সুবিধার্থে প্রদত্ত একটি এককালীন সংবিধিবদ্ধ অবকাশ বা রেয়াত, কারণ এ সময়ে প্রথম সংক্ষিপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত হিসাব প্রস্তুত করা বাস্তবসম্মত নাও হতে পারে।
প্রথম এজিএম-এর ক্ষেত্রে আরজেএসসি কর্তৃক সময় বৃদ্ধির কোনো সুযোগ নেই। ৯০ দিনের শর্তযুক্ত বিধানটি কেবল "প্রথম সভা ব্যতীত অন্য যেকোনো বার্ষিক সাধারণ সভার" ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; অর্থাৎ উদ্যোক্তা ও প্রথম মেয়াদের পরিচালকদের ওপর এটি একটি অপরিবর্তনীয় ও সময় বাড়ানো অযোগ্য সংবিধিবদ্ধ বাধ্যবাধকতা।
খ. ১৫ মাসের ব্যবধানের নিয়ম এবং ক্যালেন্ডার বর্ষের আবশ্যকতা
পরবর্তী সকল এজিএম-এর জন্য দুটি পুঞ্জীভূত (যুগপৎ) বাধ্যবাধকতা একসাথে কার্যকর থাকে:
- ব্যবধানের বাধ্যবাধকতা: একটি এজিএম-এর তারিখ এবং পরবর্তী এজিএম-এর তারিখের মধ্যে ১৫ মাসের বেশি সময় অতিবাহিত হওয়া চলবে না।
- ক্যালেন্ডার বর্ষের বাধ্যবাধকতা: প্রতি ক্যালেন্ডার বর্ষে (১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর) অবশ্যই অন্তত একবার একটি এজিএম অনুষ্ঠান করতে হবে।
এগুলো কোনো বিকল্প শর্ত নয়—উভয় শর্তই যুগপৎভাবে পূরণ করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, যে কোম্পানি ১ম বর্ষের ২০ ডিসেম্বর তার পূর্ববর্তী এজিএম অনুষ্ঠান করেছে, তারা ৩য় বর্ষের ১৯ মার্চ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারে না, যদিও তা ১৫ মাসের সীমার মধ্যেই পড়ে; কারণ এর ফলে ২য় বর্ষের জন্য ক্যালেন্ডার বর্ষের আবশ্যকতা লঙ্ঘিত হবে। বিপরীতভাবে, কোনো কোম্পানি ১৫ মাসের ঊর্ধ্বসীমা উপেক্ষা করে কেবল প্রতি ক্যালেন্ডার বর্ষে একবার এজিএম করতে পারে না, যদি তা মধ্যবর্তী ব্যবধানকে অযৌক্তিকভাবে দীর্ঘায়িত করে (যেমন, ১ম বর্ষের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত এজিএম-এর পর ২য় বর্ষের ২৮ ডিসেম্বর পরবর্তী সভা আহ্বান করা হলে তা ধারাবাহিক ক্যালেন্ডার বর্ষে পড়া সত্ত্বেও ১৫ মাসের নিয়ম লঙ্ঘন করবে)।
গ. ১৮৩(৩) ধারার হিসাবকাল উইন্ডোর সাথে আন্তঃসম্পর্ক
সচরাচর উপেক্ষিত একটি বাধ্যবাধকতা হলো, এজিএম-এ উপস্থাপিত আর্থিক বিবরণীগুলো সভার তারিখের পূর্ববর্তী ৯ মাসের অধিক পুরোনো কোনো সময়ের হতে পারবে না (বিদেশে ব্যবসায়িক স্বার্থ থাকা কোম্পানির ক্ষেত্রে পৃথক আবেদনের প্রেক্ষিতে আরজেএসসি-এর অনুমোদন সাপেক্ষে যা ১২ মাস হতে পারে)। এর অর্থ হলো, এজিএম-এর তারিখ কেবল পূর্ববর্তী এজিএম-এর তারিখের ওপর নির্ভরশীল নয়—বরং এটি অর্থবছর সমাপ্তির তারিখের সাথেও সরাসরি আবদ্ধ। কোম্পানি সচিবগণকে এজিএম-এর তারিখ চূড়ান্ত করার পূর্বে এই তিনটি মানদণ্ডই (১৫ মাসের নিয়ম, ক্যালেন্ডার বর্ষের নিয়ম এবং ৯ মাসের হিসাবকালের নিয়ম) যুগপৎভাবে যাচাই করতে হবে; এর যেকোনো একটি বা দুটি পূরণ করলেই আইনগত পরিপালন সম্পন্ন হয় না।
ঘ. আরজেএসসি-এর ৯০ দিনের সময় বৃদ্ধির এখতিয়ার
৮১(১) ধারার শর্তযুক্ত বিধানটি নিবন্ধককে আবেদনের প্রেক্ষিতে এজিএম (প্রথম সভা ব্যতীত) অনুষ্ঠানের সময়সীমা অনধিক ৯০ দিন পর্যন্ত বৃদ্ধির ক্ষমতা প্রদান করে। এই এখতিয়ারটি কঠোর আইনি সীমাবদ্ধতা দ্বারা পরিবেষ্টিত:
- মেয়াদ উত্তীর্ণের পূর্বেই আবেদন দাখিল বাধ্যতামূলক: সংবিধিবদ্ধ সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পূর্বেই আবেদন দাখিল করতে হবে। মেয়াদ শেষ হওয়ার একদিন পরেও দাখিলকৃত আবেদন আইনগতভাবে অগ্রহণযোগ্য (incompetent), কারণ নিবন্ধকের এ ক্ষমতাটি একটি কার্যকর ও বলবৎ বাধ্যবাধকতা বিদ্যমান থাকার ওপর শর্তযুক্ত, যা সময় বৃদ্ধির উপযোগী।
- ৯০ দিনের অতিরিক্ত সময় বৃদ্ধির এখতিয়ারহীনতা: আরজেএসসি কোনো ক্রমিক বা পুনঃপুনঃ সময় বৃদ্ধি মঞ্জুর করতে পারে না কিংবা সংবিধিবদ্ধ সীমার অতিরিক্ত বৃদ্ধি করতে পারে না। বর্ধিত ৯০ দিনের সীমার মধ্যেই কোম্পানিকে অবশ্যই এজিএম সম্পন্ন করতে হবে; এরপর আর কোনো প্রশাসনিক প্রতিকারের সুযোগ নেই।
- যথাযথ কারণের মানদণ্ড (Sufficient cause standard): আবেদনে নিছক প্রশাসনিক সুবিধার পরিবর্তে প্রকৃত অবাস্তবায়নযোগ্যতা প্রদর্শন করতে হবে—যেমন নিরীক্ষা সম্পন্নকরণে বিলম্ব, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, কিংবা কোরাম গঠনকারী শেয়ারহোল্ডারদের অনুপস্থিতি বা অপ্রাপ্যতা।
কোনো কোম্পানি যদি আবেদন না করেই প্রাথমিক সংবিধিবদ্ধ সময় এবং ৯০ দিনের বর্ধিত সময় উভয়ই অতিক্রান্ত হতে দেয়, অথবা বিলম্বে আবেদন করে, তবে পরিচালনা পর্ষদ একটি বৈধ এজিএম ডাকার ক্ষেত্রে কার্যত ক্ষমতাহীন হয়ে পড়ে। সেক্ষেত্রে একমাত্র অবশিষ্ট পথ হলো ৮৫(৩) ধারার অধীন বিচার বিভাগীয় হস্তক্ষেপ গ্রহণ, যা নিচে ৪র্থ পরিচ্ছেদে আলোচনা করা হয়েছে।
II. তফসিল ১০ (Schedule X): গঠন-বিশ্লেষণ, সমন্বয়সাধন এবং দাখিলের কার্যপ্রণালী
ক. সংবিধিবদ্ধ ভিত্তি ও উদ্দেশ্য
কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর ৩৬ ধারা অনুযায়ী শেয়ার মূলধনবিশিষ্ট প্রতিটি কোম্পানিকে প্রতি পঞ্জিকাবর্ষে একবার উক্ত আইনের তফসিল ১০ (Schedule X)-এ নির্ধারিত ফরমে একটি বার্ষিক বিবরণী প্রস্তুত করতে বাধ্য করা হয়েছে। এই বিবরণীটি বার্ষিক সাধারণ সভার (এজিএম) তারিখ অনুযায়ী (কিংবা বছরে কোনো এজিএম অনুষ্ঠিত না হলে, বিবরণী প্রস্তুতের ৪২ দিনের মধ্যে যেকোনো তারিখে) কোম্পানির মূলধন কাঠামো ও সদস্যপদের একটি সুস্পষ্ট সংবিধিবদ্ধ প্রতিচ্ছবি বা প্রামাণিক দলিল হিসেবে গণ্য হয়।
খ. প্রথম খণ্ড: শেয়ার মূলধন, শেয়ার এবং ডিবেঞ্চারের সারসংক্ষেপ
এই অংশে নিম্নোক্ত বিষয়সমূহ প্রকাশ করা আবশ্যক:
- অনুমোদিত শেয়ার মূলধন, যা শ্রেণিভিত্তিক (সাধারণ, অগ্রাধিকারমূলক, পরিশোধযোগ্য অগ্রাধিকারমূলক ইত্যাদি) এবং শেয়ারপ্রতি অভিহিত মূল্যসহ বিভক্ত থাকবে।
- ইস্যুকৃত মোট শেয়ার, যেখানে নগদে ইস্যুকৃত শেয়ার, নগদ অর্থ ব্যতীত অন্য কোনো প্রতিদানে (যেমন—সম্পত্তি বা সেবার বিনিময়ে) ইস্যুকৃত শেয়ার এবং রিজার্ভ বা সংরক্ষিত তহবিল হতে ইস্যুকৃত বোনাস শেয়ারের মধ্যকার বিভাজন সুস্পষ্ট থাকবে।
- তলবকৃত অর্থ এবং বকেয়া তলব — শেয়ারের বিপরীতে তলবকৃত প্রাপ্ত মোট অর্থ এবং অপরিশোধিত বকেয়া তলব (কলস ইন এরিয়ার্স)।
- শেয়ার বা ডিবেঞ্চার ইস্যুর ক্ষেত্রে প্রদত্ত বা অনুমোদিত কমিশন বা বাট্টা।
- বাজেয়াপ্তকৃত শেয়ার এবং সংশ্লিষ্ট মেয়াদে পরিশোধকৃত (redeemed) যেকোনো মূলধন।
- ১৫৯ ধারার অধীনে আরজেএসসি (RJSC)-তে নিবন্ধিত হওয়া আবশ্যক এমন সকল বন্ধক ও চার্জের সাপেক্ষে মোট দেনা বা ঋণগ্রস্ততা (চার্জ রেজিস্টার), যা কোম্পানির সুরক্ষিত ঋণের সার্বিক চিত্র প্রদর্শন করে।
গ. দ্বিতীয় খণ্ড: প্রাক্তন ও বর্তমান সদস্যদের তালিকা
এটি কোম্পানির মালিকানার একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ খতিয়ান এবং এতে নিম্নোক্ত তথ্যাবলি অন্তর্ভুক্ত থাকে:
- বর্তমান সদস্যদের পূর্ণ বিবরণ — নাম, ঠিকানা, জাতীয়তা এবং পেশা।
- বিবরণীর তারিখ অনুযায়ী প্রতিটি সদস্যের শেয়ার ধারণের পরিমাণ, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র শেয়ার নম্বরসহ।
- সর্বশেষ বিবরণীর পর থেকে শেয়ার হস্তান্তরের ইতিবৃত্ত (বা প্রথম বিবরণীর ক্ষেত্রে কোম্পানি গঠনের পর থেকে) — সংশ্লিষ্ট মেয়াদে যারা সদস্য হিসেবে বহাল রয়েছেন এবং যারা সদস্যপদ ত্যাগ করেছেন—উভয়ের ক্ষেত্রেই হস্তান্তর নিবন্ধনের তারিখ, হস্তান্তরকারী ও গ্রহীতার পূর্ণ বিবরণ এবং শেয়ার নম্বরসমূহ।
- পরিচালক ও কর্মকর্তাদের বিবরণ — বিবরণীর তারিখ অনুযায়ী পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা ব্যবস্থাপক পদে আসীন সকল ব্যক্তির নাম, পদবি, জাতীয় পরিচয়পত্র/পাসপোর্ট নম্বর এবং আবাসিক ঠিকানা।
ঘ. সমন্বয়সাধনের আবশ্যকতা
আরজেএসসি-তে দাখিলের পূর্বে করপোরেট আইনজীবী ও কোম্পানি সচিবগণকে তফসিল ১০-এর প্রথম খণ্ডের প্রতিটি আর্থিক তথ্য এজিএম-এ উপস্থাপিত নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী-র সংশ্লিষ্ট দফাগুলোর (line items) সাথে মিলিয়ে নিতে হবে—বিশেষ করে পরিশোধিত মূলধন, শেয়ার প্রিমিয়াম রিজার্ভ এবং বকেয়া তলব। আরজেএসসি-র যাচাইকারী কর্মকর্তারা অনাকাঙ্ক্ষিত বা ব্যাখ্যাতীত অসঙ্গতিপূর্ণ ফাইলিংগুলো নিয়মিতভাবে আপত্তি উত্থাপনপূর্বক ফেরত বা বাতিল করে দেন; কারণ এ জাতীয় অমিলগুলো প্রায়শই অনিবন্ধিত শেয়ার বরাদ্দ, নথিবহির্ভূত বাজেয়াপ্তকরণ কিংবা সংশ্লিষ্ট ফরম ১১৭ হস্তান্তর দলিলটি যথাযথ স্ট্যাম্পযুক্ত ও নিবন্ধিত না করে সম্পাদিত শেয়ার হস্তান্তরের ইঙ্গিত বহন করে।
ঙ. আরজেএসসি পোর্টালের মাধ্যমে দাখিলের কর্মপ্রবাহ
- খসড়া প্রণয়ন ও অভ্যন্তরীণ সত্যায়ন — তফসিল ১০-এ একজন পরিচালক এবং কোম্পানির সচিব থাকলে তাঁর, অথবা বিকল্প হিসেবে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের মূল স্বাক্ষর থাকতে হবে।
- ডিজিটাল দাখিল — আরজেএসসি-র ই-ফাইলিং পোর্টালে মূল স্বাক্ষরিত স্ক্যানকৃত নথি (wet-ink signatures সম্বলিত) আপলোড এবং তফসিল ১০-এর ছক অনুসারে বিন্যস্ত ডিজিটাল ডাটা এন্ট্রি একই সাথে সম্পন্ন করতে হয়।
- ফি চালান তৈরি ও পরিশোধ — কোম্পানির অনুমোদিত মূলধনের ধাপ (slab) অনুযায়ী একটি অনলাইন চালান তৈরি হয় এবং তা নির্ধারিত তফসিলি ব্যাংক বা সমন্বিত পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়।
- যাচাইকরণ ও নিবন্ধন — একজন সহকারী নিবন্ধক দাখিলকৃত তথ্যের পূর্ণাঙ্গতা যাচাই করেন এবং কোম্পানির পূর্ববর্তী নথির (পূর্ববর্তী ফরম ১২ পরিচালকদের বিবরণী এবং ফরম ১১৭ হস্তান্তর নিবন্ধনসহ) সাথে মিলিয়ে দেখেন; সন্তুষ্ট হলে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিবরণীটি নিবন্ধন করেন এবং একটি ডিজিটাল প্রাপ্তিস্বীকার পত্র প্রদান করেন, যা কোম্পানির স্থায়ী সংবিধিবদ্ধ নথির অংশ হয়ে থাকে।
III. এজিএম-পরবর্তী ফাইলিং প্যাকেজ: অনুক্রম, আন্তঃসংযুক্ত ফরমসমূহ এবং ১৯০ ধারার হিসাব বিবরণী
ক. ধারাবাহিক দাখিলকরণ (The Filing Cascade)
যথাযথভাবে একটি বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) সম্পন্ন হওয়ার পর একটি কোম্পানিকে সংবিধিবদ্ধ সময়সীমার ধারাবাহিক ধাপ অনুসরণ করতে হয়, যার প্রতিটি পৃথক আইনি বিধান দ্বারা পরিচালিত:
| দাখিলকৃত বিষয় | সংশ্লিষ্ট আইনি বিধান | এজিএম-এর তারিখ হতে সময়সীমা |
|---|---|---|
| ফরম ২৩বি (নিরীক্ষক নিয়োগ) | ২১০ ধারা | ৭ দিন |
| তফসিল ১০ (বার্ষিক বিবরণী) + ফরম ১২ (পরিচালকদের বিবরণ) | ৩৬ এবং ১১৫ ধারা | ২১ দিন |
| নিরীক্ষিত স্থিতিপত্র (ব্যালেন্স শিট), লাভ-ক্ষতির হিসাব | ১৯০ ধারা | ৩০ দিন |
| ফরম ২৩ (বিশেষ প্রস্তাব, যদি থাকে) | ৮৯ ধারা | গৃহীত হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে |
খ. ১৯০ ধারা: স্থিতিপত্র (ব্যালেন্স শিট) দাখিলের বাধ্যবাধকতা
১৯০ ধারার বিধান অনুসারে প্রতিটি কোম্পানিকে এজিএম-এ হিসাব উপস্থাপিত ও অনুমোদিত হওয়ার তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে স্থিতিপত্র এবং লাভ-ক্ষতির হিসাবের (তৎসহ সংযুক্ত পরিচালকদের প্রতিবেদন এবং নিরীক্ষকদের প্রতিবেদন) তিনটি সত্যায়িত কপি আরজেএসসি-তে দাখিল করতে হবে। হিসাব অনুমোদন ব্যতিরেকেই যদি এজিএম মুলতবি হয়ে যায়, তবে ৩০ দিনের সময়সীমা সাধারণত মুলতবি সভার তারিখ থেকে নয়, বরং যে মূল সভায় হিসাব প্রথম উত্থাপিত হয়েছিল সেই তারিখ থেকেই গণনা করা হয়; যদি না আরজেএসসি কোনো যৌক্তিক আবেদনের প্রেক্ষিতে দাপ্তরিকভাবে ভিন্নরূপ নির্দেশ প্রদান করে।
১৯০(২) ধারার অধীনে ব্যর্থতার ক্ষেত্রে ব্যত্যয় অব্যাহত থাকাকালীন প্রতিদিনের জন্য অনধিক ১০০ টাকা অর্থদণ্ড আরোপিত হয়—এটি একটি কঠোর দায়বদ্ধতার (strict liability) বিধান, যা কোম্পানি এবং ব্যর্থতায় জড়িত প্রত্যেক কর্মকর্তার ওপর প্রযোজ্য হয়, যার মধ্যে ব্যবস্থাপনা পরিচালক, উক্ত ব্যর্থতার সাথে যুক্ত সকল পরিচালক এবং ক্ষেত্রবিশেষে কোম্পানি সচিবও অন্তর্ভুক্ত।
গ. ফরম ১২ এবং পরিচালকদের তথ্যের নিয়মিতকরণ
এজিএম-এ পর্যায়ক্রমিক আবর্তনের (rotation) মাধ্যমে পরিচালকদের নির্বাচন, পুনর্নির্বাচন বা অবসর গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে, আরজেএসসি-র নথিতে পরিচালনা পর্ষদের গঠন নিয়মিতকরণের উদ্দেশ্যে তফসিল ১০-এর সাথে যুগপৎভাবে ফরম ১২ (পরিচালক, ব্যবস্থাপনা প্রতিনিধি, ব্যবস্থাপক এবং সচিবদের বিবরণী) দাখিল করতে হবে। অবিলম্বে ফরম ১২ দাখিল করতে ব্যর্থ হলে কোম্পানির নিবন্ধিত পরিচালক এবং এর প্রকৃত পরিচালনা কর্তৃপক্ষের মধ্যে অসঙ্গতি তৈরি হতে পারে; ফলে আপাত কর্তৃত্বের (apparent authority) অভাবে পরবর্তী বোর্ড প্রস্তাবসমূহ (ব্যাংক হিসাব পরিচালনা এবং সম্পত্তি হস্তান্তর সংক্রান্ত লেনদেনসহ) তৃতীয় পক্ষ কর্তৃক আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ার ঝুঁকিতে থাকে।
ঘ. ফরম ১১৭ এবং শেয়ার হস্তান্তর নিবন্ধন
তফসিল ১০-এ আইনগতভাবে প্রতিফলিত করার পূর্বে প্রতিটি শেয়ার হস্তান্তর অবশ্যই স্ট্যাম্প আইন, ১৮৯৯ (Stamp Act, 1899)-এর অধীনে যথাযথভাবে স্ট্যাম্পযুক্ত এবং কোম্পানির সদস্য বইয়ে নিবন্ধিত একটি বিধিসম্মত হস্তান্তর দলিলের (ফরম ১১৭) মাধ্যমে সম্পাদিত হতে হবে। আইন পরিপালনে একটি সাধারণ ব্যর্থতা হলো তফসিল ১০-এ এমন শেয়ার হস্তান্তর প্রদর্শন করা, যা কখনো বৈধভাবে সম্পাদিত ও স্ট্যাম্পযুক্ত ফরম ১১৭-এর মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়নি। এর ফলে বার্ষিক বিবরণীটি কোম্পানির সংবিধিবদ্ধ রেজিস্টারগুলোর সাথে অভ্যন্তরীণভাবে অসংগতিপূর্ণ হয়ে পড়ে এবং ক্ষুব্ধ কোনো পক্ষ কর্তৃক সদস্য রেজিস্টার যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করার প্রমাণ হিসেবে এটিকে আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যেতে পারে।
IV. ধারা ৮৫(৩)-এর অধীনে বিচারিক মার্জনা: হাইকোর্টের প্রতিকারমূলক এখতিয়ার
A. মেয়াদোত্তীর্ণ-পরবর্তী আইনি শূন্যতা
বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত না হয়ে একবার ধারা ৮১-এর সময়সীমা—যার মধ্যে আরজেএসসি কর্তৃক প্রদত্ত অনধিক ৯০ দিনের বর্ধিত সময়ও অন্তর্ভুক্ত—অতিবাহিত হয়ে গেলে, পরিচালনা পর্ষদ যেন কিছুই ঘটেনি এমনভাবে একটি নতুন এজিএম ডাকার সাধারণ সংবিধিবদ্ধ এখতিয়ার হারায়। এই ব্যত্যয় ভূতাপেক্ষভাবে (retroactively) মার্জনা করার কোনো প্রশাসনিক ক্ষমতা আরজেএসসি-র নেই। এর একমাত্র প্রতিকার নিহিত রয়েছে কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর ধারা ৮৫(৩)-এর অধীনে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের আদি এখতিয়ার (original jurisdiction) প্রয়োগের মধ্যে।
ধারা ৮৫(৩)-এ বিধৃত রয়েছে:
"যদি কোনো কারণে এমন কোনো পদ্ধতিতে কোনো কোম্পানির সভা আহ্বান করা অসম্ভব বা দুরূহ (impracticable) হয়, যেভাবে কোম্পানির সভা আহ্বান করা যেতে পারে, কিংবা কোম্পানির সংঘবিধি বা এই আইন দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে কোম্পানির সভা পরিচালনা করা অসম্ভব হয়, তবে আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে (suo motu) অথবা কোম্পানির কোনো পরিচালক কিংবা সভায় ভোটদানের অধিকারী কোনো সদস্যের আবেদনের প্রেক্ষিতে— (ক) আদালত যেভাবে উপযুক্ত মনে করেন সেভাবে কোম্পানির সভা আহ্বান, অনুষ্ঠান ও পরিচালনার আদেশ দিতে পারেন; এবং (খ) আদালত যেভাবে সমীচীন মনে করেন সেভাবে আনুষঙ্গিক বা ফলপ্রসূ দিকনির্দেশনা প্রদান করতে পারেন..."
B. "ইমপ্র্যাক্টিকেবল" (Impracticable)-এর ব্যাখ্যা
সৈয়দ মকবুল হোসেন বনাম রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস মামলায় হাইকোর্ট বিভাগ স্পষ্ট করেছেন যে, "ইমপ্র্যাক্টিকেবল" বা দুরূহ/অসম্ভব বিষয়টি কেবল কায়িক বা চরম বাস্তব অসম্ভবতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি করপোরেট অচলাবস্থা (deadlock), প্রশাসনিক ত্রুটির কারণে সংবিধিবদ্ধ সময়সীমা উত্তীর্ণ হওয়া এবং শেয়ারহোল্ডারদের বিরোধের কারণে কোরাম গঠনে বাস্তব অক্ষমতার ক্ষেত্রেও সম্প্রসারিত হয়। এই উদারনৈতিক ব্যাখ্যার ফলে নিশ্চিত হয় যে, ধারা ৮৫(৩) কেবল চরম বিপর্যয়ের জন্য সংরক্ষিত কোনো জরুরি বিধান নয়, বরং এটি প্রকৃত অর্থেই একটি সহজে ব্যবহারযোগ্য প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে।
C. মেয়াদোত্তীর্ণের পর পরিচালকদের কর্তৃত্ব হারানো
যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত ড. ফারুক আহমেদ এবং অন্যান্য বনাম দ্য রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস (২০০০) ৫২ ডিএলআর ১০৩-এ হাইকোর্ট বিভাগ অভিমত প্রদান করেছেন যে, পর্ষদ ধারা ৮১-এর অধীন সংবিধিবদ্ধ মেয়াদের মধ্যে এজিএম আহ্বানে ব্যর্থ হলে আদালতের আদেশ ব্যতীত নিজস্ব উদ্যোগে (suo motu) এজিএম ডাকার আইনি কর্তৃত্ব তারা হারিয়ে ফেলে। আদালতের অনুমোদন ব্যতিরেকে সংবিধিবদ্ধ সময়সীমা পার হওয়ার পর অনুষ্ঠিত কথিত যেকোনো এজিএমের সিদ্ধান্তসমূহ—পরিচালক নির্বাচন, লভ্যাংশ ঘোষণা এবং নিরীক্ষক নিয়োগসহ—ক্ষতিগ্রস্ত কোনো সদস্যের পরোক্ষ বা আনুষঙ্গিক চ্যালেঞ্জের (collateral challenge) মাধ্যমে বাতিলযোগ্য (voidable) হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকে। আদালতের এই আইনি নীতি (ratio) সুস্পষ্ট করে যে, ধারা ৮৫(৩)-এর আশ্রয় গ্রহণই হলো তামাদি হয়ে যাওয়া করপোরেট চক্রকে নিয়মিত করার একমাত্র আইনসংগত পথ।
D. উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিলম্বের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু শেয়ারহোল্ডারদের প্রতিকার
এ.কে.এম. আমিনুল ইসলাম বনাম দ্য রেজিস্ট্রার, জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস (১৯৯৮) ৫০ ডিএলআর ৪৫০ মামলায় এই মতবাদকে ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বাধার ক্ষেত্র পর্যন্ত বিস্তৃত করা হয়েছে। আদালত নিশ্চিত করেছেন যে, যেখানে নিয়ন্ত্রণকারী ব্যবস্থাপনা পক্ষ আর্থিক তথ্য প্রকাশ ঠেকানো বা নিজেদের অবস্থান দীর্ঘস্থায়ী করার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে এজিএম বিলম্বিত করছে, সেখানে কোনো সংখ্যালঘু পরিচালক বা শেয়ারহোল্ডার ধারা ৮৫(৩)-এর অধীনে স্বতন্ত্রভাবে পিটিশন দায়ের করতে পারেন। এই ধরনের ক্ষেত্রে আদালতের আনুষঙ্গিক ক্ষমতা অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী: আদালত সভায় সভাপতিত্ব করার জন্য একজন স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান (সাধারণত সুপ্রিম কোর্টের একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী) নিয়োগ করতে পারেন, সংঘবিধিতে নির্ধারিত কোরামের বাধ্যবাধকতা বাতিল করতে পারেন এবং সভা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ ছাড়াই সভা পরিচালনা নিশ্চিত করতে পুলিশি সহায়তার নির্দেশ দিতে পারেন।
E. মার্জনা ধারা ৮২-এর দায়মুক্তি প্রদান করে না
রুকশানা হক বনাম দ্য রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস (২০০৪) ৫৬ ডিএলআর ৪০৮ মামলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত যুক্ত করা হয়েছে: যদিও হাইকোর্ট করপোরেট সুশাসন নিয়মিতকরণ এবং একটি বৈধ এজিএম অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়ার সীমিত উদ্দেশ্যে এই বিলম্ব মার্জনা করতে পারেন, তথাপি এই বিচারিক মার্জনা যথাসময়ে এজিএম আহ্বান না করার ইচ্ছাকৃত বা অবাধ্যতামূলক ব্যর্থতার (willful or contumacious default) জন্য ধারা ৮২-এর অধীন সংবিধিবদ্ধ দায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে অবলুপ্ত করে না। যেসব পরিচালক ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের এজিএম-সংক্রান্ত দায়িত্ব এড়িয়ে গেছেন, ধারা ৮৫(৩)-এর পরবর্তী আদেশ সত্ত্বেও তারা ধারা ৮২-এর অধীনে প্রসিকিউশন বা জরিমানার ঝুঁকিতে থাকেন। তবে, আদালত-নির্দেশিত এজিএম যথাযথভাবে সম্পন্ন হলে, সমস্ত করপোরেট উদ্দেশ্যে এটি একটি বৈধ এজিএম হিসেবে গণ্য হয় এবং এর ভিত্তিতে দাখিলকৃত তফসিল ১০ এবং ব্যালেন্স শিট গ্রহণ ও নিবন্ধন করতে আরজেএসসি আইনত বাধ্য।
F. ধারা ৮৫(৩)-এর পিটিশনের কার্যপ্রণালীগত রূপরেখা
- কোম্পানি ম্যাটার পিটিশন প্রস্তুতকরণ — একটি বিস্তারিত হলফনামা (affidavit) দ্বারা সমর্থিত হতে হবে, যাতে খেলাপি হওয়ার প্রকৃত কারণ উল্লেখ থাকবে (যেমন: নিরীক্ষা প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা, অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা অচলাবস্থা, দৈব-দুর্বিপাক বা ফোর্স মেজার, মামলা-মোকদ্দমার কারণে করপোরেট কার্যক্রম স্থগিত থাকা)।
- পক্ষভুক্তকরণ — নিবন্ধনের সংবিধিবদ্ধ অভিভাবক হিসেবে আরজেএসসি-কে প্রধান বিবাদী হিসেবে পক্ষভুক্ত করা হয়, সেই সাথে কোম্পানি স্বয়ং এবং অন্যান্য অসহযোগিতাকারী পরিচালক বা শেয়ারহোল্ডারগণকে প্রয়োজনীয় পক্ষ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- মোশন এবং প্রাথমিক গ্রহণযোগ্যতা শুনানি — হাইকোর্ট বিভাগের কোম্পানি বেঞ্চ পিটিশনটি পরীক্ষা করেন; কোনো অসদুদ্দেশ্যহীন ও অবিরোধপূর্ণ অভ্যন্তরীণ ত্রুটি প্রমাণিত হলে আদালত দীর্ঘ প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই একটি চূড়ান্ত বা কার্যকরী আদেশ দিতে পারেন, অথবা বিষয়টি বিতর্কিত হলে রুল নিসি (Rule Nisi) জারি করতে পারেন।
- চূড়ান্ত আদেশ ও আনুষঙ্গিক নির্দেশনা — আদালত সাধারণত বিলম্ব মার্জনা করেন এবং একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে (সাধারণত ৩০–৬০ দিন) নতুন নোটিশ জারি করে তামাদি এজিএম আহ্বানের নির্দেশ প্রদান করেন; অচলাবস্থার পুনরাবৃত্তি রোধে আদালত ক্ষেত্রবিশেষে কোরামের শর্ত শিথিল করে দেন।
- বাস্তবায়ন এবং আরজেএসসি-তে ফাইলিং — আদালতের নির্দেশনা কঠোরভাবে প্রতিপালন করে এজিএম আহ্বান করা হয়; আরজেএসসি-তে তফসিল ১০ ও ব্যালেন্স শিট দাখিলের সময় আদালতের আদেশের সহি মোহরযুক্ত নকল (certified copy), আদালত-নির্দেশিত এজিএম-এর কার্যবিবরণী এবং সভার সভাপতির প্রতিবেদন সংযুক্ত করতে হয়।
V. সিকিউরিটিজ রেগুলেশন এবং ট্যাক্স কমপ্লায়েন্সের সাথে আন্তঃসংযোগ
A. তালিকাভুক্ত কোম্পানি: বিএসইসি এবং স্টক এক্সচেঞ্জের বাধ্যবাধকতা
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) বা চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)-এ তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে ধারা ৮১-এর এজিএম সময়সীমা বিএসইসি করপোরেট গভর্নেন্স কোড, ২০১৮ এবং ডিএসই/সিএসই লিস্টিং রেগুলেশনস, ২০১৫-এর পাশাপাশি প্রযোজ্য হয়। তালিকাভুক্ত ইস্যুকারী কোম্পানিগুলোকে অবশ্যই এজিএম-এর রেকর্ড ডেট সংক্রান্ত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ করতে হবে, যেখানে লভ্যাংশ ঘোষণার প্রস্তাব রয়েছে সেখানে এজিএম-এর রেকর্ড ডেট নির্ধারণের জন্য বিএসইসি-র পূর্বানুমতি/অনাপত্তিপত্র নিতে হবে, এবং ত্রৈমাসিক আর্থিক বিবরণী (প্রতি প্রান্তিক শেষ হওয়ার ৪৫ দিনের মধ্যে দাখিলযোগ্য) যাতে এজিএম-এ চূড়ান্তভাবে গৃহীত এবং তফসিল ১০-এ প্রদর্শিত বার্ষিক হিসাবের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।
B. আয়কর আইন, ২০২৩-এর সাথে সমন্বয়
আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ৭৩ এবং ১৬৬ অনুসারে, এজিএম-এ উপস্থাপিত নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীর সাথে সমন্বয় রেখে করপোরেট আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে। কর কর্তৃপক্ষ (এনবিআর-এর মাঠ পর্যায়ের দপ্তরসমূহ) করপোরেট ট্যাক্স রিটার্নে ঘোষিত পরিশোধিত মূলধন এবং শেয়ারহোল্ডিং প্যাটার্ন আরজেএসসি-তে নিবন্ধিত তফসিল ১০-এর সাথে নিয়মিত যাচাই করে; এর মধ্যে কোনো ব্যাখ্যাতীত অমিল দেখা দিলে প্রায়শই তা নিরীক্ষা মূল্যায়ন (scrutiny assessment) অথবা আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ১১৩ (হিসাবপত্র দাখিল)-এর অধীন নোটিশ জারির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
সংবিধিবদ্ধ দলিলের চেকলিস্ট
A. এজিএম-পূর্ববর্তী পর্ষদীয় নথিপত্র - নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী অনুমোদন সংক্রান্ত বোর্ড রেজোলিউশন (ধারা ১৮৯ অনুসারে স্বাক্ষরিত) - নিরীক্ষকের প্রতিবেদন (মূল কপি, সংবিধিবদ্ধ নিরীক্ষক কর্তৃক স্বাক্ষরিত ও তারিখ সম্বলিত) - এজিএম-এর তারিখ, সময়, স্থান/ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং আলোচ্যসূচি নির্ধারণ সংক্রান্ত বোর্ড রেজোলিউশন - ব্যাখ্যামূলক বিবরণীসহ (বিশেষ কার্যাবলীর জন্য) এজিএম নোটিশের খসড়া
B. নোটিশ ও জারির প্রমাণক - প্রত্যেক সদস্যের নিকট প্রেরিত এজিএম নোটিশের অনুলিপি (ডাক/কুরিয়ার/ইমেইলে প্রেরণের প্রমাণ, ন্যূনতম পূর্ণ ১৪ দিন পূর্বে; বিশেষ প্রস্তাব উত্থাপিত হলে ২১ দিন পূর্বে) - পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ (সংঘবিধির বিধান অনুসারে বা তালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে আবশ্যক হলে) - নোটিশের সাথে প্রেরিত প্রক্সি ফরম
C. এজিএম পরিচালনার কার্যবিবরণী ও রেকর্ড - সরাসরি বা প্রক্সির মাধ্যমে উপস্থিত সদস্যদের স্বাক্ষরযুক্ত উপস্থিতি খাতা/কোরাম রেজিস্টার - সংবিধিবদ্ধ সময়ের মধ্যে চেয়ারম্যান কর্তৃক স্বাক্ষরিত এজিএম-এর কার্যবিবরণী - সদস্যদের রেজিস্টারের সাথে মিলিয়ে যাচাইকৃত ও জমাকৃত প্রক্সি ফরম
D. তফসিল ১০ ফাইলিং প্যাকেজ (২১ দিনের মধ্যে) - পরিচালক/ব্যবস্থাপনা পরিচালক/সচিব কর্তৃক যথাযথভাবে পূরণকৃত ও স্বাক্ষরিত তফসিল ১০ ফরম (অংশ ১ এবং ২) - ফরম ১২ (পরিচালকদের বিবরণ, যদি এজিএম-এ কোনো পরিবর্তন ঘটে থাকে) - সংশ্লিষ্ট ফরম ১১৭ হস্তান্তর দলিলসহ উক্ত বছরে নিবন্ধিত শেয়ার হস্তান্তরের প্রত্যয়িত তালিকা - নিরীক্ষিত ব্যালেন্স শিটের তথ্যের সাথে তফসিল ১০-এর তথ্যের সমন্বয় কার্যপত্র (Reconciliation worksheet)
E. ধারা ১৯০ ফাইলিং প্যাকেজ (৩০ দিনের মধ্যে) - ব্যালেন্স শিট এবং লাভ-ক্ষতির হিসাবের তিনটি সত্যায়িত কপি - পরিচালকদের প্রতিবেদন - নিরীক্ষকদের প্রতিবেদন - হিসাব সংক্রান্ত টীকা / নগদ প্রবাহ বিবরণী (যেখানে প্রযোজ্য)
F. আনুষঙ্গিক ফাইলিং - ফরম ২৩বি — নিরীক্ষক নিয়োগের নিশ্চিতকরণ (নিয়োগের ৭ দিনের মধ্যে) - ফরম ২৩ — বিশেষ/অসাধারণ প্রস্তাবসমূহ (গৃহীত হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে) - ধারা ৮৫(৩)-এর অধীনে হাইকোর্টের আদেশের সহি মোহরযুক্ত নকল (যেখানে প্রযোজ্য, ফাইলিং প্যাকেজের সাথে সংযুক্ত)
G. সহায়ক করপোরেট প্রমাণক - নিগমবদ্ধকরণ সনদ বা সার্টিফিকেট অব ইনকর্পোরেশন (প্রথম এজিএম-এর ১৮ মাসের সময়সীমা যাচাইয়ের জন্য) - পূর্ববর্তী বছরের নিবন্ধিত তফসিল ১০ এবং ফরম ১২ (ধারাবাহিকতা যাচাইয়ের জন্য) - স্মারকলিপি ও সংঘবিধি (কোরাম ও নোটিশের সময়সীমা পারস্পরিক যাচাইয়ের জন্য)
নিয়ন্ত্রক ফি, সময়সীমা ও দণ্ডবিধি ছক
| পরিপালনীয় বিষয় | সংশ্লিষ্ট ধারা | সংবিধিবদ্ধ সময়সীমা | সরকারি ফি (টাকায়, নির্দেশক) | ব্যর্থতার দায়/দণ্ড |
|---|---|---|---|---|
| প্রথম এজিএম | ধারা ৮১ | নিগমবদ্ধকরণের ১৮ মাসের মধ্যে | প্রযোজ্য নয় | সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড; চলমান ব্যর্থতায় দৈনিক ৫০০ টাকা (ধারা ৮২) |
| পরবর্তী এজিএমসমূহ | ধারা ৮১ | পূর্ববর্তী এজিএম-এর ১৫ মাসের মধ্যে এবং একই ক্যালেন্ডার বছরের মধ্যে | প্রযোজ্য নয় | পূর্বোক্তরূপ; আদালতের আদেশ ব্যতীত সভা আহ্বানের পর্ষদীয় এখতিয়ার অবলুপ্তি |
| আরজেএসসি কর্তৃক এজিএম-এর সময় বৃদ্ধি | ধারা ৮১(১)-এর শর্তাংশ | সময়সীমা শেষ হওয়ার পূর্বে আবেদন; অনধিক ৯০ দিন | নামমাত্র আবেদন ফি | সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পর আবেদন বাতিল বলে গণ্য; কোনো ভূতাপেক্ষ সম্প্রসারণ নয় |
| তফসিল ১০ বার্ষিক বিবরণী | ধারা ৩৬ | এজিএম অনুষ্ঠানের ২১ দিনের মধ্যে | ২০০–১,০০০ টাকা (অনুমোদিত মূলধনের অনুপাতে) | আরজেএসসি পোর্টালের হিসাব অনুযায়ী বিলম্ব-দাখিলের দৈনিক সারচার্জ |
| ব্যালেন্স শিট/লাভ-ক্ষতির হিসাব দাখিল | ধারা ১৯০ | এজিএম অনুষ্ঠানের ৩০ দিনের মধ্যে | ২০০–১,০০০ টাকা | চলমান ব্যর্থতায় দৈনিক ১০০ টাকা অর্থদণ্ড (ধারা ১৯০(২)) |
| ফরম ১২ (পরিচালকদের বিবরণী) | ধারা ১১৫ | তফসিল ১০-এর সাথে যুগপৎভাবে / পরিবর্তনের সাথে সাথে | ২০০ টাকা | রেজিস্টারের তথ্যের সাথে অমিল; প্রতীয়মান কর্তৃত্বের (apparent authority) ঝুঁকি |
| ফরম ২৩বি (নিরীক্ষক নিয়োগ) | ধারা ২১০ | নিয়োগের ৭ দিনের মধ্যে | ২০০ টাকা |
◆ সম্পর্কিত প্র্যাকটিস গাইড ও বিশ্লেষণ
<li style="margin-bottom:12px; line-height:1.5;">
<a href="/bn/setting-up-branch-or-liaison-office-in-bangladesh-complete-bida-approval-compliance-roadmap-bn--1019/" style="color:#C5A059; font-weight:600; text-decoration:none; font-size:14px; display:inline-block; transition:color 0.2s;">• বাংলাদেশে ব্রাঞ্চ বা লিয়াজোঁ অফিস স্থাপন: বিডা অনুমোদন ও পূর্ণাঙ্গ আইনি প্রক্রিয়া</a>
</li>
<li style="margin-bottom:12px; line-height:1.5;">
<a href="/bn/directors-in-bangladesh-companies-fiduciary-duties-appointment-removal-liabilities-bn--1020/" style="color:#C5A059; font-weight:600; text-decoration:none; font-size:14px; display:inline-block; transition:color 0.2s;">• বাংলাদেশ কোম্পানিতে পরিচালক: আইনি দায়িত্ব, নিয়োগ, অপসারণ ও দায়বদ্ধতা</a>
</li>
<li style="margin-bottom:12px; line-height:1.5;">
<a href="/bn/trade-license-in-bangladesh-complete-issuance-renewal-city-corporation-guide-bn--1017/" style="color:#C5A059; font-weight:600; text-decoration:none; font-size:14px; display:inline-block; transition:color 0.2s;">• ট্রেড লাইসেন্স বাংলাদেশ: নতুন আবেদন, নবায়ন এবং সিটি কর্পোরেশন নিয়মাবলী</a>
</li>
<li style="margin-bottom:12px; line-height:1.5;">
<a href="/bn/partnership-deed-in-bangladesh-registration-under-partnership-act-1932-stamp-duty-dissolution-bn--1018/" style="color:#C5A059; font-weight:600; text-decoration:none; font-size:14px; display:inline-block; transition:color 0.2s;">• অংশীদারি চুক্তি বাংলাদেশ: অংশীদারি আইন ১৯৩২, স্ট্যাম্প ডিউটি ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া</a>
</li>
Frequently Asked Questions
কোম্পানি নিবন্ধনের কত দিনের মধ্যে প্রথম বার্ষিক সাধারণ সভা (AGM) আহ্বান করতে হয়?
কোম্পানি আইন ১৯৯৪-এর ধারা ৮১(১) অনুসারে, কোম্পানি ইনকর্পোরেশন বা নিবন্ধনের তারিখ থেকে অনধিক ১৮ (আঠারো) মাসের মধ্যে প্রথম বার্ষিক সাধারণ সভা আহ্বান ও সম্পন্ন করা সংবিধিবদ্ধভাবে বাধ্যতামূলক।
পরবর্তী বার্ষিক সাধারণ সভাগুলোর (Subsequent AGMs) ক্ষেত্রে সময়ের আইনি বিধিনিষেধ কী?
প্রথম এজিএমের পর, কোম্পানিকে প্রতি ক্যালেন্ডার বছরে অন্তত একবার এজিএম করতে হবে এবং পূর্ববর্তী এজিএম সম্পন্ন হওয়ার ১৫ (পনেরো) মাসের বেশি বিরতি দেওয়া যাবে না। তবে যৌক্তিক কারণে কোম্পানি আবেদন করলে আরজেএসসি (RJSC) এর রেজিস্ট্রার অনধিক ৯০ দিন বা ক্যালেন্ডার বছরের সমাপ্তি পর্যন্ত (যা পূর্বে ঘটে) সময় বৃদ্ধি করতে পারেন।
বার্ষিক সাধারণ সভা আহ্বানের জন্য নোটিশ প্রদানের সংবিধিবদ্ধ নিয়ম কী?
ধারা ৮৫ অনুসারে, এজিএম আহ্বানের জন্য সদস্যদের অন্তত ২১ (একুশ) দিনের সুস্পষ্ট লিখিত নোটিশ প্রদান করতে হবে। নোটিশে সভার স্থান, তারিখ, সময় এবং আলোচ্যসূচি (Agenda) স্পষ্ট উল্লেখ থাকতে হবে। তবে কোম্পানির সকল ভোটাধিকারপ্রাপ্ত শেয়ারহোল্ডার একমত হলে সংক্ষিপ্ত নোটিশেও (Shorter Notice) সভা আহ্বান করা সম্ভব।
তফসিল ১০ (Schedule X) কী এবং এটি কখন দাখিল করতে হয়?
কোম্পানি আইন ১৯৯৪ এর তফসিল ১০ হলো কোম্পানির শেয়ার মূলধন, শেয়ারহোল্ডারদের পূর্ণ তালিকা, স্থানান্তরিত শেয়ার এবং পরিচালনা পর্ষদের বিবরণ সংবলিত একটি বার্ষিক সারসংক্ষেপ (Annual Return)। ধারা ১৯০ অনুসারে, এজিএম অনুষ্ঠিত হওয়ার ২১ (একুশ) দিনের মধ্যে এই রিটার্ন আরজেএসসিতে অনলাইনে দাখিল করতে হয়।
নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে এজিএম করতে ব্যর্থ হলে আইনি প্রতিকার কী?
কোম্পানি নির্ধারিত সংবিধিবদ্ধ সময়ে এজিএম অনুষ্ঠানে ব্যর্থ হলে সাধারণ বোর্ড সভার মাধ্যমে আর এজিএম ডাকা যায় না। সে ক্ষেত্রে কোম্পানি আইন ১৯৯৪ এর ধারা ৮১(২) বা ধারা ১২ অনুসারে হাইকোর্ট বিভাগে (Company Bench) কোম্পানি সিভিল পিটিশন দাখিল করে সভা ডাকার অনুমতি ও তামাদি মওকুফ (Condonation of Delay) করিয়ে নিতে হয়।
এজিএম না করা এবং বার্ষিক রিটার্ন দাখিল না করার আইনি দায় ও দণ্ড কী?
ধারা ৮১(৩) ও ধারা ১৯০(৩) অনুসারে, এজিএম আহ্বান না করা বা বার্ষিক রিটার্ন দাখিল না করলে কোম্পানি এবং এর প্রত্যেক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সংবিধিবদ্ধ জরিমানা ও প্রতিদিনের ধারাবাহিক ব্যর্থতার জন্য অতিরিক্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন। তদুপরি, ধারাবাহিক ব্যর্থতার কারণে আরজেএসসি কোম্পানিটিকে নিস্ক্রিয় (Defunct) বিবেচনা করে কোম্পানি রেজিস্ট্রি থেকে তার নাম কর্তন (Strike-off) করতে পারে।