পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও সুরক্ষা আইন: জরুরি আদেশ, বাসস্থান ও আইনি সহায়তা

আপনি যদি পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়ে থাকেন—যেমন শারীরিক প্রহার, যৌন নিপীড়ন, ক্রমাগত মানসিক নির্যাতন, কিংবা আপনার স্বামী, শ্বশুরবাড়ির লোক বা একই ছাদের নিচে বসবাসকারী কোনো পরিবারের সদস্য কর্তৃক অর্থ বা মৌলিক প্রয়োজন থেকে বঞ্চিত হওয়া—তবে অনুগ্রহ করে স্পষ্টভাবে এটি জেনে রাখুন: আইন আপনার পক্ষে রয়েছে এবং আপনাকে…

ID: 1170 4,206 words

উৎস ও যাচাইয়ের তথ্য

এই গাইডের বিশ্বাসযোগ্যতার সংকেত

এগুলো এই কনটেন্ট রেকর্ডের মেটাডেটা। এগুলো কোনো নির্দিষ্ট আইনি ফলাফল বা বর্তমান আইনের নিশ্চয়তা নয়।

স্ট্যাটিক প্রকাশনার জন্য প্রস্তুত
আইনি উৎসের রেফারেন্স
এই রেকর্ডে কোনো উৎস-রেফারেন্স দেওয়া নেই।
রেকর্ডের অবস্থা

সর্বশেষ পর্যালোচনার তারিখ রেকর্ড করা নেই

ইংরেজি-বাংলা জোড়া যাচাই করা

রেকর্ড আইডি: 1170

গুরুত্বপূর্ণ: এটি সাধারণ তথ্য, আইনি পরামর্শ নয়। আপনার পরিস্থিতির জন্য যোগ্য আইনজীবীর পরামর্শ নিন এবং সরকারি প্রকাশনা যাচাই করুন।

দ্রুত ধারণা

নির্বাহী সারসংক্ষেপ

আপনি যদি পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়ে থাকেন—যেমন শারীরিক প্রহার, যৌন নিপীড়ন, ক্রমাগত মানসিক নির্যাতন, কিংবা আপনার স্বামী, শ্বশুরবাড়ির লোক বা একই ছাদের নিচে বসবাসকারী কোনো পরিবারের সদস্য কর্তৃক অর্থ বা মৌলিক প্রয়োজন থেকে বঞ্চিত হওয়া—তবে অনুগ্রহ করে স্পষ্টভাবে এটি জেনে রাখুন: আইন আপনার পক্ষে রয়েছে এবং আপনাকে…

বিষয় corporate rjsc
পড়ার সময় প্রায় 20 মিনিট
সর্বশেষ তারিখ রিভিউ অপেক্ষমাণ
Step 1 File Complaint / Application to Court or Enforcement Officer Step 2 Notice & Police Investigation Report Submission Step 3 Magistrate Hearing & Interim Order Issuance Step 4 Enforcement of Protection & Safe Custody / Maintenance
English Edition Looking for the authoritative English legal edition?
Read English Guide →

কার্যনির্বাহী সারাংশ ও দ্রুত করণীয় নির্দেশিকা

আপনি যদি পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়ে থাকেন—যেমন শারীরিক প্রহার, যৌন নিপীড়ন, ক্রমাগত মানসিক নির্যাতন, কিংবা আপনার স্বামী, শ্বশুরবাড়ির লোক বা একই ছাদের নিচে বসবাসকারী কোনো পরিবারের সদস্য কর্তৃক অর্থ বা মৌলিক প্রয়োজন থেকে বঞ্চিত হওয়া—তবে অনুগ্রহ করে স্পষ্টভাবে এটি জেনে রাখুন: আইন আপনার পক্ষে রয়েছে এবং আপনাকে নিঃশব্দে এই নির্যাতন সহ্য করতে হবে না কিংবা নিজের বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে হবে না।

আপনাদের আইনগত পরামর্শক হিসেবে আমি চাই আপনারা এটি বুঝুন যে, বাংলাদেশের এমন একটি সুনির্দিষ্ট ও আধুনিক আইন রয়েছে যা ঠিক আপনার এই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই তৈরি করা হয়েছে। পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০ (২০১০ সনের ৫৩ নং আইন) এবং পরবর্তীতে প্রণীত পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) বিধিমালা, ২০১৩-এর মাধ্যমে একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে বাস্তব ও কার্যকর ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এর আওতায় রয়েছে—আপনার নির্যাতনকারীকে আপনার কাছাকাছি আসা থেকে বিরত রাখার আদেশ, আপনার নিজ বাড়িতে থাকার অধিকার নিশ্চিত করার আদেশ, চিকিৎসা খরচ ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের জন্য জরুরি আর্থিক সহায়তা এবং বিষয়টি মীমাংসা না হওয়া পর্যন্ত আপনার সন্তানদের সাময়িক জিম্মায় রাখার আদেশ। এটি কোনো প্রতীকী আইন নয়—এই আদেশ অমান্য করা একটি ফৌজদারি অপরাধ, যার জন্য জেলের বিধান রয়েছে।

নাগরিকদের জন্য দ্রুত করণীয়: আপনি বা আপনার পরিচিত কেউ যদি তাৎক্ষণিক শারীরিক বিপদের মধ্যে থাকেন, তবে "সঠিক সময়ের" জন্য অপেক্ষা করবেন না। ১. তাৎক্ষণিক পুলিশ সহায়তার জন্য ৯৯৯ (999) নম্বরে কল করুন, অথবা নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে জাতীয় হেল্পলাইনের জন্য টোল-ফ্রি ও ২৪/৭ নম্বর ১০৯ (109)-এ কল করুন। ২. নিকটস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা সদর হাসপাতাল বা হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (OCC)-এ চলে যান—এবং নিশ্চিত করুন যেন আপনার প্রতিটি আঘাত এবং মানসিক অসুস্থতার লক্ষণ হাসপাতালের আনুষ্ঠানিক নথিতে স্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়। ৩. ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আপনার এলাকার উপজেলা বা জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, কিংবা নিবন্ধিত কোনো বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) সেবা কেন্দ্রে যান এবং আপনার নামে একটি পারিবারিক ঘটনার প্রতিবেদন (DIR) তৈরি করুন।


সংবিধিবদ্ধ অধিকার ও সাংবিধানিক সুরক্ষা কাঠামো

এই গাইডে বর্ণিত প্রতিটি সুরক্ষাই অত্যন্ত দৃঢ় সাংবিধানিক ও আইনি ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। আপনি রাষ্ট্রের কাছে কোনো দয়া চাচ্ছেন না—বরং আপনি এমন কিছু অধিকার প্রয়োগ করছেন যা আইনগতভাবেই আপনার।

ক. সাংবিধানিক রক্ষাকবচ

  • অনুচ্ছেদ ২৭ অনুযায়ী সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং সমভাবে আইনের আশ্রয় লাভের অধিকারী। ঘরের ভেতরে সহিংসতা ঘটছে বলেই আপনার ঘরের ভেতরের নির্যাতনকারী বিচার থেকে কোনো বিশেষ ছাড় বা অব্যাহতি পাবেন না।
  • অনুচ্ছেদ ৩১ ঘোষণা করে যে, আইনের সুরক্ষা লাভ এবং কেবল আইন অনুযায়ী আচরণ লাভ করা প্রত্যেক নাগরিকের অবিচ্ছেদ্য অধিকার—যেখানে স্পষ্টভাবে রাষ্ট্র বা অন্য কোনো ব্যক্তির বেআইনি কর্মকাণ্ড থেকে জীবন, শরীর, স্বাধীনতা, সুনাম ও সম্পত্তির সুরক্ষা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
  • অনুচ্ছেদ ৩২ অনুযায়ী আইন অনুযায়ী ব্যতীত জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা থেকে কোনো ব্যক্তিকে বঞ্চিত করা যাবে না। সাংবিধানিক ভাষায়, ধারাবাহিক পারিবারিক সহিংসতা হলো আপনার জীবন ও স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আক্রমণ—আর ঠিক এই কারণেই রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো নীরব না থেকে এতে হস্তক্ষেপ করা।

খ. পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০ (২০১০ সনের ৫৩ নং আইন)

এই আইনটি বাংলাদেশের আইনি ব্যবস্থার একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন: এটি পারিবারিক নির্যাতনকে তথাকথিত "পারিবারিক গোপনীয় বিষয়"-এর ছায়া থেকে বের করে সরাসরি আদালতের এখতিয়ারের মধ্যে নিয়ে এসেছে, যেখানে আদালতের আদেশ মানা বাধ্যতামূলক এবং তা অমান্যের জন্য রয়েছে ফৌজদারি শাস্তি।

  • ধারা ২(খ) ও ২(ঙ) — সংজ্ঞা: "পারিবারিক সহিংসতা" (Grihaparibarik Nirjaton)-র সংজ্ঞাকে বিস্তৃত করে এর মধ্যে শারীরিক নির্যাতন, মানসিক নির্যাতন, যৌন নিপীড়ন এবং অর্থনৈতিক নির্যাতন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। "পারিবারিক সম্পর্ক" (Grihaparibarik Somporko) বলতে বোঝায় এমন ব্যক্তিদের যারা বিবাহ, রক্তের সম্পর্ক, দত্তক গ্রহণ বা পারিবারিক সম্পর্কের সূত্রে একটি যৌথ পরিবারে একত্রে বসবাস করছেন বা অতীতে করেছেন—এর মধ্যে স্বামী-স্ত্রী, শ্বশুরবাড়ির লোকজন, ভাই-বোন এবং একই ছাদের নিচে বসবাসকারী অন্যান্য আত্মীয়রা অন্তর্ভুক্ত।
  • ধারা ৭ — সুরক্ষা আদেশ (Surokkha Adesh): প্রথম শ্রেণির জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বিবাদীকে সকল প্রকার সহিংসতা বন্ধ করতে, আপনার কর্মক্ষেত্র বা আপনার সন্তানদের স্কুলের কাছাকাছি না যেতে, আপনার সাথে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ রাখতে এবং যৌথ সম্পত্তি বা সম্পদ বিক্রি, গোপন বা ক্ষতিসাধন করা থেকে বিরত রাখতে আদেশ দিতে পারেন।
  • ধারা ৮ — বাসস্থান আদেশ (Boshobasher Adesh): আদালত বিবাদীকে যৌথ গৃহ (Sajha Basgriha) থেকে আপনাকে বের করে দেওয়া বা প্রবেশে বাধা দেওয়া থেকে বিরত রাখতে পারে—দলিলপত্রে যার নামই থাকুক না কেন। যদি আপনার নিরাপত্তার স্বার্থে স্থান পরিবর্তন করা জরুরি হয়, তবে আদালত বিবাদীকে সমমানের বিকল্প বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে ও তার খরচ বহন করার নির্দেশ দিতে পারে।
  • ধারা ৯ — আর্থিক প্রতিকার ও ক্ষতিপূরণ (Artho-anugotyo ebong Kshatipuron): আদালত চিকিৎসার খরচ, হারানো আয়, ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত সম্পত্তির ক্ষতিপূরণ এবং আপনার ও আপনার ওপর নির্ভরশীল সন্তানদের নিয়মিত মাসিক ভরণপোষণের জন্য অর্থ প্রদানের নির্দেশ দিতে পারে।
  • ধারা ১০ — জিম্মাদারির আদেশ (Jimmadarir Adesh): আদালত আপনাকে আপনার সন্তানদের সাময়িক জিম্মা (কাস্টডি) দিতে পারে এবং বিবাদীর উপস্থিতি যদি শিশুদের নিরাপত্তা বা কল্যাণের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়, তবে বিবাদীর সাথে সাক্ষাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা বা তদারকির ব্যবস্থা করতে পারে।
  • ধারা ১১ — পারিবারিক ঘটনার প্রতিবেদন (DIR): অভিযোগ দায়েরের পর একজন এনফোর্সমেন্ট অফিসার বা নিবন্ধিত সেবা প্রদানকারীর জন্য আইনগতভাবেই একটি ডিআইআর (DIR) প্রস্তুত ও দাখিল করা বাধ্যতামূলক—এটি কোনো ঐচ্ছিক বা দয়ার বিষয় নয়, বরং একটি বাধ্যতামূলক প্রশাসনিক দায়িত্ব।
  • ধারা ১৩ ও ১৪ — এনফোর্সমেন্ট অফিসার ও পুলিশের কর্তব্য: এসব ধারায় জরুরি কলের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক সাড়া দেওয়া এবং আদালতের আদেশ কার্যকর করতে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করার ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের ওপর আইনগত বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে—কর্তব্যের অবহেলা নিজেই একটি আইনি লঙ্ঘন।
  • ধারা ৩০ — আদেশ লঙ্ঘনের শাস্তি: সুরক্ষা আদেশ বা অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ লঙ্ঘন করা একটি ফৌজদারি অপরাধ। প্রথমবার আদেশ লঙ্ঘনের জন্য সর্বোচ্চ ৬ (ছয়) মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে। পুনরায় আদেশ লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ২ (দুই) বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ১,০০,০০০ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে।

গ. পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) বিধিমালা, ২০১৩

  • বিধি ৩ ও ফরম ক (ক): সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি, এনফোর্সমেন্ট অফিসার বা সেবা প্রদানকারীর মাধ্যমে অভিযোগ বা ডিআইআর (DIR) দাখিলের সঠিক ফরম নির্ধারণ করে দেয়।
  • বিধি ৪ ও ফরম খ (খ): আদালত কর্তৃক সুরক্ষা আদেশ জারির ক্ষেত্রে যে অফিসিয়াল ফরম ব্যবহার করতে হবে তা নির্ধারণ করে।
  • বিধি ৫: নোটিশ জারি, বিবাদীর ওপর সমন জারি এবং সংক্ষিপ্ত শুনানি পরিচালনার জন্য কঠোর সময়সীমা নির্ধারণ করে দেয়—পুরো কাঠামোটি দ্রুততার কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে, কারণ পারিবারিক সহিংসতার ক্ষেত্রে সামান্য বিলম্বও মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

ধাপভিত্তিক ব্যবহারিক প্রক্রিয়া

আমি বুঝতে পারি যে আপনি যখন ভীত, ক্লান্ত বা বিপদের মধ্যে আছেন, তখন আপনার সবচেয়ে শেষ যে বিষয়টি প্রয়োজন তা হলো কোনো গোলমেলে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা। নিচে বর্ণিত ক্রমটি হুবহু অনুসরণ করুন—এটি ঠিক যেভাবে সিস্টেম কাজ করার জন্য তৈরি করা হয়েছে তা প্রতিফলিত করে, এবং আগে থেকেই এটি জানা থাকলে আপনি প্রতিটি ধাপে বাস্তব ক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাস পাবেন।

[জরুরি বিপদকালীন সহায়তা]
       │
       ├─► ৯৯৯ / ১০৯ নম্বরে কল করুন (তাৎক্ষণিক পুলিশ বা হেল্পলাইন সহায়তা)
       └─► উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স / ওসিসিতে যান (চিকিৎসাগত নথিপত্র তৈরি)
                 │
                 ▼
[প্রশাসনিক দায়েরকরণ]
       │
       └─► উপজেলা/জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা বা এনজিও সেবা কেন্দ্রের শরণাপন্ন হোন ──► ফরম 'ক' (DIR) দাখিল করুন
                 │
                 ▼
[আইনি বা বিচারিক দায়েরকরণ]
       │
       └─► প্রাইভেট আইনজীবী বা ডিএলএও (DLAO)-এর মাধ্যমে সিএমএম / সিজেএম আদালতে পিটিশন (ধারা ৭-১০) দায়ের করুন
                 │
                 ▼
[আদালতের প্রতিকার বাস্তবায়ন]

LegalBD (legalbd.com) — সিনিয়র লিগ্যাল ট্রান্সলেটর কর্তৃক অনূদিত

টপিক: পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও সুরক্ষা আইন: জরুরি আদেশ, বাসস্থান ও আইনি সহায়তা
প্রাথমিক কুয়েরি: পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও সুরক্ষা আইন বাংলাদেশ
সেকশন: অংশ ২ (প্রক্রিয়া, পোর্টাল, ফি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র)


   │
   ├─► এক-পর্টে বা একতরফা অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ (ধারা ১৩) ──► তাৎক্ষণিক বাসস্থান / সুরক্ষা
   └─► চূড়ান্ত সংক্ষিপ্ত শুনানি (৬০ দিনের মধ্যে) ──► স্থায়ী আদেশ ও খোরপোশ

```

ধাপ ১: তাৎক্ষণিক জরুরি হস্তক্ষেপ (০ থেকে ২ ঘণ্টা)

  1. সহায়তার জন্য কল করুন। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ অথবা নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে টোল-ফ্রি জাতীয় হেল্পলাইন ১০৯-এ ডায়াল করুন। আপনার সঠিক অবস্থান জানান, সহিংসতা বা হুমকি চলমান রয়েছে কি না, কোনো অস্ত্র রয়েছে কি না এবং আপনার সাথে কোনো শিশু আছে কি না তা উল্লেখ করুন। শান্ত থাকুন এবং স্পষ্টভাবে আপনার ঠিকানা বারবার বলুন—অপারেটর একটি টিম পাঠাবেন এবং সহায়তা পৌঁছানো পর্যন্ত লাইনে যুক্ত থাকবেন।
  2. পুলিশের সহায়তা পাওয়ার আইনি অধিকার সম্পর্কে জানুন। পুলিশ রেগুলেশনস অব বেঙ্গল (PRB)-এর ২৪৩ ও ২৭৪ প্রবিধান এবং ২০১০ সালের আইনের ১৪ ধারার সুস্পষ্ট দায়িত্ব অনুযায়ী, স্থানীয় থানা দ্রুত কর্মকর্তা পাঠিয়ে ঘটনাস্থল নিরাপদ করা ও আপনাকে সুরক্ষার স্থানে পৌঁছে দিতে আইনগতভাবে বাধ্য। এটি তাদের কোনো দয়া নয়—এটি তাদের বিধিবদ্ধ দায়িত্ব।
  3. অবিলম্বে চিকিৎসকের কাছে যান। আপনি আহত হলে নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (OCC) যাওয়ার জন্য জোর দিন। দায়িত্বরত চিকিৎসককে স্পষ্ট ভাষায় বলুন: "দয়া করে এটি medico-legal রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করুন।" সরকারি খাতায় লিপিবদ্ধ প্রতিটি জখম, পোড়া দাগ, কামড়ের দাগ বা মানসিক ট্রমার লক্ষণ পরবর্তীতে শক্তিশালী প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে—এখানে পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ দিতে লজ্জা বা ভয় পাওয়া যাবে না।

ধাপ ২: পারিবারিক সহিংসতার প্রতিবেদন (DIR) দাখিল (২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা)

  1. সঠিক কার্যালয়ে যান। আপনার স্থানীয় উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা (UWAO), জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা (DWAO) অথবা নিবন্ধিত এনজিও সার্ভিস প্রোভাইডারের (যেমন—আইন ও সালিশ কেন্দ্র, ব্লাস্ট, বা বাংলাদেশ উইমেনস হেলথ কোয়ালিশন) সাথে যোগাযোগ করুন।
  2. ‘ফরম ক’-এর জন্য জোর দিন। আপনার ওপর নির্যাতনের বিবরণ দিন—নিজের লিখতে সমস্যা হলে মুখে বলেও তা রেকর্ড করাতে পারেন। ২০১৩ সালের বিধিমালার ৩ বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত অফিসিয়াল ‘ফরম ক’-এ পারিবারিক সহিংসতার প্রতিবেদন (Domestic Incident Report) রেকর্ড করতে কর্মকর্তা আইনগতভাবে বাধ্য। যদি তারা দ্বিধা করেন বা আপনাকে "পারিবারিক সমঝোতার" পরামর্শ দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন, তবে বিনীত অথচ দৃঢ়ভাবে তাদের স্মরণ করিয়ে দিন যে এটি তাদের বাধ্যতামূলক দায়িত্ব, কোনো ঐচ্ছিক অনুগ্রহ নয়।
  3. সময়সীমা মনে রাখুন। এনফোর্সমেন্ট অফিসার বা প্রয়োগকারী কর্মকর্তাকে আপনার এই ডিআইআর (DIR) প্রতিবেদনটি ৩ (তিন) কার্যদিবসের মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দাখিল করতে হবে। এই সময়সীমা পার হয়ে গেলে খোঁজ নেওয়ার জন্য একটি রসিদ বা ডিআইআর রেফারেন্স নম্বর চেয়ে নিন।

ধাপ ৩: আদালতে আইনি পিটিশন দাখিল (৩ থেকে ৫ দিন)

  1. সঠিক আদালতে মামলা করুন। ৭, ৮, ৯ ও ১০ ধারার অধীনে আপনার পিটিশনটি চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (মহানগর এলাকার ক্ষেত্রে) অথবা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (জেলা সদরের ক্ষেত্রে) আদালতে দাখিল করতে হবে।
  2. যথাযথ আইনি প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করুন। আপনি কোনো বেসরকারি পারিবারিক বা ফৌজদারি আইনজীবী নিয়োগ করতে পারেন, অথবা—যদি আর্থিক সংকট থাকে, যা সংকটকালীন সময়ে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক—তবে জেলা জজ আদালত চত্বরের ভেতরে অবস্থিত জেলা লিগ্যাল এইড অফিস (DLAO)-এ গিয়ে বিনামূল্যে সরকারি প্যানেল আইনজীবী পাওয়ার আবেদন করতে পারেন।
  3. পিটিশনে যা থাকা আবশ্যক: শারীরিক, মানসিক, যৌন বা অর্থনৈতিক নির্যাতনের স্পষ্ট বিবরণ; যৌথ গৃহস্থালির বিবরণ; আপনি যে ধরনের প্রতিকার চাচ্ছেন (সুরক্ষা, বাসস্থান, খোরপোশ, জিম্মাসহ অন্যান্য); এবং সহায়ক প্রমাণ হিসেবে ডিআইআর (DIR) প্রতিবেদন ও চিকিৎসা সনদপত্র এর সাথে সংযুক্ত করতে হবে।

ধাপ ৪: আদালত শুনানি ও আদেশ বাস্তবায়ন

  1. এক-পর্টে বা একতরফা অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ। ১৩ ধারা অনুযায়ী, ম্যাজিস্ট্রেট যদি আপনার পিটিশন, ডিআইআর এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রমাণপত্র পর্যালোচনা করে সন্তুষ্ট হন যে আসন্ন বিপদের একটি প্রাথমিক (যুক্তিযুক্ত ও বিশ্বাসযোগ্য) ঘটনা রয়েছে, তবে আদালত বিবাদীর উপস্থিতি বা জবাবের অপেক্ষা না করেই তাৎক্ষণিক সুরক্ষার জন্য একতরফা অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ জারি করতে পারেন। বিপদের মুখে শুনানি বা নোটিশের জন্য অপেক্ষা করা সমীচীন নয় বলেই এই বিধান রাখা হয়েছে।
  2. নোটিশ জারি। আদালত ‘ফরম খ’ ব্যবহার করে বিবাদীর প্রতি আনুষ্ঠানিক নোটিশ পাঠান, যা আদালত প্রসেস সার্ভার বা স্থানীয় পুলিশের মাধ্যমে সাধারণত ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে তামিল বা কার্যকর করতে হয়।
  3. চূড়ান্ত সংক্ষিপ্ত বিচার। ম্যাজিস্ট্রেট একটি সংক্ষিপ্ত অনুসন্ধান পরিচালনা করবেন, উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনবেন, প্রমাণাদি যাচাই করবেন এবং সুরক্ষা, বাসস্থান, খোরপোশ ও শিশু জিম্মার বিষয়ে চূড়ান্ত বাধ্যতামূলক আদেশ জারি করবেন—যেখানে আইন অনুযায়ী ৬০ দিনের মধ্যে মামলার সম্পূর্ণ নিষ্পত্তি করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

অফিসিয়াল ফি তফশিল, পেমেন্ট চালান ও কার্যসম্পাদনের সময়সীমা

ক. সংবিধিবদ্ধ কোর্ট ফি ও আর্থিক অব্যাহতি

বিবরণ খরচ আইনি ভিত্তি
ধারা ৭–১০ এর অধীনে পিটিশন দাখিল অব্যাহতিপ্রাপ্ত — কোনো অ্যাড ভ্যালোরেম (Ad valorem) কোর্ট ফি স্ট্যাম্পের প্রয়োজন নেই ২০১০ সালের আইনের অধীনে পিটিশনের জন্য বিশেষ অব্যাহতি
আইনি ড্রাফটিং ও প্যানেল আইনজীবীর সহায়তা (DLAO-এর মাধ্যমে) বিনামূল্যে লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস অ্যাক্ট, ২০০০
UWAO/DWAO/সেবা প্রদানকারীর নিকট DIR (ফরম ক) দাখিল বিনামূল্যে বিধি ৩, ডিভি রুলস ২০১৩

এই প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য আপনাকে কখনোই কোনো ব্যয়বহুল কোর্ট ফি স্ট্যাম্প কিনতে বা "অনানুষ্ঠানিক ফি" দিতে বলা উচিত নয়। আদালতের কাউন্টারে কেউ আপনার পিটিশন গ্রহণ করার জন্য অর্থ দাবি করলে তা আইনসম্মত নয়—নথিভুক্ত করুন এবং নিচের প্রতিকার অংশে উল্লিখিত পদক্ষেপ নিন।

খ. প্রশাসনিক খরচ ও সার্টিফাইড অনুলিপি

  • ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কপি সেকশন থেকে চূড়ান্ত আদালতের আদেশ বা ডিআইআর-এর সার্টিফাইড কপির জন্য নির্ধারিত অনুলিপি ও ফলিও ফি প্রযোজ্য, যা আদালত প্রাঙ্গণের অনুমোদিত ট্রেজারি ভেন্ডারদের নিকট থেকে সংগৃহীত কোর্ট ফি স্ট্যাম্পের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হয়।
  • ৩০ ধারার অধীনে আদেশ লঙ্ঘনের জন্য জরিমানার অর্থ আদালতের নির্দিষ্ট করা ট্রেজারি চালান কোড ব্যবহার করে স্থানীয় জেলা হিসাব ও অর্থ অফিস (DAFO)-এর মাধ্যমে জমা দিতে হয়। যদিও পৃথক সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা বিতরণ স্কিমগুলোতে (G2P) মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করা হয়, তবে আদালতের ট্রেজারি পেমেন্ট ব্যবস্থা এখনও বিকাশ/নগদ/রকেটের সাথে সরাসরি যুক্ত নয়।

গ. সংবিধিবদ্ধ সময়সীমা এক নজরে

পর্যায় আইনি সময়সীমা
জরুরি কলে পুলিশের/এনফোর্সমেন্ট টিম কর্তৃক তাৎক্ষণিক সাড়া দেওয়া ১–২ ঘণ্টা
এনফোর্সমেন্ট অফিসার কর্তৃক ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট DIR দাখিল ৩ কার্যদিবসের মধ্যে
বিবাদীর প্রতি আদালতের নোটিশ জারি ও জবাবের সময়সীমা ৭–১০ দিন
অন্তর্বর্তীকালীন/একতরফা প্রতিকার আবেদন পর্যালোচনার পর তাৎক্ষণিকভাবে
মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি ৬০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা

বাধ্যতামূলক দলিল ও প্রমাণ যাচাইকরণ চেকস্টলিস্ট

শুরু থেকেই শক্তিশালী কাগজপত্র গুছিয়ে রাখা আপনাকে দীর্ঘসূত্রিতা থেকে রক্ষা করবে এবং বিবাদীর পক্ষ থেকে নির্যাতন অস্বীকার বা লঘু করার চেষ্টা প্রতিহত করতে সাহায্য করবে। নিরাপদে সংগ্রহ করতে পারলে নিচের বিষয়গুলো সংগ্রহ করুন:

  • [ ] সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অথবা জন্ম নিবন্ধন সনদ।
  • [ ] পারিবারিক সম্পর্কের প্রমাণ: কাবিননামা, নিকাহনামার সার্টিফাইড কপি, ছবি, দত্তক নেওয়ার কাগজপত্র, অথবা যৌথ বাসস্থানের প্রমাণস্বরূপ ইউটিলিটি বিল কিংবা ভাড়ার চুক্তিপত্র।
  • [ ] পারিবারিক সহিংসতার প্রতিবেদন (DIR): উপজেলা/জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা বা নিবন্ধিত এনজিও সার্ভিস প্রোভাইডার কর্তৃক স্বাক্ষরিত ও ইস্যুকৃত মূল ‘ফরম ক (ক)’।
  • [ ] চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রমাণ: সরকারি হাসপাতাল বা ওয়ান-স্টপ ক্রিসিস সেন্টার (OCC) থেকে প্রাপ্ত মূল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের টিকিট, আঘাতের চিকিৎসাসংক্রান্ত সনদ (সুরতহাল), প্রেসক্রিপশন স্লিপ এবং ডায়াগনস্টিক রিপোর্ট।
  • [ ] ডিজিটাল ও দালিলিক প্রমাণ: হুমকিবার্তার প্রিন্ট করা ও তারিখযুক্ত স্ক্রিনশট, কল রেকর্ড বা কল লগ, হোয়াটসঅ্যাপ/সোশ্যাল মিডিয়া চ্যাট, এবং নির্যাতনের যেকোনো অডিও বা ভিডিও রেকর্ডিং।
  • [ ] ধারা ৯-এর অধীনে আপনার খোরপোশের দাবিকে সমর্থন করার জন্য বিবাদীর আয় নির্দেশক ব্যাংক স্টেটমেন্ট, বেতন সনদ বা ব্যবসার নথিপত্রসহ অন্যান্য আর্থিক বিবরণী।

  • [ ] সাক্ষীর জবানবন্দি (Witness Statements): প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন, গৃহকর্মী বা নিরাপত্তাকর্মীদের লিখিত এফিডেভিট বা হলফনামা, যারা নির্যাতন দেখেছেন কিংবা যৌথ পরিবার বা বাড়ি থেকে আপনাকে বের করে দেওয়ার ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছেন।

ব্যবহারিক পরামর্শ (Practical counsel): যেকোনো জরুরি পরিস্থিতির জন্য আপনার সমস্ত নথিপত্রের অনুলিপি যৌথ পরিবারের বাইরে—কোনো বিশ্বস্ত আত্মীয়, বন্ধুর কাছে কিংবা নিরাপদ ক্লাউড অ্যাকাউন্টে (Cloud Account) সংরক্ষণ করে রাখুন। কারণ যেকোনো মুহূর্তে ঘর ছেড়ে চলে যাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে এবং তখন বাড়ি থেকে নথিপত্র সংগ্রহ করা সম্ভব নাও হতে পারে।


সাধারণ ফাঁদ, আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রিতা ও আত্মরক্ষার কৌশল (Common Traps, Bureaucratic Delays & Self-Defense Strategies)

আমি অগণিত মামলার ক্ষেত্রে এই একই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটতে দেখেছি। এগুলো সম্পর্কে আগে থেকেই সচেতন থাকলে কোনো কিছুই আপনাকে অপ্রস্তুত করতে পারবে না।

ফাঁদ ১: পুলিশ সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা অভিযোগ নিতে অস্বীকার করে এবং এটিকে "পারিবারিক বিষয়" বলে এড়িয়ে যায়

  • ফাঁদটি: ডিউটি অফিসার আপনাকে এই বলে ফিরিয়ে দেন যে পারিবারিক বিরোধগুলো ব্যক্তিগত এবং এগুলো "ঘরে বসেই মিটিয়ে নেওয়া উচিত।"
  • আপনার আত্মরক্ষা: সরাসরি ২০১০ সালের আইনের ধারা ১৪ এবং পিআরবির (PRB) ২৪৩ প্রবিধান-এর কথা উল্লেখ করুন—এগুলো পুলিশের ওপর একটি বাধ্যতামূলক আইনি দায়িত্ব অর্পণ করে, কোনো সাধারণ স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা নয়। যদি পুলিশ অভিযোগ নিতে অস্বীকার করে, তবে থানার ভেতর থেকেই ৯৯৯-এ কল করুন অথবা নির্দিষ্ট ওই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগ জানাতে এসপির (SP) কন্ট্রোল রুমে যোগাযোগ করুন। সবসময় স্বাক্ষর ও সিলযুক্ত একটি লিখিত অস্বীকৃতি স্লিপ (written refusal slip) দাবি করুন—যে কর্মকর্তা লিখিতভাবে তার অস্বীকৃতি জানাতে রাজি হন না, তিনি আপনার সেবা প্রদানে অস্বীকৃতি চালিয়ে যাওয়ার সাহস পান না বললেই চলে।

ফাঁদ ২: ডিআইআর (DIR) তৈরিতে দেরি করা বা প্রদানে অস্বীকৃতি জানানো

  • ফাঁদটি: মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ের কর্মকর্তারা কালক্ষেপণ করেন, প্রথমে কোনো "মীমাংসা সেশনের" জন্য জোর করেন কিংবা এমন সব অনুমোদনের দাবি তোলেন যা বাস্তবে আইনের দৃষ্টিতে অস্তিত্বহীন।
  • আপনার আত্মরক্ষা: আইনে শারীরিক বা গুরুতর মানসিক নির্যাতনের ক্ষেত্রে জোরপূর্বক মীমাংসার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই—এটি প্রত্যাখ্যান করার আপনার পূর্ণ আইনি অধিকার রয়েছে। বিধি ৩-এর কথা উল্লেখ করুন, যেখানে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারিত রয়েছে। যদি কালক্ষেপণ অব্যাহত থাকে, তবে সরাসরি জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা (DWAO) বরাবর অভিযোগ করুন অথবা প্রশাসনিক এই বিলম্বের বর্ণনা দিয়ে একটি স্বঘোষিত এফিডেভিটসহ সরাসরি ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে ধারা ৭-এর অধীনে আবেদন করে এই দীর্ঘসূত্রিতা এড়িয়ে চলুন।

ফাঁদ ৩: ব্যক্তিগতভাবে চিকিৎসা নেওয়া বা ভয়ের কারণে চিকিৎসায় বিলম্ব হওয়ার ফলে মেডিকেল সার্টিফিকেট না থাকা

  • ফাঁদটি: সরকারি কোনো মেডিকেল রেকর্ড না থাকলে আদালত অনেক সময় নির্যাতনের তীব্রতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
  • আপনার আত্মরক্ষা: চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন, স্ক্যান এবং ডায়াগনস্টিক রিপোর্টগুলোরও যথেষ্ট সাক্ষ্যগত গুরুত্ব রয়েছে—এগুলো অবিলম্বে সংগ্রহ করুন এবং সংরক্ষণ করুন। যদি আঘাতের চিহ্ন ইতোমধ্যে সেরে যায় বা মিলিয়ে যায়, তবে শারীরিক ও মানসিক উভয় ধরনের নির্যাতন প্রমাণ করার জন্য মনস্তাত্ত্বিক মূল্যায়ন প্রতিবেদন (psychological evaluation reports), ডিজিটাল চ্যাট লগ এবং সাক্ষীদের হলফনামা সম্পূর্ণভাবে গ্রহণযোগ্য। দৃশ্যমান কোনো কালশিটে দাগ না থাকলেই যে আপনার মামলা দুর্বল হয়ে যাবে, এমন ধারণা ভুল।

ফাঁদ ৪: বিবাদীর জেনেশুনে সমন এড়ানো বা আত্মগোপন করা

  • ফাঁদটি: বিবাদীকে "নোটীশ বা সমন জারি" করা না যাওয়ার কারণে আদালতের কার্যক্রম ঝুলে থাকে, যার ফলে আপনি চূড়ান্ত সুরক্ষা আদেশ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হন।
  • আপনার আত্মরক্ষা: বিধি ৫ এর অধীনে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে বিকল্প উপায়ে সমন জারির (alternative service) অনুমতি প্রার্থনা করুন—যেমন: প্রাপ্তিস্বীকারপত্রসহ রেজিস্টার্ড ডাকযোগে নোটিশ পাঠানো, দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা, অথবা পুলিশের শারীরিক সমন জারির চেষ্টার পাশাপাশি এসএমএস (SMS), হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp) বা ইমেইলের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক উপায়ে সমন জারি করা। বিবাদী সমন এড়াতে চাইছে এমন স্পষ্ট প্রমাণ পেলে আদালত সাধারণত এই অনুমতি মঞ্জুর করে থাকেন। তাই বিবাদী অনুপস্থিত রয়েছে এই অজুহাতে নিজেকে সুরক্ষাহীন রাখবেন না।

হয়রানি, অস্বীকৃতি ও প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার প্রতিকার (Remedies Against Harassment, Refusal & Regulatory Failure)

যদি কোনো কর্মকর্তা উৎকোচ বা ঘুষ দাবি করেন, দায়িত্ব পালনে অস্বীকার করেন কিংবা আপনার ফাইলটি ফেলে রাখেন, তবে আপনার জন্য সুনির্দিষ্ট ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিকারের পথ খোলা রয়েছে। অভিযোগ নিয়ে উচ্চতর পর্যায়ে যাওয়ার আগে প্রতিটি যোগাযোগের ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ—তারিখ, সময়, কর্মকর্তার নাম/পদবি এবং কী বলা হয়েছে—লিপিবদ্ধ করে রাখুন।

  1. জেলা প্রশাসনের ভেতর উচ্চতর কর্তৃপক্ষের শরণাপন্ন হোন: পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা, দুর্নীতি বা জিডি/এফআইআর (GD/FIR) রেকর্ড করতে অস্বীকৃতি জানানোর বিষয়ে পুলিশ সুপার (SP) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করুন। আর সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যাপকভিত্তিক প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসক (DC) বরাবর অভিযোগ করুন।
  2. জাতীয় আইনি সহায়তা হেল্পলাইন—১৬৪৩০ নম্বরে কল করুন: এটি আপনাকে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা (NLASO)-এর সাথে সংযুক্ত করবে, যারা যেখানেই আপনি বাধার সম্মুখীন হবেন, সেখানেই সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে এবং সরকারি খরচে আইনি সহায়তার ব্যবস্থা করতে পারবে।
  3. জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC)-এ অভিযোগ দায়ের করুন: রাষ্ট্রীয় অঙ্গের কোনো কর্মকর্তা যদি ২০১০ সালের আইনটি কার্যকর করতে ব্যর্থ হন, তবে মানবাধিকার কমিশনে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করলে তা ওই ব্যর্থতার একটি দাপ্তরিক মানবাধিকার রেকর্ড তৈরি করবে এবং আইনটি বাস্তবায়নে প্রাতিষ্ঠানিক চাপ সৃষ্টি করতে সহায়ক হবে।
  4. অনুচ্ছেদ ১০২ এর অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে রিট দায়ের করুন: স্থানীয় কর্তৃপক্ষ যদি বারবার সুরক্ষা আদেশ, বাসস্থান বা ভরণপোষণের নির্দেশ বাস্তবায়নে অস্বীকার করে, তবে সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবীর মাধ্যমে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা যেতে পারে। এর মাধ্যমে রিট অব ম্যানডামাস (Writ of Mandamus) বা পরমাদেশ প্রার্থনা করা যায়, যা জনৈক সরকারি কর্মকর্তাকে তার আইনগত দায়িত্ব পালনে বাধ্য করার জন্য হাইকোর্টের একটি নির্দেশ। নিম্ন স্তরের কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যর্থ হওয়ার পর এটি একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও সর্বশেষ প্রতিকার।

জরুরি হটলাইন ও সহায়তা যোগাযোগের সারসংক্ষেপ (Emergency Hotlines & Support Contacts Summary)

সেবা (Service) যোগাযোগ নম্বর (Contact)
জাতীয় জরুরি সেবা (পুলিশ/ফায়ার সার্ভিস/অ্যাম্বুলেন্স) ৯৯৯ (999)
নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে জাতীয় হেল্পলাইন ১০৯ (109) (টোল-ফ্রি, ২৪/৭)
জাতীয় আইনি সহায়তা হেল্পলাইন (এনএলএএসও) ১৬৪৩০ (16430)
সরকারি জাতীয় কল সেন্টার ৩৩৩ (333)
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় / মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর mowca.gov.bd · dwa.gov.bd

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (Frequently Asked Questions)

১. স্বামী কি আইনগতভাবে আমাকে আমাদের যৌথ বাসা থেকে বের করে দিতে পারেন বা প্রবেশাধিকার অস্বীকার করতে পারেন?

না। পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০-এর ধারা ৮ অনুযায়ী, একজন ম্যাজিস্ট্রেট একটি বাসস্থান আদেশ (Residence Order) জারি করতে পারেন, যা বিবাদীকে যৌথ বাসস্থান (সাজহা বসগৃহ) থেকে আপনাকে বেদখল করা, উচ্ছেদ করা বা প্রবেশাধিকার থেকে বঞ্চিত করা থেকে বিরত রাখবে—বাসাবাড়ির মালিকানার দলিলে যার নামই থাকুক না কেন। যদি আপনাকে ইতিমধ্যে ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয়ে থাকে, তবে আদালত আপনার তাৎক্ষণিক পুনঃপ্রবেশের আদেশ দিতে পারেন অথবা বিবাদীকে একই মানের বিকল্প বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে এবং তার খরচ বহন করতে নির্দেশ দিতে পারবেন।

২. সুরক্ষা আদেশের আবেদন করার জন্য কি আমাকে কোনো কোর্ট ফি দিতে হবে?

না। সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি, এনফোর্সমেন্ট অফিসার বা জেলা আইনি সহায়তা অফিসের (DLAO) মাধ্যমে ২০১০ সালের আইনের অধীনে দাখিল করা আবেদনসমূহ স্বাভাবিক অ্যাড ভ্যালোরেম (Ad valorem) কোর্ট ফি থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতিপ্রাপ্ত। নিরাপত্তা, বাসস্থান বা ভরণপোষণের আদেশ পাওয়ার জন্য আপনার কখনোই দামি কোর্ট ফি স্ট্যাম্প কেনার প্রয়োজন হবে না।

৩. নির্যাতনকারী যদি আদালতের সুরক্ষা আদেশ লঙ্ঘন করেন, তবে কী হবে?

এটি কেবল দেওয়ানি আদালতের কোনো আদেশ অমান্য করার শামিল নয়, এটি একটি ফৌজদারি অপরাধ। ধারা ৩০ অনুযায়ী, প্রথমবার এই আদেশ লঙ্ঘনের জন্য সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন। পুনরায় বা বারবার আদেশ লঙ্ঘনের জন্য সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ১,০০,০০০ টাকা জরিমানা হতে পারে। আদেশ লঙ্ঘনের সাথে সাথেই ৯৯৯-এ কল করুন—পুলিশ পরোয়ানা ছাড়াই অপরাধীকে গ্রেপ্তার করতে পারে।

৪. আমি কি এই আইনের মাধ্যমে নিজের এবং আমার সন্তানদের জন্য আর্থিক ভরণপোষণ দাবি করতে পারি?

হ্যাঁ। ধারা ৯ অনুযায়ী, আদালত চিকিৎসাব্যয়, হারানো আয় এবং সম্পত্তির ক্ষতির ক্ষতিপূরণসহ আর্থিক ত্রাণের নির্দেশ দিতে পারেন। এর পাশাপাশি আপনার এবং আপনার ওপর নির্ভরশীল সন্তানদের জন্য নিয়মিত মাসিক ভরণপোষণ (ভরণ-পোষণ) মঞ্জুর করতে পারেন—যা নিশ্চিত করে যে নির্যাতনকারী যেন আপনার বিরুদ্ধে আর্থিক নিয়ন্ত্রণকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে।

৫. আমার কি অবিলম্বে একজন আইনজীবী প্রয়োজন, নাকি আমি নিজে নিজেই আবেদন দাখিল করতে পারি?

আইনজীবী ছাড়াই ডিআইআর বা ফরম 'ক' প্রস্তুত করার জন্য আপনি সরাসরি উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা অথবা কোনো সেবা প্রদানকারীর (Service Provider) শরণাপন্ন হতে পারেন। তবে, ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে মূল আবেদনটি দাখিল করার ক্ষেত্রে আইনি খসড়া তৈরির জন্য আইনজীবীর সহায়তা নেওয়া সুবিধাজনক। খরচের বিষয়টি নিয়ে যদি আপনার উদ্বেগ থাকে, তবে জেলা জজ আদালত চত্বরের ভেতরে অবস্থিত জেলা আইনি সহায়তা অফিসে (DLAO) সরাসরি চলে যান—সেখানে আপনার জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে একজন প্যানেল আইনজীবী নিয়োগ করা হবে।

৬. আমার শরীরে যদি কোনো আঘাতের দৃশ্যমান চিহ্ন না থাকে, তবে কি আদালত আমাকে সুরক্ষা দেবেন?

হ্যাঁ। ধারা ২(খ)-এ পারিবারিক সহিংসতার সংজ্ঞায় স্পষ্টভাবে মানসিক নির্যাতন, আবেগজনিত ত্রাস, মৌখিক নির্যাতন, যৌন নির্যাতন এবং অর্থনৈতিক নির্যাতনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে—কেবল শারীরিক সহিংসতা এর অন্তর্ভুক্ত নয়। নিয়মতান্ত্রিক ভয়ভীতি প্রদর্শন, হুমকি, আর্থিক সহায়তা প্রদানে অস্বীকৃতি বা জবরদস্তিমূলক নিয়ন্ত্রণ—এ সবই আইনগতভাবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ডিজিটাল চ্যাট লগ, কল রেকর্ড, সাক্ষীর হলফনামা এবং মনস্তাত্ত্বিক মূল্যায়ন প্রতিবেদন আপনার সুরক্ষা, বাসস্থান এবং ভরণপোষণের আদেশ নিশ্চিত করার জন্য সম্পূর্ণ বৈধ সাক্ষ্য—বিশ্বাসযোগ্য হওয়ার জন্য আপনার শরীরে দৃশ্যমান কোনো কালশিটে দাগ থাকার প্রয়োজন নেই।

Stages / Document / Service Statutory Authority / Provision Official Fee (BDT) & Payment Mode Processing Timeline & Statutory Deadline Responsible Authority & Escalation Forum
Application for Protection Order (Form-1) Section 13, Domestic Violence (Prevention and Protection) Act, 2010 Free (Court fees waived for destitute applicants) Immediate listing; Hearing within 3 working days Chief Metropolitan Magistrate / Judicial Magistrate Court
Enforcement of Interim Residence/Maintenance Order Section 14 & 15, DV Act 2010 No statutory court fee Executed within 24-48 hours of order Upazila / District Women Affairs Officer & Local Police Station
Appeal Against Magistrate Order Section 30, DV Act 2010 Standard appellate filing fees Filing within 30 days of judgment Court of Sessions Judge

◆ সম্পর্কিত প্র্যাকটিস গাইড ও বিশ্লেষণ

    <li style="margin-bottom:12px; line-height:1.5;">
      <a href="/bn/domain-name-disputes-in-bangladesh-bd-and-bangla-cctld-btcl-regulations-cybersquatting-remedies-bn/" style="color:#C5A059; font-weight:600; text-decoration:none; font-size:14px; display:inline-block; transition:color 0.2s;">&bull; .bd ও .বাংলা ডোমেইন বিরোধ: বিটিসিএল নিয়মাবলী ও আইনি প্রতিকার</a>
    </li>
    
    <li style="margin-bottom:12px; line-height:1.5;">
      <a href="/bn/passport-confiscation-travel-bans-citizen-rights-in-bangladesh-bn/" style="color:#C5A059; font-weight:600; text-decoration:none; font-size:14px; display:inline-block; transition:color 0.2s;">&bull; পাসপোর্ট জব্দ ও বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা: নাগরিক অধিকার, হাইকোর্ট রিট ও আইনি প্রতিকার</a>
    </li>
    
    <li style="margin-bottom:12px; line-height:1.5;">
      <a href="/bn/brta-driving-license-in-bangladesh-learner-permit-bsp-bn/" style="color:#C5A059; font-weight:600; text-decoration:none; font-size:14px; display:inline-block; transition:color 0.2s;">&bull; বিআরটিএ ড্রাইভিং লাইসেন্স: লার্নার পারমিট, অনলাইন আবেদন, পরীক্ষা ও স্মার্ট কার্ড নবায়ন</a>
    </li>
    
    <li style="margin-bottom:12px; line-height:1.5;">
      <a href="/bn/false-dowry-and-domestic-harassment-allegations-in-bangladesh-bn/" style="color:#C5A059; font-weight:600; text-decoration:none; font-size:14px; display:inline-block; transition:color 0.2s;">&bull; যৌতুক ও নারী নির্যাতন মিথ্যা মামলা: আত্মরক্ষা, ধারা ৫৬১এ বাতিল ও আইনি সুরক্ষার উপায়</a>
    </li>

সরকারি কর্তৃপক্ষ, গেজেট ও নিয়ন্ত্রক পোর্টাল

নিয়ন্ত্রক মূল আইনসমূহ: দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮, সালিশ আইন ২০০১, হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন ১৮৮১, বাংলাদেশ সংবিধান (অনুচ্ছেদ ১০২)

<div style="margin-bottom:12px; padding-bottom:12px; border-bottom:1px solid #1E293B;">
  <a href="https://supremecourt.gov.bd/" target="_blank" rel="noopener noreferrer" style="color:#C5A059; font-weight:600; font-size:14px; text-decoration:underline;">Supreme Court of Bangladesh &nearr;</a>
  <p style="color:#94A3B8; font-size:12px; margin:4px 0 0 0; line-height:1.4;">High Court Division & Appellate Division Cause Lists, Judgments & Rules</p>
</div>

<div style="margin-bottom:12px; padding-bottom:12px; border-bottom:1px solid #1E293B;">
  <a href="https://cptu.gov.bd/" target="_blank" rel="noopener noreferrer" style="color:#C5A059; font-weight:600; font-size:14px; text-decoration:underline;">Central Procurement Technical Unit (CPTU) / IMED &nearr;</a>
  <p style="color:#94A3B8; font-size:12px; margin:4px 0 0 0; line-height:1.4;">Government e-GP Tender Appeals & Administrative Review Panels</p>
</div>

<div style="margin-bottom:12px; padding-bottom:12px; border-bottom:1px solid #1E293B;">
  <a href="https://biac.org.bd/" target="_blank" rel="noopener noreferrer" style="color:#C5A059; font-weight:600; font-size:14px; text-decoration:underline;">Bangladesh International Arbitration Centre (BIAC) &nearr;</a>
  <p style="color:#94A3B8; font-size:12px; margin:4px 0 0 0; line-height:1.4;">Institutional ADR Rules & Commercial Dispute Mediation Procedures</p>
</div>

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQs)

ব্যক্তিগত আইনি সহায়তা

আপনার পরিস্থিতি অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট আইনি সহায়তা প্রয়োজন?

আমাদের সিনিয়র আইনজীবী ও রেগুলেটরি বিশেষজ্ঞদের সাথে পরামর্শ করে আপনার ঝুঁকি নিরূপণ ও সমাধান নিশ্চিত করুন।

রক্ষণাবেক্ষণ লুপ

এই গাইডে সমস্যা দেখেছেন?

ভুল উদ্ধৃতি, ভাঙা লিংক, অনুবাদ বা বর্তমানতার সমস্যা জানাতে রেকর্ড আইডিসহ সম্পাদকীয় টিমকে জানান। এটি স্বয়ংক্রিয় আইনি আপডেটের নিশ্চয়তা নয়।