নির্বাহী সারসংক্ষেপ ও সংবিধিবদ্ধ এখতিয়ার
| আইন ও ধারা | বিষয়বস্তু | আইনি তাৎপর্য |
|---|---|---|
| সালিশ আইন ২০০১, ধারা ৯ | আদালতের অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা | সালিশ চলাকালীন বা পূর্বে অন্তর্বর্তী আদেশের আবেদন। |
| সালিশ আইন ২০০১, ধারা ১০-১২ | সালিশি ট্রাইব্যুনাল গঠন | এক বা একাধিক সালিশকার নিয়োগ ও তাদের যোগ্যতা। |
| সালিশ আইন ২০০১, ধারা ২৫ | সালিশি কার্যক্রমের এখতিয়ার | ট্রাইব্যুনালের নিজস্ব এখতিয়ার নির্ধারণের ক্ষমতা। |
| সালিশ আইন ২০০১, ধারা ৩৯-৪২ | রায় ও ডিক্রি প্রয়োগ | সালিশি রায় বলবৎকরণ এবং বাতাসের বিধান। |
ফিচারড স্নিপেট: বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সালিশ সালিশ আইন ২০০১ (২০০১ সালের ১ নং আইন) দ্বারা পরিচালিত হয়, যা একটি আUNCITRAL (ইউনসিট্রাল) মডেল ল'-ভিত্তিক সংবিধিবদ্ধ আইন। এই আইনটি অভ্যন্তরীণ সালিশ, বাংলাদেশে আসনবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সালিশ এবং নিউ ইয়র্ক কনভেনশনের অধীনে বিদেশি রায়ের কার্যকরকরণকে জেলা জজ আদালত ও হাইকোর্ট ডিভিশনের মাধ্যমে পরিচালিত একটি একক, পূর্ণাঙ্গ আইনি কাঠামোর মধ্যে একত্রিত করেছে।
২০০১ সালের ২৪ জানুয়ারি প্রীত এবং এস.আর.ও. নং ৮৭-আইন/২০০১-এর মাধ্যমে ২০০১ সালের ১০ এপ্রিল কার্যকর হওয়া সালিশ আইন ২০০১ (২০০১ সালের ১ নং আইন) প্রাচীন সালিশ আইন ১৯৪০ এবং সালিশ (প্রোটোকল ও কনভেনশন) আইন ১৯৩৭-কে বাতিল করেছে। এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সালিশ সংক্রান্ত ১৯৮৫ সালের আUNCITRAL (ইউনসিট্রাল) মডেল ল'-এর সার্বিক গ্রহণকে প্রতিনিধিত্ব করে, যা অভ্যন্তরীণ সালিশি অনুশীলনকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক প্রত্যাশার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার জন্য প্রকৌশলগতভাবে প্রণীত হয়েছে। ২০০১ সালের আইনটি দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮ (বিশেষ করে ডিক্রি জারির জন্য একুশ আদেশ এবং আদালত-সংলগ্ন বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ৮৯বি ধারা), স্ট্যাম্প আইন ১৮৯৯ (রায়ের করযোগ্যতা নিয়ন্ত্রণকারী), তামাদি আইন ১৯০৮ (আইনের নিজস্ব বিশেষায়িত তামাদি বিধানের অধীন, ধারা ৪২(২)) এবং সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ১৮৭৭ (এর ২১ ধারা, যা কার্যকর সালিশি ধারা বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনকে বারিত করে)-এর পাশাপাশি পরিচালিত হয়।
বাণিজ্যিক চুক্তি — যেমন সরবরাহ চুক্তি, যৌথ উদ্যোগ (জয়েন্ট ভেঞ্চার), ইপিসি (EPC)/নির্মাণ চুক্তি, অংশীদারদের চুক্তি এবং সীমানা-অতিক্রমী বাণিজ্য দলিল — প্রস্তুতকারী কর্পোরেট আইনজীবীদের জন্য এই আইনের কাঠামো তিনটি অত্যন্ত সংবেদনশীল মোড়ে নিখুঁত হওয়া আবশ্যক: (অ) "রোগগ্রস্ত" (pathological) অস্পষ্টতামুক্ত সালিশি ধারা প্রস্তুতকরণ; (আ) ধারা ৭, ৭এ, ১১, ১২ এবং ২১-এর অধীন ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিকার ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে পথ চলা; এবং (ই) ধারা ৪১, ৪২, ৪৪ এবং ৪৫-এর অধীন রায়-পরবর্তী সংকীর্ণ, সময়-সীমাবদ্ধ আইনি লড়াই পরিচালনা করা। এই অভিসন্দর্ভটি (Treatise) সেই পথ চলার জন্য প্রয়োজনীয় পূর্ণাঙ্গ মতবাদগত দিকনির্দেশনা প্রদান করে, যার সাথে আপিল বিভাগ এবং হাইকোর্ট ডিভিশনের বাধ্যতামূলক নজিরসমূহকে একীভূত করা হয়েছে।
১. সংবিধিবদ্ধ কাঠামো এবং আঞ্চলিকতার মূলনীতি (Territoriality Principle)
১.১ ঐতিহাসিক বিবর্তন এবং মডেল ল' গ্রহণ
২০০১ সালের পূর্বে, বাংলাদেশের সালিশি ব্যবস্থা সালিশ আইন ১৯৪০ (কার্যপদ্ধতিগতভাবে জটিল, ব্যাপকভাবে আদালত-নিয়ন্ত্রিত) এবং সালিশ (প্রোটোকল ও কনভেনশন) আইন ১৯৩৭ (জেনেভা প্রোটোকল/কনভেনশন কাঠামোর অধীনে বিদেশি রায়গুলো নিয়ে ডিল করত, যা ১৯৫৮-পরবর্তী নিউ ইয়র্ক কনভেনশন যুগের জন্য সম্পূর্ণ অপ্রতুল ছিল) এর মধ্যে বিভক্ত ছিল। ২০০১ সালের আইনটি স্পষ্টভাবে বাংলাদেশকে আUNCITRAL (ইউনসিট্রাল) মডেল ল'-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার জন্য প্রণীত হয়েছিল, যার মাধ্যমে সালিশি প্রক্রিয়ায় বিচার বিভাগীয় হস্তক্ষেপ হ্রাস করা, পক্ষগণের স্বায়ত্তশাসন জোরদার করা এবং অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি উভয় রায়ের জন্য একটি অনুমানযোগ্য বলবৎকরণের পথ তৈরি করা হয়েছে। বিদেশি সালিশি রায়ের স্বীকৃতি ও বলবৎকরণ সংক্রান্ত নিউ ইয়র্ক কনভেনশন (১৯৫৮)-এ বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি এই আইনের ধারা ৪৫ থেকে ৪৭-এর মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে।
১.২ আইনের কাঠামোগত বিভাজন
আইনটি নিম্নোক্ত বিষয়গুলোকে আলাদা করার জন্য কাঠামোগতভাবে বিন্যস্ত:
- অভ্যন্তরীণ সালিশ (Domestic Arbitration) — যেখানে সালিশের আসন এবং মূল বিরোধ উভয়ই বাংলাদেশে অবস্থিত, যা এই আইনের কার্যপদ্ধতি সংক্রান্ত বিধানাবলি (ধারা ১–৪৩) দ্বারা সম্পূর্ণরূপে পরিচালিত হয়।
- বাংলাদেশে আসনবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সালিশ (ICA) — ধারা ২(সি)-এর অধীনে সংজ্ঞায়িত, যেখানে অন্তত একজন পক্ষ বিদেশি নাগরিক, বিদেশি কর্পোরেট সত্তা বা বিদেশি সরকার, কিন্তু সালিশের আসন ঢাকা বা অন্য কোনো বাংলাদেশি স্থান। এই কার্যধারাগুলো বিচার বিভাগীয়-তত্ত্বাবধানমূলক কার্যাবলির জন্য হাইকোর্ট ডিভিশনের এখতিয়ারভুক্ত হয় (ধারা ১২(৬), ধারা ৪২)।
- বিদেশি-আসনবিশিষ্ট সালিশ (Foreign-Seated Arbitrations) — যেখানে পক্ষগণ সচেতনভাবে বাংলাদেশের বাইরে কোনো আসন নির্বাচন করেছেন (যেমন: সিঙ্গাপুর, লন্ডন, কুয়ালালামপুর)। ধারা ৩(১) এই ধরনের কার্যধারায় আইনের সাধারণ প্রয়োগকে বর্জন করে, তবে ধারা ৭এ-এর অধীনে তৈরি হওয়া সংকীর্ণ সুযোগ (যা সালিশ (সংশোধন) আইন ২০০৪ দ্বারা সন্নিবেশিত হয়েছে) এর ব্যতিক্রম।
- বিদেশি রায়ের বলবৎকরণ (Enforcement of Foreign Awards) — ধারা ৪৪ থেকে ৪৭, যা নিউ ইয়র্ক কনভেনশনের ব্যবস্থাপনার প্রতিচ্ছবি।
১.৩ ধারা ৩(১) এবং ২০০৪ সালের সংশোধন: এখতিয়ারগত ফায়ারওয়াল
ধারা ৩(১)-এ বিধান করা হয়েছে যে, সালিশের স্থান বাংলাদেশে না হলে এই আইন (নির্দিষ্ট ধারাগুলো ব্যতীত) প্রযোজ্য হবে না। এটি একটি প্রাথমিক এখতিয়ারগত শূন্যতা তৈরি করেছিল: বিদেশি-আসনবিশিষ্ট সালিশি ধারার পক্ষগণের নিকট বাংলাদেশি আদালত হতে অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষামূলক প্রতিকার (যেমন: সম্পদ অবরুদ্ধকরণ, নিষেধাজ্ঞা) পাওয়ার কোনো সংবিধিবদ্ধ ব্যবস্থা ছিল না, এমনকি যেখানে বিবাদীর সম্পদ ও কার্যক্রম মূলত বাংলাদেশের ভেতরে অবস্থিত ছিল। সালিশ (সংশোধন) আইন ২০০৪ (২০০৪ সালের ২ নং আইন) ধারা ৭এ সন্নিবেশিত করার মাধ্যমে এই ত্রুটি সংশোধন করে, যা স্পষ্টভাবে জেলা জজ আদালত বা হাইকোর্ট ডিভিশনকে বিদেশি-আসনবিশিষ্ট সালিশের সহায়তায় অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা মঞ্জুর করার ক্ষমতা প্রদান করে। এই সংশোধনীটি নিচের ৩ নম্বর ধারায় আলোচিত এসটিএক্স কর্পোরেশন বনাম মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ লি. মামলার যুগান্তকারী রায়ের সংবিধিবদ্ধ ভিত্তি।
২. বলবৎযোগ্য সালিশি চুক্তির শারীরস্থান (Anatomy)
২.১ ধারা ৯-এর অধীন আনুষ্ঠানিক বৈধতার আবশ্যকতা
আইনের ধারা ৯ অনুযায়ী সালিশি চুক্তি লিখিত হতে হবে — হয় মূল চুক্তির একটি ধারা হিসেবে অথবা পৃথক চুক্তি হিসেবে — এবং তা চিঠি, টেলেক্স, টেলিগ্রাম বা টেলিযোগাযোগের অন্যান্য মাধ্যমের আদান-প্রদানের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকলে এবং চুক্তির রেকর্ড প্রদান করলে, অথবা দাবি ও প্রতি-দাবির বিবৃতির আদান-প্রদানের মধ্যে যেখানে এক পক্ষ চুক্তির অস্তিত্ব দাবি করে এবং অন্য পক্ষ তা অস্বীকার করে না, সে ক্ষেত্রেও সাধিত বলে গণ্য হবে। কর্পোরেট আইনজীবীদের অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে:
- ধারাটিতে নিয়ন্ত্রক সালিশি বিধিমালা (প্রাতিষ্ঠানিক বা অ্যাড হক) নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
- সালিশের আসনটি অন্য কোনো শুনানির "স্থান" (venue) থেকে স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীনভাবে পৃথক করে নির্দিষ্ট করা হয়েছে।
- বিচারযোগ্য বিরোধের পরিধি ("এই চুক্তি থেকে বা এর সাথে সম্পর্কিত উদ্ভূত যে কোনো বিরোধ, এর অস্তিত্ব, বৈধতা বা অবসানসহ") মূল সম্পর্কের সাথে যুক্ত অন্যায়মূলক (tortious), সংবিধিবদ্ধ এবং অর্ধ-চুক্তিমূলক (quasi-contractual) দাবিগুলো ধরার মতো যথেষ্ট প্রশস্তভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে।
২.২ রোগগ্রস্ত ধারা (Pathological Clauses): আসন, স্থান এবং কার্যপদ্ধতি আইনের সংমিশ্রণ
বাংলাদেশি বাণিজ্যিক চুক্তিগুলোতে সবচেয়ে বেশি মামলা-মোকদ্দমায় জড়ানো ত্রুটিপূর্ণ ড্রাফটিং বা প্রস্তুতকরণ হলো "বিভক্ত" বা হাইব্রিড ধারা — উদাহরণস্বরূপ, ইংরেজি প্রযোজ্য আইন এবং সিঙ্গাপুর (SIAC) আসন নির্দিষ্ট করা, অথচ একই সাথে ঢাকার আদালতগুলোর ওপর "একচেটিয়া এখতিয়ার" প্রদান করা। এই ধরনের ড্রাফটিং তাৎক্ষণিকভাবে এবং ব্যয়বহুল প্রারম্ভিক বিরোধ তৈরি করে যে, কোন আদালতের তত্ত্বাবধানমূলক (curial) এখতিয়ার রয়েছে। এইচএনএস অটোমোবাইল বনাম নিসান মোটর কো. লি. (২০১৫) ২০ বিএলসি (এডি) ১৬১ মামলায় যেমন প্রদর্শিত হয়েছে, যেখানে পক্ষগণ সচেতনভাবে বিদেশি সালিশি আসন নির্বাচন করেন, সেখানে বাংলাদেশি আদালতসমূহ ধারা ৩(১) দ্বারা সেই সালিশের গুণাগুণ বা কার্যপদ্ধতির ওপর মূল তত্ত্বাবধানমূলক এখতিয়ার প্রয়োগ করা থেকে সংবিধিবদ্ধভাবে বারিত; "একচেটিয়া এখতিয়ার" ধারাটিকে কার্যকরভাবে সীমিত করে শুধুমাত্র ধারা ৭এ-এর সংকীর্ণ ব্যতিক্রমের (অন্তর্বর্তীকালীন সম্পদ সুরক্ষা) আওতাধীন বিষয়গুলোতে প্রযোজ্য বলে গণ্য করা হয় এবং এটি পক্ষগণের আসন নির্বাচনের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ সাধারণ তত্ত্বাবধানমূলক এখতিয়ারকে পুনরুজ্জীবিত করতে পারে না।
ড্রাফটিং নিয়ম: মূল বিরোধের জন্য বাংলাদেশি আদালতকে "একচেটিয়া এখতিয়ার" প্রদান করার পাশাপাশি কখনোই কোনো বিদেশি সালিশি আসন নির্দিষ্ট করবেন না। যদি কেবল অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিকারের জন্য বাংলাদেশি আদালতের ব্যাক-আপ বা সহায়তার প্রয়োজন হয়, তবে ধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা উচিত: "এই ধারার কোনো কিছুই সালিশের আসন [সিঙ্গাপুর/লন্ডন] হওয়া সত্ত্বেও সালিশ আইন ২০০১-এর ধারা ৭এ অনুযায়ী বাংলাদেশের আদালত থেকে অন্তর্বর্তীকালীন বা সংরক্ষণমূলক ব্যবস্থা চাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো পক্ষকে বাধাগ্রস্ত করবে না।"
২.৩ স্তরভিত্তিক (বহু-পদক্ষেপ বিশিষ্ট) বিরোধ নিষ্পত্তি ধারা
কর্পোরেট চুক্তিগুলোতে প্রায়শই পারস্পরিক আলোচনা, তারপর মধ্যস্থতা, এবং পরবর্তীতে সালিশ — এমন এসকেলেশন প্রটোকল বা স্তরভিত্তিক প্রটোকল আরোপ করা হয়, যা সালিশি খরচ বহন করার পূর্বে সৌহার্দ্যপূর্ণ নিষ্পত্তির জন্য উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে ডিজাইন করা হয়েছে। বাংলাদেশি আদালতসমূহ সাধারণত এই স্তরভিত্তিক ব্যবস্থাসমূহকে বলবৎযোগ্য কার্যপদ্ধতিগত পূর্বশর্ত হিসেবে গণ্য করে, যদি পদক্ষেপগুলো বস্তুনিষ্ঠভাবে নির্ণয়যোগ্য ট্রিগার এবং সময়সীমা (যেমন: "চৌদ্দ (১৪) কার্যদিবসের মধ্যে", "ত্রিশ (৩০) কার্যদিবসের মধ্যে") সহকারে প্রস্তুত করা হয়। অস্পষ্ট স্তরভিত্তিক ধারাগুলো (যেমন: "পক্ষগণ একটি যুক্তিসঙ্গত সময়ের জন্য সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে বিরোধ সমাধানের চেষ্টা করবে") বৈধভাবে সালিশ শুরু করার পূর্বে পূর্বশর্ত পূরণ করা হয়েছিল কি না তা নিয়ে স্যাটেলাইট লিটিগেশন বা অনুষঙ্গী মামলাকে আমন্ত্রণ জানায় — যা ট্রাইব্যুনাল গঠনকে বিলম্বিত করার জন্য প্রায়শই উত্থাপিত একটি প্রতিরক্ষা। আইনজীবীদের অবশ্যই ক্যালেন্ডার-নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং স্পষ্ট ডিফল্ট ট্রিগার (অর্থাৎ, "এক্স দিনের পরে অমীমাংসিত থাকলে, যে কোনো পক্ষ বিরোধটি সালিশে পাঠাতে পারবে") সহকারে ড্রাফট করতে হবে।
২.৪ মডেল ধারা তুলনা: BIAC প্রাতিষ্ঠানিক বিধিমালা বনাম UNCITRAL অ্যাড হক
পক্ষগণ বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল আরবিট্রেশন সেন্টার (BIAC)-এর মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক প্রশাসন নির্বাচন করতে পারেন, যা কেস ম্যানেজমেন্ট, মডেল ধারা, যাচাইকৃত সালিশকারকদের একটি প্যানেল এবং — অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণভাবে — ট্রাইব্যুনাল-পূর্ব জরুরি অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিকারের জন্য একটি জরুরি সালিশকারক মেকানিজম (Emergency Arbitrator mechanism) প্রদান করে, যা ধারা ৭/৭এ-এর অধীনে আদালতের হস্তক্ষেপের ওপর নির্ভরতা হ্রাস করে। ধারা ১২-এর ডিফল্ট কাঠামোর সাথে রেফারেন্স দ্বারা অন্তর্ভুক্ত UNCITRAL বিধিমালার অধীন অ্যাড হক সালিশ নির্মাণ এবং ইপিসি (EPC) চুক্তিগুলোতে সাধারণই থেকে যায়, কিন্তু এটি পুরো প্রশাসনিক বোঝা — যার মধ্যে নিয়োগ সংক্রান্ত বিরোধও অন্তর্ভুক্ত — পক্ষগণের ওপর এবং শেষ পর্যন্ত আদালতের ওপর ন্যস্ত করে।
৩. বিচারিক তত্ত্বাবধান এবং সালিশ-পূর্ব আদালত কর্তৃক হস্তক্ষেপ
৩.১ ধারা ১০ এর বাধ্যতামূলক রেফারেল বার (Mandatory Referral Bar)
ধারা ১০ একটি বৈধ সালিশি চুক্তির আওতাভুক্ত বিষয়ে দেওয়ানি আদালতের মামলা গ্রহণের বিরুদ্ধে একটি পরম এখতিয়ারগত বাধা (absolute jurisdictional bar) হিসেবে কাজ করে। যেখানে কোনো পক্ষ সালিশি চুক্তি লঙ্ঘন করে দেওয়ানি আদালতে মামলা দায়ের করে, তখন বিবাদীকে বিরোধের মূল বিষয়ের ওপর তার প্রথম লিখিত বক্তব্য পেশ করার পূর্বে ধারা ১০-এর অধীনে একটি আবেদন দাখিল করতে হবে। Singapore Airlines Ltd. v. Tanveer Ahmed and others (2007) 59 DLR (HCD) 249 মামলায় হাইকোর্ট বিভাগ এই মর্মে নিশ্চিত করেছেন যে, একবার একটি বৈধ ও কার্যকর সালিশি চুক্তি প্রমাণিত হলে আদালতের বিচারিক বিবেচনার ক্ষমতা লোপ পায় এবং আদালত পক্ষগণকে সালিশে পাঠাতে বাধ্য—একমাত্র ব্যতিক্রম হলো যদি সালিশি চুক্তিটি বাতিল ও অকার্যকর হয় অথবা কার্যকর করার অনুপযুক্ত হয়।
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণভাবে, Unicom Education Consultant Service Ltd. v. The British Council (2014) 66 DLR (HCD) 349 মামলায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, গুণাগুণের ভিত্তিতে মামলার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে লিখিত জবাব দাখিল করা হলো ধারা ১০ প্রয়োগের অধিকারের একটি অপিরণতযোগ্য মওকুফ (irrevocable waiver)। সুতরাং, কর্পোরেট মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবীদের যেকোনো লিখিত বিবৃতির সাথে বা এর পরিবর্তে অবিলম্ব এবং প্রথম প্রতিক্রিয়াশীল pleading হিসেবে ধারা ১০-এর আবেদন দাখিল করতে হবে, যেখানে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সমস্ত অধিকার স্পষ্টভাবে সংরক্ষিত রাখা হবে।
৩.২ ধারা ৭-এর অধীনে আদালত কর্তৃক প্রদত্ত অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিকার
ধারা ৭ জেলা জজ আদালতকে (গার্হস্থ্য বা অভ্যন্তরীণ বিষয়ে) অথবা হাইকোর্ট বিভাগকে (বাংলাদেশে আসন নির্ধারিত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সালিশ বা ICA-এর ক্ষেত্রে)—সালিশি कार्यवाही শুরু হওয়ার আগে, এর চলমান অবস্থায়, অথবা সালিশি রোয়েদাদ দেওয়ার পর কিন্তু বলবৎকরণের পূর্বে যেকোনো পর্যায়ে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা—যেমন নিষেধাজ্ঞা, রিসিভার নিয়োগ, বিরোধীয় অর্থ সুরক্ষিত করার আদেশ, এবং বিরোধের বিষয়বস্তু হিসেবে বিবেচিত পণ্যের সংরক্ষণ, অন্তর্বর্তীকালীন জিম্মা বা বিক্রয়ের আদেশ—প্রদানের ক্ষমতা প্রদান করে। আবেদনকারীকে প্রচলিত ত্রিবিধ পরীক্ষা (tripartite test) সন্তুষ্ট করতে হবে: একটি জোরালো prima facie (প্রাথমিক দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য) মামলা, অপূরণীয় ক্ষতি যা ক্ষতিপূরণ দ্বারা পূরণযোগ্য নয়, এবং সুবিধার ভারসাম্য (balance of convenience)।
৩.৩ ধারা ৭ক-এর আন্তঃসীমান্ত সুরক্ষা ঢাল (Transnational Shield)
পূর্বে আলোচনা করা হয়েছে, ২০০৪ সালের সংশোধনী দ্বারা সংযোজিত ধারা ৭ক এই অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিকারের এখতিয়ারকে বিদেশি-আসীন সালিশের ক্ষেত্রেও প্রসারিত করেছে, যার ফলে সালিশের আসন এবং বিচারিক আইন (curial law) বিদেশি হওয়া সত্ত্বেও কোনো পক্ষ সম্পদ জব্দ করা বা নিষেধাজ্ঞার প্রতিকার লাভের জন্য বাংলাদেশের আদালতের দ্বারস্থ হতে পারে যদি বিবাদীর সম্পদ বাংলাদেশের ভূখণ্ডের মধ্যে অবস্থিত থাকে। STX Corporation v. Meghna Group of Industries Ltd. (2012) 64 DLR (HCD) 550 / 17 BLC (HCD) 345 হলো এই বিষয়ে মৌলিক নজির (seminal authority): আদালত এই মর্মে সিদ্ধান্ত দেন যে, আইনের পরিধি থেকে বিদেশি-আসীন সালিশকে ধারা ৩(১)-এর সাধারণ বর্জন ধারা ৭ক দ্বারা প্রদত্ত সুনির্দিষ্ট, অবশিষ্ট এখতিয়ারকে খর্ব করে না, যা মূলত বিদেশি সালিশি कार्यवाही চলাকালীন সময়ে বাংলাদেশি সম্পদ তছরুপ বা গোপন করা রোধ করতেই বিশেষভাবে বিদ্যমান।
৩.৪ মতবাদগত বংশপরম্পরা এবং ব্যবহারিক প্রয়োগ
STX Corporation-কে HNS Automobile-এর সাথে একত্রে পাঠ করলে একটি সংগতিপূর্ণ মতবাদ তৈরি হয়: বাংলাদেশি আদালত বিদেশি-আসীন সালিশের ওপর গুণগত বিচার বা কার্যপ্রণালীগত তত্ত্বাবধানের এখতিয়ার কখনোই গ্রহণ করবে না, তবে বাংলাদেশি আঞ্চলিক এখতিয়ারের মধ্যে অবস্থিত res (বিষয়বস্তু)—যেমন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, স্থাবর সম্পত্তি, শিপিং ডকুমেন্ট, লেটার অব ক্রেডিটের অর্থ—সংরক্ষণ করার জন্য ত্বরান্বিত ভিত্তিতে সহজেই হস্তক্ষেপ করবে। বাংলাদেশি বিবাদীদের বিরুদ্ধে বিদেশি দাবিদারদের প্রতিনিধিত্বকারী কর্পোরেট আইনজীবীদের অবধারিতভাবে সালিশের নোটিশ জারির সাথে সাথে বা ঠিক পরপরই একটি ধারা ৭ক আবেদন দাখিল করা উচিত, বিশেষ করে বাণিজ্য অর্থায়ন (trade finance) এবং শিপিং বিরোধের ক্ষেত্রে যেখানে সম্পদ অত্যন্ত পরিবর্তনশীল।
৪. সালিশ ট্রাইব্যুনাল গঠন (ধারা ১১–১৭)
৪.১ পক্ষীয় স্বায়ত্তশাসন এবং আইনগত ডিফল্ট বিধান
ধারা ১১ সালিশের সংখ্যা নির্ধারণের ক্ষেত্রে পক্ষগণকে অবাধ স্বাধীনতা প্রদান করে, এই বাধ্যতামূলক শর্ত সাপেক্ষে যে সালিশের সংখ্যা জোড় হতে পারবে না; যেখানে পক্ষগণ তা সত্ত্বেও জোড় সংখ্যা নির্দিষ্ট করে, ট্রাইব্যুনালের সভাপতি (chair) হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য একজন অতিরিক্ত সালিশকার নিয়োগ করা হবে। চুক্তির অনুপস্থিতিতে, ধারা ১২-এর অধীনে আইনের ডিফল্ট বা পূর্বনির্ধারিত পদ্ধতি পরিচালিত হবে।
৪.২ ধারা ১২-এর অধীনে একক সালিশকার নিয়োগ — অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক পথ
যেখানে পক্ষগণ একজন একক সালিশকার নিয়োগে সম্মত হয়েছেন কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির বিষয়ে একমত হতে পারছেন না, তখন যেকোনো পক্ষ অপর পক্ষের নিকট লিখিত অনুরোধ পাঠাতে পারে। সেই অনুরোধের ৩০ দিনের মধ্যে যদি কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো না যায়:
- অভ্যন্তরীণ সালিশ (Domestic Arbitration): সংক্ষুব্ধ পক্ষ ধারা ১২(৩) এর অধীনে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক এখতিয়ারের জেলা জজ-এর নিকট আবেদন করবে, যিনি একক সালিশকার নিয়োগ করবেন।
- আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সালিশ (International Commercial Arbitration): আবেদনটি ধারা ১২(৬) এর অধীনে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির নিকট অথবা প্রধান বিচারপতি কর্তৃক মনোনীত সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতির নিকট উপস্থাপিত হবে।
তিনজন সালিশকার বিশিষ্ট ট্রাইব্যুনালের ক্ষেত্রে, প্রতিটি পক্ষ অনুরোধ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে একজন করে সালিশকার নিয়োগ করবে; অতঃপর পক্ষদ্বয় কর্তৃক মনোনীত সালিশকারদ্বয় পরবর্তী আরও ৩০ দিনের মধ্যে যৌথভাবে প্রিসাইডিং সালিশকার নিয়োগ করবেন। যেকোনো পর্যায়ে ব্যর্থতা—সেটি কোনো পক্ষের নিয়োগে ব্যর্থতা হোক, কিংবা দুই সালিশকার সভাপতি নির্বাচনে একমত হতে ব্যর্থ হোন—জেলা জজ (অভ্যন্তরীণ) বা প্রধান বিচারপতির (ICA) নিকট একটি নতুন ধারা ১২ আবেদন করার পথ উন্মুক্ত করে।
Southern Solar Power Ltd. v. Bangladesh Power Development Board (2020) 25 BLC (AD) 1 মামলাটি ধারা ১২(৬)-এর তদন্তের সীমিত, প্রশাসনিক-এখতিয়ারগত প্রকৃতি স্পষ্ট করেছে: আদালত কেবল এগুলো পরীক্ষা করবে: (i) একটি বৈধ সালিশি চুক্তির প্রাথমিক বা prima facie উপস্থিতি, (ii) বিরোধের সালিশযোগ্যতা (arbitrability), এবং (iii) চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থার বাস্তবভিত্তিক ব্যর্থতা। চুক্তিগত ব্যাখ্যা বা সালিশি চুক্তির পরিধি সংক্রান্ত বিরোধসহ আইন ও তথ্যের জটিল মিশ্র প্রশ্নসমূহ ধারা ১৭-এ সংহিতাবদ্ধ Kompetenz-Kompetenz মতবাদের অধীনে ট্রাইব্যুনালের নিজের ওপর ছেড়ে দিতে হবে এবং নিয়োগের পর্যায়ে এর বিচার করা যাবে না।
৪.৩ ধারা ১৩-এর প্রকাশ এবং স্বাধীনতার চ্যালেঞ্জ
প্রতিটি সালিশকারকে নিয়োগের জন্য যোগাযোগের সময় লিখিতভাবে এমন যেকোনো পরিস্থিতি প্রকাশ করতে হবে যা তাদের স্বাধীনতা বা নিরপেক্ষতার বিষয়ে ন্যায়সঙ্গত সন্দেহের উদ্রেক করতে পারে (ধারা ১৩)। এমন পরিস্থিতি বিদ্যমান থাকলে বা সালিশকারের নির্ধারিত যোগ্যতার অভাব থাকলে কোনো পক্ষ সালিশকারের নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে। চ্যালেঞ্জের পদ্ধতি অনুযায়ী, বিপরীত কোনো চুক্তি না থাকলে, চ্যালেঞ্জকারী পক্ষকে ট্রাইব্যুনাল গঠন বা অযোগ্যতার পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে ট্রাইব্যুনালের নিকট লিখিতভাবে কারণসমূহ উল্লেখ করতে হবে; সালিশকার পদত্যাগ না করলে অথবা অন্য পক্ষ সম্মত না হলে ট্রাইব্যুনাল নিজেই এই চ্যালেঞ্জের ওপর সিদ্ধান্ত প্রদান করবে।
৪.৪ ধারা ১৭ এবং কমপেটেন্স-কমপেটেন্স (Kompetenz-Kompetenz)
ধারা ১৭ সালিশি ট্রাইব্যুনালকে সালিশি চুক্তির অস্তিত্ব বা বৈধতা সংক্রান্ত আপত্তি সহ নিজস্ব এখতিয়ারের ওপর রায় দেওয়ার ক্ষমতা প্রদান করে। এটি মডেল আইনের Kompetenz-Kompetenz নীতি এবং পৃথকীকরণযোগ্যতার মতবাদকে (doctrine of separability) প্রতিবিম্বিত করে—মূল চুক্তি বাতিল হওয়ার এই সিদ্ধান্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে (ipso facto) সালিশি চুক্তিকে বাতিল ঘোষণা করে না। ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারগত রায়সমূহ অকালিক আদালতগত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে নয়, বরং কেবল সংকীর্ণ ধারা ৪২-এর বাতিলকরণের প্রবেশদ্বার (setting-aside gateway) দিয়েই চূড়ান্ত বিচারিক যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে বহাল থাকে।
৫. কার্যক্রম পরিচালনা, অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ
৫.১ কার্যপ্রণালী আদেশ নং ১ এবং লিখিত pleadings
গঠিত হওয়ার পর, ট্রাইব্যুনাল সাধারণত একটি কার্যপ্রণালী আদেশ নং ১ (Procedural Order No. 1) জারি করে যা দাবি বিবৃতি (ধারা ২৫(১)), প্রতিরক্ষার বিবৃতি এবং যেকোনো কাউন্টারক্লেইম (ধারা ২৫(২)), দলিলপত্র দাখিল এবং শুনানির তারিখের জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করে। ধারা ২৫-এর নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে দাবিদারের ত্রুটির জন্য কার্যক্রম সমাপ্ত করার ট্রাইব্যুনালের ক্ষমতা, অথবা পর্যাপ্ত কারণ ছাড়াই বিবাদী হাজরে ব্যর্থ হলে ex parte (একতরফা) এগিয়ে যাওয়া এবং উপলব্ধ নথিপত্রের ওপর ভিত্তি করে রোয়েদাদ প্রদান করার ক্ষমতা—যা কালক্ষেপণকারী বিবাদীদের বিরুদ্ধে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কার্যকর পদক্ষেপ।
৫.২ ধারা ২১ এর অধীনে ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক নির্দেশিত অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা
একবার গঠিত হলে, ট্রাইব্যুনাল নিজেই বিরোধের বিষয়বস্তুর সাথে সম্পর্কিত সুরক্ষার অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা—সম্পত্তি সংরক্ষণ, অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা, বা খরচের জামিন—মঞ্জুর করতে পারে (ধারা ২১)। ধারা ৭-এর অধীনে আদালত কর্তৃক প্রদত্ত প্রতিকারের বিপরীতে, ধারা ২১-এর অধীনে ট্রাইব্যুনালের আদেশের জন্য পরবর্তীতে জবরদস্তিমূলক বলবৎকরণের উদ্দেশ্যে জেলা আদালতের নিকট আবেদন করা প্রয়োজন, কারণ ট্রাইব্যুনালের নিজস্ব আদালত অবমাননার অন্তর্নিহিত ক্ষমতা (inherent contempt powers) থাকে না।
৫.৩ ধারা ৩১: সাক্ষ্য গ্রহণে আদালতের সহায়তা
যেখানে সাক্ষীরা স্বেচ্ছায় উপস্থিত হতে অনিচ্ছুক, কিংবা দলিলপত্রের জিম্মাদাররা তা উৎপাদনে অস্বীকৃতি জানায়, সেখানে ধারা ৩১ ট্রাইব্যুনালকে (বা ট্রাইব্যুনালের অনুমোদন সাপেক্ষে কোনো পক্ষকে) উপস্থিতি বা দলিল উৎপাদন বাধ্যতামূলক করে সমন জারির জন্য জেলা আদালতের নিকট আবেদন করার অনুমতি দেয়, যার মাধ্যমে এমন জবরদস্তিমূলক যন্ত্রপাতিকে কাজে লাগাতে পারে যা অন্যথায় কোনো বেসরকারি ট্রাইব্যুনালের জন্য উপলব্ধ থাকে না।
৬. সালিশি রায়: ফর্ম, খরচ এবং স্ট্যাম্প আইনের ফাঁদ
৬.১ আনুষ্ঠানিক আবশ্যকতা (ধারা ৩৮–৪০)
একটি সালিশি রায় অবশ্যই লিখিত হতে হবে এবং সালিশকারক(গণ) কর্তৃক স্বাক্ষরিত হতে হবে (একাধিক সদস্যের ট্রাইব্যুনালের ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠের স্বাক্ষরই যথেষ্ট, তবে বাদ পড়া স্বাক্ষরের কারণসমূহ উল্লেখ করতে হবে)। রায়ের ভিত্তি হিসেবে যে কারণসমূহ রয়েছে তা উল্লেখ করতে হবে (যদি না পক্ষগণ ভিন্নভাবে সম্মত হন অথবা এটি আপস-মীমাংসার মাধ্যমে রেকর্ডকৃত সম্মতিমূলক রায় হয়) এবং এতে এর তারিখ এবং সালিশের স্থান (যা বসার স্থান হিসেবে গণ্য) উল্লেখ করতে হবে।
৬.২ সুদ এবং খরচ
ট্রাইব্যুনালসমূহ নিয়মিতভাবেই সালিশপূর্ব এবং সালিশ-পরবর্তী সুদ প্রদান করে থাকে এবং কার্যধারার সময় পক্ষগণের আচরণ বিবেচনা করে খরচ নির্ধারণের ট্রাইব্যুনালের ক্ষমতার অধীন থেকে "ফল অনুযায়ী খরচের দায়িত্ব বর্তায়" (costs follow the event) এই নীতিতে খরচ বণ্টন করে থাকে।
৬৩ ধারা ৪১-এর অধীন সংশোধন এবং ব্যাখ্যা
রায় প্রাপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে, কোনো পক্ষ ট্রাইব্যুনালকে কোনো গাণিতিক, কেরানিগত বা মুদ্রণসংক্রান্ত ত্রুটি সংশোধন করার জন্য, কিংবা রায়ের কোনো সুনির্দিষ্ট পয়েন্ট বা অংশের ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করতে পারে—এমন কোনো অনুরোধ করা হলে, তা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ধারা ৪২(২)-এর সময়সীমার গণনা স্থগিত (tolls) থাকে।
৬.৪ ১৮৯৯ সালের স্ট্যাম্প আইনের ফাঁদ
১৮৯৯ সালের স্ট্যাম্প আইনের ধারা ৩৫-এর সাথে পঠিত প্রথম তফসিলে (Schedule I) বর্ণিত অনুচ্ছেদ ১২ অনুযায়ী, একটি সালিশি রায় স্ট্যাম্প শুল্কযোগ্য দলিল (chargeable instrument)। ঘাটতি স্ট্যাম্পযুক্ত বা স্ট্যাম্পবিহীন কোনো রায় ঘাটতি পূরণ না করা পর্যন্ত সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না, তদানুযায়ী কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না, কিংবা বলবৎ করা যাবে না। যে আদালতগুলো ধারা ৪৪-এর এনফোর্সমেন্ট বা বলবৎকরণের আবেদন অথবা ধারা ৪২-এর চ্যালেঞ্জ শুনানি করেন, তারা আইনগতভাবে ঘাটতিযুক্ত রায়সমূহ জব্দ করতে এবং পরবর্তী কার্যধারা অগ্রসর হওয়ার পূর্বে ঘাটতি শুল্কের দশ গুণ জরিমানাসহ বকেয়া পরিশোধের নির্দেশ দিতে বাধ্য—যা রায় প্রদানের পর্যায়ে স্ট্যাম্প শুল্কে কৃচ্ছ্রসাধনকারী পক্ষগুলোর জন্য একটি ধ্বংসাত্মক এবং সম্পূর্ণ এড়ানো সম্ভব এমন খরচের ফাঁদ।
৭. রায় বাতিলকরণ: ধারা ৪২-এর আইনি লড়াইয়ের ক্ষেত্র
৭.৫ নিঃশেষিত আইনগত ভিত্তি (Exhaustive Statutory Grounds)
ধারা ৪২(১) দেশীয় অথবা বাংলাদেশে অনুসারিত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সালিশি (ICA) রায়কে চ্যালেঞ্জ করার একমাত্র এবং নিঃশেষিত সুযোগ প্রদান করে। ভিত্তিগুলো হলো:
- কোনো পক্ষ অসামর্থ্যের শিকার ছিল;
- সালিশি চুক্তিটি এর ওপর প্রযোজ্য আইনের অধীনে অথবা সেরূপ কোনো নির্দেশনার অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশের আইনের অধীনে অকার্যকর;
- আবেদনকারীকে সালিশকারক নিয়োগ বা কার্যধারার বিষয়ে যথাযথ নোটিশ দেওয়া হয়নি, অথবা সে তার বক্তব্য উপস্থাপন করতে সম্পূর্ণ অক্ষম ছিল;
- রায়টি এমন কোনো বিরোধ নিয়ে মীমাংসা করেছে যা দাখিলের শর্তাবলীতে অন্তর্ভুক্ত ছিল না বা তার আওতাভুক্ত নয়, অথবা এর পরিধি বহির্ভূত বিষয়ের ওপর সিদ্ধান্ত ধারণ করে;
- ট্রাইব্যুনালের গঠন বা সালিশি প্রক্রিয়া পক্ষগণের চুক্তি অনুযায়ী ছিল না, যদি না সেই চুক্তি উক্ত আইনের কোনো বাধ্যতামূলক বিধানের সাথে সাংঘর্ষিক হয়;
- বিষয়বস্তুটি বাংলাদেশের আইনের অধীন সালিশযোগ্য নয়; অথবা
- রায়টি বাংলাদেশের জননীতির সাথে সাংঘর্ষিক, কিংবা প্রতারণা বা দুর্নীতির মাধ্যমে প্রভাবিত।
৬.২ ৬০ দিনের সময়সীমার গিলোটিন (Limitation Guillotine)
ধারা ৪২(২) আবেদনকারী কর্তৃক রায় প্রাপ্তির তারিখ থেকে (অথবা যেখানে ধারা ৪১-এর অধীন সংশোধন বা ব্যাখ্যার আবেদন করা হয়েছিল, সেই আবেদন নিষ্পত্তির তারিখ থেকে) কঠোর ৬০ দিনের সময়সীমা আরোপ করেছে। বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (BPDB) বনাম সামিট পূর্বাঞ্চল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (২০১৯) ৭১ ডিএলআর (এডি) ২৯৭ মামলায় এই মর্মে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, এই সময়সীমা হলো একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ সংবিধিবদ্ধ সময়সীমা, যা ১৯০৮ সালের তামাদি আইনের ৫ ধারার অধীনে মওকুফযোগ্য নয়। ৬০ দিনের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়া একটি পরম, অমার্জনীয় বিচারিক বাধা (jurisdictional bar); এর ফলে সালিশি রায়টি তাৎক্ষণিকভাবে বলবৎযোগ্য একটি ডিক্রি হিসেবে পরিপক্বতা লাভ করে।
৭.৩ জননীতি — একটি সংকীর্ণ অর্থায়ন (Restrictive Construction)
বিপিডিবি বনাম সামিট পূর্বাঞ্চল মামলায় আরও নিশ্চিত করা হয়েছে যে, ধারা ৪২-এর অধীন আদালত কোনো আপিল আদালত হিসেবে কাজ করে না: এটি সাক্ষ্য পুনর্মূল্যায়ন করতে পারে না, ট্রাইব্যুনালের তথ্যগতFindings পুনরায় যাচাই করতে পারে না, কিংবা ট্রাইব্যুনালের চুক্তির ব্যাখ্যার পরিবর্তে নিজস্ব চুক্তিগত ব্যাখ্যা প্রতিস্থাপন করতে পারে না। "বাংলাদেশের জননীতি" অত্যন্ত সংকীর্ণ অর্থে ব্যাখ্যা করা হয়—যা কেবল সুস্পষ্ট বেআইনি কাজ, প্রতারণা, দুর্নীতি বা বাংলাদেশের মৌলিক আইনি নীতিমালার লঙ্ঘনের মধ্যে সীমাবদ্ধ; ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারের মধ্যে থাকা নিছক আইনগত বা তথ্যগত ত্রুটির ক্ষেত্রে নয়।
৮. রায়ের স্বীকৃতি ও বলবৎকরণ
৮.১ দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সালিশি (ICA) রায় — ধারা ৪৪
একটি দেশীয় (অথবা বাংলাদেশে অনুসারিত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সালিশি) রায়, একবার ৬০ দিনের ধারা ৪২-এর সময়সীমা কোনো চ্যালেঞ্জ ছাড়াই অতিবাহিত হলে (অথবা চ্যালেঞ্জ খারিজ হয়ে গেলে), আদালতের ডিক্রির মতোই বলবৎযোগ্য হয়, যা দেওয়ানি কার্যবিধির একুশ আদেশ (Order XXI) অনুযায়ী বলবৎ করা যায়—যা স্থাবর সম্পত্তির ক্রোকের অনুমতি প্রদান করে।
সচরাচর জিজ্ঞাস্য (FAQ)
◆ সম্পর্কিত প্র্যাকটিস গাইড ও বিশ্লেষণ
<li style="margin-bottom:12px; line-height:1.5;">
<a href="/bn/brta-driving-license-in-bangladesh-learner-permit-bsp-bn/" style="color:#C5A059; font-weight:600; text-decoration:none; font-size:14px; display:inline-block; transition:color 0.2s;">• বিআরটিএ ড্রাইভিং লাইসেন্স: লার্নার পারমিট, অনলাইন আবেদন, পরীক্ষা ও স্মার্ট কার্ড নবায়ন</a>
</li>
<li style="margin-bottom:12px; line-height:1.5;">
<a href="/bn/false-dowry-and-domestic-harassment-allegations-in-bangladesh-bn/" style="color:#C5A059; font-weight:600; text-decoration:none; font-size:14px; display:inline-block; transition:color 0.2s;">• যৌতুক ও নারী নির্যাতন মিথ্যা মামলা: আত্মরক্ষা, ধারা ৫৬১এ বাতিল ও আইনি সুরক্ষার উপায়</a>
</li>
<li style="margin-bottom:12px; line-height:1.5;">
<a href="/bn/medical-negligence-in-bangladesh-patient-rights-bmdc-professional-bn/" style="color:#C5A059; font-weight:600; text-decoration:none; font-size:14px; display:inline-block; transition:color 0.2s;">• চিকিৎসায় অবহেলা ও রোগীর অধিকার: বিএমডিসি অভিযোগ, ভোক্তা আদালত ও ক্ষতিপূরণ মামলা</a>
</li>
<li style="margin-bottom:12px; line-height:1.5;">
<a href="/bn/legal-rights-of-elderly-parents-in-bangladesh-maintenance-bn/" style="color:#C5A059; font-weight:600; text-decoration:none; font-size:14px; display:inline-block; transition:color 0.2s;">• পিতামাতার ভরণপোষণ আইন ২০১৩: মাসিক খরচ, চিকিৎসা অধিকার ও সন্তানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা</a>
</li>
বাণিজ্যিক সালিশ আইন ২০০১ কোন আইনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি?
এই আইনটি মূলত জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আইন কমিশন (UNCITRAL) মডেল আইন, ১৯৮৫-এর ওপর ভিত্তি করে প্রণীত হয়েছে।
একটি কার্যকর আরবিট্রেশন ক্লজে কী কী থাকা জরুরি?
কার্যকর আরবিট্রেশন ক্লজে বিরোধ নিষ্পত্তির স্পষ্ট ইচ্ছা, সালিশকারদের সংখ্যা, নিয়োগ পদ্ধতি, সালিশের স্থান এবং প্রযোজ্য আইন উল্লেখ থাকা আবশ্যক।
সালিশি ট্রাইব্যুনালে কতজন আর্বিট্রেটর বা সালিশকার থাকতে পারেন?
পক্ষগণ নিজেদের সমঝোতা অনুযায়ী সালিশকারের সংখ্যা নির্ধারণ করতে পারেন, যা বিজোড় সংখ্যায় (সাধারণত একজন বা তিনজন) হওয়া বাঞ্ছনীয়।
সালিশি কার্যক্রম চলাকালীন কি আদালতের সহায়তা নেওয়া যায়?
হ্যাঁ, সালিশ আইন ২০০১ এর ধারা ৯ অনুযায়ী অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা বা সাক্ষী তলবের জন্য পক্ষগণ আদালতের সহায়তা নিতে পারেন।
সালিশি রায় বা অ্যাওয়ার্ড কি বাংলাদেশে সম্পূর্ণ বলবৎযোগ্য?
হ্যাঁ, সালিশ আইন ২০০১ অনুযায়ী প্রদত্ত রায় আদালতের ডিক্রির মতোই বলবৎযোগ্য এবং এর বিরুদ্ধে সীমিত Grounds-এ আবেদন করা যায়।
বাণিজ্যিক বিরোধের ক্ষেত্রে সালিশ কেন আদালতের চেয়ে ভালো?
সালিশ তুলনামূলকভাবে দ্রুততর, গোপনীয়তা রক্ষা করে এবং বাণিজ্য ও আইনের বিশেষজ্ঞদের দ্বারা বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ দেয়।