ফিচার্ড স্নিপেট: বাংলাদেশে পরিচালকগণ কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ (ধারা ৮৬–১০৮) দ্বারা পরিচালিত হন, যা জিম্মাদারসুলভ দায়িত্ব (fiduciary duties), নিয়োগ পদ্ধতি, অযোগ্যতা এবং ১০৬ ধারার অধীন অসাধারণ প্রস্তাবের (extraordinary resolution) মাধ্যমে অপসারণ সংক্রান্ত বিধানসমূহ বিধিবদ্ধ করেছে। তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে অতিরিক্তভাবে বিএসইসি কর্পোরেট গভর্নেন্স কোড ২০১৮ পরিপালন করতে হয়, যা স্বতন্ত্র পরিচালক ও নিরীক্ষা কমিটি (audit committee) গঠন বাধ্যতামূলক করে।
নির্বাহী সারাংশ ও সংবিধিবদ্ধ কর্তৃত্ব
বাংলাদেশের কোনো কোম্পানিতে পরিচালকের পদটি একটি দ্বি-স্তরবিশিষ্ট সংবিধিবদ্ধ কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হয়। এর মূল ভিত্তিমূলে রয়েছে কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সালের ১৮ নং আইন), যা বাংলাদেশি আইনের অধীনে নিবন্ধিত বা পুনঃনিবন্ধিত প্রতিটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি, পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি (তালিকাভুক্ত বা অতালিকাভুক্ত) এবং প্রতিশ্রুতি দ্বারা দায়বদ্ধ সীমিত দায় সম্পন্ন কোম্পানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সাধারণ ক্ষমতাপ্রদানকারী সংবিধি। ষষ্ঠ পরিচ্ছেদের ধারা ৮৬ থেকে ১০৮ পর্যন্ত অংশ পরিচালকদের নিয়োগ, কার্যকাল, অযোগ্যতা, পদ শূন্য হওয়া এবং অপসারণ সংক্রান্ত কার্যকর আইনি বিধানসমূহ গঠন করে।
যেসকল কোম্পানির সিকিউরিটিজ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) বা চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) তালিকাভুক্ত, সেসকল কোম্পানির ক্ষেত্রে এই সাধারণ কাঠামোর ওপর কার্যকর রয়েছে বিএসইসি কর্পোরেট গভর্নেন্স কোড ২০১৮ (প্রজ্ঞাপন নং বিএসইসি/সিএমআরআরসিডি/২০০৬-১৫৮/২০৭/অ্যাডমিন/৮০)। ক্ষেত্রভিত্তিক নিয়ন্ত্রিত সত্তাগুলোর ক্ষেত্রে—যেমন ব্যাংক-কোম্পানী আইন, ১৯৯১-এর অধীনে ব্যাংকসমূহ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন, ১৯৯৩-এর অধীনে অ-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ—বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক 'যোগ্য ও উপযুক্ত' (fit-and-proper) যাচাই-বাছাইয়ের নিয়ন্ত্রণমূলক স্তর মোকাবেলা করতে হয়।
ফিচার্ড স্নিপেট: বাংলাদেশের পরিচালকগণ সামগ্রিকভাবে কোম্পানির প্রতি সরল বিশ্বাস (good faith), আনুগত্য (loyalty) এবং সতর্কতার (care) জিম্মাদারসুলভ দায়িত্বে আবদ্ধ, যা সাধারণ আইন (Common Law) থেকে উদ্ভূত এবং কোম্পানি আইন ১৯৯৪-এর ধারা ১০৮ (স্বার্থ প্রকাশের বাধ্যবাধকতা), ধারা ১০৫ (অননুমোদিত লাভজনক পদ গ্রহণের ওপর নিষেধাজ্ঞা) এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের লেনদেন (related-party transactions) সংক্রান্ত বিএসইসি গভর্নেন্সের শর্তাবলী দ্বারা সুদৃঢ়।
১. পরিচালকদের জিম্মাদারসুলভ দায়িত্ব (Fiduciary Duties): সংবিধিবদ্ধ ও সাধারণ আইনগত ভিত্তি
বাংলাদেশি আদালতসমূহ ব্রিটিশ-ভারতীয় কোম্পানি আইনের উত্তরাধিকার এবং ইংলিশ কমন ল নীতির অবিচ্ছিন্ন প্রয়োগের মাধ্যমে পরিচালকদেরকে কোম্পানির সম্পত্তি ও ক্ষমতার জিম্মাদার (fiduciaries) হিসেবে গণ্য করে। বাংলাদেশি করপোরেট আইনে স্বীকৃত মূল দায়িত্বসমূহ নিম্নরূপ:
- সরল বিশ্বাসে ও কোম্পানির সর্বোত্তম স্বার্থে কাজ করার দায়িত্ব: পরিচালকদের অর্পিত ক্ষমতা কেবল কোম্পানির স্বার্থে প্রয়োগ করতে হবে, কোনো গৌণ বা আত্মস্বার্থমূলক উদ্দেশ্যে নয়।
- আনুগত্য ও স্বার্থের সংঘাত পরিহারের দায়িত্ব: এটি ধারা ১০৮-এর মাধ্যমে সংবিধিবদ্ধ, যেখানে কোম্পানির সঙ্গে যেকোনো চুক্তি বা ব্যবস্থায় পরিচালকের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ স্বার্থ পর্ষদ সভায় উন্মোচন করা বাধ্যতামূলক।
- অননুমোদিত লাভ বা সুবিধা গ্রহণ না করা: ধারা ১০৫ অনুযায়ী পরিচালকরা সাধারণ সভায় অনুমোদন ছাড়া কোম্পানির অধীনে কোনো লাভজনক পদ বা অতিরিক্ত পারিতোষিক গ্রহণ করতে পারেন না।
- সতর্কতা, দক্ষতা ও যত্নশীলতার দায়িত্ব (Duty of Care, Skill, and Diligence): ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে পরিচালকদের যৌক্তিক সতর্কতা ও প্রজ্ঞা প্রদর্শন করতে হয়।
২. পরিচালক নিয়োগ ও অপসারণের সংবিধিবদ্ধ কার্যপ্রণালী
পরিচালক নিয়োগ ও অপসারণের ক্ষেত্রে সংবিধিবদ্ধ নিয়ম কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হয়। নিম্নে এর কার্যপ্রণালী রোডম্যাপ উপস্থাপন করা হলো:
ফিচার্ড স্নিপেট: তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে অবশ্যই পরিচালনা পর্ষদের মোট সদস্যসংখ্যার অন্যূন এক-পঞ্চমাংশ স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ করতে হবে (বিএসইসি কোড, শর্ত ১(২))। স্বতন্ত্র পরিচালকদের পরিশোধিত মূলধনের ১%-এর কম শেয়ার ধারণ করতে হবে, কোম্পানির সাথে কোনো বস্তুগত আর্থিক সম্পর্ক থাকা চলবে না, এবং তাঁরা একাধারে সর্বোচ্চ তিন বছর মেয়াদী দুটি ধারাবাহিক মেয়াদে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
৩. বিএসইসি করপোরেট গভর্নেন্স কোড ২০১৮-এর অধীনে স্বতন্ত্র পরিচালক
৩.১ পরিচালনা পর্ষদের গঠন সংক্রান্ত আবশ্যকতা
- পর্ষদের সদস্যসংখ্যা: সর্বনিম্ন ৫ জন এবং সর্বোচ্চ ২০ জন পরিচালক (শর্ত ১(১))।
- স্বতন্ত্র পরিচালক: মোট পর্ষদ সদস্যের অন্যূন ১/৫ অংশ, ভগ্নাংশের ক্ষেত্রে পরবর্তী পূর্ণ সংখ্যায় উন্নীত করতে হবে (শর্ত ১(২))। এই নিয়োগ এজিএমে অনুমোদিত হতে হবে।
৩.২ স্বতন্ত্র পরিচালকদের যোগ্যতার মানদণ্ড (শর্ত ১(৩))
- কোম্পানির মোট পরিশোধিত শেয়ারের ১%-এর কম শেয়ার ধারণ করতে হবে।
- উদ্যোক্তা বা ১% বা তদূর্ধ্ব শেয়ার ধারণকারী পরিচালকদের পরিবারের সদস্য হওয়া যাবে না।
- পূর্ববর্তী দুটি অর্থবছরে কোম্পানির সঙ্গে কোনো বস্তুগত আর্থিক সম্পর্ক (material pecuniary relationship) থাকা চলবে না।
- কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ঋণখেলাপি হওয়া যাবে না বা নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে দণ্ডিত হওয়া যাবে না।
- ১০-১২ বছরের পেশাগত অভিজ্ঞতাসম্পন্ন পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ বা করপোরেট ব্যক্তিত্ব হতে হবে।
৩.৩ পর্ষদীয় বাধ্যতামূলক কমিটিসমূহ
- নিরীক্ষা কমিটি (Audit Committee): সর্বনিম্ন ৩ সদস্যবিশিষ্ট, যার চেয়ারম্যান অবশ্যই একজন স্বতন্ত্র পরিচালক হবেন এবং বছরে অন্তত ৪ বার সভা আহ্বান করতে হবে।
- নমিনেশন অ্যান্ড রেমুনারেশন কমিটি (NRC): অন্তত একজন স্বতন্ত্র পরিচালকসহ ন্যূনতম ৩ জন অ-নির্বাহী পরিচালক থাকতে হবে।
ফিচার্ড স্নিপেট: দেউলিয়া ঘোষিত হলে, অপ্রকৃতিস্থ সাব্যস্ত হলে, নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে, ৬ মাসের মধ্যে তলবি অর্থ (কল মানি) প্রদানে ব্যর্থ হলে, অথবা অনুমোদন ব্যতিরেকে ধারাবাহিকভাবে ৩টি পর্ষদ সভায় অনুপস্থিত থাকলে কোম্পানি আইন ১৯৯৪-এর ধারা ৯৪ অনুসারে পরিচালকদের পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শূন্য হয়।
৪. অযোগ্যতা ও পরিচালনা পর্ষদের সভা সংক্রান্ত বিধান
কোম্পানি আইনের ৯৪ ধারা অনুসারে আদালতের কোনো আদেশ বা পর্ষদের সিদ্ধান্ত ব্যতিরেকেই অযোগ্যতার কারণে পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শূন্য হয়ে যায়। এছাড়া ধারা ৯৭ অনুযায়ী নিয়োগের ২ মাসের মধ্যে সংবিধিবদ্ধ যোগ্যতাসূচক শেয়ার অর্জনে ব্যর্থ হলেও পদ শূন্য হয়।
পরিচালনা পর্ষদের সভার কোরাম সংঘবিধি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়; সংঘবিধি নীরব থাকলে তফসিল ১, টেবিল এ অনুসারে মোট পরিচালকের ১/৩ অংশ অথবা ন্যূনতম ২ জন পরিচালক (যেটি বেশি) উপস্থিত থাকতে হবে। ধারা ১০৮ অনুযায়ী স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো পরিচালক নিজ স্বার্থযুক্ত চুক্তির বিষয়ে ভোট প্রদান করতে পারেন না।
৫. সংবিধিবদ্ধ ফি, সময়সীমা ও আইনি পরিপালন চেকলিস্ট
| পদক্ষেপ / প্রয়োজনীয়তা | আইনি ধারা | কর্তৃপক্ষ | ফি / স্ট্যাম্প শুল্ক | সময়সীমা |
|---|---|---|---|---|
| পরিচালকের সম্মতি দাখিল (ফরম ৯) | ধারা ৯২, কোম্পানি আইন ১৯৯৪ | আরজেএসসি (RJSC) | তফসিল নির্ধারিত আরজেএসসি ফি (২০০–৫০০ টাকা) | কোম্পানি নিবন্ধন বা প্রসপেক্টাস প্রকাশের পূর্বে |
| পরিচালক পরিবর্তনের নোটিশ (ফরম ১২) | ধারা ১১৫ ও ১০৭, কোম্পানি আইন ১৯৯৪ | আরজেএসসি (RJSC) | মূলধন অনুপাতে নির্ধারিত আরজেএসসি দাখিল ফি | পরিবর্তনের ১৪ দিনের মধ্যে |
| যোগ্যতাসূচক শেয়ার অর্জন | ধারা ৯৭, কোম্পানি আইন ১৯৯৪ | কোম্পানি পর্ষদ | শেয়ার বরাদ্দ বা হস্তান্তর ফি অনুযায়ী | নিয়োগের ৬০ দিন (২ মাস) এর মধ্যে |
| অসাধারণ প্রস্তাবের অনুলিপি দাখিল (অপসারণ) | ধারা ৮৮ ও ১০৬, কোম্পানি আইন ১৯৯৪ | আরজেএসসি (RJSC) | সাধারণ ফাইলিং ফি (২০০ টাকা) | প্রস্তাব গ্রহণের ১৫ দিনের মধ্যে |
| স্বতন্ত্র পরিচালকের পরিপালন প্রতিবেদন | শর্ত ১ ও ৯, বিএসইসি কোড ২০১৮ | বিএসইসি ও স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই/সিএসই) | প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নিরীক্ষা ও তালিকাভুক্তি ফি | বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদনের সাথে প্রতি বছর |
৬. পরিচালকদের ব্যক্তিগত, দেওয়ানি ও ফৌজদারি দায়বদ্ধতা
পরিচালকরা সীমিত দায়ের কোম্পানির আড়ালে সব সময় সুরক্ষিত নন। করপোরেট আবরণ উন্মোচন (piercing the corporate veil) নীতি এবং সুনির্দিষ্ট সংবিধিবদ্ধ আইনের অধীনে পরিচালকরা ব্যক্তিগতভাবে দায়ী হতে পারেন:
- নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১ (এনআই অ্যাক্ট): ধারা ১৩৮ ও ১৪০ অনুযায়ী কোম্পানির চেক ডিজঅনার হলে পরিচালকদের বিরুদ্ধে সরাসরি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা যায়।
- আয়কর আইন, ২০২৩: ধারা ২৩৯ ও ২৪০ অনুযায়ী প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি বকেয়া কর পরিশোধে ব্যর্থ হলে পরিচালকদের ওপর ব্যক্তিগত ও যৌথ দায় বর্তায়।
- কোম্পানি আইন, ১৯৯৪: ধারা ৩৯৭ ও ৩৯৮ অনুযায়ী প্রসপেক্টাসে মিথ্যা বিবরণ বা প্রতারণামূলক ব্যবসায় পরিচালকদের কারাদণ্ড ও ব্যক্তিগত আর্থিক ক্ষতিপূরণের বিধান রয়েছে।
Frequently Asked Questions
◆ সম্পর্কিত প্র্যাকটিস গাইড ও বিশ্লেষণ
<li style="margin-bottom:12px; line-height:1.5;">
<a href="/bn/opc-registration-nominee-directorship-conversion-2020-bangladesh-bn/" style="color:#C5A059; font-weight:600; text-decoration:none; font-size:14px; display:inline-block; transition:color 0.2s;">• এক ব্যক্তি কোম্পানি (OPC) নিবন্ধন, নমিনি ডিরেক্টরশিপ এবং রূপান্তর প্রোটোকল ২০২০</a>
</li>
<li style="margin-bottom:12px; line-height:1.5;">
<a href="/bn/share-transfer-stamp-duty-form-117-rjsc-rectification-bd-bn/" style="color:#C5A059; font-weight:600; text-decoration:none; font-size:14px; display:inline-block; transition:color 0.2s;">• শেয়ার হস্তান্তর স্ট্যাম্প ডিউটি, ফর্ম ১১৭ সম্পাদন এবং আরজেএসসি (RJSC) শেয়ার রেজিস্টার সংশোধন নির্দেশিকা</a>
</li>
<li style="margin-bottom:12px; line-height:1.5;">
<a href="/bn/100-percent-foreign-equity-company-registration-bida-oss-bangladesh-bn/" style="color:#C5A059; font-weight:600; text-decoration:none; font-size:14px; display:inline-block; transition:color 0.2s;">• ১০০% বিদেশী মালিকানাধীন কোম্পানি নিবন্ধন, বিডা (BIDA) ওএসএস অনুমোদন এবং ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্স প্রোটোকল</a>
</li>
<li style="margin-bottom:12px; line-height:1.5;">
<a href="/bn/statutory-nominee-directorship-ubo-domicile-rules-bangladesh-bn/" style="color:#C5A059; font-weight:600; text-decoration:none; font-size:14px; display:inline-block; transition:color 0.2s;">• বিধিবদ্ধ মনোনীত পরিচালক, প্রকৃত সুবিধাভোগী মালিকানা (UBO) এবং আবাসিকতার বিধিমালা: বাংলাদেশের বাণিজ্যিক আইন</a>
</li>
কোম্পানি আইন ১৯৯৪ অনুযায়ী একজন পরিচালককে কীভাবে অপসারণ করা যায়?
কোম্পানি আইন ১৯৯৪-এর ধারা ১০৬ অনুসারে, কোনো পরিচালককে অপসারণ করতে হলে কোম্পানির সাধারণ সভায় শেয়ারহোল্ডারদের দ্বারা একটি অসাধারণ প্রস্তাব (Extraordinary Resolution) পাস করতে হবে। অপসারণের আগে সংশ্লিষ্ট পরিচালককে আত্মপক্ষ সমর্থনের যৌক্তিক সুযোগ এবং বিশেষ নোটিশ প্রদান করতে হবে।
কোন কোন কারণে একজন পরিচালকের পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শূন্য হয়ে যায়?
কোম্পানি আইনের ৯৪ ধারা অনুযায়ী কোনো পরিচালক অপ্রকৃতিস্থ সাব্যস্ত হলে, দেউলিয়া ঘোষিত হলে, দুই মাসের মধ্যে যোগ্যতাসূচক শেয়ার অর্জনে ব্যর্থ হলে, তলবি অর্থ (কল মানি) পরিশোধে ছয় মাস ব্যর্থ থাকলে, অথবা পর্ষদের পূর্বানুমতি ছাড়া পরপর তিনটি সভায় অনুপস্থিত থাকলে পদটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে শূন্য হয়।
তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে কতজন স্বতন্ত্র পরিচালক থাকা বাধ্যতামূলক?
বিএসইসি করপোরেট গভর্নেন্স কোড ২০১৮-এর শর্ত ১(২) অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের মোট সদস্যসংখ্যার অন্যূন এক-পঞ্চমাংশ (১/৫ অংশ) স্বতন্ত্র পরিচালক হতে হবে। ভগ্নাংশ এলে পরবর্তী পূর্ণ সংখ্যায় রূপান্তর করতে হবে।
পরিচালক পরিবর্তনের পর কত দিনের মধ্যে আরজেএসসি-তে ফরম ১২ দাখিল করতে হয়?
কোম্পানি আইনের ধারা ১১৫ ও ১০৭ অনুসারে পরিচালক নিয়োগ, পদত্যাগ বা অপসারণজনিত যে কোনো পরিবর্তনের তারিখ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে ফরম ১২ পূরণ করে আরজেএসসি (RJSC)-তে দাখিল করতে হয়।
কোম্পানির চেক প্রত্যাখ্যাত (ডিজঅনার) হলে পরিচালকদের দায় কী?
নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট ১৮৮১-এর ধারা ১৩৮ ও ১৪০ অনুসারে, কোম্পানির চেক বাউন্স হলে কোম্পানির পাশাপাশি চেক স্বাক্ষরকারী পরিচালক এবং কোম্পানির ব্যবসা পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালকদের বিরুদ্ধে প্রতিনিধিমূলক দায়ে (Vicarious Liability) সরাসরি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা যায়।